বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ১৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

অজানা গন্তব্য

ত্যাগ মার্চ ২০১৬

ফাগুনের দোল

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

তুমি আমার

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

ভালোবাসা / ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারী ২০১৫)

মোট ভোট প্রেম ও আতঙ্ক

আলমগীর মাহমুদ
comment ৩  favorite ১  import_contacts ৯০৭
মিসেস রুশনারা সদ্য বিবাহিতা, স্বামী চাকুরে। স্বামী সকালেই চলে যায় কাজে, রুশনারা সারা দিন একা একা দিন কাটায়। টিভি দেখেই বেশীর ভাগ সময় পার করে। মাঝে মাঝে স্বামীর ফোন আসে, ফোনে আলাপ জমে। কিন্তু একাকিত্ব যেন আর কাটতে চায়না। সপ্তাহের দুটো দিন কাছে পায় স্বামীকে। সরকার যদি সপ্তাহে তিনদিন বন্ধ দিতো তাহলে ভালই হতো, ইচ্ছেমতো ঘুরতে পারতো রুশনারা স্বামীকে নিয়ে। হঠাৎ ফোন বেজে উঠে, মোবাইলটা দ্র“ত হাতে উঠিয়ে নেয় রুশনারা। কানে দিতেই ওপাশ থেকে ‘ঐ মিয়া তুমারে না কইলাম সক্কাল সক্কাল আইয়া পড়তে, আর তুমি অহনও বাড়িতে’ যাও মিয়া তুমার চাকরী নট”। রুশনারার কাছ থেকে কোন কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ওপাশ থেকে আরো জোড়ে বলে ওঠে ‘ওই বেটা কথ কছনা কে ? তোর জবান কি বন্ধ হইয়া গেছেনি’। রুশনারা আস্তে করে বলে আপনি বোধহয় রং নাম্বারে ফোন করেছেন, বলেই ফোনটি কেটে দেয় এবং জোড়ে হেসে উঠে।

রুশনারার চোখ পড়ে ঘরের বাইরে বড় খেজুর গাছের নীচে। একজন অজ্ঞাত লোক একটি ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে আছে। খুব শক্ত হাতে ধরে আছে ব্যাগটি, ব্যাগটি একটু অদ্ভুত ধরণের। লোকটির চাহনি অদ্ভুত, এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে বারবার। লোকটি এদিক-ওদিক তাকায়। সামনের দিকে এগিয়ে যায় আবার ফিরে আসে। এভাবেই কিছু¶ণ অতিবাহিত হওয়ার পর লোকটি তার হাতের ব্যাগটি গাছের পাশে রাখে। রুশনারা একটু অবাক হয়। এই ভর-দুপুরে লোকটি খেজুর গাছের নিচে কি করে? রুশনারার মনে একটু সন্দেহ জেগে উঠে। রুশনারা কি করবে, কিছু ভেবে পায়না। কাউকে ডাকবে কিনা বুঝতে পারছেনা। এবার লোকটি রুশনারার ঘরের দিকে এগিয়ে আসে, পাশের বাড়ীর জানালার কাছে কিছু¶ণ তাকিয়ে থেকে পুণরায় গাছের নিচে ফিরে যায়। লোকটিকে এবার একটু বিরক্ত হতে দেখা যায়, কিন্তু তার চাহনিকে রুশনারার কাছে কেমন সন্দেহের ভিত তৈরী করে।

পাশের রাস্তায় একটি কাল রংয়ের বোরকা পরা মেয়েকে আসে। মেয়েটি এসে খেজুর গাছের আড়ালে দাঁড়ায়। রুশনারা মেয়েটিকে ভাল করে ল¶ করে। এবার ছেলে-মেয়ে দুজন মুখোমুখি হয়। কি যেন বলে তারা। রুশনারা কিছু বোঝেনা। কিন্তু তার মনে এবার সন্দেহের তীরটি আরো তীব্র ভাবে গেঁথে যায়। সে কি করবে ভেবে পায়না। হাঠাৎ তাকিয়েই দেখে মেয়েটির হাতেও অনরূপ আরেকটি ব্যাগ। কোথা থেকে এল ব্যাগটি। মেয়েটি যখন আসে তখনতো ব্যাগটি তার হাতে ছিলনা। মেয়েটা দ্র“ত তার হাতের ব্যাগটি ছেলেটার হাত দিয়ে চলে যায় পাশের বাড়িতে। ছেলেটি ব্যাগ দুটি নিয়ে এদিক-ওদিক তাকিয়ে পাশের সরকারী হাসপাতালে দেয়াল টপকে ব্যাগ দুটি রেখে আবার ফিরে আসে এবং দ্র“ত পাশের বাড়িতে ঢুকে পড়ে যেখানে মেয়েটি ঢুকেছে।

রুশনারা কোন কিছু বুঝে উঠতে পারেনা। মোবাইলটা হাতে তুলে নেয় ফোন করে থানায়। মুহুর্তের মধ্যেই পুলিশ চলে আসে ১০-১২ জন। আশে-পাশের বাড়ি লোকজন বেরিয়ে আসে, সবার মধ্যে উৎকণ্ঠা। হঠাৎ এত পুলিশ কেন। সবাই সবার সাথে একটু-আধটু আলাপ করে। একজন অফিসার মত পুলিশ সবাইকে রেডি হতে বলতেই পুলিশ পাশের বাড়িটির চারদিকে অবস্থান নেয় এবং বাড়ির দিকে বন্দুক তাক করে থাকে। আশে-পাশের লোকজনকে দ্র“ত সরে যেতে বলে। কয়েকটি বাড়ির জানালা ফাঁক করে মহিলা, ছোট বাচ্চারা উঁকি দেয়। পুলিশ বন্দুক তাক করে আছে বাড়ির দিকে। রুশনারা জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকে। অফিসার বাড়ির দিকে চিৎকার করে বলতে থাকে, বাড়ির ভেতের যারা আছেন তারা বেরিয়ে আসুন, নাহলে আমরা গুলি করবো। কিন্তু কেউ বেরিয়ে আসেনা। এবার আরো জোড়ে জোড়ে বলতে ‘বাড়ির ভেতরে যারা আছেন, তারা বেরিয়ে আসুন’ আমরা আপনাদের কিছু বলবোনা, আপনারা বেরিয়ে আসুন, আপনাদের কোন ভয় নেই, আপনারা বেরিয়ে আসুন’। কিন্তু ভেতর থেকে কোনা সাড়া-শব্দ পাওয়া যায়না। অফিসারটি তার হাতে থাকা ওয়াকিটকিতে কি যেন বলে। অন্যান্য পুলিশরা প্রস্তুত।

অফিসার তার কোমরে থাকা পিস্তলটি বের করে এগিয়ে যায় ভেতরের দিকে। চারদিকে নিস্তব্ধতা। কিছু উৎসুক চোখ। সবাই চুপ। অফিসার বেরিয়ে আসে, কিন্তু একা নয় তিনজনকে নিয়ে। ঐ মেয়ে আর ছেলেটি এবং অন্য একটি মেয়ে। বাইরে বেরিয়ে আসতেই অন্য পুলিশগুলো ওদেরকে ঘিরে ফেলে।
- বল ব্যাগ কোথায় রেখেছিস আর ব্যাগের মধ্যে কি আছে
ছেলেটি নিরুত্তর
- বল ব্যাগ কোথায় রেখেছিস
- ঐ দেয়ালের পাশে।
অফিসারটি দেয়ালের কাছে ছেলেটিকে নিয়ে যায়, অন্য পুলিশরা মেয়ে দুটিকে ঘিরে রাখে।
ছেলেটি দেয়ালের ওপাশ থেকে ব্যাগ দুটি নিয়ে আসে। খেজুর গাছের নিচে রাখে, সকল পুলিশ একটু বেশী শতর্ক হয়ে উঠে। এবার অফিসার ছেলেটিকে জোড়ে ধমক দিয়ে বলে

- খোল, ব্যাগ খোল, দেখা ব্যাগের মধ্যে কি আছে
ছেলেটি একটি ব্যাগ উপর করে ভেতরের জিনিষ ফেলতে চাইলে অফিসারটি আবার ধমক দেয়।
- ঐ বেটা, আস্তে আস্তে ব্যাগ খোল, ব্যাগের ভেতওে কি ? সবাই সাবধান, সবাই সবধান, সবাই নিরাপদ দুরুত্তে থাকো।
- ‘এর ভেতরে শুধু কাগজ, কাগজ ছাড়া আর কিছুই নেই’
- কাগজ, কিসের কাগজ, আর এত কাগজ কেন
- স্যার এ শুধু কাগজ না, এগুলো সব প্রেম পত্র
- প্রেম পত্র
- হ্যা স্যার, প্রেম পত্র
প্রেম পত্র বলার সাথে সাথে সকল পুলিশ একটু স্বস্তি—র নি:শ্বাস ফেলে। আশে-পাশের বাড়ির জানালাগুলো খুলে যায়।
- এগুলো কি সত্যি সত্যিই প্রেম পত্র
- জ্বি স্যার, এগুলো সবই প্রেম পত্র, এইটা আমার ব্যাগ, দুটি ব্যাগে আমাদের দুজনের লেখা প্রেম পত্র। এ কথা বলে ছেলেটি দুটি ব্যাগ উপুর করে ধরা মাত্র দুটি ব্যাগ থেকে অসংখ্যা কাগজ বের হয়ে আসে। সাথে সাথে পুলিশের দল বন্দুকের নল গুটিয়ে উৎসুক হয়ে কাগজ গুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে। অফিসার একটা কাগজ উঠায় এবং জোড়ে জোড়ে পড়তে থাকে “আমি তোমাকে ভালবাসি, আমি তোমাকে ভালবাসি’ আর হাসতে থাকে।

রুশনারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। অফিসার এবার সবগুলো কাগজ নেড়ে-চেড়ে দেখতে থাকে। ক্রমেই মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। ছেলে আর মেয়েটি মাথা নিচু করে থাকে।
- আচ্ছা ভাল কথা, এগুলো প্রেম পত্র, তাহলে এগুলো ঐ দেয়ালের ওখানে ফেলে রেখেছো কেন, আর তোমরা ঐ বাড়িতে কি করছিলে
- স্যার, আমি এই মেয়েটি ভালবাসি, কিন্তু কিছুদিন যাবত আমাদের মধ্যে মন-মালিন্য চলছে। কেউ কারো সাথে দেখা করিনা, ও আমাকে কেমন যেন আগের মত ভালবাসে না। এ চিঠিগুলো আমাদের দীর্ঘ দিনের প্রেমের পত্র। আমরা দুজনে বেশী করে চিঠি লিখতাম। কিন্তু হঠাৎ কি হলো ও আমাকে আমার ভালবাসেনা। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের কাছে থাকা সব চিঠি আমরা ডোবায় ফেলে দেবো। তাই চিঠিগুলো ডোবায় ফেলেছি
- তাহলে ওই বাড়িতে কি করছিলে
- ওই বাড়িতে ওর বান্ধবি থাকে। ওর বান্ধবির মাধ্যমে আমাদের সম্পর্ক হয়েছিলো আজ ওর সামনেই আমাদের বিচ্ছেদ হচ্ছে।
ছেলেটার চোখে জল। মুখটা কেমন বিষন্ন। মেয়েটার মুখ বোরকায় ঢাকা বলে কিছু বোঝা যাচ্ছেনা।
- তোমাগো নাম গিনিজ বুকে উঠবো। আমার জীবনে এত প্রেম পত্র দেহি নাই। খুবই রোমান্টিক ভাষা। শোন আমার উচিৎ ছিল তোমাদের থানায় নিয়ে বেদম প্রহার করা, কারণ তোমরা জান চারিদিকে এখন বোমাতঙ্ক, সবাই আতঙ্কের মধ্যে আছে। আর তোমরা-- তোদের এমন শাস্তি— দেবো--
- কি শাস্তি— স্যার, এবার মেয়েটি মুখ খোলে
- কি শাস্তি—, এ এক কঠিন শাস্তি—, আজই তোমাদের বিয়ে...............।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন