বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১৫

মা (মে ২০১১)

মোট ভোট ১৫ আমার মা

আবু সাঈদ
comment ১২  favorite ০  import_contacts ২৬৬
মা। তো মায়েই। এর কোন তুলনা নেই। নেই কোন উপমা। যাকে এক কথায় বলা যায় ‘মা’। সুমধুর ডাক। অনেক দিন কাছ থেকে শুনা হয়নি মায়ের কথাগুলো। আজ বড্ড মনে পড়ছে। খুব বেশি মনে পড়ছে। কি জানি!
মা কেমন আছে জানি না। তবে মা মুঠোফোনে বলে, আমি ভালো আছি। তুই ভাল থাকিস্। আসলেই কি মা ভালো আছে। স্বামী মানে আমার বাবা। হঠাত্ মানসিক অসুখে সুস্থ। যে কোন কিছুই চিন্তা ভাবনা করতে পারে না। ভুলে গেছে ভবিষত্ কিংবা বর্তমান। সারাক্ষণ কিযে ভাবে তা বলাই মুশকিল। সংসার চালনো তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। একে বারে নাজাহাল অবস্থা । মা । আমার মা। সংসারে হাল ধরল। নি:স্বল হাতে। চার-চারটি ছেলে মেয়ে। সবাই পড়াশুনায় মাঝামাঝি সময়। উপার্জন করা মতো কেউ নেই। মা ভাবল, চাচারা তো অনেক ধনবান।এরা বুঝি কেউ সহযোগিতা করবে। কিন্তু কেউ এল না। বরং মাকে নানা অজু দিতে লাগল। বলে, বাবা নাকি মায়ের জন্য মানসিক রোগী হয়েছে। কারণ আমরা চার ভাই-বোন পড়াশুনা করছি। এলাকার বাহিরে। আমার মায়ের বড়ই জেদ। যে মা নিজে বেশি দূর পড়াশুনা করতে পারেনি কিন্তুক ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা করাই ছাড়বে। মামারা একটু অটুক সহযেগিতা করতো। কতদিন বা করবে। সামনে দুই মেয়ে এইচ.এস সির পরীক্ষা। হাতে কাছে টাকা নেই। ছোট মেয়ে সাবিনা থাকে শহরের মেসে। মেসের টাকা না দেওয়ায় মেস মালিক নানান কথা বলে। কিন্তু উপায় নেই।
সহ্যে না পারে মা ছুটলেন মানুষের কাছে। লজ্জা-সরম ভুলে টাকার জন্য হাত পাতলেন। কেউ যখন টাকা ধার দিতে চাইল না তখন মা শাড়ি আচঁল ঢেকে ডগরে..ডগরে.. কাঁদতে লাগে। সে কি কাঁন্না!
ঘরে তেমন কোন জিনিস নেই যে বিক্রি করে অভাবটা কাটাবে। তারপর তার শখের দু‘খানা হাতের চুড়ি অল্প ক‘টাকা দিয়ে বিক্রিয় করে সাবিনাকে টাকাটা দেয়। যেন মেয়েটা পড়াশুনা ভালো মত করতে পারে। আমার মা বেশিদূর পড়াশুনা করতে পারেনি এজন্য তার অনেক দু:খ। কিন্তু ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষায় স্বশিক্ষিত করাই ছাড়ব। নিজে দুবেলা না খেয়ে, ভালো কাপড়-চৌপড় না পড়ে বলে, বাবা, ঠিক মত আছিস তো। জানি না, কি করে চলছিস্। তোরা ভালো থাকলি তো আমার সুখ। আমার পরম আনন্দ।
এমন কথা মা ছাড়া কেউ বলতে পারে! এজন্য আমার মা আমার কাছে সবচেয়ে বড় দেবতা।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন