বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ অক্টোবর ১৯৮৪
গল্প/কবিতা: ২৫টি

সমন্বিত স্কোর

৩.২৬

বিচারক স্কোরঃ ১.৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৫৬ / ৩.০

বিবেকের আকাশ

রাত মে ২০১৪

মেরুপ্রভা

বাংলার রূপ এপ্রিল ২০১৪

গদাই সর্দার

কৈশোর মার্চ ২০১৪

বাংলার রূপ (এপ্রিল ২০১৪)

মোট ভোট ১৩ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.২৬ গ্রহান্তর

ইয়াসির আরাফাত
comment ১৩  favorite ০  import_contacts ৪৮৮
পরিবারের থেকে মায়া-মমতার বিরূপ ক্রিয়া মানসিক বাধা ও শাসনে এক প্রকার প্রতিবন্ধী রুপে রূপান্তরিত হয় রুপম! পিতা মাতার অতি ভালবাসা ও শাসন আজ তার দুর্ভাগ্যের জন্য দায়ি ।এখন সৃষ্টিকর্তা ও ভাগ্যের কাঁধে দোষ চাপিয়ে কিছুটা সস্থি অনুভব করে রুপমের পরিবার ।

একদিন রুপমের বাবার বন্ধু চমৎকার মাটির হাড়িতে বক , সারস , চূড়ায় , কাঁকড়া , কলা বাহারি কারুকাজের তাদের গ্রামের ঐতিহ্যবাহী তাল পিঠা নিয়ে রুপমদের বাড়িতে বেড়াতে এলো , প্রতিবছর তিনি এই সময়ে আসেন । তার মুখরোচক গ্রামের গল্প শুনে রুপম তো গ্রামে যাবার জন্য অস্তির হয়ে যেত এবার গল্প শোনার আগ্রহ নেই রুপমের । প্রতিদিনের মত বই ছিঁড়ে ফেলা , খেলনা গুলো ভেঙে ফেলা , কাঁচের প্লেট গ্লাস ভেঙে ফেলা এক কথায় ধ্বংস করে আনন্দ পাওয়ার খেলায় মেতে থাকে সে । তার মা কয়েক মাস আগেও তার এই আচরনের জন্য মারধোর করত কিন্তু এখন আর মারধোর করেনা । কারন সে এখন জানে রুপম একজন মানসিক রোগী তাকে শাসন করলে সে আরও খিপ্ত হবে । সে এখন অন্য গ্রহের মানুষ তাকে গ্রহান্তরিত করার সকল পথ আজ বন্ধ ।

কিছু দিনেই সে অনেকটা পশুপাখির মত চমৎকার চাচার কাছে পোষ মেনেছে । তার সামান্য পরিবর্তনই তার পরিবারের চোখে স্বপ্ন দেখায় । রুপমকে চমৎকার চাচার সাথে গ্রামে যাবার অনুমতি দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে তার বাবা মা ।চমৎকার চাচাকে বলে চোদ্দ বছরে একটি দিনও তারা রুপমকে ছেড়ে থাকেনি সে যেন তাকে সর্বদা চোখে চোখে রাখে সময় মত খাবার ,পাম্প এর পানিতে গোসল ও পরিষ্কার পরিছন্নতার দিকে খেয়াল রাখে , টো টো করে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ ও দুষ্টু ছেলেদের সাথে যেন মেশার সুযোগ না দেয় ইত্যাদি ইত্যাদি ।
চমৎকার চাচা মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ এবং মনে মনে বলে বেশি ভালবাসতে গিয়ে ছেলেটিকে পাগল করেও তোমাদের জ্ঞান হলোনা । মধু কেন মিষ্টি বোঝা যায় মৌমাছির হুল খেলে , পাখি কেন গান গায় বোঝা যায় গাছে চড়লেই ।

রুপম চোদ্দ বছর পড়ে এই প্রথম জামিন পেয়ে গ্রামের নির্মল পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেই খুব সহজেই। দিগন্ত থেকে দিগন্ত ছুটে আকাশ ছোঁয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করে সে ।এখানে একটি বারের জন্য নিজেকে অসহায় বন্দী আসামী মনে হয়না তার । খোকন , শিউলি , পলাশ , পল্লব , জুয় ,শাপলা ,সাগর তো আছেই সাথে নানা চেনা অচেনা ফুল পাখি , কিট পতঙ্গ তার খেলার সাথী ।কয়েক মাসের মধ্যে প্রকৃতির ভালবাসার শক্তিতে রুপম অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যায় ।কথায় কথায় এখন আর সে বিষাক্ত সাপের মত ফণা তুলেনা ।তার শরীরের লোমকূপ গুলো আর ফর্নিমন্সার কাঁটার মত দাঁড়িয়ে যায়না । নিজের কাজ নিজে করতে পাড়ে ।লেখা পড়াতেও মনযোগী হয়েছে । তার পরিবারের প্রতি ঘৃণার দাগ প্রায় মুছে গেছে ।

এখন সে শহরের সে ছোট্ট ঘরেই থাকে নিজের একটি জগত বানিয়ে নিয়েছে । তার বাবা মা এখন তার মতামতের মূল্যায়ন করে ।মাঝে মাঝে বেড়াতে নিয়ে যায় ।সে এখন খেলাধুলার সুযোগ পাই,বাসার ছাদে গিয়ে চাঁদের সাথে লুকোচুরি খেলে,তাদের খেলা দেখে তারারা হাততালি দেয় ।কাঠ বিড়ালীর মত দুরন্ত ছুটো ছুটি করে এছাদ থেকে ঐ ছাদে ।অনেক সময় গেয়ে উঠে – প্রানো বন্ধু রে ,কিরূপ দেখাইয়া পাগল করলি মোরে ।

তবুও তাকে যান্ত্রিক শহরে রুটিন মেনে চলতে হয় । এই রুটিন মানতে তার কোন দ্বিধা নেই ।সে জানে রুটিন বর্জিত প্রকৃতির কোন কিছু নয় ।
এখনো নিত্য ব্যস্ততার ফাঁকেই তার মন চলে যায় গ্রামের শূন্য উদ্যানে যেখানে রাশি রাশি সোনালী স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলো । মনেমনে একটি পদ্মচাকা তুলে ছিঁড়ে ছিঁড়ে বীজ বেড় করে খায় সে । একটি কুনো ব্যাঙ লাফ দিয়ে কেড়ে নেয় পদ্ম চাকা কালুরাখাল টাপুর টুপুর বৃষ্টিতেও ডুব দিয়ে তুলে আনে পানি সিঙেরা , ডিঙ্গি নায়ে চড়ে শালুক তুলতে গিয়ে সাপ দেখে চিৎকার করে সাপকে ভয় পায়িয়ে দিয়েছিলো রুপক ।সাপ গুলো যেন খোকনের পোষা ঝট করে সাপের গলা ধরে ছুঁড়ে ফেলে দিতো দুরে । কানা সারস একটি মাছের জন্য অনেক্ষন এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকত ।টুকরো টুকরো নানা আনন্দময় দুঃসাহসিক যাত্রার দৃশ্য ভেসে উঠে তার চোখের পাতায় । মনে মনে আঁকতে থাকে শতরঙের আলপনা তার মনের স্বপ্নরাজ্যে একটি জোনাকি , ঘাস ফড়িং , প্রজাপতি ,লক্ষ্মী পেঁচা সহ চেনা অচেনা নানান পাখি কীটপতঙ্গের খামার থাকবে আরও থাকবে ফলজ ও বনজ বৃক্ষের নার্সারি । তার রাজ্যে অতি ভালবাসার শাসনে কোন কোমলমতি শিশুর মন ভেঙেদেয়াতে থাকবে ১৪৪ ধারা ।
আগামী প্রজম্নকে যেন অনুরাগে লিখতে না হয় হারমানা কবিতা যেমন –
দুঃখ একটিই বাংলায় জন্ম নিয়েও
বাংলার রূপ দেখলাম না এক নজর
বইপত্র ঘেঁটে নেটে সার্চ দিয়ে যা পাই
তা শুধু মৃত পাথর ।।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন