বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩০ ডিসেম্বর ১৯৭৪
গল্প/কবিতা: ৩টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৯২

মা (মে ২০১১)

মোট ভোট ৯২ দাহন কালের ডায়েরী থেকে

আবু সাঈদ মোল্লা
comment ৭১  favorite ১০  import_contacts ৭০৩
খোলা জানালার ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির ঝাপটা এসে রাতুলের উদোম শরীরে পড়ে । ঘুম ভেঙ্গে যায় । বিরক্তির সাথে চোখ কচলাতে কচলাতে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকায় । ঘড়ির কাটা আজকাল বড্ড বেসামাল । প্রায় দুপুর । অবশ্য আজ তেমন তাড়াও নেই । ছুটির দিন । দিনের কর্মসূচীতে বিকেলে লাইব্রেরীতে রেফারেন্স বই ঘাটাঘাটি, সন্ধ্যায় শিল্পকলায় আড্ডা আর পাড়ার মোড়ে এসে হালকা স্ন্যাক্স আর গাভীর দুধের চা ফুকোনো । আবার ঘরে ফিরে সেই সনাতনী নিয়মে লিখতে বসা । কিন্তু রাতুল ইদানিং লিখতে পারে না । দুই ঠোটে ঝড় তোলে কলমের উপর । সাদা কাগজের উপর কেবলই আকিঁবুকি । এলোমেলো ভাবনা গুলো রাতুলের কলমের ডগায় এসে আর নির্মান করেনা কোনও শব্দমালার অবিনাশী প্রাসাদ । শব্দের বিনির্মানে সে পড়ে থাকে নিথর, নিস্তব্দ । লেখা হয়না কিছুই । রাতুল অনুভব করে তার ডান চোখের পাতাটা কেঁপে উঠে প্রায়ই । কেঁপে উঠে দুই বাহুর মাংশপিন্ড । সে ভয়ে কুকড়ে যায় । টের পায় একটা অশনিসংকেত । এই বুঝি বড় ধরনের কোন রোগ এসে তাকে গিলে ফেলে । বাসা থেকে বের হবার সময় রাতুল রোজ রোজ গেটে এসে ধাক্কা খায় । সেখানেই হাটু গেড়ে বসে পড়ে । হাটতে গেলেও হোচট খায় । রাতুল ঠায় দাড়িয়ে থাকে । পা চলেনা । পিচঢালা পথেও বিশাল গর্ত দেখে । সে এটাও জানে যে এ সবই এক ধরনের ফোবিয়া । কিন্তু অবিশ্বাস করতেও পারেনা কিছুতেই । বুকের মধ্যে ধুকপুক করে । ক্রমাগত বাড়তে থাকে সেই ধুকপুকুনি । অফিসে গিয়েও কখনো কখনো একান্তে বসে গোপনে কাঁদে । কেউ দেখে ফেললে চোখে পোকা পড়ার নাম করে চোখের জল আড়াল করে । একটা প্রচ্ছন্ন অভিমান লেপ্টে থাকে তার দেহ মনে । পকেটের মোবাইল ফোনটিতে একটানা রিং বেজে উঠে । ছোট বোন রিতুর ফোন--'ভাইয়া, মা তোর জন্য খুব কষ্ট পাচ্ছে রে ! মাকে এমন কষ্ট দিলে তোর কোন দিন ভালো হবেনা ।' কথাগুলো বিষের মতো রাতুলের বুকে বাজে । ঘরে ফিরে রাতুল ডায়েরীর পাতা উল্টাতে উল্টাতে ২৯ জানুয়ারী-২০১১ তারিখটিতে গোল দাগ দেয় । তার পর লিখতে থাকে-- একটা সামান্য অপরাধকে কেন্দ্র করেই মা সেদিন বলেছিলেন -"বেরিয়ে যা, মোল্লা বাড়ীর ত্রিসীমানাতেও পা রাখবিনা কখনও ।" লাগেজ গোছানোর সময় দেইনি নিজেকে । ঝড়ের বেগে বেড়িয়ে এসেছি ৬২ দিন আগের কোন এক ভর দুপুরে । পেছন ফিরে তাকাইনি । তাকালে হয়ত দেখতে পেতাম, মা তাঁর আচঁলে চোখের পানি মুছে বলছেন -" যাস্নে বাবা, আমি তোর পছন্দের খাবার সরষে ইলিশ রেধেছি খাবি আয় ।" মাকে ফোন করিনা ঠিক সেদিন থেকেই । ইচ্ছে করলেই সেল ফোনের বোতাম চেপে সাড়ে ৩'শ কিলোমিটারের দুরত্ব ভেঙ্গে মূহুর্তেই মাকে কাছে পেতে পারি ।
কিন্তু ফোন করিনা । মা ফোন করলে রিসিভ করি । কথা বলিনা । কেবল কান পেতে শুনি তাঁর অমৃত বাণী--" তুই বাড়ী ফিরে আয় বাবা, আমি তোকে ক্ষমা করেছি । মন থেকে চাইনি তুই এ বাড়ী ছেড়ে চলে যাস।" ইথারে ভেসে আসা মায়ের কথা গুলো মন দিয়ে শুনি । তারপর ফোন কেটে দেই । নিজেকে ভিষন অপরাধী মনে হয় । ইচ্ছে করে নিজের গালে নিজেই কষে একটা চড় মারি । অনুশোচনায় ভূগি । হতাশা আর ক্লান্তির ঘামে ভিজে যাই । ইচ্ছে করে মূহুর্তেই মায়ের কাছে ছুটে গিয়ে তাঁর পা জড়িয়ে ধরে ক্ষমা ভিক্ষা চাই -- মা আমায় ক্ষমা করো । কিন্তু পারিনা । "বেরিয়ে যা, মোল্লা বাড়ীর ত্রিসীমানাতেও পা রাখবিনা কখনও ।" এই আটটি শব্দের একটি বাক্য আমার বিবেককে হত্যা করে । একটা প্রচ্ছন্ন অভিমান এসে আমার পথ আগলে ধরে । আমার অন্যায়ের চিতার আগুনে ঘি ঢেলে দয় । আমি পড়ে থাকি ইট পাথরে গড়া এই যান্ত্রিক নগরীতে । নিয়ন আলোর ঝলসানিতে এখানে নিজেকে বড় অচেনা মনে হয় । মাল্টি কালার ছাইপাশ গিলেও তেষ্টা মেটেনা । আমার ভূলের ভান্ডারে জমা হয় আরও একটি ভূল ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • আবু সাঈদ মোল্লা
    আবু সাঈদ মোল্লা অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে গল্পটি পড়বার জন্য । আপনার মায়ের সাথে অভিমান থাকলে এখনই বাড়ী ফিরে যান তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে । ভালো থাকবেন ।
    প্রত্যুত্তর . ২৭ মে, ২০১১
  • সুমননাহার  (সুমি )
    সুমননাহার (সুমি ) আপনার গল্প টি ছুটো হলেও আমার ভিশন ভালো লেগেছে. আরো ভালো করুন এই কামনা করি.
    প্রত্যুত্তর . ৩০ মে, ২০১১
  • ইশরাত জাহান মুন্নী
    ইশরাত জাহান মুন্নী আমি পড়ে থাকি ইট পাথরে গড়া এই যান্ত্রিক নগরীতে । নিয়ন আলোর ঝলসানিতে এখানে নিজেকে বড় অচেনা মনে হয় । মাল্টি কালার ছাইপাশ গিলেও তেষ্টা মেটেনা । আমার ভূলের ভান্ডারে জমা হয় আরও একটি ভূল । - এটা কবিতাও হতে পারত. অনেক ভালো হযেছে. তাতে লাভ কী?...... এটাতেত আ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ৩১ মে, ২০১১