বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৯২
গল্প/কবিতা: ৬টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৩৭

পুরানোকে আঁকড়ে ধরে

নতুন এপ্রিল ২০১২

একজন মর্জিনা

মুক্তির চেতনা মার্চ ২০১২

মাটি

দেশপ্রেম ডিসেম্বর ২০১১

শীত (জানুয়ারী ২০১২)

মোট ভোট ৩৭ হারিয়ে যাওয়ার দিনে

মিষ্টি
comment ২০  favorite ২  import_contacts ৩৭৮
ঘুম থেকে উঠেই বিরক্তিতে রাহেলার কপাল কুঁচকে গেল । মিতুল বিছানায় নেই । মিতুল রাহেলার ৮ বছরের শিশুকণ্যা । এইবার ক্লাস টু তে উঠবে । ওর বয়সী বচ্চাদের তুলনায় ও খুব একটা চঞ্চল নয় । বরং ওকে শান্ত শিষ্টই বলা যায়। সবকিছুই ও গভীর মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে ।

মিতুল বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে । এটি তার খুব প্রিয় একটা কাজ । এইবার প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়েছে । কুয়াশায় যখন চারিদিক ঝাপসা হয়ে থাকে সেই দৃশ্য দেখতে মিতুলের খুব ভালো লাগে ।

রাহেলা মেয়েকে খুঁজতে বারান্দায় এসে দেখে মিতুল এই হাড় কাঁপানো শীতে পাতলা একটা জামা পড়ে খালি পায়ে গ্রিল ধরে বাইরে তাকিয়ে আছে । তার মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো । যদি ওর ঠাণ্ডা লাগে । ইচ্ছে করছে মেয়েটাকে কড়া করে একটা ধমক দিতে। নিজেকে সামলে রাহেলা স্বাভাবিক গলায় বললো , “ মিতুল এদিকে এসো” । মিতুল তখন তন্ময় হয়ে বাইরের দৃশ্য দেখছিল । পাশের বাড়ির উঠানে কিছু ছেলে মেয়ে আগুন করে হাত গারম করছে । মিতুলের খুব ইচ্ছে করছে ওদের সাথে যোগ দিতে । রাহেলা আবার ডাকলেন , “ মিতুল শুনতে পাচ্ছ না আমি ডাকছি ?” মিতুল গুতি গুতি পায়ে রাহেলার দিকে এগিয়ে গেলো । রাহেলা ওকে সোয়েটার পড়াতে পড়াতে বললো , “ আজ আমরা তোমার দাদাবাড়ি যাচ্ছি। তোমার বাবা যাবে না । ওখানে অনেক শীত । তুমি শীতের কাপড় ছাড়া কোথাও যাবে না” । মিতুল ফিক করে হেসে ফেললো । দাদাবাড়ি যেতে ওর খুব ভালো লাগে । কিন্তু আম্মুর কারনে ও কোথাও যেতে পারে না । আম্মু সবসময় ওকে বিছানায় বসে কমিক বই পড়তে বলে অথবা ঘুমাতে বলে । অথচ দাদাবাড়িতে কত খোলা জায়গা । ওর খুব ইচ্ছে করে মনের সুখে ঘুরে বেড়াতে ।

মিতুল রাহেলার কোলে মাথা রেখে অঘোরে ঘুমাচ্ছিল। মার ডাকে ওর ঘুম ভাঙ্গল । ঘুম থেকে উঠেই ও দেখল দাদি ওর দিকে তাকিয়ে হাসছেন ।

পরদিন খুব সকালে মিতুলের ঘুম ভাঙলো । আস্তে আস্তে মার ঘুম না ভাঙ্গিয়ে ও উঠানে নেমে এল । কিছুদুর যেতেই ওর ছেলে মেয়েদের একটা দলের সাথে দেখা হল । ওরা সবাই মটরশুঁটি পুড়িয়ে খাচ্ছিল । মিতুল ওদের দলের সাথে সহজেই মিশে গেলো। একটু পরেই দেখা গেলো মিতুল ওদের সাথে ভাপা পিঠা আর খেজুরের রস খাচ্ছে ।

মিতুল কে খুঁজে না পেয়ে রাহেলার মেজাজ চরম খারাপ হয়ে গেছে । সে এ জন্যই মিতুল কে নিয়ে আসতে চাচ্ছিল না । মিতুলের বাবা জোর করায় এসেছে । এখন মিতুলের বাবার উপর প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে ।

মিতুল এখন খালি পায়ে হাঁটছে । ওর এত মজা লাগছে । আম্মু ওকে কখনো খালি পায়ে হাঁটতে দেয় না । ও এখন যাচ্ছে রেলগাড়ি দেখতে । উত্তেজনায় ওর বুক ঢিপঢিপ করছে ।

রাহেলার প্রচণ্ড মাথা ধরেছে । সে ঠিক করলো মিতুলকে পাওয়া গেলেই সে ঢাকায় চলে যাবে ।

মিতুলদের দলটা এখন ঘুড়ি উড়ানোর প্রস্ততি নিচ্ছে । মিতুল কখনো ঘুড়ি উড়ায় নি । ওর কাছে আজকের দিনটা স্বপ্ন্বর মত মনে হচ্ছে । ঢাউস একটা ঘুড়ির দিকে তাকিয়ে ওর আনন্দে নাচতে ইচ্ছা করলো । ও খানিক টা নেচে নিলেও আজ কেউ কিছু বলবে না ।

বিকেল গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে । এমন সময় মিতুল গুটি গুটি পায়ে বাড়ি ফিরে এলো । রাহেলা প্রথমে রাগে মিতুলের গালে একটা চড় বসিয়ে দিল । তারপর চোখ মুছতে মুছতে মিতুলের হাত ধরে ওকে ঘরে নিয়ে গেলো ।

মিতুলরা আজ ঢাকায় চলে যাচ্ছে । মিতুল গাড়ির ভেতর বসে জানালা দেয়া তাকিয়ে আছে । ওর চোখ ভর্তি পানি । দাদিও কাঁদছেন । রাহেলা চোখ মুখ শক্ত করে বসে আছে । গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে । মিতুলের হঠাৎ গত দিনের কথা মনে পড়ে গেল । খেজুর রস, ভাপা পিঠা , মটরশুঁটি খাওয়ার কথা , রেলগাড়ি আর ঘুড়িটার কথা । কি চমৎকার একটা দিন ও কাটিয়েছে । আম্মুতো একটা বোকা । তাই রাগ করে । আম্মু মনে হয় জানেই না শীতের দিনে কুয়াশা ভেজা মাঠে খালি পায়ে হাঁটতে কি দারুন লাগে !
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন