বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩০ নভেম্বর ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ৪৪টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৬৯

বিচারক স্কোরঃ ২.২৯ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৪ / ৩.০

শাশ্বত প্রেম উপাখ্যান

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

বোধের নির্বিষ প্রাচীর

ঘৃনা আগস্ট ২০১৫

গন্ধাবতী

কোমলতা জুলাই ২০১৫

ভালোবাসা / ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারী ২০১৫)

মোট ভোট ২০ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৬৯ পাতানো ভালোবাসার বিষে প্রকৃত মরে

জাকিয়া জেসমিন যূথী
comment ২২  favorite ১  import_contacts ১,২২৯

টুন টুন টুন টুন টুন টুন টুন টুন টুন টুন ...এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হতো তুমি বলতো? তুমিই বলো...না না তুমি...তুমি... বেজে চলেছে মোবাইল ফোনটা। সেন্ডার কে তা চেক করে ফোনটা টেবিলে আরেকটু ওপাশে সরিয়ে রাখলো এমদাদ। এমদাদুল হক। বেহিসেবিডটকম এর বিজিনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার। রাত দশটা বেজে গেছে। তবু কাজ থেকে ছুটি হচ্ছে না! কাজ করে যাচ্ছে অবিরাম। ল্যাপটপে চোখ। অফিসের বাকী স্টাফরা চলে গেছে সেই ছটা বাজে।
ডেলিভারী ম্যান এসে ডেস্কের সামনে দাঁড়ালো-‘ছার, আজকা কি আপনের সাতে আমারে রাইতেও ডিউটি দিতে অবে?’
‘অ্যাঁ! না, রাতে ডিউটি নেই আজকে। আমি বেরুচ্ছি। তুমিও বাড়ি যাও।’


ঘন্টাখানেক পর।
এমদাদ বাসায় ফিরেছে। ষষ্ঠ তলার সিড়ি ভেঙে পুনরায় বাসার সিড়ি দিয়ে ক্লান্ত শ্রান্ত শরীরে ষষ্ঠ তলায় উঠে বাম পাশের দরজায় গিয়ে নক না করতেই দরজা খোলা পেয়ে ভেতরে ঢুকে গেলো। সামনেই সোফা রুম। সেখানে বউ দাঁড়িয়ে। অস্থির চিত্ত মুখশ্রীতে। রাগে যেন ফেঁটে পরছে।
এমদাদ ভেতরের ঘরে যেতে গিয়ে বাঁধা পেয়ে সোফায় ছুঁড়ে মারলো অফিসের ব্যাগটা।
ফাল্গুনী রোষে এগিয়ে এলো সামনে-‘আচ্ছা, তোমার সমস্যাটা কি বলবা? এখন রাত বাজে এগারোটা!’
এমদাদ দেখলো ফাল্গুনী আজ ফাল্গুনী সাজে সেজেছে। ফর্সা হলদে কাঁচাহলুদ রঙের বউটার আজ যৌবন যেন উথলে উঠেছে হালকা হলুদ ও বাটা কাঁচা হলুদ শেডের ব্রাশ প্রিন্টের টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়িটায়। এ শাড়ি ও কখন কিনলো? রুপমুগ্ধ এমদাদ বউয়ের দিকে তাকিয়ে হালকা স্বরে জবাব দিলো-‘অফিসে কাজে আটকে গিয়েছিলাম। জানোই তো ই-কমার্সের ম্যানেজারদের বাড়তি কাজের চাপ থাকেই!’
ফাল্গুনী রাগ দুঃখ ও আফসোস মাখা স্বরে তেড়ে এলো সামনে একেবারে এমদাদের মুখের কাছে-‘অফিস শুধু তুমিই করো? আজকে আমাদের সব ফ্রেন্ডদের হাজবেন্ড সাথে নিয়ে একসাথে বইমেলায় ঘোরার কথা। সবাই একসাথে ঘুরবো বলে একই রকম শাড়িও কিনলাম।অথচ আমাকে একাই থাকতে হলো।’
‘তুমি গিয়েছিলে? বেশ তো। আমার জন্য তোমার সুন্দর সময়টা নষ্ট হয়নি! বুদ্ধিমতী বউ আমার!’ ভালোবাসায় গদগদ সুরে এমদাদ বউয়ের অভিমান কাটিয়ে দিতে চাইলো।
‘না আমি যাইনি! সবাই জোড়া নিয়ে ঘুরে বেড়াবে আর আমি তো জোড়া হয়েও বেজোড়! তুমি আমার কষ্ট কিছু বুঝো নাকি? কিচ্ছু বুঝো না তুমি!’ বলতে বলতে ফাল্গুনী ভেতরের ঘরের দিকে চলে গেলো।


পরদিন সকাল।
ঘুম থেকে জেগেছে এমদাদ। বিছানায় ফাল্গুনীর জায়গাটা ফাঁকা। অনেক আগেই বোধহয় উঠে পরেছে। কিচেনে বা ঘরে আছে বোধহয়। ঘুম থেকে উঠে ওয়াশরুমে দাঁত ব্রাশ ও আনুষাঙ্গিক কাজ সেরে নিয়ে বের হলো। চা বানাবে। সকালের চা টা নিয়ে ডাইনিং পর্যন্ত এলো। কিন্তু ফাল্গুনীকে দেখতে পেলো না। বরং ডাইনিং টেবিল গোছানো পরিপাটি। গ্লাসের নিচে একটা সাদা কাগজ চাপা দেয়া।
গ্লাসটা সরিয়ে কাগজটা হাতে নিয়ে খুলে দেখলো কয়েকটা লাইন লেখা-
‘আমি আর সত্যিই পারছি না। তোমার উদাসীনতা আমাকে বিপর্যস্ত করছে। আমি কিছুদিন একা থাকতে চাই। আশা করি তুমিও কটা দিন তোমার পৃথিবীতে ভালো থাকবে।’


এক মাস পর।
আদালতে শুনানী হচ্ছে।
এক পাশে এমদাদ দাঁড়িয়ে। আরেক পাশে ফাল্গুনী। উভয়ের সামনে একজন করে পুরুষ উকিলও। ফাল্গুনীকে উল্লেখ করে আইনজীবী বলে উঠলেন-‘আপনার স্বামী মোহাম্মদ এমদাদুল হক আপনার সাথে আর সংসার করতে চাইছেন না। আপনি কি চান?’
ফাল্গুনী কান্না ভেজা স্বরে জবাব দিলো-‘আমি আমার হাজবেন্ডকে নিয়ে সমস্যাগ্রস্ত। কিন্তু আমি এখনই আমাদের ছাড়াছাড়ি চাই না। আরও বুঝতে চাই।’
আদালত সে দিনের মত মূলতবী ঘোষণা করা হলো।


আরও কিছুদিন পর-
আদালতে বিচারের শুনানী চলছে। এমদাদ বলে চলেছে-‘মাননীয়, আমি একা হতে চাই। আর সংসার করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সবকিছু নিয়ে আমি খুব ক্লান্ত। আমাকে অব্যাহতি দিলে আমি বেঁচে যাই।’
ফাল্গুনী আচমকা বসা হতে দাঁড়িয়ে হেসে কুটিকুটি। উপস্থিত সকলে বিস্ময়ে বিমুড়। একি? এ হাসে কেন? যার স্বামী তাকে পরিত্যক্ত করতে চাইছে। তার তো কেঁদে বুক ভাসানোর কথা! কিন্তু না! কয়েক পলক যেতেই ফাল্গুনী হঠাত এমদাদের পায়ে পরে বলে উঠলো-‘আমাকে তুমি প্লিইজ আর কিছুদিন সময় দাও। আমি তোমার যোগ্য ঘরনী হতে পারি কিনা শেষ চেষ্টা করতে দাও।’ এ কথা শোনার পর নরম মনের মানুষ এমদাদ গলে গেলো। আদালত হতে ওরা মামলা তুলে ফেলে ঘরের স্বামী স্ত্রী ঘরে ফিরে গেলো।


দিন পনেরো পর একদিন বাসায় ফিরে এমদাদ হাসিতে গদগদ কণ্ঠে বউকে জড়িয়ে ধরে বলতে গেল-‘ছুটি নিয়ে এলাম। চলো কয়েকদিন কক্সবাজার থেকে বেরিয়ে আসি।’
ফাল্গুনী যেন খুশী হওয়ার পরিবর্তে চেহারা কেমন ফ্যাকাশে করে ফেললো!
এমদাদ ওই চেহারায় চেয়ে থেকে বললো-‘কি, খুশী হওনি?’
ফাল্গুনী বললো-‘উ! হ্যাঁ। খুশী হবো না কেন? বেশ তো, চলো যাই!’ এমদাদ ভাবলো ওর হঠাত রেগে যাওয়া বউটা যে বেঁকে বসেনি তাতেই বাঁচা গেছে। খুশী হয়ে ও দুজনের ব্যাগ এন্ড ব্যাগেজ গুছাতে শুরু করলো।


কক্সবাজার পৌঁছে দিন দুই ভালোই কাটলো। দুজনে মিলে সমূদ্রের পাড়ে ভোরে খালি পায়ে ঘুরে বেড়ালো। সাঁতার জানা না থাকায় কেউই পানির খুব গভীরে গেলো না। ছোট শিশুদের মত ছোট ছোট কাঁকড়া পানি থেকে তুলে হাতের ফাঁক গলিয়ে পানিতে ছেড়ে দেয়া ফের হাতে নেয়া খেলা করলো কিছুক্ষণ। অনেক দিন পরে ভালোবাসায় মাখামাখি আনন্দে উচ্ছ্বল দিন গড়িয়ে ঘরে ফিরলো দুজনে। যে সাজানো সুন্দর সংসারটা মাত্র কদিন আগেই ভেংগে আলাদা হয়ে যাচ্ছিলো! এমনিতে দুজনেই খুব ভালো মানুষ। কিন্তু এমদাদ প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের বড় পদে চাকরী করছে আর অফিসের কাজে খুব সিনসিয়ার। বিপরীতে ফাল্গুনী ছটফটে উচ্ছ্বল তরুণী। বন্ধুদের আড্ডা আর বেড়াতে খুব ভালোবাসে। কিন্তু হাজবেন্ডের অফিস ব্যস্ততায় বাসায় একা একা কাটাতে হয়। তাই মুড খুব উঠানামা করে।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে হোটেল রুমে ফাল্গুনীকে বিছানায় দেখতে না পেয়ে বাথরুমে খোঁজ করলো। না সেখানেও নেই। বারান্দায়ও নেই। ‘কোথায় গেলো? আজ একাই সৈকতে গেলো কি?’ ভাবতে ভাবতে হোটেল হতে বের হয়ে হেঁটে হেঁটে এদিক সেদিক তাকাতে তাকাতে সৈকতে গেলো এমদাদ। সেখানে পৌঁছে এ মাথা ও মাথা হেঁটে বেড়ালো। ফাল্গুনীকে খুঁজে পেলো না। ভাবলো মার্কেটে যেতে পারে। না, সেখানে কয়েক চক্কর দেয়ার পরেও ফাল্গুনীকে না পেয়ে মোবাইলে কল দেয়ার কথা মনে হলো। এত খোঁজাখুঁজিতে ও কথা ভুলেই গেছিলো। পাগল প্রায় এমদাদ ফাল্গুনীকে ফোন করেও না পেয়ে কক্সবাজার থানায় গেলো ডায়রী করতে।


সারাদিন উদ্ভ্রান্তের মত বউকে খুঁজে বেরিয়েছে এমদাদ। সকালের নাশতা তো করেইনি। দুপুরেও খাওয়ার কথা মনে হয়নি। আর এখন সন্ধ্যা। চারদিক লাল নীল আলোয় আধো আলো আধো অন্ধকারের রাতের জগত। শরীরে ও মনে নেমেছে অঝর ক্লান্তি। কক্সবাজারে আত্মীয় বন্ধু কেউ নেই। বেড়াতে এসে এ কেমন বিপদ হাজির হলো?
কিন্তু তখনো আরও অনেক বড় বিপদের দেখা পাওয়ার বাকী আছে এমদাদের। ঘুরতে ঘুরতে হোটেল রুমে ফিরে এলো এমদাদ। হোটেলের লবি পেরিয়ে রিসিপশন থেকে চাবি নিলো। একতলা থেকে বামের সিড়ি দিয়ে উঠে দোতলায় বামের দিকে ঘুরে একটা দরজা। দরজায় ধাক্কা দেবার কথা মনেই আসেনি ওর। কিন্তু চাবি ঢোকাতে হলো না। দরজাটা খুলে গেলো। ওর মনটা খুশীতে লাফিয়ে উঠলো-‘ফাল্গুনী তুমি কোথায় ছিলে সারাদিন? আমি তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে দিশেহারা, পরে আমি থানায়...’ কিন্তু কথাটা থেমে গেলো আচমকা। বিস্ময়ে হতবাক এবং একই সাথে আর্তনাদ করে উঠলো এমদাদ! সোফার পাশে রক্তাক্ত ফাল্গুনীর লাশ পরে রয়েছে! প্রাণ নেই বলেই মনে হচ্ছে। পেটের কাছে রক্তের লাল বৃত্ত। ডান হাতে এবং কপালেরক্তের লাল রেখা গড়িয়ে নেমে মেঝেতে ছড়িয়ে পরেছে।
‘ফাল্গুনীইইই, এ অবস্থা কীকরে হলো তোমার? সারাদিন কই ছিলে তুমি? ও বউ আমার? ফাল্গুনী কথা বলো! প্লিজ আমাকে ছেড়ে তুমি যেও না! এভাবে তুমি চলে যেতে পারো না!’ হাউমাউ করে কেঁদেকেটে বউয়ের মাথা ধরে নাড়াতে লাগলো এমদাদ। ক্লান্ত শরীরে ভর করেছে এখন নিদারুণ কষ্ট। এভাবে ওকে কেউ দেখে ফেললে যে ওকেই আসামী হতে হবে তা ভাবার ফুরসতও পেলো না। পেছন থেকে বলে উঠলো একটা কণ্ঠ-‘ইউ আর আণ্ডার এরেস্ট, মিস্টার এমদাদুল হক!’ পাঁই করে মাথা ঘুরিয়ে চমকে পেছনে তাকিয়ে দেখে সকালের সেই ইনস্পেক্টর। এর কাছেই সকালে গিয়ে হারানো ডায়রী করে এসেছিলো। ‘আমি কিছু করিনি! বিশ্বাস করুন! আমি কিছু করিনি!’ বলে বার বার দু হাত নাড়াতে লাগলো ও। এক দিকে কীভাবে কে স্ত্রীকে মেরে গেলো সেটা জানার সুযোগ তো পেলোই না তার উপরে ওর প্রতিই সন্দেহের তীরটা বেঁকে গেলো! এই অচেনা জায়গায় কে এই মরার উপরে খাঁড়ার ঘা থেকে বাঁচাবে ওদের?
এইসব ভাবনায় মন আচ্ছ্বন্ন হয়ে ছিলো মনটা এমদাদের। এর মধ্যেই ওকে থানায় লকাপে ঢুকিয়ে ফেলা হয়েছে।


‘তাহলে আপনি স্বীকার করবেন না যে বউকে বেড়াতে এসে কেন মারলেন?’ আসামী পক্ষের উকিল হিসাবে নিয়োজিত হয়ে মিস কায়শা হামিদ জিজ্ঞেস করলেন এমদাদুল হককে। কেননা এই মামলায় লড়াই করার মত যৌক্তিক কোন ইস্যু উনি খুঁজে পাচ্ছেন না। বার বার একটা কথাই শুনতে পাচ্ছেন তিনি-‘এই পৃথিবীতে বাবা-মা হীন ছিলো এমদাদ। বিয়ে করে ভেবেছিলো বউই হবে ওর জগত সংসার ও ভালোবাসার পৃথিবী। সেই যখন মরে গেছে তাহলে সে বেঁচে থেকে কি করবে? যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এ কঠোর পৃথিবী থেকে পালিয়ে যেতে পারলেই ওর শান্তি।’
কিন্তু আইনজীবীরা তো আর সাধারণ মানুষের মত বুদ্ধি নিয়ে চলে না। কায়শা হামিদ নিজেই তথ্য যোগাড়ের পথে নামলেন। কক্সবাজারের ওই হোটেলে গিয়ে তদন্ত করতে শুরু করলেন। এমদাদ ও ফাল্গুনী যে কয়দিন ছিলো ওই হোটেলে সেই সব দিন ও রাতের প্রত্যেকটা অতিথির নামের লিস্ট পর্যবেক্ষণ করলেন। বিশেষ করে যে সময়ে ফাল্গুনী মারা যায় এবং সেখানে এমদাদের উপস্থিতির সময়ের সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করেও সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেলো না। বহু ধুরন্ধর কেসের সমাধান করতে সিদ্ধহস্ত কায়শা হামিদ এই কেসটার সুরাহা কিভাবে করবে ভেবে পাচ্ছিলো না।রাতে ডিনার সেরে প্যাপটপে মৃতদেহ এর সব ফুটেজগুলো বার বার ছোট থেকে জুম করে করে দেহের প্রতিটা অংশ দেখছিলো।হঠাত ‘ইইয়েস’ বলে চেঁচিয়ে উঠলো এবং স্বস্তির নিঃশ্বাস পেয়ে হালকা হাসির রেখা ফুঁটে উঠলো তার মুখের কোণে। তারপরে ছুটে বেরিয়ে গেলো থানার উদ্দেশ্যে।

১০
আদালতে বিচার চলছে। বিপরীত পাশে ফাল্গুনীর হয়ে মামলা দায়ের করেছে তার মা এবং ভাই। তাদের পক্ষের আইনজীবির যুক্তি তর্ক শেষ হয়ে এলে আইনজীবি কায়শা হামিদ তার বক্তব্য পেশ করতে শুরু করে বলে উঠলেন-
‘ইয়োর অনার, আমার মক্কেল এমদাদুল হক সম্পূর্ণ নির্দোশ। উনি তার বউকে খুব ভালোবাসতেন। প্রিয়তমা স্ত্রীকে অফিসের কাজের চাপে কোথাও বেড়াতে নিয়ে যেতে পারতেন না। তাই যখন অফিস থেকে কয়েক দিনের ছুটি পেলেন অমনি তিনি বউকে একটু শান্তির পরশ দিতেই কক্সবাজার ছুটে এসেছিলেন।’
সে কথা বলতে বলতে কয়েকটি ছবি নিয়ে জজের সামনে হাতে ধরিয়ে দিলেন-‘দেখুন স্যার, লাশের হাতের কবজিতে ঘড়িটার কাঁচ ফাঁটা।সময়টা লক্ষ্য করুন। আসামীকে মারা হয়েছে সন্ধ্যা ছয়টায়। আর আমার মক্কেল তখন ছিলো থানায় তার স্ত্রীর মিসিং রিপোর্ট করার জন্য। একই সময় উনি দু’জায়গায় কীভাবে থাকবেন?’
তারপরের গল্পটা সামান্যই এবং বিস্ময়ে ভরা। মামলায় প্রমাণিত হলো যে এমদাদুল হক সত্যি তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে খুন করেননি। বরং চাঞ্চল্যকর খুনটি করেছে ফাল্গুনীর সৎ মায়ের আগের ঘরের ছেলে। শিল্পপতি বাবা তাঁর জীবদ্দশায় একমাত্র মেয়ে ফাল্গুনীর নামে অঢেল সম্পত্তি লিখে রেখে যান। সেই সম্পত্তির উত্তরাধিকারকে সরিয়ে দিতেই সৎ মা ও তাঁর ছেলে কক্সবাজারের সেই হোটেলে খুনের প্ল্যান করে। সফল ওরা হয়েই যেতো। কারণ ওরা ভেবেছিলো ফাল্গুনীর কাজপাগল স্বামীর উপরে সমস্ত দায় চাপিয়ে দিয়ে বেঁচে যাবেন তারা। সত্য যে কখনো চাপা থাকে না তা কোন ব্যক্তিই খুনের প্ল্যান করার সময়ে ভাবে না। যে বিশ্ব বিধাতা সমস্ত দুনিয়াকে শুধুমাত্র ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনিই সত্য উদ্ঘাটনের পথ রেখে দেন, আর সত্য সন্ধানী প্রকৃত অভিভাবকের হাতে সে সূত্র উন্মুক্তের পথ দেখান। সে কারণেই কখনো কখনো এমদাদুল হকের মত প্রকৃত ভালো মানুষরা মুক্তির আলোর সন্ধান পায়।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন