বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ১৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১৬

অজানা গন্তব্য

ত্যাগ মার্চ ২০১৬

ফাগুনের দোল

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

তুমি আমার

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

ক্ষুধা (সেপ্টেম্বর ২০১১)

মোট ভোট ১৬ মেলা এবং গাড়ি

আলমগীর মাহমুদ
comment ২০  favorite ০  import_contacts ৪৯১
মেলা থেকে একটি খেলনা গাড়ি কিনে দেয়ার জন্য বাবাকে কয়েক দিন ধরেই বলছিল ছেলেটি। বাবা চেষ্টা করেও একটা গাড়ি কিনে দিতে পারেনি। গত মেলায় বায়না ধরেছিল, তখন বাবা বলেছিল এবারের মেলায় কিনে দেবে। ছেলেটি ঠিকই মনে রেখেছে, তাই মেলা শুরু হতেই বাবাকে বলে
ছেলে- বাবা এবার কিন্তু আমারে একটা গাড়ি কিন্না দিতে হইবো
বাবা-দিমুরে বাবা দিমু, মাত্র মেলা শুরু হইছে, কয়ডা দিন যাউক, তারপর কিন্না দিমু।
কিন্তু বাবা ছেলেটিকে গাড়ি কিনে দিতে পারেনা। দিবেই বা কিভাবে। যাদের দু'বেলা ঠিকমত খাওয়া জোটেনা তাদের পক্ষে একটি খেলনা গাড়ি কিনবে কিভাবে। ছেলেটি যখনই গাড়ির কথা বলে তখইন বাবা বলে ' আইজকা ঠিকই লইয়া আমু'। ছেলেটি দিনভর স্বপ্ন দেখে বাবা গাড়ি নিয়ে এসেছে, সেই গাড়ি নিয়ে পাড়ার বন্ধুদের সাথে খেলতে গিয়েছে। রাতে বাবা বাড়ি ফেরে, কিন্তু গাড়ি নিয়ে আসেনা। ছেলেটি দু:খ পায়, কিন্তু কিছু বলতে পারেনা। ছেলের দু:খ দেখে বাবার বুকটি ফেটে যায়। একটা খেলনা গাড়িইতো চেয়েছে ছেলেটি, তাও কিনে দেয়ার সাধ্য নেই। ছেলের কান্না দেখে বাবার মনটা যেন কেমন হয়ে যায়। কাউকে কিছু না বলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা মেলায় চলে আসে। বিভিন্ন দোকানে যায়, গাড়ি দাম জিজ্ঞেস করে। কিন্তু ফের দাম বলার আর সাহস থাকেনা। একটা দোকানে একটু বেশী ভিড়। লোকটি ঐ দোকানে গিয়ে গোপনে একটি গাড়ি নিয়ে চলতে আসতে চাইলে লোকজন চোর চোর বলে লোকটিকে ধরে ফেলে, এবং প্রচণ্ড রকম মারে। পুলিশ এসে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। থানার বড় দারোগা বাবু লোকটিকে জিজ্ঞেস করে তুমি কেন গাড়িটি চুরি করলে। লোকটি বলে 'আমার পোলাডা গত বছর একটা গাড়ি চাইছিল, অভাবের তাড়না দিতে পারিনাই, এইবারও গাড়ি চাইছে, তাও দিতে পারিনাই। দিমু কেমনে, যা আয় হয় তা দিয়া কোনমতে সংসার চলে। বাড়তি খরচ করমু কেমনে। ছেলের কান্দন সইহ্য না করতে পাইরা এই গাড়িটা চুরি করছি স্যার"। লোকটির কথা দারোগা বাবুর মনটি মোচর দিয়ে উঠে। মনে মনে বলতে থাকে, 'আমার ছেলের কোন খেলনার অভাব নেই, অথচ এই লোকটির একটি খেলনা কেনার পয়সা নেই।" দারোগা বাবু লোকটিকে কিছু না বলে ছেড়ে দেয় সাথে গাড়িটি দিয়ে দেয়। লোকটি মনের আনন্দে গাড়িটি নিয়ে বাড়ি যায়।
[ একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে ]
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন