বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ১৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

অজানা গন্তব্য

ত্যাগ মার্চ ২০১৬

ফাগুনের দোল

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

তুমি আমার

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

দিগন্ত (মার্চ ২০১৫)

দিগন্ত জোড়ার মাঠ, পুকুরের কালো জল

আলমগীর মাহমুদ
comment ৪  favorite ০  import_contacts ৪১১
মিসবা সাহেব গ্রামের বাড়িতে একা থাকেন। তার স্ত্রী-পুত্র-কন্যা সবাই থাকে বিদেশে। দেশের মায়ায় কখনোই বিদেশ যেতে চাননি মিসবা সাহেব। তার ছেলে-মেয়েরা তাকে অনেক বুঝিয়েও তাকে বিদেশ নিতে পারেননি। ছেলেরা আশা করেছিলো হয়াতো মাকে নিতে পারলে মায়ের টানে বাবাও একদিন বিদেশে চালে আসবে, কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনি। বরং মিসবা সাহেবের কষ্টটা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। ছেলে-মেয়েদের মতো তার স্ত্রীও চলে গেলেন বিদেশে। তিনি এখন বড্ড একা। তারপরও তার ভাল লাগে গ্রাম, গ্রামের সবুজ মাঠ, টিনের চালায় বৃষ্টির শব্দ, পুকুর পারে বসে থাকা। তারপর সবচেয়ে ভাল লাগে ঘরের জানালায় বসে দুরের মাঠে চোখ মেলে কৃষকের ধান বোনা।
ছেলে-মেয়েরা বছরে একবার আসে, বেরিয়ে যায় আবার চলেও যায়। ছেলে-মেয়েরা চেয়েছিলো টিনের ঘরগুলো ভেঙ্গে ইট-পাথরের অট্রালিকা বানাতে। মিসবা সাহেব সেটা কখনোই চাননি। তিনি জানেন ইট-পাথরের দালানের ভেতর পাখির শব্দ থাকবেনা, বৃষ্টির শব্দ থাকবেনা, সবুজ ঘাসের ঘ্রান থাকবেনা। আর এসবই হচ্ছে মিসবা সাহেবের নিত্য দিনের সঙ্গি।
মিসবা সাহেব সকাল বেলা হেটে বেড়ান সবুজ থেকে সবুজে। ধান ক্ষেতের আল বেয়ে চলে যান এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। তার নিজের চাষের জমিগুলোর খোজ-খবর নেন। কথা বলেন কৃষকের সাথে। আবার ফিরে আসেন নিজের ঘরে। তারপরও তার কাছে মনে হয় তিনি বড্ড একা, বড় একা। স্ত্রীর কথা মনে পড়ে বারবার। কথা বলেন সেল ফোনে কিন্তু তার মনে হয় স্ত্রীকে তিনি কাছে পেতে চান। কিন্তু স্ত্রী জেদ ধরে বসে আছে বিদেশে। মিসবা সাহেব যদি অন্তত: পক্ষে একবার ছেলে-মেয়েদের কাছে না যায় তাহলে তার স্ত্রী ফিরবেনা। স্ত্রী বায়না মিসবা সাহেব যেন বিদেশে এসে তাকে নিয়ে যায়।
মিসবা সাহেব কি করবে ভেবে পায়না। তিনি জানেন বিদেশে দিগন্ত জোড়া মাঠ নেই, কালো জলের দিঘী নেই। এগুলো ছেড়ে যেতে তার ভাল লাগেনা। তার যাওয়ারও কোন ইচ্ছা নাই। ভাবতে ভাবতে পুকুর পাড়ে এসে বসেন। অদ্ভুত ধরণের ভাল লাগার একটা হাওয়া পুকুর পারে ভেসে বেড়াচ্ছে। পুকুরের পানিগুলো নেচে বেড়াচ্ছে হালকা ভাবে। এত ভাল লাগা রেখে তিনি কিভাবে বিদেশ যাবেন তার মাথায়ই আসেনা।
ছেলেরা প্রায়ই বলে দেশের মধ্যে হরতাল-অবরোধ, হিংসার রাজনীতি। এসব ছেড়ে বিদেশে চলে আসতে। বিদেশে সবাই আছে, ছেলে-মেয়েরা আছে, নাতিরা আছে ভালই লাগবে। কিন্তু মিসবা সাহেব বলেন ওখানেতো দিগন্ত জোড়া মাঠ নেই, পাখির কলতান নেই, সকালের শিশির নেই, টিনের চালায় বৃষ্টির শব্দ নেই, আমি যাবনা।
তিনি অবশেষে দেশেই রয়ে গেলেন, আর কখনোই বিদেশ যাবেননা বলে সিদ্ধান্ত নিলেন।

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন