বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩০ জুন ১৯৮৮
গল্প/কবিতা: ২টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১৭

কষ্ট (জুন ২০১১)

মোট ভোট ১৭ সিগারেট

এম এস নিলয়
comment ১৫  favorite ০  import_contacts ১,৩১২
সিগারেট চলবে?
“নাহ, আমি সিগারেট খাই না”।
ফয়সালের মুখ থেকে এই উত্তরটি কোনদিন কেউ শুনবে বলে কল্পনাও করা যায়নি আজ থেকে ২ দিন আগেও। ফয়সাল নিজেও হয়ত কোনদিন ভাবেনি যে সে সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেবে। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে গত ৪ দিনে সে একটিও সিগারেট খায়নি। একটি সিগারেটের জন্য তার মনটা বাকুল হয়ে আছে, কিন্তু সে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করছে। গত সপ্তাহে আস্ত সিগারেটের প্যাকেট সহ আম্মু তাকে আটক করেছিল। সেদিন রাতে আব্বু-আম্মু মিলে তাকে যাচ্ছেতাই ভাবে বকাঝকা করেছে। আর কোনদিন সিগারেট খেলে এক কাপড়ে তাকে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হবে বলে সাবধানও করে দিয়েছে। ফয়সাল এর আব্বু সিগারেট খান না, ঘরে সিগারেট খান শুধু ফয়সালের বড় চাচা। বেকার, অলস এই মানুষটাকে ফয়সাল জন্মের পর থেকেই তাদের বাড়িতে দেখে আসছে। তিনি পৃথিবীর কাউকে বিশ্বাস করেন না, তার দৃষ্টিতে সে ছাড়া বাকি সবাই চোর। এই অবিশ্বাসের কারনেই আজ পর্যন্ত তাকে দিয়ে কিছু হলোনা। ফয়সালের সিগারেট খাওয়া শুরু এই চাচার খাওয়া সিগারেটের গোড়াটুকু চুরির মাদ্ধমেই। ফয়সাল আব্বু-আম্মুর কথায় সিগারেট ছাড়েনি, ছেরেছে উর্মির কথায়। হাল্কা পাতলা গড়নের সোনালী চুলের এই মেয়েটা যে আসলে কেমন তা আজ পর্যন্ত বন্ধুরাও কেউ বুঝে উঠতে পারেনি। হয়ত উর্মি নিজেও জানেনা আসলে সে কি চায়। যেমনি হক, চঞ্ছল এই মেয়েটাকে ফয়সাল খুব ভালবাসে, মনপ্রান উজাড় করে ভালবাসে। কলনীর স্লাবে বসে এখন সে উর্মির জন্যই অপেক্ষা করছে। শেষ যেদিন উর্মির সাথে দেখা হল সেদিন উর্মি ফয়সালকে সাফ সাফ বলে দেয়াছে, “হয় আমি নয়তো সিগারেট”। ফয়সাল উর্মিকেই বেছে নিয়েছে। সেদিন থেকে আজ অব্ধি সে সিগারেট ছুয়েও দেখেনি। দূর থেকে উর্মিকে আসতে দেখে ফয়সাল উঠে দাড়ালো, উর্মি কাছে আসতেই ফয়সাল তার চিরচেনা মিস্টি হাসি উর্মিকে উপহার দিল। উর্মি সেটা দেখেও না দেখার ভান করল।
“তুমি আবার সিগারেট খেয়েছ? তোমাকে বলেছিলাম হয় আমি নয়তো সিগারেট, যেহেতু তুমি সিগারটকেই বেছে নিয়েছো তাই গুড বাই”।
ফয়সালকে কিছু বলার সুযোগ না দেয়াই উর্মি হন হন করে হেটে কলনীর বাড়িগুলোর আড়ালে মিলিয়ে গেল। ফয়সাল কি করবে বুঝতে না পেরে স্লাবেই বসে রইল। বার বার উর্মিকে কল করেও কোন উত্তর পাওয়া গেলনা। উর্মি ফোনই ধরল না। সন্ধ্যা পর্যন্ত স্লাবে বসে যখন নিশ্চত হল উর্মি আজ আর আসবে না, তখন সে বাড়ির দিকে রওনা দিল।
ফয়সালের মনটা আজ খুব খারাপ। সে তো সিগারেট খায়নি, তবে কেন উর্মি শুধু শুধু তাকে ভুল বুঝে দোষারোপ করে চলে গেল? দরজার সামনে দাড়িয়ে ১০০ বার দোয়া করে নিল যেনো দরজাটি আজ আম্মু না খোলে। মনটা এমনিতেই ভাল নেই, তার উপর এখন যদি আম্মুর কান ঝালাপালা করা বকবকানী শুনতে হয় তবে তার চাইতে কষ্টের আর কিছু থাকবে না দুনিয়ায়। ফয়সালের আজ দিনটাই খারাপ, আম্মুই দরজাটা খুললো। ফয়সাল কিছু না বলে আম্মুকে পাশ কাটিয়ে চলে এল। আম্মু দরজা আটকিয়ে ফয়সালের দিকে ফিরল।
“ফয়সাল, এই দিকে আয়”
“বল”
“কাছে আয়”। ফয়সাল আম্মুর দিকে এগিয়ে গেল। আম্মু তার মাথা ফয়সালের দিকে এগিয়ে এনে ফয়সালের টি-শাটের কলারে শুকে বললেন, “তুই আজ আবার সিগারেট খেয়েছিস? আয় আমার সাথে”। ফয়সালের হাত ধরে আম্মু তাকে আব্বুর সামনে এনে ফেললো। “তোমার ছেলে আজ আবারো সিগারেট খেয়েছে, তুমি যদি আজ ওর বিচার না কর তবে আমি আজ তোমার বিচার করব”।
ফয়সালের আব্বু এমনিতেই তার স্ত্রীকে সমীহ করে চলেন, এত বড় সাবধান বানী সোনার পর তার আর চুপ করে থাকা চলে না। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফয়সালের গালে সশব্দে একটি চড় পড়লো। “আজই শেষ বার বলছি, পরেরবার যা বলেছি তা করব ।আজ থেকে তোর হাত খরচ বন্ধ । এখন দূর হ আমার সামনে থেকে।
ফয়সালের বিরুদ্ধে আমারো এক্ নালিশ আছে ,সে আজ আমার সিগারেটের প্যাকেট থেকে দুইটা সিগারেট চুরি করেছে। ফয়সালের দিনটি আসলেই আজ খারাপ, না হলে এত কিছুর পরেও চাচার এসে মরার উপর খারার ঘা দেয়ার কি দরকার ছিল?
ফয়সাল কিছু বলল না ।সে চুরি করেনি, করেছে কালু ।এটা সে জানে, তবুও কিছু বলল না। “ভাইজান ,আপনি আপনার রুমে যান, আমি কালুকে দিয়ে আপনাকে সিগারেট আনিয়ে দিচ্ছি” ।চাচার ঠোটের মৃদু হাসি খেলে গেল ।এটাই তিনি চাচ্ছিলেন, তিনি নিজেও জানেন ফয়সাল তার ঘরে কখনও ঢোকেনা ।তার কাজ সিদ্ধি হয়েছে, তিনি তার ঘরে ফিরে গেলেন । ফয়সালও নিশব্দে নিজ ঘরে ফিরে এল। ঘন্টা দুয়েক খাটে শুয়ে এক দৃষ্টিতে ফ্যানের দিকে তাকিয়ে রইল। কি যে এত ভাবছে সে নিজেও জানে না। শেষ বারের মত উর্মির মোবাইলে কল্ করল, ফোন বিজি। এত রাতে কার সাথে কথা বলছে উর্মি? এতক্ষন চিন্তা করেও সে বিষয়টার মিমাংসা সে করতে পারছিলনা তা এখন এক নিমিশে জলের মত পরিঙ্কার হয়ে গেল। তার আর উর্মির মাঝে বিভেদ সৃষ্টিকারি সিগারেট নয়, অন্য কেউ। যার সাথে এখন উর্মি ফোনে কথা বলছে। মন্ টা তেতো তেতো লাগছে। তার এখন মুক্ত বাতাস দরকার। ঘরের দরজা খুলে নিশব্দে ছাদে চলে এল ফয়সাল। মনে মনে যাকে খুজেছিল তাকে দেখেতে পেল ছাদের কোনার রেলিঙ্গে পা ঝুলিয়ে বসে আছে। ধির পায়ে লোকটির পাশে রেলিঙ্গে পা ঝুলিয়ে বসলো ফয়সাল। বড় করে শ্বাস নিয়ে লোকিটর দিকে তাকিয়ে ফয়সাল প্রশ্ন করল “আমাকে একটি সিগারেট দেয়া যাবে”?
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন