বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ মে ১৯৭৮
গল্প/কবিতা: ৭৬টি

কাছে দূরে প্রেম ভালোবাসা

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

সিদ্ধান্ত

ব্যথা জানুয়ারী ২০১৫

নেইমার-মেসি তর্ক

রম্য রচনা জুলাই ২০১৪

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (নভেম্বর ২০১২)

অনুভূতি

মামুন ম. আজিজ
comment ৩৭  favorite ৪  import_contacts ৮৬৮
॥এক॥
কিছু মানুষ আইন মানছে না। নিষিদ্ধ কাজটি তারা করেই চলেছে।

শেষ তিন মাসের ডাটাবেসে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে-সেকশন এ-১৩ এলাকার সাড়ে পাঁচ মিলিয়ন মানুষের প্রত্যেককেই নিয়মিত বিনামূল্যে সুখ পিল দেয়া হয়েছে। কেউ বাদ পড়েনি। এই পিল গ্রহণ করলে কোন অশান্তি কিংবা দুঃখ বোধ থাকেনা। তবুও কেনো কিছু মানুষ আইন মানছেনা?

ডঃ মাঈন সন্ধ্যা থেকে বিষয়টি নিয়ে খুব চিন্তিত। অথরিটি ফর ম্যানেজমেন্ট, কোওরডিনেশন এন্ড ডিস্ট্রিুবিউশন অব ফিলিংস পিল (আমকডিফ) এর সেকশন এ-১৩ শাখার প্রধান সে। একটু আগেই সে তার পারসনালা সহকারী রোবট এক্স০২-এ-১৩ এর হলোগ্রাফিক ডিসপ্লেতে সাড়ে পাঁচ মিলিয়ন জনগনেরই সর্বশেষ অনুভূতি পিল ডিষ্ট্রিবিউশনের পুরো ডাটাবেজ ঘেঁটে দেখেছে। বর্তমানে সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির রোবট হলো এক্স সিরিজ। এই সিরিজের সেকেন্ড ক্যাটাগরীর একটি রোবট এক্স০২-এ-১৩ । এক্স সিরিজের সবগুলো রোবটই এনড্রয়েট শ্রেণীর, এরা গঠনে হুবুহু মানুষের মত এবং এদের ডাটাবেসের তথ্য অবশ্যই নির্ভুল।

প্রত্যেক সিটিজেনের হাতের কব্জিতে খুব ছোট একটা চিপ বসানো রয়েছে। কেউ যখন কোন পিল সংগ্রহ করে তখন চিপের মেমোরিতে সে তথ্য অটো এন্ট্রি হয়ে যায়। পিল ডিস্ট্রিবিশনের কাজে পুরো সেকশনের ১০০টি আউটলেটে টিএম সিরিজের ১০০টি কর্মী রোবট নিয়োজিত রয়েছে। জনসাধারনকে যেকোন ধরনের পিল কিনতে হলে এদের কাছ থেকেই নিতে হয়, ফলে হাতের মাইক্রোচিপে ডাটা এন্ট্রি সয়ংক্রিয়ভাবে অবশ্যই সম্পন্ন হয়। পুরো সিস্টেমটাই খুব কার্যকরী।

মানুষের জীবনকে শান্তিময় করে তোলার জন্য নানা রকম অনুভূতির পিল আজ আবি®কৃত। কষ্ট লাঘব পিল, কর্মআনন্দ পিল, ব্যাথানাশক পিল, স্বপ্ন পিল, ঘুম পিল, ঘুমহীনতার পিল, দুশ্চিন্তমুক্তি পিল, রাগ উপশম পিল, ভালোবাস পিল ইত্যাদি নানান ধরনের পিল বাজারে ছেড়েছে মকউই এর বিজ্ঞানীগণ। যদিও বিপনণ ও বিতরণ সম্পুর্ণ এককভাবে আমকোডিফেরই নিয়ন্ত্রনাধীন।

সুখ পিলটি মকউই এর নতুন আইনে সবার জন্য বাধ্যতামূলক। এটা ছাড়াও আর অন্যসকল অনুভূতি পিলের প্রতিটির হিসাবও দেখেছে মাঈন। দক্ষিন গোলার্ধে সাগরতীরে অবস্থিত ব-দ্বীপাকৃতির এই সেকশন এ-১৩ এ প্রযুক্তির উচ্চ পর্যায়ের কার্যক্রম একদমই হয়না। এখানের কার্যক্রম মূলত খাদ্য উৎপাদন, মৎস চাষ, পোষাক তৈরী এবং কিছু নিত্য পন্য প্রস্তুতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। লোকজন তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী কাজ পছন্দ করে নেয়। যারা উচ্চ প্রযুক্তির কাজে ইচ্ছে প্রসন করে এবং পারদর্শীতা দেখাতে পারে তাদের হাইটেক কোন সেকশনে মাইগ্রেট করানো হয়। এ-১৩ এর মানুষজন ন্যাচারেলি একটু অলস। এদের আয়ও কম। তাই এ অঞ্চলে খুব বেশি ভ্যারাইটির পিল বিক্রি হয়না। অন্যান্য সেকশনের আমকোডিফ চীফদের থেকে মাঈন তাই কিছুটা রিলাক্সে থাকে।

তারপরও এ-১৩ সেকশনের গোয়েন্দা রোবট সহকালী রোবটের মেমোরিতে তথ্য পাঠিয়েছে- বেশ কিছু মানুষ ক্ষুধা নিবারক পিল ব্যবহার করছে গোপনে। বহুআগেই এ পিল সম্পূর্নভাবে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। তথ্যানুযায়ী গত একমাসে দশ জন মারাও গেছে না খেতে খেতে। ডঃ মাঈনের উচিৎ ছিল আজই একটা রিপোর্ট মকউই হের্ডকোয়ার্টে পাঠানো। কিন্তু সে পাঠালো না। আগে পুরো রহস্য তাকে জানতে হবে। রহস্য জানার তাড়নায় সে নিয়ম ভাঙল।



॥দুই॥
ইতিহাস বিষয়টা খুব টানে ডঃ মাঈনকে। হৃদেয়ের ভেতর থেকে একটা ভালো লাগার আলোড়ন জাগে ইতিহাসের মাঝে ডুবে গেলে। অবসর সময় মাঝে মাঝেই সে ইতিহাস ঘাঁটে। ঘাঁটা মানেতো আদি পুরুষদের মত মোটা মোটা বই উল্টানো কিংবা ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে দিয়ে তথ্য বের করা নয়, এক্স০২-এ-১৩ কে নির্দেশ দিলেই সে শোনাতে থাকে আর প্রয়োজনীয় ভিডিও বা স্টিল চিত্র হলোগ্রাফিক মনিটরে দেখিয়েও দেয়। ইতিহাস তাকে পিল ছাড়াই এক পরিপূর্ণ সুখানুভূতি দেয়।

ইতিহাস তাকে জানিয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে একসময় না খেয়ে মানুষ মরে যাবার মত ভয়াবহ ঘটনাও ঘটত। একটা ভয়াবহ অসাম্য বজায় ছিল পুরো বিশ্বে। শেষ মহাযুদ্ধের সূচনা তো ঘটেছিল সেই অসাম্য থেকেই।

বাম হাতের কব্জিতে সেট করা চিপটার ব্লুু বাটনটা চাপতেই রোবট এক্স০২-এ-১৩ উপস্থিত হলো। সুশ্রী নারী অবয়ব রোবটটার। মাঈন আদর করে তাকে হিস্টি বলে ডাকে। ইতিহাস শোনানোর নির্দেশ দিতেই হিস্টি নারী কণ্ঠে বলতে শুরু করলঃ
...আধুনিক পৃথিবীর ইতিহাসে ঊনবিংশ এবং বিংশ শতক খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারও আগে সারা পৃথিবীতেই প্রায়প্রচলিত ছিল রাজতন্ত্র । রাজা আর প্রজার মধ্যে ছিল আকাশ পাতাল বৈষম্য। কিছু কিছু দেশ শিল্প ও বিজ্ঞানে উন্নতি লাভ করতে থাকায় তারা বুঝতে পারে এই ধরনের বৈষম্য কাম্য নয়। জ্ঞানী ও পন্ডিতগণ রাজতন্ত্র থেকে মুক্তির জন্য নতুন নতুন ব্যবস্থার কথা ভাবতে থাকেন। সে ভাবনার আলোকেই শুরু হয় গনতন্ত্র নামের এক পদ্ধতি, আবার কোথাও কোথাও সমাজতন্ত্র নামের অন্য আরেক ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়। কোথাও আবার দেখা যায় এ দুয়ের মিশ্রন। রাজতন্ত্র আর আগ্রাসন থেকে মুক্তির চিন্তা করলেও উন্নত বিশ্বের মাঝে আধিপত্য বিস্তারের বাসনা কিন্তু কমে না। ফলে বিংশ শতকের গোড়ার দিকে পৃথিবী দু’ভাগে ভাগ হয়ে দুটি বিশ্ব যুদ্ধে লিপ্ত হয়। বদলে যায় পৃথিবীর অনেক কিছু। বদলে যায় পুরো পৃথিবীর রাজনৈতিক অবস্থা।

যুদ্ধ পরবর্তীকালে কিছু কিছু দেশ প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানে সর্বপ্রথম অভাবনীয় উন্নতি ঘটানোর স্বপ্ন দেখতে থাকে। সেই স্বপ্নের ফলে কম্পিউটার আবিষ্কার করতে সক্ষম হয় মানুষ। মূলত সেই আবিষ্কারকেই বলা যায় আজকের সভ্যতার প্রারম্ভিক ভিত্তি। সমাজতন্ত্র একসময় প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। গনতন্ত্রই সেই সময় একমাত্র সঠিক পন্থা বলে বিবেচিত হতে থাকে। কিন্তু তবুও আধিপত্য বিস্তার রোধ হয়না। গনতন্ত্রের সাথে পুঁিজবাদ নামে এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা একিভূত হয়ে ওঠে। আর সেই পুঁিজবাদী সিস্টেমই হয় গনতন্ত্রের কাল। পুঁজি যেখানে বেশি সেখানেই ক্ষমতার দন্ড। একবিংশ শতকের শুরুর দিকে পৃথিবী জুড়ে এই পুঁজিবাদ হয়ে ওঠে বিষফোঁড়া। সারা পৃথিবী জুড়েই পুঁজির কুক্ষিগতকরণ হতে থাকে। পুঁজিহীনরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে আন্দোলনের নামে এক জোট হতে থাকে। একসময় দেখা যায় পৃথিবীর মোট সম্পদের ৯৯ ভাগ মাত্র ১ ভাগের কছে কুক্ষিগত। বাকী ১ ভাগ সম্পদ ৯৯ ভাগ মানুষ কামড়ামাকড়ি করছে। কিন্তু ক্ষমতা আবার ঐ ১ ভাগের হাতেই। তাদের হাতে বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নয়ন ঘটায় তখন উপস্থিত নিউক্লিয়ার শক্তি, নানান ধরনের ভয়াবহ পয়জন আর কেমিক্যাল বোম। পুরো পৃথিবী ধ্বংস করার মত এসব বিধ্বংসী অস্ত্রের মজুদ ছিল তাদের ব্যাপকহারে।

আন্দোলনকারীরা তাই বারবার ক্ষমতার দেয়ালে বাঁধা পেয়ে পরাজিত হচ্ছিল। পুরো পৃথিবী দু’টি ভাগে ভাগ হয়ে গেলো স্পষ্টতঃ। সুবধিাভোগী আর সুবিধাবঞ্চিত। যার ফলস্বরূপ সেই ২১১১ সালে এসে শুরু হলো পৃথিবীর ইতিহাসে চতুর্থবারের মত মহাযুদ্ধ। একদিকে বিপুল জনগণ আর একদিকে অর্থ জ্ঞান বিজ্ঞান প্রযুক্তি। কিন্তু প্রযুক্তি আর জ্ঞান বিপরীত দলেও ততদিনে বেশ ছড়িয়েছে। তারাও নানা ভয়াবহ অস্ত্র আর বোমা তৈরী করে ফেলল। পুরো পৃথিবীর স্ট্রাকচার বদলে গেলো। দেশতত্ব বদলে গেলো। দেখা গেলো অনুন্নত অঞ্চলগুলোতে পুঁজিহীন মানুষেরা গিয়ে গিয়ে জরো হচ্ছে। উন্নত বিশ্বগুলো থাকল ক্ষমতাধর মানুষের দখলে। ভয়াবহ যুদ্ধে পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষ মারা গেলো মাত্র সাত বছরেই। অর্থ আর বিজ্ঞানের নিরলস প্রচেষ্টায় স্বল্পবুদ্ধির এনড্রয়েড রোবট তৈরী করে ফেলল উন্নত বিশ্বের বিজ্ঞানীরা। সেসব মানুষ সদৃশ রোবট তারা অন্যপক্ষের মাঝে গোপনে ছড়িয়ে দিল। পুরা তথ্য চলে আসতে লাগল তাদের হাতে। দু’একটা অবশ্য ধরা পড়ে যায় এবং অপর পক্ষ সেইসব এনড্রয়েড নিয়ে গবেষনা করে নিজেরাও উন্নত প্রযুক্তির হিউমনেয়ড রোবট বানিয়ে ফেলল। শেষে উন্নত বিশ্ব সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল পয়জন বোম ইনকর্পোরেট করে সুইসাইডাল এনড্রয়েড পাঠাবে। একেবারে সব মরে সাফ হয়ে যাবে। পৃথিবীতে কেবল থাকবে তারাই ।

উন্নত বিশ্বের বিজ্ঞানীরা এইবার মাথা চারা দিয়ে উঠেলো। তারা গোপন অপর পক্ষের বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের সাথে যোগাযোগ করলো এবং সবাই মিলে খুব গোপনে সব ধরনের বোম ডিএকটিভেট করা ব্যবস্থা করলো। সকল এনড্রয়েড আর হিউমেনয়েড রোবট কন্ট্রল করার মত রিমোর্ট সফটওয়্যারও আবিষ্কার করলো। এতে মূলত যুদ্ধের দুই পক্ষই দূর্বল হয়ে উঠল।

ফলে ২১১৯ সালে পৃথিবীর বুকে মানুষ দেখতে পেলো নতুন এক ব্যবস্থা। যার নাম বিজ্ঞানতন্ত্র। বিজ্ঞানীরা গঠন করলো মেইন অথরিটি অব কন্ট্রোল ফর ওয়ার্ল্ড এন্টিটি বা সংক্ষেপে মকউই।

মকউই দেখল পৃথিবীতে পুনরায় শান্তি বিরাজ করনোর জন্য প্রধানত দরকার মানুষের অনুভূতিগুলো নিয়ন্ত্রন করা। অনুভূতি কন্ট্রল না করতে পারলে মানুষের ষড় রিপুর প্ররোচনায় বিগত সকল সময়ের মত কেবল মারামারি কাটাকটি আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বই চলতে থাকবে যার ফলে মূলত বিজ্ঞানের এই এত সাধনা সব ভেস্তে চলে যাবে। এমনেতেই দীর্ঘ যুদ্ধে বিজ্ঞানের অগ্রগতি অনেক পিছিয়ে গেছে। তার দেখল পৃথিবীর সব স্থান সমপর্যায়ে উন্নত করা এবং সর্বত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম পর্যায়ে আনা এত সহজ হবে না। তার চেয়ে বরং সকল স্থানের মানুষকে একটা সমপর্যায়ের অনুভূতি প্রদান করতে পারলে বিজ্ঞানীরা নির্ভাবনায় মহাজাগতিক গবেষনায় সুন্দর মনোনিবেশ করতে পারবে। পৃথিবী মানুষের কোন্দল থেকে না হয় বাঁচল কিন্তু বিজ্ঞানীরা মহাজাগতি যে সকল থ্রেট একদম পুঙ্খানুপুঙ্খু হিসেব করে বের করে ফেলেছে সেগুলোর নিযন্ত্রন করতে আরও অনেক বেশী উন্নত প্রযুক্তি লাগবে।

বিজ্ঞানীরা অল্প কয়েক বছরের নিরলস গবেষনায় ২১৩৫ সালেই সম্পূর্ন সফল হলো অনুভূতি নিয়ন্ত্রন করতে। তারা বিভিন্ন মানবীয় অনুভূতি প্রদানে সক্ষম পিল আবিষ্কার করল এবং সেগুলো সাধারণ জনগণের মধ্যে বিতরণ করার ব্যবস্থা নিলো।

এর মধ্যে একটি পিল ছিল ক্ষুধা নিবারক পিল। বিজ্ঞানীরা ঐ পিল আবিষ্কার করেছিল বিশেষ প্রয়োজনে ক্ষুধা নিবারনের জন্য। কিন্তু বারবার কেউ খেয়ে ক্ষুধা মুক্ত থাকলে একসময় সে দূর্বল হয়ে মারাই যাবে। তাই বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ নিষেধ ছিল। ক্ষুধা হলো মানুষের মূল কর্মস্পৃহা। ক্ষুধা না থাকলে মানুষ আসলে কোন কাজই করত না। বিজ্ঞানীরা এই তত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। তারপরও গোপনে ঐ পিল সংগ্রহ করে বেশ কয়েকজন মারা যাবার পর ২২০১ সালে ঐ ধরনের পিল তৈরী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হলো। এরপরপরই সবরকম অনুভূতি পিল যত্রতত্র সরবরাহ না করে সঠিক নিয়ন্ত্রন রক্ষার্থে আমকোডিফ গঠন করা হয় ২২০২ সালে।

আমকোডিফ চীফ হলেও ক্ষুধা নিবারক পিল সে রাখতে পারবে না। কেবলমাত্র মকউই এর এক্সিকিউটিভ বডির সদস্যগণই এ পিল বহন এবং সরবরাহ করতে পারবে, তবে সেটা বিশেষ বিশেষ প্রয়োজনে এবং যার জন্য মকউই এর প্রেশকিপশন লাগবে। অন্যকারও কাছে পাওয়া গেলে সেটা হবে আইনের খেলাপ যার শাস্তি বড্ড কঠিন। শাস্তি হিসাবে সেকশন জেল অঞ্চলে পাঠানো হবে। সেখানে প্রযুক্তির সবচেয়ে কঠিন ফিজিক্যাল পার্টস গুলো তৈরীর কাজ নিয়োজিত থাকতে হবে এবং কোন রকম অনুভূতি পিল গ্রহণ বাদেই। শাস্তিটা ভয়নাক কারন মানুষ পিল ছাড়া কষ্ট সহ্য করা তো কবেই ভুলে গেছে।

অথচ এতকিছুর পরও আজ এই ঘটনার খবর এল। ইতিহাস থেকে মাঈন পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র, গনতন্ত্র এসব জটিল অতীত ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কে অনেক জেনেছে। তবে কি বিজ্ঞানতন্ত্রেও ক্রমে সেই প্রভূ আর ভৃত্যের অসমতা তৈরী হয়ে উঠেছে ? বিজ্ঞানতন্ত্রের কোন দূর্বলতার কারনে এখনও মানুষ গোপন নেশা হিসেবে ঐ ক্ষুধা নিবারক পিলকে বেছে নিচ্ছে?- বিষয়টি সত্যিই তাকে খুব বেশি ভাবিত করছে।


॥তিন॥
ডঃ মাঈনের স্ত্রী ডঃ আনআইসা সেকশন এ-১৩ এর গভর্নিং বডির প্রিন্সিপাল বোর্ডের তিনজন সদস্যের মধ্যে একজন। যে কোন সেকশনের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী এই বোর্ড সদস্যগণ। পদাধিকার বলে এরা সকলেই মকউইয়ের এক্সিউিটিভ বডিরও সদস্য।

২৩৯৯ সালের এত উন্নত সিকিউরিটি ব্যবস্থায় এ-১৩ সেকশনের এই তিন সদস্য ছাড়া আর কারও পক্ষে ক্ষুধা নিবাররক অনুভূতি পিল বহন করে সেকশন ০০ মানে হেডকায়ার্টার থেকে এখানে আনা সম্ভব নয়। কিন্তু ঐ তিন সদস্যের পারসনাল সহকারী রোবটকে একসেস করার অনুমতি হিস্টির নেই। শুধু বার্তা আর রিপোর্ট পাঠানোর অনুমতিই আছে।

পৃথিবী থেকে মানবীয় ভালবাসা অনেকাংশে উঠেই গেছে। ভালবাসার জন্য তো ভালবাসার পিলই পাওয়া যায়। সন্তান জন্ম দেয়ার ইচ্ছে হলে কারও তারও জন্য রয়েছে আলাদা বার্থ অথরিটি সংস্থা। এরা স্বামী স্ত্রীর যৌথ সম্মতি অনুযায়ী বীর্র্য আর ডিম্বাণু সংগ্রহ করে কৃত্রিমভাবেই পুরো বাচ্চা জন্মদেয়ার কাজটি সযতেœ সম্পন্ন করে থাকে। একবারের বেশী কেউ বাচ্চা নিতেও পারবেনা। সেটা আইনে নিষিদ্ধ। সেক্স বিষয়টি অবশ্য মানুষ দুই ভাবেই মেইনটেন্ট করে। সেক্স পিল খেয়ে অনুভূতি গ্রহনের মাধ্যমে আবার শারীরিক ভাবেও। এটা উন্মুক্ত এবং ঐচ্ছিক রাখা হয়েছে।

মাঈন আর তার স্ত্রী শারীরিকভাবেই বিষয়টি সম্পন্ন করতে পছন্দ করে। তাদের মাঝে ভালবাসাটাও মানবিক। তাই সে তার স্ত্রীকে খুব ভাল করেই চেনে। তাকে সে সন্দেহ থেকে প্রথমেই বাদ দিল। কিন্তু বাকী দুজনের মধ্যে বেশি সন্দেহ হয় মিঃ আপঈনকেই। মিঃ সাঈনাটও হতে পরে। এই দুজনের ডিটেইলস তাকে পেতেই হবে।

কাজটা কঠিন। সে জানে কাজটি তার জন্য হিতে বিপরীত হয়েও উঠতে পারে। কিন্তু তার দুশ্চিন্তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সে অস্থিরও হয়ে উঠছে। সে চাইলেই এখন একটা দুশ্চিন্তা মুক্ত অনুভূতি পিল খেয়ে নিতে পারে। কিন্তু না, মাঈন চায় সমস্যার সমাধান, তাই সে রিক্সটা নেবেই। দুশ্চিন্তা মুক্ত হলে সমাধান করার ইচ্ছেটা মরে যেতে পারে।

মাঈন হিস্টিকে ডাকল । এক্স সিরিজের দ্বিতীয় ক্যাটাগরীর রোবট হওয়ায় তার পক্ষে মিঃ আপঈন এর সহকারী রোবট এক্স০১-এ-১৩-১ কে একসেস করা সম্ভব নয়। সেটি এক্স সিরিজের প্রথম ক্যাটাগরীর এনড্রয়েড রোবট। মাঈন হিস্টিকে তার হাতের চিপের সাথে কানেক্ট হতে বলল। রোবটটি মাষ্টারের আদেশ মানতে বাধ্য। মাঈন নিজের হিউম্যান ব্রেনকে রোবেটের মেমোরির সাথে ইনকর্পোরেট করে ফেলল। নিজের ব্রেনের মাধ্যমে হিস্টিকে এক্স০১-এ-১৩-১ এর সাথে এসসেসের জন্য বাধ্য করাতে পারল। গত এক মাস মিঃ আপঈনের মকউইয়ে যাওয়া আসার একটা স্ক্যান রিপোর্ট নিল। ক্ষুধা নিবারন পিলের কোন তথ্য পেলনা। একই ভাবে মিঃ সাঈনাটের সহকারী রোবটটির সাথে সংযোগ স্থাপন করল। এক্ষেত্রেও সন্দেহজনেক কিছু পেলোনা। তাহলে কি তার স্ত্রী? কিন্তু কি করে সম্ভব? তবে কি পারসনাল রোবটকেও এরা ধোঁকা দিয়েছে?-অসম্ভব।

এবার সত্যি সত্যি ভয়াবহ দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেলো মাঈন। সে ইতিমধ্যে দুইজন এক্সিকিউটিভ বডির সদস্যের সহকারী রোবটের সাথে আনঅথরাইজড সংযোগ জনিত অপরাধও করে ফেলেছে। এতক্ষণে মকউইতে এই সংযোগের রিপোর্টও তার রোবটের মাধ্যমেই অটো পৌঁছে যাবার কথা। এর জন্য তাকে জবাবদিহী করা হতে পারে। যদি এর মধ্যে রহস্য উদঘাটন করা যায় তবে একটা সদুত্তোর দিতে পারবে। না হলে শাস্তি এড়ানো যাবে না। চীফের পদটাও চলে যেতে পারে।

আর পারলনা। দুশ্চিন্তা মুক্ত করার একটা পিল সে খেয়েই নিল। ঠিক তখনই কব্জিতে লাগানো চিপে একটা গোলাপী আলো জ্বলে উঠল। তার স্ত্রী কথা বলতে চাইছে। কলটি রিসিভ করল।


॥চার॥
‘রাত ক’টা বাজে? তুমি এখনও অফিস রুমে কি করছ প্রিয় মাঈন?’

‘এইতো ডিয়ার, একটা জরুরী কাজে আটকে পড়েছিলাম। এখনি বের হচ্ছি।’

‘তাড়াতাড়ি চলে এস। তোমার জন্য একটা স্পেশাল ডিস রান্না করা হয়েছে। রোবট রাঁধুনি নয়, আমার মানবী রাঁধুনী রেধেঁছে। তুমিতো তার হাতের রান্নাই বেশি পছন্দ কর, তাই না প্রিয় মাঈন?’

‘সত্যি বলছ?’

‘হুম, আজ তোমাকে সুখ পিল খেতে হবেনা। রান্না খেয়েই সুখ পাবে। সুখ পিল না খাওয়ার নির্দেশনা দেয়ার ক্ষমতা যে আমার আছে সেটাতো জানো। এক্ষুনি চলে এস। আমি গোসলটা এই ফাঁকে সেরে আসি।’


মাঈন পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তিন কিলোমিটার দূরে তাদের অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছে গেলো। এখন আর মনে কোন দুশ্চিন্তা নেই। স্ত্রী আনআইসার কথাই কেবল ভাবছে। তার সুন্দর মুখটা দেখতে খুব ইচ্ছে করছে। দরজা খুলে হিস্টিকে এনার্জাইজ রুমে চলে যেত বলল। বেডরুমের দিকে এগিয়ে যেতেই দেখল বাথরুম থেকে আনআইসা বের হয়ে আয়নার সামনে দাঁিড়য়ে চুল থেকে পানি ঝাড়ছে। গায়ে তার একটা তোয়ালি জড়ানো কেবল। কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকল। তারপর এক পা একপা করে এগিয়ে পেছনে থেকে জড়িয়ে ধরল। আনআইসার মুখে মিষ্টি হাসি। যতবার এই হাসি দেখে ততবার মাঈন মুগ্ধ হয়। তার এই মুগ্ধতা পৃথিবীর কোন অনভূতি পিলেই আসতে পারেনা। সে সেটা বিশ্বাস করে। স্ত্রীকে পাজাকোলে করে বিছানায় নিয়ে শুইয়ে দিল। আদরে আদরে ভরিয়ে দিল স্ত্রীর দু’গাল আর ঠোঁট।

পরম আনন্দে আনআইসার গায়ে একটা হাত দিয়ে মাঈন শুয়ে শুয়ে সুখানুভব করছে। সহকারী রোবটটার সিগন্যাল টের পেল। হাতের বাম কব্জিটা কানের কাছে এগিয়ে আনল সে।

‘ডঃ মাঈন, মকউইয়ের সিকিউরিটি চীফ কথা বলবেন।’

‘ঠিক আছে।’ বলে মাঈন আনআইসাকে ছেড়ে উঠে গায়ে একটা কাপড় চড়িয়ে পাশের ঘরে গেলো। হিস্টি চলে এল কাছে। সিকিউরিটি চীফের ছবি ভেসে উঠল হলোগ্রাফিক পর্দায়।

‘ডঃ মাঈন, আপনার এলাকায় সম্প্রতি ১০জন মারা গেছে, তারা ক্ষুধা নিবারক পিল খেয়েছে বারংবার-এই তথ্য আপনি মকউই হেডকোয়ার্টের জানাননি, এমনকি গভর্ণিং বডির কাউকেই জানাননি। আপনার স্ত্রীকেও নয়। এই ধরনের তথ্য গোপন করার ক্ষমতা আপনার নেই। উপরন্ত আপনি দুজন সম্মানিত এক্সিকিউটিভ সদস্যের সহকারীর সাথে আনঅথরাইজড সংযোগ স্থাপন করেছেন। আপনাকে এই মুহূর্তে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো এবং আপনাকে গ্রেফতার করে মকউই হেডকোয়ার্টারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করা হলো।’

সিকিউরিটি চীফ কোন কথা বলার সুযোগ দিলনা। মনিরটর অফ হয়ে গেলো। হিস্টি বলল, ‘ডঃ মাঈন, আমি দুঃখিত।’

ঠিক সে সময় আনআইসা এসে এই ঘরে ঢুকল। সাথে তার দেহরক্ষী রোবট বিজি০১-এ১৩-১ এবং সহকারী রোবট এক্স০১-এ-১৩-০৩। দু’টোই পুরুষ চেহারার। সহকারী রোবটটি সোজা এসে মাঈনের সহকারী রোবটের মেইন পাওয়ার চিপটা একটানে খুলে ফেলতে ফেলতে বলল, ‘বোকা রোবট।’

দেহরক্ষী রোবট এসে চেপে ধরল মাঈনের দুই হাত। মাঈন স্ত্রীর দিকে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, ‘কি হচ্ছে এসব, কেনো?’

স্ত্রী বলল, ‘প্রিয় মাঈন, সবকিছুুর উপরে দায়িত্ব। তুমি সিকিউরিটি চীফের মুখেই শুনলে তোমার অপরাধ। আমি আদেশ মানতে বাধ্য। তোমাকে মকউইতে পাঠানোর দায়িত্ব আমাকেই দেয়া হয়েছে।’

দুশ্চিন্তামুক্তি পিলের রিএ্যাকশন এখনও আছে। দুশ্চিন্তা হচ্ছেনা। কিন্তু ভাবনা হচ্ছে। স্ত্রীর উপর সন্দেহটা এখন পোক্ত হচ্ছে। রাগের একটা অনুভূতি ধমনি দিয়ে বয়ে যেতে শুরু করেছে। সে চাইলে হয়তো আনআইসা তাকে রাগ উপশম পিল দেবে। কিন্তু সে এই রাগটা দেখাতে চাইছে। সে এক্স০১-এ-১৩-৩ রোবটার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘হিস্টিকে বোকা রোবট বললি কেনো?’

‘আপনি তাকে মানা করা সত্বেও ১০জন মারা যাবার তথ্য তার মেমোরি হতে মকউইর সিকিউরিটি সিস্টেমে চলে গেছে সয়ংক্রিয়ভাবে। আপনি বোধহয় জানেন না এক্স সিরিজের সকল রোবটকে সিকিউরিটি সিস্টেমের মূল কম্পিউটার টাইম টু টাইম ডেইলি একসেস করে থাকে। প্রতিটি তথ্য তাই মাষ্টারের নির্দেশ ছাড়াও মকউইতে চলে যায় যদি না রোবটের গোপন রাখার অপশনটি এক্টিভেট করা না থাকে। আর সেই এক্টিভেশন কোড মকউই কাউকেই দেয়না।

আনআইসা বলল, ‘আমি সহ্য করতে পারছিনা। গার্ড ওকে নিয়ে যাও, হেলিকারে ওঠাও, আমি রেডি হয়ে আসছি।’

মাঈন সম্পুর্ণ রেগেছে এখন। চিৎকার করে বলল, ‘না তাই যদি হবে তবে আনআইসা কিভাবে ক্ষুধা নিবারক পিল বহন করেছে? এই তথ্য তুই মেইন সিস্টেমকে জানাসনি কেনো? কেনো?

রোবটটা হাসছে। মাঈন ভীষন অবাক! অন্ধকারে মারা ঢিল কাজে লেগেছে, এখন যে সন্দিহাতিত, রোবটের হাসিই বলে দিচ্ছে তার মালিক আর সে কোন গোপন ষড়যন্ত্র অবশ্যই করেছে। মনে মনে মাঈন একটু বেদনার সুরে আওড়াল- কেনো আনআঈসা?

আনআইসার রোবট দুটো মাঈন আর তার সহকারী হিস্টিকে নিয়ে বের হবার আগে নির্দেশ মত মাঈন এর ব্যক্তিগত রুমে নিয়ে গেলো। সেখানে হিস্টিকে কিছুক্ষণের জন্য একটিভ করা হলো। তার সামনে মাঈনের সেফটি লকার থেকে বের করা হলো কয়েকশত পিল। সবগুলো ক্ষুধানিবারক। ষড়যন্ত্রের জাল এরা ভালই বিস্তার করেছে। অনেকটাই স্পষ্ট পুরো বিষয় এখন মাঈনের কাছে।

হিস্টির অটোসেন্ড অপশনের মাধ্যমে ক্ষুধা নিবারক পিলের এইসব তথ্য এবং চিত্র মুহূর্তে চলে গেলো মকউইয়ের সিকিউরিটি চীফের কাছে।


॥পরিশিষ্ট॥
মাঈন আর তার হিস্টিকে মকউই হেডকোয়ার্টারে সিকিউরিটি বিভাগের হাতে হস্তান্তর করে মাত্র ফিরে এসেছে আনআইসা।

অনেকক্ষন ধরে গোসল করল সে। সুখ পিল সে নিজেও আজ নেয়নি তারপরও তার মনে সুখের অফুরন্ত প্রবাহ। মুখে হাসির ঢেউ। নিজের সাফল্যে তার আনন্দ ধরছেনা প্রাণে। এক্সিকিউটিভ পদটা পাবার পর থেকেই ধীরে ধীরে সে সব পরিকল্পনার জাল বুনেছিল...।

মকউই হেডকোয়ার্টারে তখন তার অবাধ যাতায়াত। সেখানে রোবট উন্নয়ন গবেষনার একজন সিনিয়র বিজ্ঞানীর সাথে তার বেশ খাতির হয়। তার নাম ডঃ এনওয়াইয়া। নব এক্সিকিউটিভদের কিছু কোর্সের ক্লাশ নিতেন তিনি। আনআইসার নষ্ট স্বপ্নে আশার আলো দেখাল সেই বিজ্ঞানীই। এনওয়াইয়ার কিছু গোপন গবেষনা বাস্তবায়ন করার জন্য দরকার ছিল একদল নিরীহ মানুষ। যাদের যথেচ্ছ ব্যবহার করা যায়। কিন্তু এই এত সিকিউরিটি ব্যবস্থায় তা করাটা কঠিন ছিল। আর আনআইসার নেশা টাকা। তার রক্তের মধ্যেই আদিপুরুষের দুষ্টু বুদ্ধির আনাগোনা। কোন পিলেই তার শান্তি হয় না। সে অনেকটা পিল প্রুফ। দু’জনে মিলে গেলো। এনওয়াইয়াও তাকে রোবটদের অনুভূতি প্রদানের গোপন গবেষনার সর্বশেস কোড কপি করে দিয়ে দিলো।

সেই কোড ব্যবহার করে একক প্রচেষ্টায় সহকারী রোবটের মাঝে গোপনে অনুভূতির অনেক কিছু সঞ্চার করতে সক্ষম হয়েছে আনআইসা। একই সাথে এনওয়াইয়ার সহায়তায় সহকারী রোবটের প্রতিটা মাইক্রো চিপে ঢুকতে সক্ষম হয়েছে এবং নতুন করে কিছূ প্রোগ্রাম করে দেয়ার ফলে তার সহকারী তাকে না জানিয়ে কোন রিপোর্ট কখনই মকউইর হেডকোয়ার্টারে পাঠাতে পারেনা।

এনওয়াইয়ার কাছ থেকে সে আরও পেয়েছে ক্ষুধা নিবারক পিল তৈরীর ফর্মূলা। সহকারী রোবটকে নিয়েই নিজ গৃহে একটা গোপন কুঠুরিতে বসে বানাতেও শুরু করে।

এরমাঝে একবার কয়েকজন মানুষের উপর গোপনে গবেষণা চালানোর জন্য তাকে মকউই থেকে পুরো এক কার্টন ক্ষুধা নিবারক পিলও দেয়া হয়। যদিও পরে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়, কিন্তু পিল গুলো থেকে যায়, একেই বলে সোনায় সোহাগা। মাঈনকে ফাসানোর জন্য সেগুলো খুব কাজে দিয়েছে।

নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আকর্ষন সেতো সেই আদি যুগ থেকেই। তরুণ সমাজে পিল ছড়িয়ে দিতে খুব একটা বেগ পেতে হলোনা। এই কাজে সাহায্য করার জন্য নিয়োজিত করা হলো বেশ কিছু তরুণ এবং গোটাকয়েক ওএনএস সিরিজের বুদ্ধিহীন পুরাতন রোবট। এসব ভাবতে ভাবতে তার সুখের পরিমান মনে আরও ব্যাপক হারে বেড়ে যায় আর আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজের সুন্দর শরীরটাকে একবার চোখ বুলিয়ে নিতে থাকে। তার আদরের সহকারী রোবটা এখন সম্পূর্ন তার নিয়ন্ত্রনে। তার মধ্যে সে প্রেম, সুখ এবং স্বপ্ন এই তিন অনুভূতির সঞ্চার ঘটাতে পেরেছ। সে তার একটা সুন্দর নামও দিয়েছে-এভিলী।

এভিলি পেছন থেকে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেছে। আনআইসার পুরো শরীরে খুব আলতো করে হাত বুলাতে থাকে রোবটটা আর বলে ওঠে, ‘ডিয়ারা আনআইসা, মানুষ এভাবে মরে যেতে শুরু করলে বেশিদিন সব গোপন রাখা কঠিন হবে তোমার জন্য।’

‘তার ব্যবস্থা হয়েছে। মকউই বিজ্ঞানীগণ ইতোমধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য ক্ষুধা নিবারক পিলের আবিষ্কার করে ফেলেছে এবং তারা সেটা জনগনের মধ্যে সরবরাহের অনুমতিও দিয়ে দেবে শুনেছি। প্রযুক্তিটি আমি হাতে পেয়েছি। আমরাও স্বল্প সময়ের অনুভূতি দিতে পারব। এতে মানুষ মরবে না। আর মার্কেটে লিগ্যালি চলে আসলে আমরাও কখনই আর ধরা পড়ব না।’

এভিলী আনআইসাকে জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে ঠোঁটের উপর আলতো করে হাতটা বুলিয়ে বলে ওঠে, ‘তুমি সত্যিই একদিন মকউই ধ্বংস করে দেবে, তুমিই হবে এই পৃথিবীর একচ্ছত্র রানী।’
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • জাফর  পাঠান
    জাফর পাঠান সত্যি গল্পটা পড়ে খুবই আনন্দ ফিল করছি ।এবারে বেশ কয়েকটি ইন্টারেষ্টিং ফিকশন গল্প পড়লাম এই সাইডে।বেশ মানসম্পন্ন গল্প হয়েছে ।মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা আপনার জন্য থাকলো।
    প্রত্যুত্তর . ২১ নভেম্বর, ২০১২
  • বশির আহমেদ
    বশির আহমেদ গল্পটি আকারে বেশ বড় হলেও পড়ে বেশ আনন্দ পেয়েছি । মামুন ভাই শুভেচ্ছা রইল ।
    প্রত্যুত্তর . ২৪ নভেম্বর, ২০১২
  • আহমেদ সাবের
    আহমেদ সাবের না মামুন, তোমার কাছে আশা বেশী বলেই মনে হয় এই অতি দীর্ঘ এবং ইতিহাস ভারাক্রান্ত গল্পটা ভাল লাগে নি। মাঝে মাঝে মনে হলো, ঘটনা জট পাকিয়ে গেছে। অবশ্য এটা আমার নিজস্ব অনুভূতি। "যার ফলস্বরূপ সেই ২১১১ সালে এসে শুরু হলো পৃথিবীর ইতিহাসে চতুর্থবারের মত মহাযুদ্ধ।...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২৫ নভেম্বর, ২০১২