বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭০
গল্প/কবিতা: ৪৮টি

সমন্বিত স্কোর

৭.৪১

বিচারক স্কোরঃ ৪.৯৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৪৬ / ৩.০

চোখে চোখে

উচ্ছ্বাস জুন ২০১৪

খোলা চিঠি দিলাম তোমায়

ভালবাসি তোমায় ফেব্রুয়ারী ২০১৪

তোমার জন্য

ভালবাসি তোমায় ফেব্রুয়ারী ২০১৪

ক্ষুধা (সেপ্টেম্বর ২০১১)

মোট ভোট ৭৮ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৭.৪১ ক্ষুধার নিবৃত্তি

বিষণ্ণ সুমন
comment ৬৪  favorite ৬  import_contacts ১,৪৫৬
মাঝ রাত্তিরে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল ময়নার। সারা শরীরে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করলো। এখানে-ওখানে মারের চোটে চামড়া ফেটে কালসিটে পড়ে গেছে। ফাটা জায়গাগুলো খুব জ্বালা করছে। তারপরেও এই ব্যথা তাকে তেমন একটা কাবু করতে পারছে না। সেই ছোট বেলা থেকে এখন পর্যন্ত এই জীবনে কম মার তো খায়নি। তাই এসব এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। তার জন্মের চার বছরের মাথায় যখন মা মারা গেল, তখন থেকেই তার মার খাওয়া শুরু। মাস ঘুরতে না ঘুরতেই বাবা আবার বিয়ে করে সৎ মা নিয়ে এল ঘরে ওকে দেখ-ভাল করার জন্য। আর সেই দেখ-ভালের পরিণাম হলো একটাই, উঠতে বসতে মার খাওয়া। শেষটায় কোনদিন মার না জুটলেই বরং সে অবাক হতো। তাই মার সে সহ্য করতে পারে। পারে না শুধু ক্ষুধার জ্বালা সইতে। আর সইতে পারেনা বলেই একদিন পাশের বাড়ীর খালার হাত ধরে চলে এসেছিল ঢাকা শহরে। সে জেনেছিল, এখানে কাজ করতে জানলে ক্ষুধা কখনো মানুসকে জ্বালায় না। বরং ক্ষুধার্ত মানুষ গুলোই একে অন্যের উপর হামলে পড়ে। কথাটার মানে সে সেদিনও বুঝেনি, এখনো বুঝেনা। তবে এটুকু বুঝতে পারছে তার পুরো জীবনটাই আজ থমকে আছে এই ক্ষুধার জন্য। যেন ক্ষুধার কথা মনে করাতেই পেটের ভেতর কেমন একটা জ্বলুনী অনুভব করলো। আপনা থেকেই হাত চলে গেল গেল পেটের উপর। মনে হলো শুকিয়ে চিমসে হয়ে গেছে। না আর সহ্য করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু একটা করতেই হবে। অনেক কষ্টে শরীরটাকে বিছানা থেকে টেনে তুললো। সহসা মাথাটা দুলে উঠলো। চকিত দেয়ালে হাত ঠেকিয়ে পতন ঠেকালো। ভীষনরকম দুর্বল লাগছে। তবুও আস্তে আস্তে দেয়াল হাতড়ে ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল। লাইট জ্বালাতে সাহস পেল না। পাছে সবাই টের পেয়ে যায়। জালানা গলে ঘরে প্রবেশ করা ষ্ট্রীট লাইটের আবছা আলোয় আবিস্কার করলো, টেবিলটা ফাঁকা। হতাশায় মনটা ছেয়ে গেল। ঘুরে বারান্দার কোণে নিজের ছোট্ট বিছানায় ফিরে আসতে যাবে, তখনি চোখ পড়লো ফ্রিজের দিকে। বুকের ভেতর অনেক কষ্টে একটু সাহস সঞ্চয় করে সেদিকে এগিয়ে গেল। আস্তে করে হাত রাখলো ফ্রীজের হ্যান্ডেলে। তখনি খুঁট করে সুইচ টেপার শব্দ হলো। ঘর আলো করে জ্বলে উঠলো ডাইনিং রুমের লাইটটা।


রাতে অফিস থেকে বাসায় ফিরেই মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল রানার। আজো শেলী কাজের মেয়েটাকে মেরেছে। এদ্দুর একটা মেয়েকে মেরে কি যে সুখ পায় ও আল্লাই জানে। কতই বা বয়স হবে ওর। খুব বেশী হলে বারো কি তের। এই বয়সের একটা মেয়ের দিবি্ব্য বেণী দুলিয়ে বুকে বই চেপে স্কুলে যাবার কথা। কিন্তু অবস্থার ফেরে এই মেয়েটা এসেছে কিনা তাদেরই বাসায় কাজ করতে। তাওতো ভাল এই দুর্মুল্যের দিনে ওকে পাওয়া গেছে। তা না হলে কি যে হতো আল্লাই মালুম। কোথায় ওকে একটু আদর যত্ন দিয়ে ম্যানেজ করে রাখবে, তা না উল্টো সারাক্ষণ চর-থাপ্পর, মার-পিট চলছেই। গতকালো এর ব্যতিক্রম হয়নি। ঘটনা তেমন আহামরী কিছু না। তার কলেজ পড়ুয়া শ্যালক বিকেলে বাসায় ফিরেই ভাত খেতে চেয়েছিল। শেলী তখন বৈকালিক ঘুমে মশগুল ছিল। ফলে ঘুম থেকে ডেকে তোলায় তার মেজাজটা গেল খচে, উপরন্ত ভাত দিতে গিয়ে যখন দেখলো পাতিল শূণ্য, তখনি তার রাগটা গেল সপ্তমে চড়ে। যথারীতি সে মেয়েটাকে মারতে শুরু করল। আর তার শ্যালক প্রবর পৈশাচিক আনন্দ নিয়ে তাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলো। মেয়েটা একবার ছুটে এসে তার পা চেপে ধরে এই মার থেকে বাঁচাবার জন্য আকুতি জানিয়েছিল। কিন্তু ভিতু মেরুদন্ডহীন শালাটা তার আপার ভয়ে কোন উচ্চবাচ্চ্য তো করলোই না, উল্টো দৌড়ে নিজের রুমে ঢুকে খিল লাগিয়ে দিল। ফলে পিচ্চি মেয়েটাকে অমানুষিকভাবে মার খেতে হলো। ফিদার ব্রাশের ডাঁট দিয়ে শেলী তাকে আচ্ছামত পিটিয়েছে। মারতে মারতে ক্লান্ত হয়ে একসময় নিজেই থেমে গেছে। শুধু মেরেই ক্ষান্ত হয়নি। শাস্তি হিসেবে তার রাতের খাবারও বন্ধ করে দিয়েছে। বাসায় ফিরে শেলীর থমথমে মুখ দেখে যা বুঝার বুঝে নিয়েছিল ও। বাকিটা শ্যালক রবিনের কাছে শুনেছে। সেই থেকে মনটা তার খারাপ হয়ে আছে। এতটুকুন একটা মেয়ে না খেয়ে আছে, বিষয়টা তাকে খুব পীড়া দিচ্ছে। তাই রাতে তার নিজেরও তেমন খাওয়া হয়নি। বিছানায় যদিও বা শুয়েছে, তবু ঘুম আসছে না। মেয়েটার জন্য একটা কিছু করতে মন চাইছে। কিন্তু, কি করবে বুঝতে পারছে না। পাশেই শেলী শুয়ে আছে । ওর দিকে পেছন ফিরে থাকলেও নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দে বুঝতে অসুবিধা হলোনা, ও এখন পুরোপুরি ঘুমের রাজ্যে। মনেই হয়না এই ঘন্টা কতক আগে ছোট্ট একটা মেয়ের সাথে ভীষন অমানবিক আচরণ করেছে ও। অবাক লাগছে রানার এরপরেও তার মাঝে অপরাধবোধের কোন চিহ্ন নেই। শুধু এ কারণেই ও নিজেও শেলীর সাথে কখনো কোনো কারণে রাগ করতে সাহস পায়না। মাঝে মাঝে ভাবে আল্লাহ বোধহয় ওকে ছেলে বানাতে গিয়ে ভুল করে মেয়ে বানিয়ে ফেলেছেন। তাই আদলটা মেয়েদের হলেও মন-মানসিকতা ও আচরণ ছেলেদের মতই খটখটে। অথচ একজন ছেলে হয়েও সে নিজে সেরকম নয়। তাই তো পারছে না ঘটে যাওয়া নিষ্ঠুর ঘটনাটা আর সব কিছুর মত স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে। বরং ছোট্ট মেয়েটার কষ্টটা সে অন্তর থেকে বুঝতে পারছে এবং এই বুঝতে পারাটাই তাকে আরো বেশী পীড়া দিচ্ছে। সহসা মন স্থির করে ফেলল। মেয়েটাকে কিছু খাবার দিয়ে আসবে। এতে আর কিছু না হোক অন্তঃত ক্ষুধার জ্বালা থেকে তো ওকে বাঁচানো যাবে। শেলী সম্ভবত সব খাবার ফ্রিজে তালাবন্দি করে রেখেছে। সেক্ষেত্রে তালা খুলেই ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে নিয়ে যাবে। চিন্তাটা সাহসী করে তুললো ওকে। শেলীর ঘুমন্ত দেহের দিকে এক পশলা নজর দিয়েই আস্তে করে বিছানা ছাড়ল। অয়ারড্রোবের উপর থেকে হাতড়ে ফ্রিজের চাবিটা খুঁজে নিল। তারপর ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে গেল বেডরুমের বদ্ধ দরজার দিকে।


মনটা ভীষণ চঞ্চল হয়ে আছে রবিনের। অবশ্য এ বয়সে এমনটি হওয়া ব্যাতিক্রম নয়। তবুও তার ক্ষেত্রে এটা নিঃসন্দেহে একটা নতুন আবিস্কার। এমনিতেই মেয়েদের সম্পর্কে তার ধারনা কম। তথাপি কলেজে দু'চার জন ক্লাসমেট যারা আছে তাদের সম্পর্কে তার অনুভূতিটা কখনোই এরূপ হয়না। আসলে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই মানসিকতাটা সেদিকে অগ্রসর হবার পথ পায়নি। কিন্তু, আজ যা ঘটেছে তাতে একজন রক্ত মাংসের মানুষ হয়ে সে কিভাবে তা পাশ কাটাবে। ঘটনাটা তার যতবার মনে হচ্ছে, ততবারই তার শরীর কি এক অজানা চেতনায় শিহরিত হচ্ছে। যার রেশটুকু সে কিছুতেই এড়াতে পারছে না। এখনো সে স্পষ্ট দেখতে পারছে, তার আপা এক হাতে ময়নার চুলের মুঠি ধরে অপর হাতে ফিদার ব্রাশের ডাট দিয়ে সারা গায়ে পেটাচ্ছে। মেয়েটা বাবাগো-মাগো বলে সমান তালে চেচাচ্ছে। অকস্মাৎ কেমন করে যেন আপার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। তড়িৎ দৌড়ে চলে এল ওর কাছে। হুমড়ি খেয়ে পড়লো তার পায়ের উপর। শক্ত করে চেপে ধরলো তার পা জোড়া। পিছু পিছু শেলীও ছুটে এল। পেছন থেকে মেয়েটার চুলের মুঠি ধরে ক্রমাগত টানতে লাগলো। কিন্তু, তার আপা যতই টানা-হেচড়া করতে লাগলো, ততই মেয়েটা আরো শক্ত করে ওর পা চেপে ধরে থাকলো। সেই সাথে চিৎকার করে তাকে বাঁচাবার জন্য আকুতি জানাতে লাগলো। ফলশ্রুতিতে রবিনকেও তাকে ছাড়াবার জন্য হাত লাগাতে হলো। আর তাতেই ঘটে গেল যত বিপত্তি। যদিও তার মনে কখনোই তেমন কোন ভাবনা ছিল না। তথাপি স্রেফ সহজাত প্রবৃত্তির বশেই মেয়েটোর বুকে হাত রেখে ঠেলতে গিয়েছিল। কিন্তু, যেই না বুকে হাত দিয়েছে, অমনি তার সারা শরীরে বিদ্যুত তরঙ্গের মত কি যেন প্রবাহিত হয়ে গেল। তড়িৎ সে হাতটা সরিয়ে নিতে গিয়েও কি এক অমোঘ আকর্ষনে হাত দুটো আরো শক্ত করে ঠেসে ধরলো। অবাক হয়ে আবিস্কার করলো তার হাত জোড়া এক দলা কোমল মাংস পিন্ডের ভেতর দেবে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে তার সারা শরীর কি এক নিষিদ্ধ অনুভুতির ভাললাগায় নেয়ে উঠছে । সহসা তার আপার দিকে চোখ পড়ায় সম্বিৎ ফিরে এল। তারপর অনেকটা দৌড়ে নিজের রুমে এসে দরজায় খিল লাগিয়ে দিল। ততক্ষণে সারা দেহ ঘামে ভিজে জবজবে হয়ে গেছে। ফুল স্পীডে ফ্যান ছেড়ে দিয়ে ধপ করে বিছানায় গা এলিয়ে দিল। ঠান্ডা ঝিরঝিরে বাতাসে যদিও একসময় তার শরীরের উষ্ণতা মিইয়ে গেল, কিন্তু মনের চঞ্চলতা বাড়লো বৈ কমলো না। এরপর তার আর আপার মুখোমুখি হতে সাহস হয়নি। যদিও একবার দুলাভাই এসে খাবার জন্য ডেকে গিয়েছিল, কিন্তু ক্ষুধা নেই বলে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। কথাটা সে মিথ্যে বলেনি। বাস্তবিকই তার ক্ষিধেটা পুরোপুরি মরে গিয়েছিল। তার স্থলে জায়গা করে নিয়েছিল অন্যরকম এক ক্ষুধা যা এর আগে কখনোই তাকে ব্যতিব্যাস্ত করেনি। সেই ক্ষুধাটাই এখনো তাকে তারিয়ে বেড়াচ্ছে। সে কারণেই সে কিছুতেই শান্তি পাচ্ছে না। তার মনের অবস্থা এখন যেন ঠিক হঠাৎ নরমাংসের স্বাদ পাওয়া কোন বুনো বাঘের মত। সে স্পষ্টতই বুঝতে পারছে, সেই অপ্রীতিকর মুহুর্তের ফুরসতে আবিস্কার করা নতুন স্বাদটুকুই কেবল এখন মেটাতে পারে তার মনের শান্তি। সহসা সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো, না এভাবে আর নয়। একে তো সে ক্ষুধার্ত, ওদিকে লোভনীয় খাবারটাও পড়ে আছে হাতের কাছেই। তবে কেন সে নিজেকে বঞ্চিত রাখবে। যেই ভাবা সেই কাজ। অমনি লাফিয়ে বিছানা ছাড়লো। শিকারী চিতার মত সাবধানে এগিয়ে গেল তার রুমের দরজার দিকে।


শরীরটা রাগে কাঠ হয়ে আছে শেলীর। তাই বিছানায় যাবার পর থেকে এক বিন্দুও নড়েনি। চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করার বৃথাই চেষ্টা চালাচ্ছে। তার মাথায়ই আসছেনা এক রত্তি পিচ্চি একটা মেয়ে এত্তো সাহস পায় কোথেকে। সংসারটা তার নিজের। এ সংসারে সব কিছুই তার নিজের ইচ্ছেয় ঘটে। যেখানে রানা পর্যন্ত তাকে কিছু বলার বা করার সাহস পায়না, সেখানে ময়না স্রেফ কাজের মেয়ে হয়ে তার কথার বাইরে যাবার সাহস পেল কোথায়, এটা সে কিছুতেই বুঝে পাচ্ছে না। কত্তো বড় কলিজা তার, ছোট ভাইয়ের জন্য রাখা ভাত কিনা সে নিজেই খেয়ে ফেলল। সে জন্যেই তো আজ দিয়েছে তাকে আচ্ছা করে ধোলাই। ছোট্ট বেলার কথা মনে পড়ল, একবার স্কুল থেকে বাসায় ফিরে দেখলো ডাইনিং টেবিলে রাখা তার নাস্তা পাশের বাসার হুলো বেড়ালটা দিবি্ব্য রসিয়ে রসিয়ে খাচ্ছে। দৃশ্যটা তার মেজাজ এমনই খারাপ করে দিয়েছিল যে, সে বিড়ালটাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরেই ফেলেছিল। আসলে তার স্বভাবটাই এমন, যে কোন কারণেই হোক কারো গায়ে হাত তোলা না পর্যন্ত সে শান্তি পায়না। এ জন্য পাড়ায় এমনকি স্কুল-কলেজে পর্যন্ত তার নাম হয়ে গিয়েছিল মহিলা গুন্ডা। কাওকে কোন কারণে অপছন্দ হলেই হয়েছে, তাকে মারার জন্য হাত নিশপিশ করা শুরু করে। এমনকি কদিন চলে গেলে কাউকে না কাউকে মারার জন্য মনটা আইঢাই করে। সেজন্য বিয়ের পরও স্বভাবটা এতটুকু বদলায়নি তার। ওর এই ভয়ংকর চরিত্রের জন্য রানাও তাকে সমঝে চলে। আহারে বেচারা। ভয় পায়, কবে না আবার বউয়ের হাতে মার খেতে হয়। বোধকরি সে কারণেই ময়নাকে আজ এভাবে মেরে রক্তাক্ত করার পরও একটা টু-শব্দ করার সাহস পায়নি ও। এমনকি ভয়ে ঠিকমত খায়ওনি। ফ্রিজ থেকে কি সব বের করে একটু মুখে দিয়েই শুয়ে পড়েছে। অবশ্য তার এসবের বালা নেই। সে ঠিকই পেট পুড়ে খেয়েছে। তারপর শয়তান মেয়েটা যাতে চুরি করে কিছু খেতে না পারে তারজন্য সব খাবার ফ্রিজে লক করে রেখে তবে শুয়েছে। কিন্তু ঘুম তো আসছে না। কারণ মেজাজটা ঠান্ডা হচ্ছে না কিছুতেই। এই সব কিছুর জন্য দায়ী ঐ পুছকে ছেমড়ীটা। ইচ্ছে হচ্ছে ওকে আর এক প্রস্ত ধোলাই দিয়ে আসে। সহসা হালকা একটা খসখস শব্দে তার চিন্তায় ছেদ পড়লো। টের পেল নিঃশব্দে রানা নেমে যাচ্ছে বিছানা থেকে। টয়লেটে যাচ্ছে বোধহয়। কিন্তু এমন চোরের মত চুপিচুপি কেন ! আস্তে করে এপাশে মাথা ঘুরালো। একি! ও দেখি অয়ারড্রবের দিকে যাচ্ছে। নিমেষেই কান খাড়া হয়ে গেল তার, মৃদু একটা টং আওয়াজের পাশাপাশি হালকা পদশব্দ ধীরে ধীরে অয়ারড্রবের কাছ থেকে দরোজার দিকে সরে যাচ্ছে বুঝতে পেরে। অনুধাবনটা প্রচন্ড রাগিয়ে দিল তাকে। আচমকা হাতের মুঠি শক্ত হয়ে গেল শেলীর। সটান শোয়া থেকে বিছানায় উঠে বসে পড়লো। টের পেল হিংস্র সরীসৃপের মত একটা ভয়ংকর ক্ষুধা তার বুকের ভেতর প্রচন্ড গতিতে স্ফীত হয়ে ক্রমশঃ গলা বেয়ে মাথায় উঠে যাচ্ছে।


মাঝ রাতে সবাই একটা আর্তচিৎকার শুনতে পেল। আস্তে আস্তে আশেপাশের সবগুলো বাসায় লাইট জ্বলে উঠলো। কেউ কেউ চিৎকারটার উৎসের সন্ধানে বারান্দায় দাড়িয়ে ইতি-উতি তাকাতে লাগলো। কিছুক্ষণ পরেই হুইসেল বাজিয়ে একটা পুলিশের গাড়ী এসে দাঁড়িয়ে গেল বাড়ীটার সামনে। ঝটপট ক'জন পুলিশ নেমেই দৌড়ে বাড়িটার ভেতর ঢুকে গেল। ক্ষাণীক বাদেই ওদের সাথে দুইজন পুরুষ ও একজন মহিলার ছোটখাট একটা মিছিল বেড়িয়ে এল ভেতর থেকে । তাদের মধ্যে দু'জন পুলিশকে ধরাধরি করে একটা ছোট মেয়ের রক্তাক্ত নিথর দেহ চ্যাংদোলা করে বয়ে আনতে দেখা গেল। মেয়েটার ডান হাতের মুঠি শক্ত করে আটকানো। অনেক চেষ্টা করেও খোলা যায়নি।


পরদিন বেশ ক'টি সান্ধ্য দৈনিকে ছোট্ট একটা খবর ছাপা হলো। "পরিবারের সদস্যদের নির্যাতনে বাসার কাজের মেয়ে খুন। খুনের অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী ও স্ত্রীর কলেজ পড়ুয়া ছোট ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু, খুনের মোটিভ সম্পর্কে পুলিশ এখন পর্যন্ত কিছুই জানতে পারেনি। অভিযুক্তদের কেউই মুখ খুলছে না। তবে তদন্ত চলছে। আলামত হিসেবে পুলিশ ভিকটিমের হাতের মুঠিতে আটকে থাকা একটি চাবি উদ্ধার করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে ওটা একটা ফ্রিজের চাবি। ধারনা করা হচ্ছে, এর সাথেই জড়িয়ে আছে খুনের প্রকৃত রহস্য।"
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • বিন আরফান.
    বিন আরফান. বন্ধু হিসাবে অভিনন্দন রইল.
    প্রত্যুত্তর . ১৮ অক্টোবর, ২০১১
  • লুতফুল বারি পান্না
    লুতফুল বারি পান্না আরফান ভাই আধুনিক গদ্যে কথ্য বানান রীতির প্রচলন গ্রহণযোগ্য। বানান বিষয়টা একটা গতিশীল বিষয়। সময়ের সংগে সংগে পরিবর্তীত হতে পারে। যেমন আমরা জোছনা লিখি। কিন্তু অভিধানে শব্দটা পাবেন না। ওটা জ্যোৎস্না। কিন্তু তারপরও জোছনা গ্রহণযোগ্য।
    প্রত্যুত্তর . ১৩ নভেম্বর, ২০১১
  • হলুদ  খাম
    হলুদ খাম পুলিশ এত তারা তারি খবর পেল কিভাবে ? এটা কি বাংলাদেশের গল্প ?
    প্রত্যুত্তর . ২৩ জুন, ২০১৩