বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ১৭টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৩২

বিচারক স্কোরঃ ২.৫২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

অজানা গন্তব্য

ত্যাগ মার্চ ২০১৬

ফাগুনের দোল

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

তুমি আমার

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

শীত / ঠাণ্ডা (ডিসেম্বর ২০১৫)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৩২ রুম হিটার ও একটি চট

আলমগীর মাহমুদ
comment ৭  favorite ০  import_contacts ৪৫৪
আজমল সাহেব বসে আছেন দোতলার বারান্দায়। একটু একটু শীত পড়তে শুরু করেছে। শীতের আবহটা লাগছে আজমল সাহেবের গায়ে। এই সময়টা আজমল সাহেবের খুবই ভাল লাগে। না শীত না গরম। পড়ন্ত বিকেলে বরান্দায় বসে থাকাটা আজমল সাহেবের একটা অভ্যেসে পরিণত হয়েছে। বারান্দার পাশের লাগোয়া গাছটার পাতাগুলো শীতের এই আবহে একটু নড়ছে। দৃশ্যটা খুবই ভাল লাগছে আজমল সাহেবের। এই সময়ে একটু চা হলে আরো জমতো বেশ। ভাবতে ভাবতে চোখ পড়লো সামনের রাস্তায়। একটা ভিক্ষুক বাইরের গেটে এসে চিৎকার করছে। স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে তা। গেটের দারোয়ান কাছে নেই বোধহয়। নাহলে ভিক্ষুকটা এতটা জোড়ে চিৎকার করতে পারতোনা। কারণ দারোয়ানের চিৎকারে আগেই পালাতো ভিক্ষুকটা। ভিক্ষুকটা কথাগুলো বোঝার চেষ্টা করলো আজমল সাহেব
- ও মা একটু হোনেনগো মা, একটু হোনেন
ভিক্ষুক কারো কোন সাড়া না পেয়ে আবার গেটে ধাক্কা দিয়ে চিৎকার করছে
- ও মা, হুনছেনগো মা, শীত আইতাছেগো মা, একটা পুরানা শীতের কাপড় দিবেনগো মা। এইবার মনেলয় শীত বেশী পড়বোগো মা, দেননাগো মা একটা পুরানা শীতের কাপড়। দোয়া দিমুগো মা। ওমা.....মাগো......
ভিক্ষুকটা শুধু মা মা বলেই চিৎকার করছে। কিন্তু বাবা বাবা বলে কোন ডাকাডাকি করছেনা। ব্যাপারটা আজমল সাহেবের কাছে একটু অদ্ভুত লাগলো। আবার একটু হাসিও পেলো। আজমল সাহেব হাসিটা চাপলেন। ভিক্ষুকের আবদারটা অনেক মানবিক। শীতের প্রস্তুতির জন্য তার এই চাওয়া। আজমল সাহেবের মনে হলো পুরনো শালটা ভিক্ষুকটাকে দিয়ে আসি। কিন্তু সেটা সম্ভব হবেনা। এই সব ভাবনাগুলো অনবরত ঘুরে বেড়াতো লাগলো আজমল সাহেবের মনে। এরই মধ্যে কোথা থেকে দারোয়ান চলে এলো। সাথে সাথে আজমল সাহেবের স্ত্রীও চায়ের কাপ হাতে আজমল সাহেবের সামনে এসে হাজির। আর ঐ দিকে দারোয়ান বেটা ভিক্ষুকটাকে তাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু ভিক্ষুকটা দারোয়ানের কোন কথা শুনছেনা। শুধু বলেই চলেছে ‘একটা পুরানো শীতের কাপড় দেননাগো মা’। অবশেষে দারায়োনেই জয় হলো। দারায়োনের চিৎকারে ভিক্ষুকের বিদায় ঘটলো।
আজমল সাহেবের স্ত্রী টেবিলে চা রেখে বসলো পাশের চেয়ারে। কি যেন বলবে বলবে এমন সময় আজমল সাহেব বলে উঠলো
- কি কিছু বলবে নাকি
- না কি আর বলবো
- দেখে মনে হচ্ছে কিছু বলবে বলে, মনেই ফেলো
- কি আর বলবো, তুমি যদি কিছু মনে না করো
- তোমার কথায় কখনো কিছু মনে করেছি কি ? কি বলবে বলো
- বলছিলাম যে, শীততো চলে এলো
- হ্যা, বাইরের এই শীতল হাওয়া তাই মনে করিয়ে দিচ্ছে
- মনে করিয়ে দিচ্ছে কি, শীত এসেই পড়েছে
- না এখনো অনেক বাকি, মাত্র নভেম্বর মাস শুরু, শীতটা মনে হয় শেষের দিকেই পড়তে শুরু করবে
- সে যখন ইচ্ছে তখন পড়–ক, শীতকেতো আসতেই হবে
- তা আর যা বলেছো, তা তুমি কি যেন বলবে বলছিলে
- বলছিলাম যে, এবার মনে হয় শীত বেশী পড়বে
- তুমি কিভাবে বুঝলে যে, শীত বেশী পড়বে
- না এখনোই যে রকম ঠান্ডা লাগতে শুরু করেছে, তাছাড়া বাইরে ভিক্ষুকটা চিৎকার করে বলছিলো ‘এইবার মনেলয় শীত বেশীই পড়বো’।
- শুধু এইটুকু শুনলে, বাকি কথাটুকু শোননি, বোধহয়
- বাকি কথা শোনার প্রয়োজন মনে করিনি
- তা যা বলেছো, তা তোমার কথাটা কিন্তু শোনা হয়নি ?
- আসলে কথাটা হচ্ছে, এবার শীতের আগেই একটু রুম হিটার কিনে আনবে
- এবার গরমের শুরুতেই রুমের মধ্যে এসি লাগালে, আবার শীতের শুরুতেই রুম হিটার, কোন দরকার আছে কি ?
- আরে তুমিতো জানো আমি বেশী শীত সহ্য করতে পারিনা।
- কেন লেপ আছে, কম্বল আছে, চারদিকে দেয়াল আছে, তারপরও রুম হিটার লাগবে ?
- অত কথা আমি শুনতে রাজি নই, আমি তোমাকে স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি শীত শুরু হওয়ার আগেই আমার রুম হিটার চাই, নাহলে কিন্তু কুরুক্ষেত্র বাঁধিয়ে দেবো।

আজমল সাহেবের স্ত্রী কথাগুলো বলতে বলতে ভেতরে চলে গেলেন। আজমল সাহের আবার ভাবনায় ডুবলেন। কিছুক্ষণ আগে একজন ভিক্ষুক একটা পুরনো শীতের কাপড় চাইলো, তাকে তাড়িয়ে দেয়া হলো। আর আমাদের শীত তাড়ানোর জন্য ঘরের মধ্যে রুম হিটার লাগাতে হবে। ভাবতে অবাক লাগছে আজমল সাহেবের।

পরের দিন সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে আজমল সাহেব হাটতে বেরুলেন। হাটতে হাটতে কিছুদুর যেতেই তার চোখে পড়লো সেই ভিক্ষুকটাকে। ভিক্ষুকটা জুবুথুবু হয়ে দেয়ালের সাথে গা ঘেসে শুয়ে আছে। শীতের আমেজটা পাওয়া যাচ্ছে। আজমল সাহেব ভিক্ষুকটাকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতেই ভিক্ষুকটা কথা বলে উঠলো
- স্যার এইবার মনেলয় শীত খুব বেশী পড়বে। স্যার, বাসায় শীতের পুরানা কাপড় আছেনা স্যার, একটা পুরানা চাদ্দর নাইলে একটা পুরনা সুটার দিয়েন স্যার, দোয়া করমু স্যার, এই বয়সে শীতে খুবই কষ্ট হয় স্যার
- তা তুমি কিভাবে বুঝলে এবার শীত বেশী পড়বে
- বয়সতো আর কম হইলোনা স্যার, বাতাসের আঁচ দেইহাই বুঝতাছি, এইবার শীত বেশী পড়বো, ও স্যার দিবেন একটা পুরানা কাপড়। শীতের সময়টা একটু আরাম পাইতাম স্যার।
- আচ্ছা ঠিক আছে, বাসায় গিয়ে দেখবো কোন কিছু পাওয়া যায় কিনা ?
সকাল বেলা হাটা শেষ করে আজমল সাহেব বাসায় চলে এলেন। মনটা ভাল-মন্দ দুটোই। ভিক্ষুকটাকে একটা শীতের কাপড় দিতে পারলে তারও ভাল লাগবে। চা খেতে খেতে স্ত্রীকে বললেন
- শোন , তোমাকে একটা কথা বলি
- কি বলবে, রুম হিটার কবে কিনবে তাই
- না তা নয়
- তাহলে আবার কি, শোন তোমাকে আমি আবারো বলছি, যদি শীতের আগেই রুম হিটার না কিনে আনো তাহলে কিন্তু খুবই খারাপ হয়ে যাবে
- বলছিলাম যে, বাসায় কোন শীতের কাপড় আছে পুরনো
- পুরনো কাপড় দিয়ে তুমি কি করবে ?
- না মানে বলছিলাম যে, থাকলে ঐ ভিক্ষুকটাকে দিতাম। লোকটা খুব কষ্ট পাচ্ছে। শীতের সময় হয়তো আরো বেশী কষ্ট পাবে। তাই ভাবছিলাম যে, পুরনো কোন কাপড় থাকলে লোকটাকে একটা গরম কাপড় দেওয়া যেতো।
- আরে তুমি কি পাগল হয়ে গেছো, ঐ ভিক্ষুকটাকে তুমি গরম কাপড় দেবে, আরো চৌদ্দজন ভিক্ষুক এসে হাজির হবে গেটে। কতজনকে দেবে শীতে কাপড় ?
- যতজনকে পারি, দিতে পারলে ভাল লাগবে, ওদেরও উপকার হবে।
- তুমি চুপ করে বসো, বাসায় কোন শীতের পুরনো কাপড় নেই। আর আমাকে না বলে তুমি ওসব করতে যেওনা। তোমাকে যেটা বলেছি তুমি সেটা করো, রুম হিটার নিয়ে আসো। শীতে এলো বলে। শোন দু দিনের মধ্যে আমি বাসায় রুম হিটার দেখতে চাই।
কথা বলতে বলতে আজমল সাহেবের স্ত্রী ভেতরে চলে গেলেন। আজমল সহেবের মনটা খারাপ হয়ে গেলো। তিনি ভাবতে লাগলেন রুম হিটার আজকেই আনতে হবে। নাহলে বাসায় কুরুক্ষেত্র বাঁধিয়ে দেবে তার স্ত্রী। তাই আজমল সাহেব সিদ্ধান্ত নিলেন দু দিনের মধ্যেই বাসায় রুম হিটার নিয়ে আসতে হবে।
পরের দিন বিকেল বেলা আজমল সাহেব বের হলেন রুম হিটার কেনার জন্য। বেরোতেই একটা অদ্ভুত ব্যাপার তিনি লক্ষ করলেন। তার স্ত্রী পুরনো অনেকগুলো কাপড় হাড়ি-পাতিলওয়ালার কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। ব্যাপারটা দেখেই আজমল সাহেবের মাথা গরম হয়ে উঠলো। তিনি চিৎকার দিয়ে বলে উঠলেন
- আরে কি ব্যাপার তুমি পুরনো কাপড়গুলো দিয়ে দিচ্ছো কেন ?
- এমনি এমনি দিয়ে দিচ্ছিনা, তার বদলে নতুন হাড়ি-পাতিল রাখছি
- আচ্ছা, তোমার কি হাড়ি-পাতিল কম আছে যে পুরনো কাপড় দিয়ে হাড়ি-পাতিল রাখতে হবে। তাছাড়া আমাকে বললেইতো আমি বাজার থেকে দরকারি সব জিনিষ কিনে আনতাম।
- আমার হাড়ি-পাতিল কম নেই, কিন্তু পুরনো কাপড় দিয়ে হাড়ি-পাতিল রাখার মজাটাই আলাদা। তাছাড়া পুরনো কাপড়ে আলমিরা ভরে গেছে, কমানোর জন্যই এই ব্যবস্থা। ওসব তুমি বঝবেনা।
- কিন্তু তুমি যে বললে ঘরে কোন পুরনো কাপড় নেই
- হ্যাঁ বলেছিলাম যাতে তুমি ওদিকে হাত দিতে না পারো।
- সবগুলো কাপড় না দিয়ে কিছু কাপড় গরীবদের দিয়ে দিলেইতো পারতে। আচ্ছা ঠিক্ আছে এখান থেকে এই পুরনো স্যুয়েটারটা ভিক্ষুকটাকে দিয়ে দেই।
- খবরদার এসব ব্যাপার নিয়ে তুমি কোন কথা বলতে আসবেনা। আরে শোন, হাড়ি-পাতিল রাখবো বলেইতো কাপড়গুলো জমিয়ে রেখেছিলাম
- কাজটা তুমি ঠিক করলেনা
- ঠিক-বেঠিক নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবেনা, তুমি যেখানে যাচ্ছিলে সেখানে যাও, আমাকে আমার কাজ করতে দাও।
আজমল সাহেব মন খারাপ করে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলেন। তার মন এতটাই খারাপ হলো যে, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন ঘরের জন্য কোন রুম হিটার নয়। যে টাকা দিয়ে তিনি রুম হিটার কিনবেন সে টাকাটা দিয়ে কয়েকটা গরম কাপড় কিনে গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেবেন।
এভাবে পেড়িয়ে গেলো কয়েক দিন। আজমল সাহেবের স্ত্রীও কয়েকদিন যাবত রুম হিটারের জন্য চাপাচাপি করছেনা। আজমল সাহেব একটু অবাক হলেন। ভাবলেন স্ত্রী হয়তো ভুলেই গেছে। যাইহোক ভুলে গেলেই ভালো। রুম হিটার কিনতে হবেনা।
একদিন ভোর বেলা ঠান্ডা বাতাস বইছিলো বেশ ভালো ভাবেই। আকাশে সূর্যের দেখা নেই। আকাশ দেখে মনে হচ্ছে সারাদিন আকাশের গুমোট মুখ দেখতে হবে। আজমল সাহেবের স্ত্রী নাস্তার টেবিলে বসে বাজখাই গলায় চেচিয়ে উঠলো
- তোমাকে সেই কবে বলেছিলাম রুম হিটার কিনে আনতে, তুমি বেমালুম ভুলে বসে আছো। আর ইদানিং একটা বিষয় তোমার মধ্য লক্ষ করছি যে, তুমি আমার কথার কোন মূল্যই দিচ্ছনা। সারাদিন কি যেন ভাবো। কি ব্যাপার সারাদিন তুমি ভাবো, কাকে নিয়ে ভাবো
- আরে কি যে বলোনা তুমি, কাকে নিয়ে ভাববো আবার
- না তোমাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে তুমি কাকে নিয়ে যেন ভাবছো। কি ব্যাাপর মনের মধ্যে আবার কোন মেয়ে মানুষের জন্য বাসা বানাচ্ছো নাকি
- কি আবোল-তাবোল ভাবছো
- তাহলে একটা রুম হিটারের কথা তোমাকে আর কতবার বলতে হবে ?
- শোন, মন দিয়ে শোন, তুমি কি ভাবো আর না ভাবো সেটা আমার জানার কোন দরকার নেই। তোমাকে আমি স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি আজকের মধ্যেই রুম হিটার কিনে নিয়ে আসবে
- আমি রুম হিটার কিনতে পারবোনা
- কেন তুমি রুম হিটার কিনতে পারবেনা কেন ? স্ত্রী চিৎকার করে বলতে লাগলো
- কারণ, তুমি পুরনো কাপড়গুলো গরীবদের দাওনি বলে
- তোমার এত বড় সাহস, তুমি আমার কথা অমান্য করছো, একটা রুম হিটারইতো চেয়েছি, ডায়মন্ডের হারতো চাইনি। সেটা দিতে পারছোনা, কেমন স্বামী তুমি ? আসলে তুমি যে আমাকে ভালবাসোনা এটাই তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

আজমল সাহেবের স্ত্রী কান্না শুরু করে দিলো। আজমল সাহেব হতাশ হয়ে গেলেন। ভেবেছিলেন হয়তো তার স্ত্রী দু-একটা পুরনো গরম কাপড় ভিক্ষুটাকে দেবে। কিন্তু ফল হলো উল্টো। আজমল সাহেবও স্ত্রীর কান্নার কাছে হার মানলেন, বললেন-

- আচ্ছা ঠিক আছে, আজকেই তোমার জন্য তোমার জন্য রুম হিটার কিনে আনবো
- তোমাকে রুম হিটার কিনতে হবেনা। আমার জন্য তোমাকে কোন দরদ দেখাতে হবেনা। আমার রুম হিটার আমিই কিনতে পারবে। শখ করে একটা রুম হিটার চেয়েছিলাম, তার জন্য আমাকে কত কথা শুনিয়ে দিলে। শোন, তুমি আমার সাথে এক্ষুনি মার্কেটে যাবে, তোমাকে কোন টাকা দিতে হবেনা, আমার জমানো টাকা দিয়েই আমি রুম হিটার কিনবো। আমি রুম হিটার কিনে তোমাকে দেখিয়ে দিবো। চলো আমার সাথে-
কোন উপায় না দেখে আজমল সাহেব চললেন তার স্ত্রী সাথে। উদ্দেশ্য রুম হিটার কেনা। দুজনে যখন বেরোলেন তখন আজমল সাহেবের মনে হলো শীত পড়েছে বেশ। ঠান্ডাও লাগছে। আজমল সাহেবের মনটা ভিষণ খারাপ আর আজমল সাহেবের স্ত্রীর মনটা ভিষণ ভালো।
অবশেষে শহরের বেশ কয়েকটা দোকান ঘুরে একটা রুম হিটার কেনা হলো। দুজনেই রুম হিটার কিনে ঘরে ফিরছেন। আজমল সাহেবের স্ত্রীর মনের মধ্যে আনন্দের হাওয়া বইছে। বাসার কাছে আসতেই আজমল সাহেবের একটা অদ্ভুত বিষয় চোখে পড়লো। সেই ভিক্ষুকটা দেয়াল ঘেসে শুয়ে আছে। তার গায়ে একটা চট জড়ানো। আজমল সাহেবের মনটা বিষন্ন হয়ে উঠলো। চোখের কোনে জল ছলছল করে উঠলো। কেউ হয়তো ভিক্ষুকটাকে একটা চট দিয়েছে। ভিক্ষুকটা তা দিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। ঠান্ডা বাতাস বইছে বেশ। আকাশের গুমোট ভাবটা কেটে গেলেও আজমল সহেবের মনের মধ্যে একটা গুমোট কান্না জমাট বেঁধে রইলো।


আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন