বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৪ জুলাই ১৯৬০
গল্প/কবিতা: ৩৫টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৪৯

বিভীষিকার কালো ছায়া

রাত মে ২০১৪

বরফ চাপা ছাই

বাংলার রূপ এপ্রিল ২০১৪

স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

কৈশোর মার্চ ২০১৪

গ্রাম-বাংলা (নভেম্বর ২০১১)

মোট ভোট ৪৯ "বিমূর্ত ধরিত্রী"

বশির আহমেদ
comment ৪৪  favorite ৪  import_contacts ৬৪৭
ব্রক্ষ্মপুত্র নদের তীরে গড়ে উঠা একটি প্রাচীন নদী বন্দর বেলাব। ওয়ারী বটেশ্বরে প্রাপ্ত প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন হতে জানাযায় প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরানো এই নদী বন্দর। সে সময় এই নদের পাড়ে বসে আকাশী রঙাবুকে সফেদ ঢেউয়ের খেলা, পাল তোলা নৌকার তরতর করে এগিয়ে চলার দৃশ্য প্রান ভরে উপভোগ করা যেত। দেশ বিদেশের হাজার হাজার সওদাগরী নৌকা, বজ্রা এসে ভিড়ত এই বন্দরে। আসাম, চীন, বার্মা, ইন্দোনেশিযা, সুমাত্রা, সিংহল থেকে বিভিন্ন পন্য বাহী নৌকা আর বজ্রার ভীড়ে সারা দিন মান এই বন্দর কোলাহল মুখর থাকত। এই বন্দর কে ঘিরে গড়ে উঠে ছিল অসম গড় রাজ্য। নিলক্ষীয়া , লক্ষীপুর , উজিলাব, বেলাব , আমলাব, ওয়ারী , বটেশ্বর, জয়নগর, মরজাল, আসকিতলা, গিলাবের, বাঘবের, বাজনাব, বিন্যাবাইদ পাটুলী পূর্বে ব্রক্ষ্মপুত্র নদ এসবই ছিল অসম গড় রাজ্যের অংশ।

এলাকাটি একটি গড় এলাকা। টাঙ্গাইলের মধুপুর গড় হতে গড়ের সৃষ্টি হযে গাজীপুর, ঢাকার উত্তরাংশ সহ নরসিংদীর মধ্যাঞ্চল হয়ে ব্রক্ষ্মপুত্র নদে গিয়ে শেষ হয়েছে। কয়রা, আড়িয়লখা আর ব্রক্ষ্মপুত্র ্#২৪৭২;দে ঘেরা এই গড়রাজ্য। বর্তমানে বেলাবতে একটি বিশাল হাট বসে। প্রতি শুক্রবার সকাল থেকে হাট শুরু হয়ে রাত অবধি চলে। প্রতি দিন সকালে বসে আরঙ । এস এসসি পাশ করার পর পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ব্যবসায় সুহান কে হাল ধরতে হয়েছে। দোকান টি নিজস্ব ভিটিতে অবস্থিত। বেলাব হাটে তাদের দোকানটি বহু দিনের পুরানো। দোকানে থান কাপড় সহ নানাবিধ কাপড়ের ব্যবসা। সুহান দুজন কর্মচারী নিয়ে দোকান পরিচালনা করে। প্রায়ই একটি মেয়ে দোকানে আসে। মেয়েটির গায়ের রঙ ফর্সা ্#২৪০৪; গোলগাল চেহারা। বাড়ী সুহানদের পাশেরই কোন এক গ্রামে । সে বেলাব স্কুলে নবম শ্রেনীর ছাত্রী। নাম নাজমা। দোকানেই সুহানের সাথে আলাপ পরিচয়। ক্রমান্বয়ে উভয়ের উভয়কে ভাল লাগা ভাল বাসা।

সুহানরা দুই বোন এক ভাই। সুহান সবার ছোট। দুবোনের বিয়ে হয়েছে। বাড়ীতে মা একা। সুহান নবম শ্রেনীতে পড়াকালে তার বাবা মারা যায় । শুক্রবার দুরদুরান্ত হতে অসংখ্য লোক জন হাটে আসে। প্রচুর বেচাকেনা হয়। বেচকেনার ভীড়ে সেদিন সুহানের খাওয়ার ও সময় থাকে না। ব্যবসার হিসাব নিকাশ শেষ করে বাড়ী ফিরতে ফিরতে মাঝ রাত হয়ে যায। সুহানের মা, ছেলের ঘরে ফেরার অপেক্ষা করে। ছেলেকে খাইয়ে মা দুমোটু ভাত মুখে দিয়ে শুতে যায়। মা মনে মনে ছেলেকে বিয়ে দেবার কথা ভাবে। একদিন রাতে খাওয়ার পর সরা সরি সুহান কে বলে -
ুবাবা সুহান আর পারিনা। এবার তুই একটা বিয়ে কর। আমি আর কদিন। বউ এসে সংসারের হাল ধরুকচ্।
সুহান হাসে। ুবলে মা আর কিছু দিন অপেক্ষা কর। ব্যবসাটা ভাল ভাবে গুছিয়ে নিই। তখন তোমাকে জানাবচ্।
মা শান্ত হয়। মা মনে মনে পাশের বাড়ীর মেয়ে শান্তাকে পছন্দ করে রেখেছে। শান্তার মায়ের সাথেও কথাটা আকারে ইঙ্গিতে বলে রেখেছে। তবে সুহান কে কথাটা বলা হয়নি। মা জানে সুহান তার কথার অবাধ্য হবে না। সুহান ব্যবসাটা গুছিয়ে উঠলেই আগামী ফাগুণে সুহান কে কথাটা বলবে।

স্কুল খোলার দিন মাঝে মাঝে নাজমা স্কুল ফাঁকি দিয়ে দোকানে আসে। সুহান নাজমাকে নিয়ে বেড়িয়ে পরে। শুকনা মৌসুম। নদীর জল শুকিয়ে কেবল বালুচর। কোথাও টল টলা হাটু বা কোমর পানি। কিন্তু বর্ষায় ভাসিয়ে দেয় দুকুল। নদী পেরিয়ে চলে যায় চরে। কাঁশফুলবাগান এর ভেতর পাখির কুজনে ভরা নৈসর্গিক পরিবেশে। এক জন আর এক জনের কোলে মাথা রেখে চেয়ে থাকে,খোলা আকাশ আর বিস্তীর্ন ফসলের মাঠ পানে। কথনো বা নীলক্ষীয়ার ধুধু করা বালু চরে তরমুজ ভাঙ্গি আর মিষ্টি আলুর ক্ষেতের আলে হাত ধরা ধরি করে বসে থাকে পরম মমতায় নিবিড় আলিঙ্গনে। আবার কোন দিন দিগন্ত জোড়া ধানি জমি ও চিরায়ত গাও গেরামের মেঠো পথ ধরে হেটে বেড়ায় পাশা পাশি। পথে পরে গাছ। গাছে গাছে ঝুলছে আগুন রঙা লিচুর থোকা, পেয়ারা , আম, জাম, জামরুল, জলপাই, , তেতুল, লটকন, আর বাহারী কাঠাল। নিরব শান্ত গ্রামীন নৈসর্গিক প্রকৃতিতে হেটে বেড়ায়। শপথ নেয় এমনি করে আজীবন দুজন দুজনের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার।
নাজমা সুহান কে বলে ু চির দিন এমনি করে আমাকে ভাল বাসবেত ?
সুহান বলে ুযতদিন বেচে থাকব ততদিন তোমাকে এমনি করে ভাল বেসে যাব। আগলে রাখব চির দিন।
দুজনে ঘর বেধে এমনি করে ঘুরে বেড়াব প্রকৃতি আর আলো বাতাসের মাঝেচ্। আকাশ বাতাস আর প্রকৃতিকে স্বাক্ষী রেখে এক জন আর একজনকে কথা দেয়।

গাছে গাছে বাঁশ বেতের ঝোঁপে ঝোঁপে বসন্ত বাউরী , কোকিল, দোয়েল, ফুলঝুড়ি, বুলবুলি, টিয়ে, কাঠ ঠোকরা, টুনটুনি, নীলটুলি আর ঘুঘুর মিষ্টি সুর যেন বলে বেড়ায় ুজীবন কে ভাল বাস, উপভোগ কর। দীঘল বিলের পাড়ে গিয়ে বসে। বর্ষায় বিলে ফুটে উঠে সাদা, নীল ও বেগুনী রঙা অসংখ্য শাপলা। বাতাসে দোল খায় আর রোদের আলোতে বিলের জল পুটি মাছের মত ঝল মলিয়ে উঠে। মন ভরে যায় আনন্দ উল্লাসে। অসমগড় রাজ এলাকার প্রায় সব বাড়ী ঘরই মাটির তৈরী। পরিপাটি সাজানো মাটির ঘরের কার্নিশের নীচে রঙিন আলপনা অাঁকা। কোন কোন ঘর দোতলা। উপরে টিনের ছাউনি। মনের মাঝে তারা দুজন এমনি করে রঙিন আলপনা অাঁকে। টিনের চালার মত ছাউনি হয়ে এক জন আরেক জনকে ছায়া দেবার প্রতিশ্রুতি দেয়। দিন যায় মাস যায । গ্রামে, হাটে,, পাড়ায়, মহল্লায় তাদের প্রেম কাহিনি ছড়িয়ে পড়ে। একদিন সুহানের মায়ের কানে কথাটা পৌছে যায়। মা আতকে উঠেন।

এক শুক্রবার হাট থেকে আনেক রাতে সুহান বাড়ী ফিরে। মা সুহানের ভাত নিয়ে বসে আছে। সহান হাতমুখ ধোয়ে খেতে বসলে মা সুহানকে বলে- ুবাবা সুহান আমার একটা কথা রাখবি ?
সুহান বলে ুকি কথা মা ? আমি কি কখনো তোমার কথার অবাধ্য হয়েছি মা ? তুমি বলচ্।
মা বলে ুতুই আমার মাথা ছুঁয়ে কথাদে বাবা, যে আমার কথা রাখবিচ্।
ুএমন কি কথা মা যে তোমার মাথা ছুয়ে কথা দিতে হবে ? তুমি বল মা আমি তোমার কথা রাখবচ্।
ুনা তুই আগে আমার মাথা ছুয়ে বলচ্।
সুহান পরম মমতায় মায়ের মাথায় হাত রাখে ু- এবার বল মা আমি তোমার কথা রাখবচ্।
মা বলল- ুআমি শান্তার মাকে কথা দিয়েছি তাকে তোর বউ করে ঘরে তুলব। তুই যখন ছোট তখনই তোর আর শান্তার বিয়ে হবে বলে তোর বাবা আর অমি কথা বলে রেখেছিলামচ্।
সুহান বলল ুএত দিন কেন বলনি মা ? আজ যে আমি আরেক জনকে ভাল বাসি । তাকে বিয়ে করব বলে কথা দিয়ে ফেলেছি। এখন তো আর আমার পক্ষে শান্তাকে বিয়ে করা সম্ভব নয় মাচ্।
মা বলল ুআমি এসব কিছু জানিনা। তোর বাবা মৃত্যুর সময় বার বার আমায় বলে গিয়েছে আমি যেন শান্তার সঙ্গে তোর বিয়ে দেইচ্।
সুহান মায়ের কথা শুনে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে। এখন কি করবে ? কোথায় যাবে ? কাকে শুধাবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। নাজমাকেই বা কি বলবে। নাজমা আর তার এত দিনের প্রেম এত দিনের স্বপ্ন ভাল বাসার কি হবে ?
ুমা তুমি একটু ভেবে দেখ মা। আমি নাজমাকে ভাল বাসি। তাকে ছাড়া আমি আর কাউকে বিয়ে করতে পারবনাচ্।
ুনাজমা মেয়েটা কে ? সে কেমন আমি জানিনা। জানতেও চাইনা। শান্তাকে আমার পছন্দ। তোর বাবারও পছন্দ ছিল। বাস এই আমার শেষ কথা। শান্তার সাথেই তোর বিয়ে হবে। আগামী চবি্বশে ফাগুন শান্তার সাথে তোর বিয়ে। বিয়ের সওদা পাতি আমি সব যোগার করে রেখেছি। কাল তুই মৌসুমী আর মৌটুসীর শশুর বাড়ী গিয়ে সবাইকে দাওয়াত দিয়ে আসবি।
শান্তার বাবা মায়ের সাথে যাবতীয় কথা আমার শেষ। আর গ্রামে কাকে কাকে নিমন্ত্রন করব সেটা আমি করছিচ্।
সুহানকে আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে মা শুতে চলে গেল।

সুহান সারা রাত বসে বসে ভাবল। দু চোখের পাতা এক করতে পারল না। এক দিকে তার জন্ম্#২৪৭১;াত্রী মা অন্য দিকে নাজমা ও তার ভালবাসা। মা জন্ম দেবার পর থেকে বুকে পিঠে করে মানুষ করেছে। বাবার মৃত্যুর পর তার গায়ে দুঃখের আচড় লাগতে দেয়নি। আজ অবধি তাকে আগলে রেখেছে পরম মমতায় পরম স্নেহে। এই মায়ের মনে কষ্ট দেবে কেমন করে ? নাজমারও তো কোন দোষ নেই। সেইতো তাকে কথা দিয়েছে আজীবন একহয়ে থাকার। নাজমার সাথে বেইমানী করবে কি ভাবে ? ভাবতে ভাবতে কোন কুল কিনারা খুঁজে পেল না। ভোর হয়ে গেল। মা এসে ডাকল। মায়ের ডাক শুণে বিছানা ছেড়ে উঠল। হাতমুখ দুয়ে মায়ের কাছে এল। মাকে বলল ুমা তুমি আর একবার ভেবে দেখ ? আমার কথাটা চিন্তা করচ্।
মা জবাব দিল ুআমি ভেবে চিন্তেই সিদ্বান্ত নিয়েছি। আমার আর ভাবা ভাবির কিছু নেই। তুই খেয়ে কাপড় পড়ে মৌসুমী আর মৌটুসীর শশুর বাড়ী চলে যা। জাফর কে আমি বলে দিয়েছি সে যেন দোকান খুলে নিজেই চালিয়ে নেয়চ্।

ফাগুন মাস গাছে গাছে হাজারো পাখীর কুজন। চারি দিক থেকে কোকিল আর বসন্ত বাউরির কুহু তান ভেসে আসছে। সুহানের মনে শান্তি নেই। সুহান রাস্তা দিয়ে হেটে চলছে। গাছে গাছে আম জাম লিচুর মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে চারি দিক ভরে উঠেছে। এসব কিছুই সুহানের মনকে ভরে তুলতে পারছেনা। সুহান এগিয়ে চলছে। গ্রামের মেঠো পথ। দুপাশে বাড়ী ঘর। এমন কোন বাড়ী নেই যে বাড়ী গাছগাছালিতে ঢাকা নয়। এমন ঠাস বুনট গাছের সাড়ি কিছুই সুহানের নজরে আসছেনা। এলাকাটি প্রাগ ঐতিহাসিক কাল থেকে কাঠের ফার্নিচারের জন্য বিখ্যাত। হাটের দিন বাজারে লক্ষ লক্ষ টাকার কাঠের ফার্নিচার বিক্রয হয়। বাড়ী বাড়ী ফানিচার তৈরীর কাজ চলছে। কাঠ কাটার ঠকঠক আওয়াজ, করাতে কাঠ চিড়ার শব্দ কিছুই সুহানের কানে আসছেনা। সুহান বোধ লেশ হীন ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তার রড় বোন মৌসুমীর শশুর বাড়ী এসে যখন পৌছাল বেলা তখন প্রায় এগারটা।

সুহান বড় বোনের বাড়ী এসে দেখল বোন ও ভগি্নপতি বাড়ীতেই আছেন। ভগি্নপতির হাতির দিয়া বাজারে চাউলের আড়ত । তিনি আড়তে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সুহানকে ঘরে ডুকতে দেখে তিনি বললেন- ুকি ব্যাপার বড় কুটুম কোত্থেকে এলে ? তুমিতো ভাই এদিকে আসা ছেড়েই দিয়েছ। তোমার ব্যবসা কেমন চলছে ?
ুসুহান জবাব দিল ভালচ্।
মৌসুমী ভাইকে পেয়ে জড়িয়ে ধরল।
সুহান বলল- ুদুলাভাই, আপা আমার বড় বিপদ আমাকে বাঁচানচ্।
মৌসুমী সুহানের কথা শুনে অাঁতকে উঠল। সে জানতে চাইল ুকি হয়েছেরে ? তোর আবার কিসের বিপদ ? দোকানে কোন ঝামেলা হয়েছে ?
সুহান বলল ুনা দোকানে কিছু হয়নি। তুমি শান্ত হয়ে বস আমি সব বলছিচ্।
সুহান নাজমা আর তার সম্পর্কের কথা আদ্যপান্ত খুলে বলল। সেই সাথে মায়ের বিয়ে ঠিক করা সহ আগামী চবি্বশ তারিখে বিয়ের তারিখের কথাও জানাল।
সব শুনে দুলাভাই বলল-ুশালা বাবু মা বাবার ঠিক করা সিদ্ধান্ত এখনতো আর বদলানো যাবে বলে মনে হয়না। মার বয়স হয়েছে আর কদিনই বা বাঁচবেন। তার মনে দুঃখ দেওয়া কি তোমার ঠিক হবে ? মা ছাড়া তোমার আর কে আছে বল ? এ অবস্থায় মাকে আমাদের পক্ষে কিছু বলাও তো সম্ভব নয়চ্।
মৌসুমী বলল ুশান্তার সাথে তোর বিয়ে হবে একথা তো আমি অনেক আগেই জানি। মা বলতে নিষেধ করেছে বলে আমি কাউকে বলিনি। মায়ের কথা তুই মেনে নে ভাই। মাকে তুই বাঁচা নইলে মা আর বাঁচবে না। মাকেতো তুই আমার চেয়ে ভাল জানিস। মা একবার সিদ্ধান্ত নিলে তা থেকে আর কখনো সরে আসবেন না। মা ভাঙবে তবুও মচকাবে নাচ্।
সুহান দুলাভাইয়ের দিকে তাকাল।
দুলাভাই আপার কথার পুনরাবৃত্তি করল।
সুহানের ক্ষীন আশার আলোটিও হাত ছাড়া হলো।
দুলা ভাই বলল ুসুহান তুমি আর এতে অমত করো না। তুমি বাড়ী যাও বিয়ের প্রস্তুতি নাও। নাজমার বিষটি আমি পরে দেখব। আমরা কাল এসে পড়বচ্।
সুহান বড় বোনের বাড়ী থেকে বেড়িয়ে মৌটুসীর শশুর বাড়ী হয়ে রাতে বাড়ী ফিরল।

সুহান চবি্বশ তারিখ রাতে বরযাত্রী নিয়ে ভগি্নপতির হাত ধরে শান্তাকে বিয়ে করতে বেড়িয়ে পড়ল। বরযাত্রীদের খাওয়া দাওয়া শেষে বিয়ে পড়ানো যখন শেষ হলো তখন প্রায ভোর হয়ে এসেছে। নতুন কনে নিয়ে তারা যখন বাড়ী ফিরল তখন পূবাকাশে নতুন সূর্য ঊঁকি দিয়েছে। নতুন বউ দেখতে পাড়া প্#২৪৬৫;্#২৪৯২;শীরা দলে দলে ভীড় করতে শুরু করেছে।

নাজমা সুহানের বিয়ের খবর শুনতে পেয়ে পাগলিনির মত দৌড়াতে দৌড়াতে সুহানদের আঙিনায় এসে হাজির । বাড়ীর বাইরে থেকেই সুহান সুহান বলে ডাকতে শুরু করল। নারী ক্#২৪৭২;্#২৫০৯;্#২৪৬৪;্#২৫০৩;র কর্কশ ডাকশুনে সুহানের মা এগিয়ে এল। ততক্ষনে নাজমা উঠানে উঠে এসেছে।
সুহানের মা প্রশ্ন করল ুএই মেয়ে কে তুমি ? এমন অসভ্যের মত সকাল বেলা চিৎকার করছ কেন ?
নাজমা বলল-ুসুহান কই ? তাকে ডাকুন। আমি তাকেই আমার পরিচয় দেবচ্। সুহান সুহান বলে ফের ডাকতে শুরু করল।
মেয়েটির এমন হাকডাক শুনে বাড়ীতে আসা লোকজন উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
সুহানের মা বলল- ুএই বেহায়া মেয়ে আমি সুহানের মা। সুহানের সাথে তোমার কি কথা তা আমাকে বলচ্।
নাজমা বলল ুআমার কথা আমি তাকেই বলব তাকে ডাকুন। বলেই সুহান সুহান বলে জোড়ে জোড়ে ডাকতে লাগলচ্।
চিৎকার শুনে সুহানের বোন, ভগি্নপতি ঘর থেকে বেড়িয়ে উঠানে নেমে এল। তারা দেখতে পেল বেশ সুন্দর গোলগাল চেহারার একটি মিষ্টি মেয়ে সুহানের নাম ধরে ডাকছে। মৌসুমী আর তার স্বামী বুঝে গেল এ মেয়েই নাজমা।
মৌসুমী এগিয়ে গিয়ে নাজমার হাত ধরে তাকে চুপ করতে বলল।
নাজমা চুপ না করে বলতে লাগল ুসুহান কোথায় ? তাকে ডাকুন আমি তার সাথে কথা বলবচ্।
সুহান ঘর থেকে বেড়িয়ে এল ।
নাজমা দৌড়ে গিয়ে সুহানকে জড়িয়ে ধরল। ুসুহান আমি এসব কি শুনছি ? তুমি নাকি বিয়ে করেছ ?
সুহান নিশ্চুপ।
বল সুহান জবাব দাও। বলেই সুহানের জামা টেনে ধরল।
সুহান নির্বিকার গলায় জবাব দিল ুহ্যাঁ নাজমা আমি বিয়ে করেছিচ্।
কি বললে বিয়ে ; কা কে ?
ুএকটা মেয়ে কেচ্। নিঃকম্প গলায় উত্তর দিল সুহান।
ুকিন্তু কিন্তু এমনতো কথাছিল না। তুমিতো বলে ছিলে আমি ছাড়া তোমার জীবনে আর কেউ আসবেনা। এখন বল আমার কি অন্যায় ছিল যার জন্য আমাকে এতবড় শাস্তি দেবে ? আমি কোন কিছু শুনতে চাইনা। আমাকে এখনই তোমার বিয়ে করতে হবে। আমার সর্বনাশ করে তুমি আমায় ত্যাগ করতে পার না। চল এখনই আমরা কোর্টে গিয়ে বিয়ে করবচ্। বলেই সুহানের হাত ধরে টানতে শুরু করল।
সুহান নির্বাক বিমূঢ়।
নাজমা বলল ুকই চল চলচ্ বলে টানতে টানতে উঠান থেকে বেড়িয়ে যেতে চেষ্ঠা করতে লাগল।
সুহান মুখ খুলল-ুচুপ কর নাজমা। আমার পক্ষে এখন যাওয়া সম্ভব নয়চ্।
ুকেন সম্ভব নয় ? তুমি আমাকে ভাল বাসনা ? বল বল উত্তর দা্ওচ্।
সুহানের মা এগিয়ে এল। ুএই বেহায়া নির্লজ্জ মেয়ে তুমি এখান থেকে যাবে ? নইলে তোমাকে মেরে তারাবচ্।
নাজমা জবাব দিল- ুআমি সুহানকে না নিয়ে কোথাও যাবনা। সুহান চল আমার সাথেচ্।
সুহান কঠিন গলায় জবাব দিল-ু না। আমি এখন বি্#২৪৭৬;াহিত। তোমাকে এখন আর বিয়ে করা সম্ভব নয়। তুমি ্#২৪৪৭;্#২৪৫৪;্#২৪৯৪;্#২৪৭২; ্#২৪৬৯;্#২৫০৩;্#২৪৫৩;্#২৫০৩; চলে যাওচ্।

কি বলবে নাজমা কিছুই ভেবে পেলনা। অপলক সুহানের মুখের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকল। একটু মুচকি হাসল। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই কোমরে গুজা এ্#২৪৫৩;টি শিশি বেড় করে নিজের মু্ে#২৪৫৪; ঢগঢগ করে ঢেলে দিল। শিশি টা হাত থেকে ফেলে দিয়ে দু হাত দিয়ে গলা চেপে ধরে চিৎকার করতে লাগল আহ জ্বলে যাচ্ছে, জ্বলে যাচ্ছ। ুআমাকে বাচাও সুহান আমাকে বাচাওচ্।

সবাই এগিয়ে এল। সুহান বুজে গেছে নাজমা বিষ খেয়েছে। দৌড়ে গিয়ে নাজমাকে ধরল। সুহান ্#২৪৫৮;্#২৪৯৫;্#২৫১০;্#২৪৫৩;্#২৪৯৪;্#২৪৮০; করতে শুরু করল- ুএকি করলে তুমি নাজমা একি করলেচ্।
কিছুক্ষনের মধ্যে নাজমার সারা শরীর নীল হয়ে গেল। মৌটুসীর স্বামী বেলাব বাজার থেকে গিয়ে একটা রিকসাভ্যান এনে নাজমাকে ভ্যানে তুলে সদর হাসপাতালের দিকে ছুটতে শুরু করল। সুহান ভ্যানে উঠে বসল। নাজমার মাথাটা তার কোলে তুলে নিল। ভ্যান ছুটে চলছে নাজমা দেখতে পাচ্ছে- সুহান আর নাজমা শীর্ণ নদীটা পার হয়ে কাঁশবনে ডুকেছে। কাঁশবনে তারা দৌড়াচ্ছে। সুহান কোথায় যেন লুকিয়ে পড়েছে। নাজমা খুঁজে খুঁজে হয়রান। এক জোড়া টুনটুনি ভয়ে উড়ে গেল কাঁশবনের কিছু অংশ নড়ে উঠল। নাজমা চুপি চুপি এগিয়ে গিয়ে সুহানকে ধরে ফেলল। ভরা বষর্া নদী দুকুল ছাপিয়ে মাঠ ঘাট ভা্ি#২৪৮৮;য়ে দিয়েছে। নদীতে প্রবল স্রোত। নদীতে পাল তোলা নৌকা সহ লঞ্চ ষ্টীমারের অনাগোনা বেড়ে গেছে। সুহান আর নাজমা এ্#২৪৫৩;টি ছোট্র ডিঙি নৌকা নিয়ে নদীতে বেড়িয়ে পড়ল। সুহান নৌকার বৈঠা চালাচ্ছে। নৌকা আড়িয়লখা আর ব্রক্ষ্মপুত্রের মোহনায় ডুকে পড়েছে। অল্পদুর দিয়ে একটা বালু ভর্তি কার্গো চলে যাচ্ছে। প্রচন্ড একটা ঢেউ এসে সুহানদের ডিঙিটাকে উল্টে দিল। সুহান আর নাজমা পানিতে ভাসতে শুরু করল। স্রোতের টানে একজন আর একজনের কাছ থেকে দুরে সরে যেতে লাগল। নাজমা আর পারছেনা। ঐ দুরে নিলক্ষীয়া গ্রাম দেখা যাচ্ছে। সুহান কে আর চোখে পড়ছেনা। নাজমা তলিয়ে যাচ্ছে ,তলিয়ে যাচ্ছে ,আর যাচ্ছে-----।

সিএন্ডবি রোডে যখন ভ্যান এসে পেঁৗছাল তখন নাজমার দেহঠা নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। ততক্ষনে নাজমার প্রান পাখীটা খাঁচা ছেড়ে উড়াল দিয়েছে। সুহান নাজমার নাকের কাছে হাত দিল কোন সাড়া নেই। সিএন্ডবি বাজর থেকে একজন গ্রাম্য ডাক্তার ডেকে আনা হল। ডাক্তার নাজমার নাড়ী, আর চোখ পরীক্ষা করে মৃত ঘোষনা করল। নাজমার লাশ নিয়ে ভ্যান আবার ্#২৪৫৫;্#২৫০৯;্#২৪৮০;্#২৪৯৪;্#২৪৭৮;্#২৫০৩;্#২৪৮০; দিকে রওয়ানা হল।

নাজমার মৃত্যুর খবর পেয়ে তার ভাই ু সুহান, তার মা, বোন ও ভগি্নপতিদের বিরুদ্ধে বেলাব থানায় মামলা দায়ের করল। সুহানরা বাড়ী পেঁৗছার সাথে সাথে পুঁলিশ এসে তাদের সবাইকে ধরে নিয়ে গেল। পরদিন থানা থেকে সদর কোর্টে চালান করে দিল। সুহান তার সকল দোষ স্বীকার করে ্#২৪৩৮;্#২৪৭০;্#২৪৯৪;্#২৪৮২;্#২৪৬৮;্#২৫০৩; মা, বোন ভগি্নপতিদের মুক্তি দিতে অনুরোধ জানাল। বিঞ্জ আদালত সকল ঘটনা শুনে সুহানকে ছয় মাসের কারাদন্ড ও অন্যদের বেকসুর খালাস দিল।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন