বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৭ এপ্রিল ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ১২টি

সমন্বিত স্কোর

৪.০৪

বিচারক স্কোরঃ ১.৭৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.২৯ / ৩.০

হিসাবের খাতা

ক্ষোভ জানুয়ারী ২০১৪

কনি’স আইল্যান্ড

দেশপ্রেম ডিসেম্বর ২০১৩

অধমের পরিবার

পরিবার এপ্রিল ২০১৩

মুক্তির চেতনা (মার্চ ২০১২)

মোট ভোট ৪২ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.০৪ মুক্তির চেতনা এবং বিবেক

জ্যোতি হাসান
comment ২০  favorite ১  import_contacts ৫০০
আক্ষরিক অর্থেই আয়েশা রহমান একজন মুক্ত মানুষ এবং মুক্ত মনের মানুষ ছিলেন!!

উচ্চ শিক্ষিতা, আত্মবিশ্বাসে ভরপুর আয়েশাকে আজ কিছুটা অস্থির লাগছে। লিফট থেকে নেমে আয়েশা রুম নাম্বার ৫০৪ এর সামনে দাঁড়ায়, ভীত দৃষ্টিতে আশে পাশে দেখে। সুন্দর করে সাজানো হোটেলের করিডরটা, দেয়ালে সুন্দর সুন্দর পেইন্টিং আর সাইড টেবিলে সুন্দর ফুলদানীতে টাটকা ফুল কিছুই আয়েশার নজরে পড়ছে না। যদিও আয়েশার পরনের শাড়িটা খুব দামী, মাথার চুলগুলো সুন্দর করে আঁচড়ানো তাও এইমুহুর্তে আয়েশাকে খানিকটা বিধ্বস্ত লাগছে। ঘামে ব্লাউজের গলা আর পিছনটা ভিজে গেছে আর প্রসাধন গালের সাথে লেপটে একাকার হয়ে গেছে। আলতো করে দরজায় টোকা দিলো আয়েশা। ভিতর থেকে আওয়াজ এলো “দরজা খোলা, ভিতরে আসো।” আয়েশা কাঁপা হাতে দরজার নব ঘুরিয়ে ভিতরে ঢুকে, পায়ে কোন শক্তি পাচ্ছে না আয়েশা, গলাটা শুঁকিয়ে আছে তার। কোথা থেকে, কেন এত দ্বিধা আসলো আয়েশা সেটা বুঝতে পারে না। দ্বিধান্বিত পায়ে রুমের ভিতর পা রাখে আয়েশা। রুমে আলো অনেক কম তাও বিছানায় আধশোয়া ফাহিমকে আয়েশা দেখতে পায় স্পষ্ট। ফাহিমের হাতে সিগারেট। ফাহিমের বিরক্ত স্বরে বলে, “কি ব্যপার? এত দেরি করলা কেন? কাছে আসো। নাকি ব্যপারটা নিয়ে তোমার মনে এখনও কোন দ্বিধা আছে?”
মোসাম্মাৎ আয়েশা আখতারের যখন মাহমুদর রহমানের বিয়ে হয়, তখন আয়েশা মাত্র এইচ.এস.সি পরীক্ষা শেষ করে, মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলো। মামির বড় বোন আর বোনের ছেলেও তখন সেখানে বেড়াতে আসে। মামির বোনের ছেলের বয়স তখন ত্রিশয়ের কোঠায়। আর আয়েশার বয়স তখন মাত্র আঠারো। মামির বোন আর বোনের ছেলের দুইজনেরই আয়েশাকে খুব পছন্দ হয়ে যায়। তারপরই,মাত্র একদিনের প্রস্তুতিতে মামার বাড়িতেই আয়েশার বিয়ে মামির বোনের ছেলে মাহমুদর রহমানের সাথে সম্পন্ন হয়। আয়েশার এই বিয়েতে একেবারেই মত ছিলো না। আয়েশা দেখতে-শুনতে ভালো আর ছাত্রীও খারাপ না। অন্যদিকে, মাহমুদর রহমান দেখতে একেবারেই সাধারণ, বয়সও বেশী। শুধু মাত্র ঢাকায় চাকুরী করাই উনার সবচে বড় গুণ হিসাবে বিবেচিত হয়েছিলো। ঐ মুহূর্তে আয়েশার বিয়ে করার কোন ইচ্ছাই ছিলো না, আয়েশার আরোও অনেকদূর পড়ার ইচ্ছা ছিলো। তবে, আয়েশার পড়াশোনার আগ্রহের কথা জানতে পেরে মাহমুদর রহমান বিয়ের আগে আয়েশাকে কথা দেন যে বিয়ের পর আয়েশাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সকলপ্রকার সাহায্য-সহযোগিতা উনি করবেন। আর আয়েশাকে দেয়া কথা মাহমুদর রহমান সাহেব অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। বিয়ের পরই আয়েশা তার স্বামীর সাথে ঢাকায় চলে আসেন। গ্রামের কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পরীক্ষা দেয়া শর্তেও আয়েশা অত্যন্ত ভালো রেজাল্ট করে আর মাহমুদর রহমান আয়েশাকে ঢাকার একটি নামী কোচিং সেন্টারে ভর্তি করিয়ে দেন। নিজের ইচ্ছা আর মাহমুদর রহমানের সহযোগিতায় আয়েশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে যায়। তারপর থেকে আয়েশাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নাই। অত্যন্ত ভালো ফলাফল নিয়ে আয়েশা অনার্স আর মাস্টার্স পাশ করে। মাহমুদর রহমানের সহযোগিতায় আয়েশা একটা বিদেশী এন.জি.ওতে চাকরিও পেয়ে যায়। আয়েশার পড়াশোনার ক্ষতি হবে দেখে মাহমুদর রহমান সিদ্ধান্ত নেন আয়েশার পড়াকালীন সময়ে বাচ্চা না নাওয়ার। অথচ মাহমুদর রহমান সাহেবের মার খুব ইচ্ছা ছিলো নাতির মুখ দেখে যাবার, তার সে ইচ্ছা পুরণ হয়নি। বিয়ের আট বছরের মাথায় আয়েশার মাহমুদর রহমানকে একটা মেয়ে উপহার দেন।
এখন সেই মেয়ে ক্লাস ফোরে পড়ে। আর পঁয়ত্রিশ ছুঁইছুঁই আয়েশা রহমান তার প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের একজন। মাহমুদর রহমানের থেকে এখন আয়েশা প্রায় দ্বিগুণ উপার্জন করে। বিয়ের এতগুলো বছর একসাথে পার এলেও আয়েশা এখনও মাহমুদর রহমানকে তার জীবনে বহিরাগতই মনে করে। যদিও আয়েশা ভালো করেই জানে এখন পর্যন্ত আয়েশার যা কিছু আছে, সব কিছুই সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র তার স্বামীর কল্যাণে। কিন্তু মানুষের মন বড়ই বিচিত্র, বাসর রাতেই মাহমুদর রহমানকে দেখে আয়েশার প্রচণ্ড বিতৃষ্ণাভাব হয়েছিলো, এতদিনেও তা কিছুমাত্র কমেনি বরং বেড়েছে বহুগুণে। আয়েশার এই বিতৃষ্ণা আর বিরক্তিটা মাহমুদর রহমান সাহেব দেরীতে হলেও বুঝতে পেরেছিলেন আর তাই উনি দূরত্বটা বজায় রেখে নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে গেছেন। আয়েশার মনটা কেমন জানি পাথর হয়ে গেছে, নিজের মেয়েকেও দূরে সরিয়ে রাখতে কোন দুঃখবোধ হয় না উনার। এতো ছোট মেয়েও মায়ের মেজাজ-মর্জি ভালোই বুঝে, মায়ের কাছ থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকে ও। মেয়েটার যত আব্দার সবই তার বাবার কাছে।
মাস তিনেক আগে আয়েশার অফিসে যোগ দেয় পঁচিশ বছরের এক যুবক, নাম ফাহিম। দেখতে চমৎকার যুবকটি আয়েশার সহকারি হিসেবে চাকরিতে যোগ দেয়। প্রথম দেখাতেই আয়েশা ফাহিমের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। মানুষের মন বড়ই বিচিত্র। যতদিন যায়, আয়েশার সেই দুর্বলতা বাড়তেই থাকে। চতুর যুবক ফাহিম বুঝে ফেলে তার “বস”এর এই গোপন দুর্বলতা। আর তাই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে কোনোরকম কার্পণ্য করে না ফাহিম। প্রশংসা আর স্তুতিতে ডুবিয়ে রাখে ও আয়েশাকে। আর যখন আশেপাশে কেউ না থাকে তখন সেই স্তুতিবাক্য গুলো পরিবর্তিত হয় স্থূল রসিকতায়। আয়েশা প্রেমে পড়ে, ভুলে যায় তার বয়স, সমাজে তার স্থান। ফাহিমের সান্নিধ্যে আয়েশা নিজেকে নতুন করে খুঁজে পায়, মুক্ত পাখির মতোই চঞ্চল হয়ে উঠে উনি। আয়েশা আবার নতুন করে বাঁচতে শিখে। ইদানীং আয়েশা বেশ হাসি-খুশি থাকে, সেজেগুজে অফিসে আসে। ফাহিমের সাথে ওর সহজ আচরণ-মেলামেশা দেখে অফিসে ফিসফাস চলে কিন্তু আয়েশা সবকিছু শুনেও না শোনার ভাণ করে। মাহমুদর রহমান সাহেবের কানেও কিছু কিছু কথা পৌঁছায় কিন্তু উনি নিজের থেকে আয়েশাকে কিছু জিজ্ঞাস না করার সিদ্ধান্ত নেন।
মনের এই সম্পর্ককে দৈহিক সম্পর্কে রূপ দেয়ার ধারণাটা ফাহিমের ছিল। আয়েশার ধারণাটা ভালো লাগেনি কিন্তু ফাহিমকে হারানোর ভয়ে আয়েশা বৃহস্পতিবার রাতটা ফাহিমের সাথে হোটেলে কাঁটাতে রাজি হয়।
আর এভাবেই আমরা, বুদ্ধিমান মানুষেরা মুক্তির চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিবেকের সাথে সমঝোতা করি সবসময় আর সব বিবেচনাহীন কাজের জন্য দায়ী করি আমাদের মনকে......কেননা, “মানুষের মন বড়ই বিচিত্র অথবা মনের উপর কারো কোন জোর চলে না”!!
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন