বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৭ জুলাই ১৯৯৩
গল্প/কবিতা: ৪০টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৮১

বিচারক স্কোরঃ ২.১ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৭১ / ৩.০

দুঃস্বপ্নবিলাস

আমার স্বপ্ন ডিসেম্বর ২০১৬

এই শহরে...

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৬

স্বপ্ন এবং স্বপ্নভঙ্গ

আমার আমি অক্টোবর ২০১৬

গল্প - ঘৃণা (সেপ্টেম্বর ২০১৬)

মোট ভোট ২০ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৮১ ঘৃণার সাথে বসবাস

জলধারা মোহনা
comment ৮  favorite ০  import_contacts ১৫৯
অন্যমনস্ক হয়ে চুলায় বসানো গরম কেটলীতে হাত দিয়ে চমকে উঠলো তিতির। ওঘর থেকে সবার তুমুল আড্ডা কানে আসছে, সেটাই শুনছিল ও। সকালবেলায় তার এক চাচা নতুন বউ নিয়ে বেড়াতে এসেছেন। তিতির দের জন্য নতুন হলেও বিয়ের প্রায় কয়েক মাস হয়ে গেছে তাদের। বাসায় উৎসবমুখর পরিবেশ.. কয়েকদফা নাস্তা আর গল্পগুজব হয়ে গেছে। চা খাবে সবাই, তিতির উঠে এসেছে তাই। কাপে চা ঢেলে নিয়ে বসলো সবার সাথে। চাচী হাসিমুখে গল্প করছে, যেন বহুদিনের চেনা সবাই। তিতির কথা বলতে বলতেই দেখছিল খুব অন্তরঙ্গ হয়ে বসে থাকা চাচা চাচী কে.. চাচীর বয়স তেমন বেশি না, একটু মোটাসোটা হাসিখুশি মেয়ে। আর তার এই দুঃসম্পর্কের চাচাটাকে কেউই তেমন পছন্দ করে না। মানুষটা তাদের আত্মীয় হলেও ভীষণ ধুরন্ধর টাইপের.. আর প্রথম দর্শনে অপছন্দ করার মত লোক। স্বভাব চরিত্রও নাকি ভালো না.. এমনটা অবশ্য সবাইকে আলোচনা করতে শুনেছে তিতির। এখন অবশ্য নতুন চাচীকে দেখে সবাই খুশী। অবশেষে মানুষটা লাইনে এলো.. বউ আসা মানেই আগের বাউণ্ডুলে জীবনের সমাপ্তি। আর চাচার ব্যবহারও বেমালুম বদলে গেছে, মানুষটা আসলেই সুখে আছে বউকে নিয়ে।
রাতে সবাই খেয়ে শুতে গেলো। তিতিরের ঘুমই আসছে না। শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলো ও। বিয়ে.. অদ্ভুত এক বাঁধনের নাম। মানুষ আসলেই কত বদলে যায় বিয়ের পর.. ভালবাসা আজীবন বেঁধে রাখে দুজন মানুষকে। ধুর.. ঘুম কোথায় হারালো কে জানে, উঠে চোখেমুখে পানি দিয়ে সব ঘরের লাইট নিভাতে লাগলো তিতির। চাচা চাচীর ঘরের পাশ দিয়ে আসার সময় কানে এলো নতুন চাচীর মৃদু কান্নার আওয়াজ.. চাচার গলাও একটু একটু করে চড়ে যাচ্ছে। চাচী বলছে, "আর কি কি মেনে নেবো বলো। তুমি ঘুষ খাও, টাকা মারো, মদ গাজা খাও, আমার বাবা মা কে গালাগালি করো.. সব মেনে নিয়েছি, কিন্তু আরেকটা মেয়ের সাথে রাতের পর রাত ফোনে নোংরামো করলে কি করে মেনে নেই। আমারও তো সহ্যের একটা সীমা আছে। কি নিশ্চয়তা আছে যে তুমি ওই মেয়েটার কাছে যাও না...।" আর শুনতে পারছিলো না তিতির। হঠাৎ ওকে স্তম্ভিত করে দিয়ে ভেতর থেকে চড় থাপ্পড়ের বিষাক্ত আওয়াজ ভেসে এলো। তারপর সব চুপচাপ, যেন কোথাও কোন অন্যায় হয়নি।কয়েকটা মাস.. মাত্র কয়েকটা মাস কাটিয়েছে দুজন একসাথে... কি করে সারাজীবন কাটাবে এরা? অন্ধকারে বসার ঘরে বসে থাকলো তিতির.. চাচীর জন্য ভীষণ খারাপ লাগছে ওর। বাবা মা এত দেখেশুনে বিয়েটা দিয়েছে.. প্রেম করে নয়, বরং শুধু পরিবারের উপর আস্থা রেখে চোখ বুজে বিয়ে করেছে মেয়েটা। কত স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল স্বামীর সাথে নতুন সংসারে, আজীবন ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকবে বলে। ওঘরের দরজা খুলে চাচী বেরিয়ে এলেন.. ওকে দেখতে পাননি। অন্ধকারেই দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন। তিতির উঠে গিয়ে হাত ধরতেই চমকে উঠলেন। "ওমা, তিতির.. তুমি কি করছো অন্ধকারে। ভয়ই পেয়ে গেছিলাম.. ভাবলাম ভুত নাকি.. হা হা হা।" আর সহ্য হলো না তিতিরের। হাত ধরে টেনে ওর ঘরে চাচীকে এনে দরজা আটকে দিলো।চাচী হাসিমুখে বললেন, "এই দেখো পাগল, এতো রাতে কি গল্প করবে নাকি। ঘুমাও তো তুমি। আমি যাই, তোমার চাচা দেরী হলে আবার ডাকাডাকি আরম্ভ করবে। আমাকে এক মিনিট না দেখলে পাগলু হয়ে যায়। বিয়ে করো, তখন বুঝবে এসব.. হিহিহি"। চাচীর মুখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো তিতির। তারপর বললো, "আবার অভিনয় শুরু করে দিয়েছেন? এতই যদি কাঁদতে হয়, তাহলে কেন এইসব মিথ্যে অভিনয় করা?" ওর শীতল চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝে গেলেন চাচী। হাত ধরে বললেন, "তুমি কাউকে এসব বলো না তিতির। এমনটা হয়ই বিবাহিত জীবনে, ঠিক দিন কেটে যাবে আমার। মানিয়ে নিতে হয় পরিস্থিতির সাথে।" অবাক হল তিতির, কিন্তু কেন মানিয়ে নিতে হবে? কি আছে ওনার মধ্যে এমন? আমাকে এমন একটা কারন বলেন যার জন্য সব ভূলে থেকে যাওয়া যায় এভাবে। হাসলেন চাচী, কান্নার মত দেখালো যদিও.. এতোটাই করুণ সেই হাসি। ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন, "কারনটা আর যাই হোক ভালোবাসা নয়। কাউকে এখনো বলিনি, কনসিভ করেছি আমি। এখন আর কি করে পিছিয়ে যাই বলো? একটু একটু করে ঘৃণা করতে শুরু করেছিলাম.. আর এখন পুরোপুরি ঘৃণা করি মানুষটাকে। কিন্তু বাচ্চাটার কি দোষ বলো? একসাথে বাবা আর মা কে পাবেনা, তা কি করে হয়। ওর কথাই আগে ভাবতে হবে আমাকে। আর সংসারের এইসব চোরাবালিতে একদম তলিয়ে গেছি। বাকিটা জীবন আমি এই ঘৃণা নিয়েই তার সাথে কাটিয়ে দেবো। আর জানোই তো, প্রতিটা মেয়েই সংসারে অভিনয় করার প্রতিভা নিয়ে জন্মায়। কেউ একটু আধটু অভিনয় করে, আর কেউ কেউ পুরোটা সময়ই অভিনয় করে কাটিয়ে দেয়।" চাচার ডাক কানে আসতেই দরজা খুলে নিঃশব্দে চলে গেলেন চাচী। বারান্দায় এসে দাঁড়ালো তিতির। বুঝতে পেরেছে সে। প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে যদি কোন মানুষ বহুদিন বেঁচে থাকে, তখন এমন একটা সময় আসে যখন সে আর ওই ব্যথা ছাড়া জীবনটাকে কল্পনা করতে পারে না.. ব্যথাটা তার শরীরের একটা অংশ হয়ে যায়। নিজের অজান্তেই সে ব্যথার সাথে বসবাস করতে শুরু করে। আর এই মানুষ দুটো.. ঠিক তেমনি করেই তীব্র ঘৃণা নিয়ে দিব্বি বাকিটা জীবন কাটিয়ে দেবে হয়তো। বাচ্চাটার সামনে, বাকিদের সামনে অসাধারণ অভিনয় করে যাবে সুখী দম্পতীর। অনেকে হয়তো এদের দেখেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাববে কি ভীষণ ভালো আছে এরা দুজন। কেউ জানতেও পারবেনা, ভালোবাসা নয়... ঘৃণার বাঁধনে বাকিটা জীবনের জন্য বাঁধা পড়েছে তারা!
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন