বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১৬

গর্ব (অক্টোবর ২০১১)

মোট ভোট ১৬ গতানুগতিক

তানভীর চৌধুরী
comment ১৬  favorite ০  import_contacts ১৯৪
বারবার ঘড়ি দেখতে দেখতে একসময় শুভ নিজেই বিরক্ত হয়ে গেল।এই ক্লাস টা তার মোটেই ভাল লাগে না।মাত্র ১০ মিনিট গেল,আর ও ৪০ মিনিট বাকী। স্যারকে ও তার পছন্দ নয়।কি করবে ভেবে না পেয়ে সে স্যারের দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকল, একটা মানুষ কিভাবে এত বিরক্তিকর ক্লাস নিতে পারে। ইতিমধ্যে স্যার ওকে দেখে মুচকি হাসলেন, ভেবেছেন হয়ত শুভ তার লেকচারে মনযোগী।এবার শুভ আশেপাশে তাকাল, যে যার মত ব্যস্ত।সামনের সারির কতিপয় ছাত্র-ছাত্রী গভীর মনযোগের সাথে লেকচার শুনছে। ঘড়ি দেখে শুভ খেয়াল করল সময় পেরিয়ে গেছে, কিন্তু লোক টা যাওয়ার নাম নিচ্ছে না।অগ্যতা শুভ ঘুমানোর প্রস্তুতি নিল।ঘুমটা ভালই হচ্ছিল, হঠাৎ পাশ থেকে রাকিব খোঁচা মেরে বলল,''এবার উঠ,আর ঘুমাতে হবে না, স্যার চলে গেছেন।'' কিছুটা বিরক্ত, কিছুটা খুশি হয়ে সে ব্যাগ গুছিয়ে ক্লাস এর বাইরের দিকে হাঁটা ধরতেই,পিছন থেকে রাকিব এর গলা শোনা গেল, ''রিপোর্ট লিখসস ?''

কথাটা শুনেই সব খুশি ঊবে গেল।আবার গিয়ে বসতে হল।দেখল আশেপাশে অনেকেই লিখছে।লাঞ্চ ব্রেক এর পরেই সেশন্যাল আছে।সারাটা সপ্তাহ রিপোর্ট লিখে না আলসেমি করে।লিখে ও তেমন লাভ নেই, স্যার কখনো পড়ে দেখবেন না। রিপোর্ট রেডি হলেই যথেষ্ট।কোনো রকমে রাকিব এর সাহায্য আর নিজের মাথা খাটিয়ে হিসেব নিকেশ করে শেষ করল রিপোর্ট টা।খাওয়ার জন্যে বের হতে যাবে, এমন সময় দেখল স্যার আসছেন,শুভ বুঝল, আজ ছুটির আগে খাওয়া হচ্ছে না তার।

এমনিতে সেশন্যাল ক্লাস গুলো ভাল লাগে শুভর। থিওরী ক্লাস এর মত বিরক্তি আসে না এসব ক্লাসে।আগে স্যার বুঝাবেন,তারপর সে অনুযায়ী ল্যাব এ গিয়ে কাজ করা।কিন্তু খিদের কারনে আজ স্যারের কথা শুনতে ইচ্ছে হচ্ছে না।যা ভেবেছিল পাশে রাকিবের কাছ থেকে বুঝে নিবে,কিন্তু রাকিব দিব্যি আরামে ঘুমাচ্ছে।তাই শুভ না পেরে কোনোরকমে বুঝে নিল কি করতে হবে ল্যাবে।

ল্যাবের কাজ করা আরেক মজার, এক দল আড্ডা দেয় আরেক দল কাজ করে।কিন্তু কেউ কাউকে বিরক্ত করে না।যেহেতু সবার একি টার্গেট যত তাড়াতাড়ি ছুটি পাওয়া যায়, তাই গোলামাল করলে নিজেদের এ ক্ষতি।ল্যাব শেষে জমা দিলেই ছুটি, এই ভেবে যতটা তাড়াতাড়ি পারল কাজ টা শেষ করল।ঠিকভাবে পেরেছে কিনা এটা নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই।ক্লাসে এসে রিপোর্ট জমা দিতে গিয়ে মনে হল আজ ও স্যার রিপোর্ট দেখবেন না।কিন্তু স্যার তো তার চেয়ে ও একধাপ এগিয়ে,বলে দিলেন আজ জমা নিবেন না,আগামী ক্লাসে একসাথে দুটো নিবেন।রাগে শুভর ইচ্ছা করল রিপোর্টটাই ছিড়ে ফেলে, না খেয়ে কেন এত কষ্ট করল? তাও ভাল, বাসায় মুভি দেখার সময়টা নষ্ট করে নি এটার জন্যে।ক্লাসেই সব শেষ।

ডিপার্টমেন্ট থেকে বের হয়ে সোজা কেন্টিন এর দিকে রওনা হল সে।খেয়ে আবার বাস ধরতে হবে বাসায় যেতে।যানজট মিলিয়ে ২ ঘন্টা তো লাগবেই।খেয়ে দেয়ে বাসে উঠার একটু পরেই বাস ছাড়ল।একই রুটিনমাফিক চলতে চলতে হয়ত এক সময় পাস করে বের হয়ে যাবে ভার্সিটি থেকে ।ক্লাস, ক্লাস টেস্ট, ল্যাব, ল্যাব রিপোর্ট,আস্যাইনমেণ্ট, পরীক্ষা- এসব কি শেষ হবার নয়? গতানুগতিক কাজ ছাড়া আর কিছু কেন করা হয় না ?

জানালার বাইরে তাকিয়ে ,এসব ভাবতে ভাবতেই সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল শুভ ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • সূর্য
    সূর্য যেমন আচমকা শুরু হয়েছে ঠিক কোন কারণ না দেখিয়ে শেষ। ডায়রীর টুকরো একটি ঘটনার মতো মনে হয়েছে। লেখার হাত খারাপ নয়।
    প্রত্যুত্তর . ২৩ অক্টোবর, ২০১১
  • আশা
    আশা গল্পকবিতায় যা কিছুই পোষ্ট করেন, তাই ছাপানো হয়। এটাই বোধহয় আপনার গর্ব? তা না হলে গল্পেতো গর্ব করার কিছুই পেলাম না।
    প্রত্যুত্তর . ২৫ অক্টোবর, ২০১১
  • মোঃ আক্তারুজ্জামান
    মোঃ আক্তারুজ্জামান পড়লাম| গর্ব খুঁজে না পেলেও আমার ছাত্র জীবন তো একটুখানি ফিরে পেয়েছি- তাতেই খুশি| শুভেচ্ছা রইলো|
    প্রত্যুত্তর . ২৯ অক্টোবর, ২০১১