বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ এপ্রিল ১৯৮৭
গল্প/কবিতা: ১২টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৩৪

চোর

অস্থিরতা জানুয়ারী ২০১৬

মূল্যবোধ

শিক্ষা / শিক্ষক নভেম্বর ২০১৫

মৃত্যুর কয়েক দিন আগে

দুঃখ অক্টোবর ২০১৫

গ্রাম-বাংলা (নভেম্বর ২০১১)

মোট ভোট ৩৪ বউ

ফয়সল সৈয়দ
comment ৪৪  favorite ৪  import_contacts ৫৬৫
কলিমুদ্দীনের বউ জরিনা।
ঠিক কোথায় যাবে ? কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না। সপ্তাহ চারেক হল কলিমুদ্দনী গত হয়েছে। এরিমধ্যে পাল্টে গেছে তার পৃথিবী। পাল্টে গেছে পরিচিত চেহারাগুলো। কলিমুদ্দীনের শরীরের ঘ্রাণ এখন তার শরীরে লেপ্টে আছে। অথচ এরিমধ্যে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে সমাজের নরপশুগুলো। যে ঘরের যেদিকে তাকায় স্পষ্ট কলিমুদ্দীনকে দেখে। কালো লিকলিকে শরীরে দাঁড়িয়ে আছে কলিমুদ্দীন, ধরতে গেলে নাগালের বাহিরে চলে যায়।
এক সময় দিশেহারা হয়ে হু হু করে কাঁদতে থাকে জরিনা ।
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে, স্বামীর শোকে কাঁদে।

- মা, মাগো মাস্টর কইছে কাইল থাইকা আমারে ইস্কুলে ন যাইতে।
- ক্যান মা ক্যান। তুই কি মাস্টরের লগে বেআদবি করছস।
- না মা । তুমি নাকি ইস্কুলের বেতন দাও না ?
- হে কতা ? জরিনা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলে উঠে ; মা তুই ইস্কুলে যাবি। তোর ইস্কুল বন্ধ হইব না।
- হাছা কইতাছ মা।
- হু ,হাছা কইতাছি মা। মেয়েকে সান্তনার বানী শুনাতে গিয়ে জরিনা যে পায়ের নীচে মাটি খুঁজে পায় না।

সারাদিন ঘুরে জরিনা গৃহস্থের বাড়ীতে কোনো কাজ খুঁজে পায়নি।
সব গৃহকর্তী তাঁর দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে বলে ; নারে বোন , তোর মত সুন্দরী যুবতী মাইয়্যারে কাম দিয়া আমি আমার সংসার ভাঙ্গতে পারুম না।

ক্ষুধার যন্ত্রনায় জরিনা ছটফট করতে থাকে।
এদিকে অন্ধকার নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে কলিমুদ্দীনের বাড়ীর আশে পাশে 'কু' 'কু' ঘেউ' ঘেউ আওয়াজ শুরু হয়।
জরিনা গর্জে উঠে বলে ; ঐ হারামজাদা তোরা পশু না মানুষ। তোগ ওপর খোদার গজব হড়ব।
কিছুক্ষণ পর হায়েনাদের উপদ্রব থেমে যায়।
তবু জরিনার ভয় কাটে না।
এ সমাজের পুরুষগুলোকে যত না ভয় পায় তার চেয়ে বেশী ভয় পায় সে তার ভরা যৌবনকে।
আর কতদিন ?
মেয়েটি আজও আধভরা পেটে ঘুমিয়ে পড়েছে।
স্নেহভরা চোখে জরিনা মেয়ের দিকে তাকায়।
আহারে !
মাইয়্যাটা দিন দিন কেমন করে হুকাইয়া যাইতেছে। মাতৃস্নেহে তার দু' চোখ জলে ভিজে যায়।
অথচ কলিমুদ্দীন বেঁচে থাকতে মেয়েটি রাজরাণীর মত ছিল। স্কুলে যাওয়ার সময় মেয়ের হাতে পাঁচ টাকা তুলে দিত। রাতে ভাত খাওয়ার সময় বায়না ধরত বাবার হাতে খাওয়ার। ক্রুর দৃষ্টিতে জরিনা মেয়ের দিকে তাকায়।
কলিমুদ্দীন মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে বলে, অমন কর ক্যান !
-সারাদিন রিঙ্া চালাইয়া আইস্যা তুমি ও কেমনে মাইয়্যার ঢঙগগুলো সহ্য কর।
- ছি ঃ কি কও, আমার মাইয়্যা ঢঙগ করে। দেখবা আমার মাইয়্যা একদিন বড় শিক্ষিত হইব, ডাক্তার হইব।
- এত টেহা পাইবা কই ?
- ক্যান দরকার হইলে নিজের গায়ের রক্ত বেইচা মাইয়্যারে ডাক্তার বানামু।
- ডাক্তার মাইয়্যা আইজ না খাইয়া মরত্যাজে। সাহেনার মায়াভরা চোখের দিকে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে জরি না।

বাহির থেকে আবার 'কু' 'কু' শব্দ শুনে জরিনা পাগলা ঘোড়ার মত ক্ষেপে উঠে।
- কেডা, কেডারে ! হাতে দা নিয়ে দরজা খুলে, হারামজাদা সাহস থাকলে সামনে আয়।
লম্বা মোটা আম গাছটার আড়াল থেকে চেয়ারম্যানের ছেলে ইলিয়াস জরিনার সামনে এসে দাড়ায়, জুরু আমি।
জরিনা চুপসে যায়।
চাঁদের আবছা আলোয় জরিনার টান টান যুবতী শরীরটি রহস্যময় দেখা যাচ্ছে।
সাহস থাকলেও পেটের ক্ষুধায় কিছুই বলতে সাহস পায় না সে।
শুধু লজ্জায় কুঁকুড়ে যায় শামুকের মত।

সকালে পাখির কিচির মিচির ডাকে সাহেনার ঘুম ভাঙ্গে।
অসহ্য ক্ষুধার যন্ত্রণায় ছুটে যায় রান্না ঘরে, মাকে ভাত রান্না করতে দেখে আনন্দে নেচে উঠে বলে ; মা, মা ভাত রান্না করতাছ।
জরিনা চাপা কান্নায় মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বলে ; হ মা হ, আইজ তুই পেট ভইর্যা ভাত খাইতে পারবি।

জরিনার ভেজা চুলের কয়েক ফোঁটা জল কলিমুদ্দীনের ভিটায় গড়িয়ে পড়ল।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন