বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৫
গল্প/কবিতা: ৮টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

২৩

কষ্ট ভোলা বাতাস

কষ্ট জুন ২০১১

এক নবিনের কষ্টের অনুভুতি

কষ্ট জুন ২০১১

আকাশের মত মন খারাপ

কষ্ট জুন ২০১১

মা (মে ২০১১)

মোট ভোট ২৩ স্বল্প যাত্রা,অল্প রদ

তির্যক রহমান
comment ১১  favorite ০  import_contacts ৪৩৬
রুম থেকে বেড় হয়ে জনতা হাউজিং এর গেটের সামনে দাঁড়িয়েছি রিক্সায় উঠব বলে।আজ কাল যা ভারা বেড়েছে বলার অপেক্ষা রাখেনা।বলা নেই কওয়া নেই দশ টাকার ভাড়া বিশ টাকা, পাচ টাকার ভাড়া হয়ে গেছে দশ টাকা।হয়তো রিক্সাওয়ালাদের রুম ভাড়াও তেমন বেড়েছে।

হয়তো আগে ছিল এক হাজার টাকা -এখন তা বেড়ে হয়েছে দুই হাজারের মত।এরা ভালই কামায়।কেউ কেউ দিনে তিন থেকে পাচশ।অন্যদের তুলনায় তাদের বাসা ভাড়া কম।অন্যান্য খরচ কম, তবু এরা মাস শেষে টাকা রাখতে পারে না।

ওঠার আগে ভারা মিটিয়ে নেয়ার অভ্যাস পুরনো।বেলা এগারোটার মত।রোদের তেজ প্রচন্ড।তপ্ত রোদ না হলে হয়তো রিক্সাওয়ালাদের উপর রাগ করে হেটেই রওয়ানা দিতাম।যে-ভাবে এক এক জন উল্টা পাল্টা ভাড়া দাবি করল তাতে মেজাজ খারাপ।মাঝে মাঝে এও ভাবি সবাই যদি আমার মত হয় -তবে এরা বাচবে কি করে? আর এই মানবিকতার বলি প্রতিনিয়ত হই রিক্সাওলাদের দরুন।কারন আমি এদের উপর খুব বেশি চড়াও হতে পারিনা।পাচ টাকার ভাড়া বিশ টাকা দাবি করলে বলি, কিভাবে হয় আমাকে বুঝিয়ে দিন।আমার মনে হয় তাদের যা খুশি চাওয়ার অধিকার আছে যেহেতু প্যাডেল মেরে শরীরের ঘাম মাটিতে ঝরিয়ে এটা চালায়।তাদের পুরু পয়সাই ঘাম ঝরানো হালাল।এর বেশি বলা হয় না যদি না মেজাজ থাকে চরমে।আর যে দিন মেজাজ চরমে থাকে, কেন যেন সব ঠিক ঠাক পেয়ে যাই।

যেতে হবে আশুলিয়া থানা এলাকায়।আশুলিয়ার একটা মজার ব্যপার আছে।আপনি যদি আশুলিয়া এসে আশুলিয়া থানা অফিস খোজেন তবে কখনোই পাবেন না।সেটা বাইপালে।অতচ সে থানার সামনে লিখা রয়েছে আশুলিয়া থানা।অতএব বাস ধরতে হলে মাজার রোডে এসে কোনাবাড়ি বাস-স্টান্ড আসতে হয়।সাভার হয়ে হয়ে যাওয়া যায় তবে এতে পয়সা এবং সময় উভয়ই ব্যয় হয়।মাজার রোডই আপাতত যাবো।তারপর লক্কর যক্কর মার্কা বাস।

একটা রিএক্সার সাথে ভারা মিটিয়ে নিলাম।খুব বেশি তারা নেই।আশুলিয়াতে মা এসেছে।আমি থাকি মিরপুরের একটি ম্যাচে।রিক্সা আপন গতিতে এগিয়ে চলছে।উপভোগ করার মত তেমন কিছু নেই।দোকান-পাট খুব একটা খোলেনি।এ পথ গুলো আমার নিয়মিত চেনা।শুধু অচেনা মানুষ গুলো এবং তাদের মধ্য কিছু সুন্দরী।প্রকৃতির দান দেখতে খারাপ লাগে না।কে কিভাবে বিষয়টি নিবে জানিনা।তবে সত্যি বলছি একটি গোলাপ যেমন বাগানে দেখতে ভাল লাগে তেমনি কোন সুন্দরিও।তবে এ সময়টায় এমন কিছু আশা করা বৃথা।সবাই যার যার কাজে।কলেজ পরুয়ারা কলেজে।অফিস গামীরা অফিসে।আর আমি বর্তমানে রিক্সাতে।মিরপুর পুরো এলাকাইঐতিজ্যবাহী।আর নামের ঐতিজ্য তো আছেই।ইস্টিডিয়ামের সামনে প্রায় আধা কিলোমিটার ঝুরে চমৎকার কিছু বাংলা নামের শো-রুম।সনি সিনামা হল বেশ আগের।চিরিয়াখানা ঢাকার মধ্য একটিই।বুদ্ধিজীবি কবর স্থান।এক নম্বারে যে ছোট জ্যাম বাধে তা ঠিক মুক্ত বাংলার সামনে।এটি প্রচুর লম্বা একটা মার্কেট।এ মাথা থেকে ওমাথায় যেতে ভাল সময় ব্যয় হয়।জ্যাম পেড়িয়ে এগিয়ে গিয়ে রিক্সা দার করিয়েছে যে বাসটা এই মুহুর্তে ছেরে যাবে তা থেকে সামান্য দুরে।লোক জনের তোর যোর দেখে মনে হল সেটি ছেরে দেবে বোধ হয়।ভারা মিটিয়েই উঠে পরলাম বাসে।

এ পথে সীট পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।আমার তাই হয়।দাড়িয়ে থাকা লোকের সংখ্যা থাকে প্রায় বসে থাকা লোকদের সমান।তবে আজ দাড়িয়ে থাকাদের ভির তেমন নেই।সাত আট জন হবে।দাড়িয়ে পরলাম মাঝা মাঝি একটা ফাকা জায়গা দেখে।রডে হাত দিতেই দেখি লাল রংএর ইটের গুড়া লেগে গেছে।হাত মোট মুটি লাল।ইতস্তত করে আশ পাশে তাকাতেই দেখি আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি তার সামনের সিটে দুজন মানুষ বসা যাদের আমি চিনি না।এদের মধ্য একজনের কৌ্তহলী দৃষ্টি আমাকে আর একবার তাকাতে বাধ্য করে।যাকে কিনা দেখতে মনে হয়েছে মোটা মুটি সুন্দরী হবে।বোরকা পরা।বাকি জনকে পাত্তা দেই না।সেও দেয় না।সে পর্দা করেনি।বয়স কমই হবে মনে হল।

ময়লা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে ইতস্তত লাগছে।গাড়ির চাকা ঘুরতে শুরু করেছে।কন্ট্রাক্টরকে ডাকলাম।কোন সারা নেই।আবার ডাকলাম।একই অবস্থা।মেজাজ চরমে।গেটের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলি, এই কন্ট্রাক্টর কে?

একটা পিচ্চি মত ছেলে পেছনে আমার দিকে মাথা ঘুড়িয়ে হাসি মুখে বলে আমি কন্ট্রাক্টর, আমিই হেলপার।দেখি তার গলায় গামছা।আমি বলি গামছাটা দাও।সে কোন প্রতি উত্তর না করে সেটি দিয়ে দিল।একটু অবাক হলাম।এরা সাধারনত এমন হয় না।বেশি পরিমানে ত্যারা থাকে।গামছটা হাতে নিয়ে হাত এবং রড দেখিয়ে বলি, মুছি?

সত্যি বলতে কি তার গামছা দিয়ে আমার মোছার ইচ্ছেটা শেষ হয়ে গিয়েছিল যখন সে বিনা বাক্য ব্যায়ে এগিয়ে দিয়ে ছিল।বাকি লোকজন বলল মুছে ফেলুন তো।আমি ভেবে ছিলাম গামছাটা চাওয়ায় সে অন্য কোন ময়লা কাপর দিয়ে বলবে এটা দিয়ে কাজটা সারুন।দেখলাম আমি সেটি দিয়ে মুছুলে ছেলেটার তেমন কোন আপত্তি নেই।আপত্তি থাকলে চোখ থাকতো অন্য রকম।তাই নিজের হাত মুছে রডের কিছু অংশ মুছে ফেলি যাতে অন্যান্যদের এমন সমস্যা না হয়।আবার দাড়ালাম, তবে এখন একটু দুরে।তাদের দুজনের সামনে অন্য একজন মানুষ দাড়িয়েছে।যেহেতু দাড়ানোর প্রচুর জায়গা খালি পরে আছে সেহেতু লোকটাকে বিরক্ত করা মোটেই ঠিক হবে না।আমি এসব পারিও না।তবে আমার চোখ সেখানে পৌছে যেতে পারে অনায়াসে।হালকা ঝাকি লাগছে মনে এবং দেহে কারন বাসটা মাঝে মাঝে দুলছে।আর একবার দেখে নিলাম আসলেই সে আমায় দেখছে কিনা।সরাসরি চোখে চোখ।হ্যা আমাকেই দেখছে।ভাবলাম সে আমাকে চেনে কিনা।চেনার প্রশ্ন কারন, অসাধারন কোন ব্যাক্তিত্ব আমার মধ্য নেই যাতে আমাকে দেখেই কারো ভাল লেগে যেতে পারে।হয়তো সে কোথাও আমাকে দেখেছে।না হলে এভাবে তাকিয়ে উৎসুক হয়ে থাকতে পারতো না।চোখ আপাতত সরিয়ে নিলাম।শরিরের মধ্য একটা সর্ট সার্কিট হয়ে গেল ইতিমধ্য।কিছুটা আগুন জ্বলতে শুরু করেছে বিপরিদ ধর্মি চুম্বকের আকর্ষনে।নিজেকে সুধাই।কুল- কুল-কুল-।

সামান্য সময় পরে আবার তাকালাম ভাল করে দেখার জন্য -আসলেই সে আমার চেনা কিনা।শুধু চোখ খোলা।এ -থেকে তেমন কিছু বুঝা গেলো না।আমার স্বভাবের মধ্য একটা হল একই রঙ্গের বোরকা একাধিক জন পরলে এবং তাদের স্বাস্থ একই মত হলে আমি সহজে চেনা মানুষ চিনতে পারিনা।যদি সত্যি চেনা হয় তবুও আমি চিনতে পারবো না এটা নিশ্চিত।সে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে।সুজকটা হাত ছারা করলাম না।আরো ভাল করে দেখলাম।আসলেই অসাধারন সুন্দরী।চোখ গুলো টানা টানা।শরিরের গঠন ভাড়ি।লম্বাও বেশ।নিশ্চিত ভাল লাগার মত কেউ হবে।হাত পায়ের যে অশটুকু খোলা রয়েছে তা দেখে মনে হয়েছে বেশ ফর্সাই।

এই রাস্তায় জ্যাম বলতে তেমন কিছু নেই অন্তত ভেরিবাধ পর্যন্ত।বিলের পাশ দিয়ে প্রচন্ড গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের বাস।দমকা বাতাস।গাড়ির গতির সাথে বাতাসও ওঠা নামা করছে।এ পথে ভয় যেমন হয় তেমনি আনন্দও।রাস্তাটা এতো বেশি খারা যে মনে হয় প্রচুর উচুতে আছি।আর ভাল লাগে নিরিবিলি পরিবেশ বলে।বিকেলে এদিকে প্রচুর লোক জন জরো হয় যারা আমার মত প্রেমিক।তাবে তাদের থেকে আমার পার্থক্য তারা সফল আর আমি অপেক্ষায়, কেউ একজন ডাকবে বলে।

আবার তাকালাম।একই সময়ে সেও।মনে হল চোখে চোখ পরায় তার চঞ্চলতা একটু বেরে গেছে।তার সাথে অন্য যে মানুষটা আছে তার সাথে অপ্রাসাঙ্গিক কথা বার্তা শুরু করে দিয়েছে।চোখের চাহনি দেখে বুঝতে অসুবিধা হল না সে যা বলছে অথবা যা শুনছে তাতে তার মোটেও মন নেই।সে তার সাথে থাকা মানুষটার দিকে যতবার তাকাচ্ছে তার থেকে অনেক বেশি আমার দিকে।এবং তা খুব দ্রত।যা এতোক্ষন ছিল না।বেশ লাজুক লাজুক এবং প্রেমিক প্রেমিক দৃষ্টি।আমারও।আমার মনের ভেতর।শরিরে ভেতরে রক্ত প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে।

আমার পেছনে তাকিয়ে দেখি আমার মত আরো এক প্রমিকের চোখও সে দিকে।যে কারোই চোখ সে দিকে যাবে এটা আমি নিশ্চিত করে বলতে।আমার চোখ মাঝে মাঝে সরলেও তার চোখ সরে না।আমার চেয়ে একটু বেহায়া বলা যায়।এমনকি আমি তার দিকে তাকিয়ে তাকলেও না।ব্যাপারটা ভালই জমেছে।তবে যে মানুষটার জন্য আমারা দুজন প্রতিযোগিতায় নেমেছি তাতে আমি কিছুটা এগিয়ে।

একবার মনে হল কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করি সে আসলেই আমাকে চেনে কিনা অথবা আমার মোবাইল নাম্বারটা গিয়ে দিয়ে আসি।এতো মানুষের মাঝে ব্যাপাটা কেমন হবে ভেবে তাই এগুলাম না।চিন্তা করলাম কতটা সুন্দরী হতে পারে সে।মুখটা কেমন? অথবা নাকটা।নাকটা বোচা না কি সড়ু।চুল কি বব করা নাকি বেশ লম্বা, কোকরাও হতে পারে।যাই হোক না কেন বিধাতা নিশ্চয়ি ম্যাচ করে দিয়েছে যাতে প্রত্যেকটা মানুষের আলাধা অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়।

বাস বেড়ি ছেরে সামনের দিকে যাচ্ছে।আমি নামবো জিরাবতে।এখনো কিছুটা পথ বাকি।এই বোরকার মাঝে একতটা সৌ্ন্দর্য লুকিয়ে আছে দেখার আগ্রহ শেষ করতে পারছি না।জানি এটা কারো না কারো জন্য অপেক্ষায় আছে।তবু আমি অধম কি একবারের জন্য এই প্রথিবীর আর একটা সৌন্দর্য দেখা থেকে বঞ্চিত হব? দেখতে না পেলে আফসোস অনেক দিন থেকে যাবে।আমার মাঝে মাঝে মনে হয় পৃথিবী যত সুন্দরী আছে তাদের প্রত্যেককে যদি দেখতে পারতাম, প্রত্যেকের সাথে কথা বলতে পারতাম, যদি দেখতে পারতাম মমতাজ কতাটা সুন্দরী ছিল যার জন্য এতো কিছু, এতো বড় ইতিহাস।তা তো আর সম্ভব নয়।এসব আমার সাধ্যের বাইরে।কিন্তু সে ইচ্ছে করলে আমাকে দেখিয়ে দিতে তার অপরুপতা।এখানে যারা আছে তাদের প্রত্যেকেই ছড়িয়ে দিতে পারে তার সৌ্ন্দর্যের আলো।মনের মধ্য আক্ষেপ।ভাবতে থাকলাম তার রুপের বৈচিত্রতা।

অবিশাষ্য ভাবে দেখলাম সে মাথায় হাত দিয়েছে।যেটা দিয়ে মুখ ডেকেছে সেটা খলবে বলে।বুকের মধ্য ধুকধুকানি শুরু হয়েছে স্যালো ইঞ্জিনের মত।ধুকধুকানি শব্দটা বাসের শব্দের চেয়েও বেশি মনে হচ্ছে।শরীর কেমন যেন করছে।প্রতিক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে।আজকের যাত্রাটা বৃথা নয়।আশা ভঙ্গো হবে না।এমনটা ভেবে আমি অপেক্ষায় আছি।ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে ডেকে থাকা মুখের পর্দা।হ্যা খুলে গেছে।আচমকা একটা সক্ট বুকের মধ্য।যা আশা করে ছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।যতটা আশা করি নি।

যে অংশ ডেকে ছিল তার পুর অংশই পোড়া।কোন এক এসিড ঝলসে দিয়েছে তার অপরুপ মুখ খানি।আসল রুপ এখন আর নেই।কোন পাশন্ড এই কাজ করেছে? মনের মধ্য দিক্কার জন্ম নিল।তার স্বাস্তি হল কি না হল তা আমি জানতে চাই না।আমি যা আশা করেছিম তা যে বেঙ্গে গেল তার দায়ভার কে নিবে? আমার মত সবাই মানুষ।আমার যেমন কিছু নিজস্ব চাওয়া পাওয়া আছে।ভাল লাগা আছে তেমন প্রত্যেক মানুষেরই আছে।কেউ খেতে ভালবাসে।কার খাবার দেখতে ভাল লাগে।কার খাওয়াতে ভাল লাগে।আমার সৌন্দর্য দেখতে ভাল লাগে।আর তাকে যার ভাল লাগতো ঐ মানুষটাকে কষ্ট দেয়ার কারো অধিকার নেই।

বেশ কষ্ট পেলাম।আমার ভাল লাগাকে এভাবে ধংস করে দিল কে? আমার তাকে একটু একটু ভাল লাগতে শুরু করেছিল।অপেক্ষায় ছিলাম সুন্দর মুখ খানি দেখার।এমনটা তো আশা করিনি।বর্বরতার স্বীকার যেমন বসে থাকা মানুষটা, তেমনি আমিও।কোন একটা ভাল লাগা জিনিষ ধরতে পারছি আবার পারছি না এমন হলে কষ্ট বেশি লাগে।এই মানুষটাই সবচেয়ে বেশি পরিমানে আমার দিকে উৎসুক হয়ে তাকিয়েছে।আর কেউ এমন করেনি এর আগে।আমি কেন তার এই অভিলাশার মুল্য দিতে পারছি না।নিজেকে একটু দিক্কার জানালাম।

একটা চঞ্চল স্বাভাবিক জীবনেকে টেনে নিয়ে ফেলে দিয়েছে অতল সমদ্র গভিরে।যেখান থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া সম্ভব নয়।আজ তার কাছে জীবনে অর্থ ভিন্য।আর কোন দিন সেই দিনটা খুজে পাবে না -যা ঐ দিনের আগ পর্যন্ত ছিল।মেয়েটা সারা জীবন কিভাবে কাটাবে ভাবতে গেলে শরিরে কাটা দেয়।তার কত সপ্ন ছিল।কত আশা ছিল।আজ সবই মাটিতে মিশে ধুলো হয়ে গেছে।জির্ন বস্রের মত মানুষের দারে ঘুরে বেরাতে হবে।মা বাবার কাছে আজ সে অভিশপ্ত।সবার কাছ থেকে প্রতিনিয়তো বঞ্চনা পেয়ে এ পর্যন্ত এসেছে।কেউ হয়তো তাকে করুনা করবে।কেউ হয়তো সমবেদনা জানাবে।কেউ করবে আফসোস আমার মত।কেউ হয়তো তার হারানো সৌন্দর্য খুজে বেরাবে কল্পনায়।কিন্তু সেই জীবন তো আর ফিরে পাবে না -যে জীবন সে হাড়িয়েছে।তার হয়তো সপ্ন ছিল লখা পরা শিখবে।ভাল কিছু করবে।সপ্নের মত বর হবে।বিভীশিখাময় জীবন আর কত দিনে বেয়ে, টেনে, হিচরে সামনের পথে নিয়ে যেতে পারবে তাই ভাবি কিছু সময়।

মনে হল সেই বর্বর মানুষকে যদি এই মুহুর্তে পাই তবে শুলে চরাতাম।অথাবা তার শরিরের কোন একটে অংশে কিছু এসিড ঢেলে দিতাম এবং দিতাম হাত পা বেধে যাতে সে ব্যথা জায়গায় স্পর্শ করতে না পারে যাতে বুঝতে পারে এসিডে পুরলে কেমন অনুভুতি যাগায়।যাকে সে এটা ছুরেছিল তার ঐ মুহুর্তে কেমন কষ্ট হয়েছিল তা তার বোঝা উচিত।এই সব অমানুষকে গৃনা করতে লজ্জা হয়।একটা ছেলে একজন মেয়ের জন্য আর একটা মেয়ে একজন ছেলে জন্য।সৌন্দর্য স্রষ্টাই দেন।এতে কারো হাত নেই।একটা মেয়ে যতই সুন্দর হোকনা কেন সে যে কাউকে গ্রহন করতে পারে না।সম্ভবও নয়।আকাশের চাদ চাইতে পারে অনেকে কিন্তু কেউকি দিতে পারে বা ধরতে পারে।না পেলে কষ্ট হলে তো আর কেউ চাদের গায়ে এসিড ছোড়ে না।কেউ ডিল নিক্ষেপ করে না।এই অমানুষ গুলো সমাজটাকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দিচ্ছে।তারা পিছিয়ে দিচ্ছে মেয়েদের।

এই মেয়েটা হয়তো প্রতি দিন অভিশাপ দিত যে এমন করেছে তাকে।অভিশাপ দিতে দিতে সে হয়তো এখন ক্লান্ত।হয়তো অভিশাপ রদ করে নিয়েছে।এমন কি দিয়েছে কিছুটা ক্ষমা করেও।কিন্তু সেই অমানুষটা শুধু একটা অভিশপ্ত জীবন ছারা কিছুই দিতে পারেনি।এরপর আমি যা করলাম তা অজানাই থাক।

বাস জিরাব স্টান্ডের কাছে চলে এসেছে।আমি দাঁড়িয়ে আছি।সীট থেকে উঠে আসার কোন প্রয়োজন নেই।শুধু একটু গেটের দিকে এগিয়ে গেলেই হয়।আমার সল্প যাত্রায় অল্প আঘাত নিয়ে নেমে এলাম বাস থেকে।নেমে আর একবার দেখে নিলাম সুর্যটাকে যাকে প্রতি দিন দেখি।ঠিক ভাবে তাকানো যাচ্ছে না প্রচন্ড আলোয়।তবু তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষন।ইচ্ছে হলো নিজেকে কিছু স্বাস্তি দিই -বেশ কিছু উত্তর হীন প্রশ্নের কারনে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন