বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ জুলাই ২০১৯
গল্প/কবিতা: ২৮টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৭৩

বিচারক স্কোরঃ ২.৩৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৪ / ৩.০

অতৃপ্ত মায়ের কান্না

ভালোবাসা / ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৫

ফাগুনের দ্বিপদী

ভালোবাসা / ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৫

অদৃশ্য কন্ঠ বলেছিল আয়ু মাত্র...

ভৌতিক নভেম্বর ২০১৪

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (সেপ্টেম্বর ২০১৪)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৭৩ শশী নেই কোথাও

আফরোজা অদিতি
comment ৬  favorite ০  import_contacts ৫৮৪
একমাসের বিয়ে করা বউ,শশী যেদিন বাপের বাড়ি গেলো সেদিনই ঘটলো পনেরো বছর আগের পুরানো সেই ঘটনাটা। চৈত্রের শেষ আজ। আগামীকাল বাংলা নববর্ষ। পাবলিক লাইব্রেরীতে ‘অ্যার্ডন পাবলিকেশন’ আয়োজিত চৈত্র সংক্রান্তির বইমেলা হচ্ছে, শশীকে বলেছিলো মেলায় যাবে। কিন্তু শশী শুনলো না, বললো না বাবার বাড়ি যাবে। মাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। শশীর মুখের দিকে তাকিয়ে আর না করতে পারেনি নীরু।

আকাশ ভেঙে অঝোর ঝরছিলো বৃষ্টি। বৃষ্টিতে ভিজতে খুব ভালো লাগে ওর। বৃষ্টি হলেই যাতে ভিজতে পারে তাই সঙ্গে ছাতা রাখে না কখনও। দুপুর থেকেই মেঘ ছিলো আকাশে। অফিস থেকে বেরুতেই গায়ে পড়লো জলের ফোটা। কয়েক গজ যাওয়ার পরেই সেই জলের ফোটা ঝমঝমিয়ে পড়তে শুরু করলো। বৃষ্টিতে ভেজার মজাই আলাদা। মনের খুশিতে নীরু নেমে পড়লো সেই জলে। মেঘ দেখলেই মাথাটা পাগলাটে হয়ে যায় নীরুর। ওর গান গাইতে ইচ্ছা করে, জল ছপছপ দৌড়াতে ইচ্ছা করে। টি.এস.সি. আর বকুলতলার ফুটপাতে বসে ভিজে ভিজে চীনেবাদাম আর গরম গরম চা খেতে ইচ্ছা করে। চায়ের কাপে টুপ-টুপ আকাশ থেকে ঝরে পড়া ঠাণ্ডা জল মিশানো চা ! আহ! ---

ও, ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য হাঁটতে শুরু করেও, কী মনে করে রিকশা নিয়ে বাড়ির পথ ধরলো। হুড ফেলে আকাশ থেকে ঝরে পড়া জল হাতের তালুতে নিতে নিতে নিজ আবাসে পৌঁছালো নীরু। বাসায় ফিরে ভেজা কাপড়েই চায়ের জল চাপিয়ে একদৌড়ে বাথরুমে। শাওয়ার নিয়ে চা। শাওয়ার নিতে নিতে গান গাইলো। কণ্ঠ ভালো। ওস্তাদের কাছে কিছুদিন শিখে ছেড়ে দিয়েছিলো। গান শেখার কথা চিন্তা করে গানের টিচারের সঙ্গে কথাও বলেছে। আগামী মাস থেকে শুরু, সা রে গা মা---

খুশি খুশি মন নিয়ে ওয়াসরুম থেকে বের হয় নীরু। ডাইনিং টেবিলে এসে গরম চা সঙ্গে সমুচা, রসমালাই দেখে অবাক।
দুটোই ওর পছন্দের খাবার। কিন্তু শশী নেই, এগুলো কে-ই বা আনলো, কে-ই দিলো টেবিলে গরম চা ! কে এসেছে ওর ঘরে? দরোজা কি খোলা রেখে দিয়েছে ? চেয়ে দেখলো দরোজায়, নাহ! দরোজা বন্ধ। কপালে ভাজ পড়লো ওর।

এমন সময় পেছনে নূপুরের ঝুনঝুন আর চুড়ির রিনঝিন আওয়াজ কানে এলো। মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো ঘরে।
কে? পেছনে তাকালো। কেউ নেই ! এদিক-ওদিক তাকিয়ে খুঁজলো, কেউ কোথাও নেই ! ঘরের মিষ্টি গন্ধ বাড়ছে, তীব্র থেকে তীব্রতর। ওর মন বিবশ হয়ে যাচ্ছে। কোন কিছুই ভাবতে পারছে না।

শহরে আসার আগে গ্রামের বাড়িতে দু’বছর ওর ঘরে প্রায়ই মিষ্টি গন্ধের সঙ্গে নূপুরের আওয়াজ পেতো। নূপুরের উৎস খুঁজেছে।
পায়নি। ষড়ঋতুর সব ভোরেই দেখেছে বালিশের পাশে সতেজ শিউলি। কখনও দেখেছে নূপুরের তালেতালে দুলছে কদম গাছে বাঁধা ওদের দোলনাটা। তখন ভয় ছিলো না। কৌতূহল ছিলো। এই মুহূর্তে ভয় করছে। শশী ছাড়া এই শূন্য বাড়িতে নূপুর আর চুড়ির শব্দ। শশী কী ভাববে? নতুন বউ। বিয়ের বয়স ৩০দিন। বাবা-মায়ের পছন্দ। সে-ভাবে জানাজানিই হয়নি এখনও।

আবার নূপুরের সঙ্গে চুড়ির আওয়াজ।
একি আপদ! এতদিন এ শব্দ কোথায় ছিলো? এখন ত্রিশ চলছে। ব্যাংকে চাকুরী, সদ্য বিয়ে করেছে। বউ, সন্তান, সংসার নিয়ে সুখী একজন মানুষ হতে চায় ও। কোন ঝামেলায় এখন কিছুতেই পড়তে চায় না নীরু। বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দ মন থেকে চলে গিয়ে বিরক্তিতে ভরে উঠলো ওর মন। চুড়ির রিনঝিন, নূপুরের ঝুনঝুন আওয়াজ শুনতে পেলো আবার। আওয়াজ লক্ষ্য করে এদিক-ওদিক করতে থাকে নীরু।

খুঁজো না আমাকে, পাবে না। আমি দেখা না দিলে কখনও খুঁজে পাবে না আমাকে। ওর পেছনেই সুরেলা কণ্ঠ।
চমকে ফিরে তাকায়। কে তুমি? কী করছো এখানে?
এখানেই তো থাকি। সম্মোহিত হয়ে যাওয়ার মতো মিষ্টি কণ্ঠস্বর।
এখানে কোথায়? দেখতে পাচ্ছি না কেন? নীরুর কণ্ঠস্বরে চাপা রাগ।
সময় হয়নি এখনও।
কিসের সময়, সময়-অসময়ের কী আছে ? সামনে এসো ।
আসবো। এতো অধৈর্য কেন ? তুমি তো অধৈর্য ছিলে না কখনও। সময় হ‘লে নিজেই দেখা দিবো আমি। নূপুরের আওয়াজ দূরে সরে যাচ্ছে।
দেখা না দিয়ে যেতে পারো না তুমি! এই বাড়িতে কোথায় থাকো তুমি! নীরুর কণ্ঠে বিস্মিত উত্তেজনা।
উত্তেজিত কেন? আমি তো সেই কিশোর বয়স থেকে তোমার সঙ্গেই থাকি। তোমার দেখ-ভাল তো আমিই করে এসেছি এতদিন। আজ অন্য কেউ করবে এ-রকম তো হতে দিতে পারি না আমি। ভালোবাসি,খুব ভালোবাসি তোমাকে। আমার ভালোবাসাকে পাওয়ার জন্য সব করতে পারি আমি, করবো-ও সব কিছু।

অদৃশ্য মানবীর কথায় রাগ চড়ে যায় নীরুর মাথায়। বলে, আমি তোমাকে ভালোবাসি না। যাকে কখনও দেখিনি তাকে ভালোবাসার প্রশ্নই ওঠে না! আমার স্ত্রী ছাড়া অন্য নারীকে ভালোবাসবো কেন? তুমি তো অন্য নারী !
রাগ করো না নীরু। আমি অন্য নারী নই! আমি তোমার, শুধুই তোমার। কষ্টে অদৃশ্য মানবীর কণ্ঠ ভেজা। কিছুক্ষণ চুপচাপ। কোন শব্দ নেই। ফুঁপিয়ে কান্না। নীরুর বে-দিশা অবস্থা।

তুমি কষ্ট দিতে পারো না আমাকে! কান্না জড়ানো কণ্ঠ শুনতে পেলো নীরু। আমাকে দেখলেই তো বিয়ে করতে হবে আর বিয়ে না করলে অন্ধ হবে তুমি। অন্ধ স্বামী নিয়ে কী ঘর করবে শশী! ভেবে দেখো। একবার ভেবে দেখো।
তোমাকে দেখবো না আমি। আমি বিবাহিত। অন্য মেয়েকে দেখা আমার নীতিবিরুদ্ধ।
তা ঠিক। তবে তুমি বিবাহিত বলেই তো আমার সুবিধা। এতদিন ছায়ার মতো থাকতে হয়েছে এখন তা হবে না। বিয়ে না করলে দেখা দেওয়ার নিয়ম নেই তাই...। এখন দেখা দিলেই কাছে আসবে, ভালোবাসবে, বিয়ে করবে। মিষ্টি হাসি কাঁচভাঙা শব্দে ছড়িয়ে পড়ে ঘরে।

ওই হাসিতে মোহিত হয় নীরু। মুগ্ধ নীরু, তার কিছুক্ষণ আগের মনের জোর হারিয়ে ফেলে। ভাঙাকন্ঠে বলে, আমি তোমাকে ভালোবাসবো না, বিয়েও করবো না। শশীকে ভালোবাসবো।
না,তুমি, ওকে ভালোবাসবে না। কণ্ঠে দৃঢ়তা। তুমি ভালোবাসবে শুধুই আমাকে। এই আমাকে।
না। আমি...
কথা শেষ হয় না। নূপুর আর চুড়ির শব্দ ক্রমশঃ চলে যায় দূরে। ঘরে মিষ্টি গন্ধ । গন্ধে সে উদাস বাউল। নীরুর শরীর, মন সবকিছু ওর ইচ্ছার বিরুদ্ধে চলে গিয়েছে। ও নেচে নেচে গাইলো Ñও সুন্দরী প্রিয়তমা , তুমি এলে জ্বলে আলো/ না এলে থাকে অমা ...

রাতে স্বপ্ন দেখলো। দিগন্তরেখায় এক তরুণীর সাদাটে আবছায়া অবয়ব। লীলায়িত ছন্দে কাছে এসে, অপূর্ব মনভুলানো হাসিতে সেই তরুণী বললো, আমি ভালোবাসি তোমাকে, জীবনপথের সঙ্গী, বন্ধু আমার।
তুমি তো শশী নও। তুমি জীবনপথের সঙ্গী হতে পারো না। কী ভাবে সম্ভব!
হাসে তরুণী। হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে, হাত ধরো সখা, আমি লিপাঞ্জিনা।

লিপাঞ্জিনার হাত ধরার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ভেতর পরিবর্তন লক্ষ করে। ওর সমস্ত শরীর যেন কথা বলছে, গান গাইছে। মনের ভেতর কিচির-মিচির করছে আনন্দের পাখিরা। বারবার ওই তরুণীর নাম ধরে ডাকতে ইচ্ছা করছে। লিপাঞ্জিনা!
লিপাঞ্জিনা, লিপাঞ্জিনা। বারবার ডাকে। ওর হাত ধরে ঘুরে বেড়ায় নীরু। ওরা হাত ধরাধরি পৌঁছে যায় ওই দিগন্তরেখার কাছে। দিগন্তরেখায় গিয়ে এক হয়ে যায় দু‘জনের শরীর।

রোজ ভোরে ঘুম থেকে ওঠে। ব্যায়াম করে। কখনও রাস্তায় হাঁটে। আজ সকালে ঘুম ভাঙে না নীরুর। রেশমি চুড়ির আওয়াজে যখন ঘুম ভাঙে তখন সাড়ে নয়টা। স্বপ্নের আবেশ তখনও দেহে, মনে। স্বপ্নের রেশ কেটে যাওয়ার ভয়ে চোখ বন্ধ করে থাকে নীরু। দেয়াল ঘড়িতে সাড়ে নয়টার সংকেত। তড়িঘড়ি ফ্রেস হয়ে অফিসে রওয়ানা হয়।

পেছনে নূপুরের শব্দ। খেয়ে যাও। না খেয়ে গেলে, অকল্যাণ হবে আমার।
নীরু তাকিয়ে দেখে, টেবিলে সাজানো পাউরুটি, কলা, মাখন, জেলি, ডিম, মিষ্টি। ওর পছন্দের নানান পদ। ওদিকে তাকিয়েই চোখ ফিরিয়ে দরোজার দিকে পা বাড়ায়। এগিয়ে আসে নূপুরের শব্দ, হাতে নরম স্পর্শ পায় নীরু। শিহরিত হয়। তবুও জিদ্দি বালকের মতো বলে, না, খাবো না।

কান্নার কোন শব্দ পায় না নীরু। অথচ ওর হাতের ওপর একফোঁটা চোখের জলের সঙ্গে তীব্র গন্ধ এসে লাগে নাকে। ভেজা কণ্ঠ শুনতে পেলো নীরু। আমার এতো বছরের প্রেম বৃথা হবে! কখনও না। তোমার জন্য সব ছেড়েছি। পরিবার,পরিজন, কমিউনিটি, দেশ সব ছেড়েছি আমি। শুধু তোমাকে পাবো বলে, শুধুই তোমাকে পাবো বলে সব ছেড়েছি। প্লিজ, খেয়ে যাও।
নীরু এড়াতে পারলো না অদৃশ্য মানবীর কথা। বাধ্য ছেলের মতো খেয়ে নিলো।

নীরু না জেনে ভুল করে ফেললো। এই মুহূর্তে নীরু যদি না খেতো তা’হলে ওর ইচ্ছা শক্তি থাকতো। ভোরের এই তিথিতে লিপাঞ্জিনার হাতে খাবার খেলেই ও সম্পূর্ণরূপে লিপাঞ্জিনার হয়ে যাবে। এটা জানা ছিলো না নীরুর। এখন নীরুর দেহ- মন সম্পূর্ণ লিপাঞ্জিনার। লিপাঞ্জিনার ইচ্ছার বাইরে কিছু করার ক্ষমতা রইলো না ওর।

শশী ফিরেছে। ঘর-দোর পরিপাটি। মনে মনে স্বামীর প্রশংসা ক’রে ঘরে গিয়ে বিস্মিত ! খাটের পাশে দাঁড়িয়ে একটা সাজুগুজু করা কনেবউ!
এই কে তুমি? বিস্মিত শশীর প্রশ্ন ।
আমি! আমি, লিপাঞ্জিনা।
আমার বেডরুমে কী করছো? কী চাও!
কিছু চাই না। এখানেই থাকি,আমার ভালোবাসার কাছে। আমার ঘরে।
তোমার ঘর ? তোমার ভালোবাসা? এটা কিছুতেই হতে পারে না। এটা আমার, আমাদের ঘর।
না, তোমার ঘর নয় । এ ঘর আমাদের। কণ্ঠে হসির ঝমক।
শশীর রাগে গা জ্বলে। চলে যাও, গেটলস্ট।
যাবে তুমি। আমি নই। ও আমার, শুধুই আমার। হাসে লিপাঞ্জিনা। লিপাঞ্জিনার হাসিতে লক্ষ কোটি বিষধর সাপ দংশন করলো শশীকে। শশী সেই বিষে ক্ষত-বিক্ষত হ‘তে থাকলো।

শশী ফোন করলো নীরুকে। বাসায় ফিরতে বললো ওকে।
লাভ নেই শশীকণা। ও বিকেলের আগে আসবে না। পনেরো বছর একসঙ্গে...। মনদগ্ধ করা হাসি হাসে লিপাঞ্জিনা।
মিথ্যে ব’লো না। কপালের শিরা দপদপ করছে শশীর।
মিথ্যে নয়। চিন্তা করো বিয়ের পর কখনও একসঙ্গে থেকেছো? থাকনি। থাকতে দেইনি আমি। দেবোও না কখনও।

সত্যিইতো !বিয়ের পর একরাতও একসঙ্গে থাকা হয়নি। বিয়ের আগের বাসা এটা। এক রুমের ছোটবাসা। বিয়ের দিন থেকে প্রতিদিনই মেহমান। সারাদিন অফিস, রাতে মেহমান। কাছাকাছি হতেই পারেনি ওরা।
তুমি জানলে কি ক’রে? শশীর চোখে আগুন।
বললাম না একসঙ্গে থাকি ।

বিকেলে নীরু ফিরলো। শশী কাঁদছে ।
কাঁদছো কেন?
জবাব দেয় না শশী। অনেকক্ষণ পরে কান্না থামিয়ে বলে, ওই কনে-বউটা কে? কা’কে নিয়ে থাকো তুমি?
কোন বউ! বিস্মিত নীরু।
ওইতো খাটের পাশে।
নীরু দেখতে পায় না লিপাঞ্জিনাকে। কই কোথায়?
ওই তো। না দেখার ভান করছো কেন?
কী আজে-বাজে বকছো বলো তো। এতোদিন পর দেখা। বিয়ের পর তো মেহমান আর মেহমান। তোমার সঙ্গে ভালো ক’রে কথা পযন্ত বলতে পারিনি। কন্ঠে ব্যথিত উষ্মা ।
কথা বলতে পারোনি, না বলতে ইচ্ছা হয়নি। বউ আছে তোমার বলোনি! ভালোবেসে বিয়ে করেছো, সংসার করছো, তা’হলে আমাকে কেন--- অধৈর্য শশী চিৎকার করে।
খামোখা আজেবাজে কথা নিয়ে চিৎকার বরছো শশী। ধৈর্য হারায় নীরু। তোমরা মেয়েরা এমনি, কথা নেই বার্তা নেই অযথা চিৎকার করো, আবার কাঁদো। চোখে পানি এসেই থাকে তোমাদের। কথাগুলো বলেই অবাক নীরু। এ কী ভাবে কথা বলছে ও। ও তো এমন মাথাগরম আর অসহিষ্ণু মানুষ নয়। তাহলে--- চিন্তিত হয় নীরু। নতুন বউ। ওর সঙ্গে এভাবে কথা বলা উচিত হয়নি। নাহ, শশীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। ক্ষমা চাইতে গিয়েও ঘটে বিপত্তি। কথায় কথায় আরও রাগ হয়ে যায় নীরুর। শশীর কাছে ক্ষমা চাওয়া আর হয় না।

তুচ্ছ বিষয়েই রোজ চলে বাকযুদ্ধ। কখনও নীরু বারান্দায়, কখনও শশী। একদিন শশী মায়ের বাসায় তো অন্যদিন নীরু বন্ধুর বাসায়। একত্রে থাকা হয় না ওদের। নীরুর সঙ্গে লিপাঞ্জিনার কথা নেই। নূপুর, চুড়ির শব্দও নেই। শুধু ঘরে মিষ্টি গন্ধ। লিপাঞ্জিনাকে দেখতে পায় শশী। রান্নাঘরে গেলেই দেখতে পায়, রান্না করছে লিপাঞ্জিনা, টেবিল সাজাতে গেলে, দেখে পঞ্চব্যাঞ্জনে আগেই সাজানো হয়েছে টেবিল। রাতে ঘরে গেলে বিছানায় দেখতে পায় ওকে। ওর চলাফেরা শশীর মনকে পোড়ায়।

যতোক্ষণ বাড়িতে থাকে নীরু দ’জনের বাক-বিতন্ডা, রোজ খাবার নষ্ট। দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের এতোই অবনতি হলো, বাসা ছেড়ে চলে গেলো শশী। যেদিন শশী চলে গেলো, সেদিনই চুড়ির রিনঝিন শব্দ পেলো নীরু। রাতে চুড়ির শব্দ তুলে মিষ্টি কন্ঠ বলল, বিয়ে করো আমাকে।
কেন এমন করছো তুমি? তোমাকে দেখিনি পর্যন্ত। আমি দশটা মানুষের মতো সন্তানসহ সুন্দর জীবন চাই। শশীকে চাই।
শশী নয়, সব দেবো আমি। সন্তান দেবো, দেবো সংসার। একজন স্ত্রীর কাছে তার স্বামীর যা যা পাওয়ার সব দেবো আমি তোমাকে। মিষ্টিগন্ধ জড়িয়ে ধরে ওকে। সম্মোহিত নীরু একটা অস্তিত্ব অনুভব করে।

স্বপ্ন দেখে। দিগন্তরেখা থেকে হেঁটে আসছে এক তরুণী। দু‘হাত বাড়িয়ে টেনে নিলো সেই নারীকে। সেই নারীও নিশ্চিন্তে সমর্পন করলো নিজেকে। নীরু ঘুম ভেঙে দেখে ওর পাশে শশী নয়, অন্য এক নারী । ভোরের আলো পড়েছে তার চোখে-মুখে। নীরু অনন্য এক ভালোলাগা নিয়ে তাকিয়ে থাকে ওই নারীর মুখে। এ নারী আর কেউ নয়, এ লিপাঞ্জিনা। নীরুর বুকের ভেতর অপূর্ব এক ভালোবাসা জেগে ওঠে লিপাঞ্জিনাকে ঘিরে। সেই ভালোবাসার মাঝে শশী নামের কোন অস্তিত্ব নেই, যেন ছিলো না কোনদিন।

নীরুর খুব ভালো লাগলো। সকাল বেলাটা নষ্ট করতে ইচ্ছা করলো না। লিপাঞ্জিনাকে বললো, চলো কোথাও থেকে বেড়িয়ে আসি। আজ তো ছুটি। লিপাঞ্জিনা হাসলো, বললো, আজ নববর্ষ। চলো রমনার বটমুলে যাই। নীরু সময়ের কোন হিসেব করতে পারলো না। শুধু বললো, চলো।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন