বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৬ জুন ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ৪টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

২১

ক্ষুধা (সেপ্টেম্বর ২০১১)

মোট ভোট ২১ ভিক্ষুকের অনাথাশ্রম

হিমেল মাহমুদ
comment ২৩  favorite ০  import_contacts ৪০৫
নাম সাহসী। বয়স দশ এগার। নাম সাহসী হলেও ক্ষুধার সামনে বীরত্ব দেখাবে এমন মানুষ পৃথিবীতে আছে বা কোন কালে ছিল বলে আমার জানা নেই । ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর হয়ে সাহসী খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। কেউ তার এই ক্ষুধার আর্তনাদ শুনতে পায়না। আবার কেউ শুনতে চায়না। কারো বা শোনবার সময় মিলেনা। এই ভাবে তার অনাহারে কেটে যায় দুইদিন। ক্ষুধার যন্ত্রণা আর সইতে পারছেনা। তার চোখে মুখে আন্ধার। সাহসী আর চলতে পারছেনা। সে বসে পরল রাস্তার পাশে এক গাছতলায়। গ্রাম্য হাটের পথ। শত লোকের আসা যাওয়া। বাজার শেষে বাড়ি ফেরৎ এক পথচারীর হাতে গ্রাম্য হাটের খোলা খাবারের পুটলি দেখে সাহসী তাতে হাঁক মারল। সাহসীর ক্ষুধায় কাতর আর অসহায়ে ভরপুর মলিন মুখটা দেখে পথচারীর ভীষণ মায়া হল। সে একটু বসে তার পুটলি খুলে আধাখানি দিয়ে গেল, আধা নিয়ে চলে গেল। খাবার হাতে পেয়ে সাহসীর আধমরা দেহটাতে প্রাণ ফিরে এলো। সে এবার নড়েচড়ে ভালভাবে বসে সেগুলো খাওয়ার জন্য তার জামার মাঝে হাত ঘষে হাত পরিষ্কার করতেছিল। হঠাৎ কোথা থেকে এক কুকুর এসে পলিথিনে মোড়ানো খাবারের পুটলিটা কামড়ে ধরল। সাথে সাথে সাহসী ও পুটলিটা ধরে ফেলল। এবার কুকুর টানছে কুকুরের দিকে, সাহসী টানছে তার নিজের দিকে। দুজনই নাছোড়বান্দা কেউ ছাড়ছেনা। সাহসী বাম হাতে পুটলিটা ধরে টানছে আর ডান হাতে কুকুরের মাথায় কিল দিচ্ছে থাপ্পড় দিচ্ছে। সাহসীর হাতের মৃদু আঘাতে কুকুরটার যেন কিছুই হচ্ছেনা। দুজনে টানাটানি করতে করতে পুটলিটা মাঝখান দিয়ে ছিঁড়ে দুভাগ হয়ে গেল। কুকুরের ভাগ কুকুর নিয়ে গেল, সাহসীর ভাগ তার হাতে রইল।
সাহসী কুকুরটাকে কিছুক্ষণ বকাঝকা করে যখনই খাবার মুখে তুলে দিবে অমনি আট নয় বছর বয়সের একটি ছেলে সাহসীর সামনে দাড়িয়ে তার বাম হতটা সাহসীর দিকে বাড়িয়ে দিল। সে নিঃশব্দে সাহসীর কাছে খাবার চাইছে। ছেলেটিকে দেখে মনে হল সে সাহসীর থেকেও আরো বেশি ক্ষুধার্ত। সাহসী আর খাবার মুখে দিতে পারলনা। সে মুখ থেকে খাবার নামিয়ে ছেলেটিকে বলল \" খাবি ? \" ছেলেটি মুখে কিছু না বলে মাথা ঝাঁকিয়ে হ্যাঁ বুঝালো। তখন সাহসী ছেলেটিকে কাছে ডাকল। ছেলেটি সাহসীর কাছে গিয়ে তার সামনে বসল। সাহসী খাবারের পুটলিটা দুজনের সামনে মাটিতে রাখল। দুটি শিশুর দানবের মত ক্ষুধা নিবারণের জন্য এই সামন্য খাবার কিছুইনা। তবুও কিছুটা তো ক্ষুধার উপশম হবে। খাবারের পুটলিটা মাটিতে রেখে সাহসী কিছু মুখে দেওয়ার আগেই ছেলেটি সবগুলো খাবার গাপগুপ করে খেয়ে ফেলল। সাহসী কিছুই মুখে দিতে পারলনা। খাওয়া শেষে ছেলেটি যখন উঠে দাঁড়াল, তখন সাহসী অবাক হয়ে অসহায়ের দৃষ্টিতে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে রইল। ছেলেটিও তাকিয়ে রইল সাহসীর দিকে সাহসীর চোখের কোণে অশ্রু ঝড়ে ঝড়ে অবস্থা কিন্তু ঝড়ছেনা। সে ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর। আর সহ্য হচ্ছেনা। তার কণ্ঠে কোন শব্দ বেরুচ্ছেনা। কানে কোন আওয়াজ প্রবেশ করছেনা। চোখের পাতাগুলো আর মেলে রাখতে পারছেনা। সে আর বসে থকতে পারছেনা। মনে হচ্ছে কে যেন তার ঘার ধরে পিছু টানছে। সাহসী ঢলে পরল মাটিতে। ছেলেটি চলে যাচ্ছিল। সাহসীর এমন অবস্থা দেখে সে বুঝতে পারল যে ক্ষুধার কারণে সাহসীর এই অবস্থা। তখন সে দৌড়ে চলে গেল বাজারে। বাজারে গিয়ে দোকানিদের কাছে হাত পাতলে বেচা কেনার ভিড়ের কারণে দোকানিরা সবাই কেউ ধমক দেয় কেউ গালি দেয় আবার কেউ থাপ্পড় দেয়। কিন্তু কেউ এক টুকরো খাবার দেয়না। কিছুক্ষণ ঘুরে ঘুরে সে কোন খাবার পেলনা। নিরুপায় হয়ে সে একটি পুরি সিঙ্গারার দোকান থেকে দুটি সিঙ্গারা ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করল। কিন্তু সে পালাতে পারলনা। দোকানের মালিক দৌড়ে এসে তাকে ধরে ফেলল। অত্যন্ত কর্কশ ভঙ্গিমায় অশ্লীল ভাষায় কয়েকটি গালি দিয়ে ছেলেটির গলা চেপে ধরল। এমন ভাবে ধরল যে ছেলেটির নিঃশ্বাস বেরুচ্ছেনা। ছেলেটি গো গো করতে লাগল। তখন দোকানের মালিক ছেলেটিকে উপরে তুলে ছুড়ে ফেলার মত করে আছাড় দিয়ে মাটিতে ফেলে দিল। এবার সে ছেলেটির হাত থেকে সিঙ্গারা দুটি কেড়ে নিতে চাইছে। কিন্তু ছেলেটি ছাড়ছেনা। তখন লোকটি ছেলেটিকে কিল থাপ্পড় লাথি মেরে মেরে এদিক থেকে ওদিকে নেয়,ওদিক থেকে এদিকে আনে। তবুও ছেলেটি তার হাত থেকে সিঙ্গারা দুটি ফেলছেনা। সে শক্ত করে ধরে রেখেছে।
একটি ভিক্ষুক বাজারে এসেছে ভিক্ষা করতে। ভিক্ষুকের চোখে পরল এই ঘটনা। সেই ভিক্ষুক এগিয়ে এলো। সে ছেলেটিকে কোলে তুলে নিলো তারপর সিঙ্গারা দুটি মালিক কে ফেরৎ দিল। ছেলেটি মার খেয়ে কাঁদতে পারছেনা সে শুধু ফোঁপাচ্ছে আর ঢেকুর পারছে। ভিক্ষুক ছেলেটিকে বলল \" তুই চুরি করতে গেলি কেন ?\" ছেলেটি ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দে বলল \" আমার বইনে পেটের ক্ষুধায় মইরা যাইতাছে \" ভিক্ষুক চমকিত হয়ে বলল \"কোথায় ?\" ছেলেটি তখন ভিক্ষুককে সাহসীর কাছে নিয়ে গেল। ভিক্ষুক সাহসীকে এই অবস্থায় দেখতে পেয়ে তার চোখের পানি ধরে রাখতে পারলনা। সে কেঁদে ফেলল। তারপর সে নিজে নিজে বলল ( হে খোদা গরীবের পেটে তুমি এত ক্ষুধা কেন দিলে ? ) ভিক্ষুক সাহসীকে ধরে সাহসীর মাথাটা তার বাহুতে রেখে তার থলে থেকে একটা পানির বোতল বের করে সাহসীর মুখে একটু পানি ঢেলে দিল। পানি যখন সাহসীর গলার ভিতরে গেল তখন সে চোখ মেলে তাকাল এখনও সাহসীর গায়ে শক্তি ফিরে আসেনি। সাহসী টগবগে চেয়ে আছে ভিক্ষুকের মুখের দিকে। এবার ভিক্ষুক তার থলে থেকে দুটি কলা বেড় করে ছিলে সাহসীকে দিল। সাহসী কলা দুটি খাওয়ার পর কিছুটা ক্ষুধা নিবারণ হল। এবার ভিক্ষুক সাহসীকে কোলে করে আর ছেলেটিকে হাতে ধরে বাড়িতে নিয়ে গেল। ভিক্ষুকের ছোট কুড়ে ঘর। সাহসী দেখল এখানে আরো কিছু শিশু রয়েছে। ভিক্ষুক সাহসীকে বলল \"এটা এক গরীবের অনাথাশ্রম, আজ থেকে তোরা এখানেই থাকবি। তোরা সবাই আমার সন্তান, এখন থেকে তোরা আর রাস্তা ঘাটে ঠোক্কর খাবিনা, হাতে হাতে মার খাবিনা, আর অনাহারে থাকবিনা //
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন