বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২২ জানুয়ারী ১৯৮৭
গল্প/কবিতা: ১৫টি

সমন্বিত স্কোর

১.৬

বিচারক স্কোরঃ ০ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬ / ৩.০

"হে অধরা"

কি যেন একটা জানুয়ারী ২০১৭

কৈশোরের একখন্ড স্মৃতি

কৈশোর মার্চ ২০১৪

চাইনা আজব গণতন্ত্র!

ক্ষোভ জানুয়ারী ২০১৪

দেশপ্রেম (ডিসেম্বর ২০১১)

মোট ভোট ৫৬ প্রাপ্ত পয়েন্ট ১.৬ বাংলামায়ের আত্মকাহিনী

আশা
comment ৫০  favorite ৩  import_contacts ৪১৪
দেশমাতৃকারও একটা জীবন আছে। তোমাদের কাছে এ কথা নতুন শোনাতে পারে, কিন্তু আমার কাছে নতুন কিছু নয়, কারণ আমি বহুদর্শী। কত যুগ যুগ ধরে যে মানবকুলের শত অত্যাচার-লাঞ্ছনা আর ঐশ্বরিক দৈব প্রভঞ্জনার আঘাত হজম করে আদ্যন্ত টিকে আছি সে কথা তোমাদের কি বলবো। তোমরা তো এক যাও আর এক আসো, কেউ আমায় ভালোবাসো কেউ ভুলে থাকো। আমি কতকাল আগে জন্ম নিয়েছি- সেকাল থেকে একাল অবধি শুধু নির্বাক তাকিয়েই আছি। আমার চোখ আছে দেখতে পারি। কান আছে শুনতে পারি। অনুভুতি আছে, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা অনুভব করতে পারি। বিবেক আছে, ভালো-মন্দ বিচার বিশ্লেষণ করতে পারি। শুধু মুখ নেই কিছু বলার, কারো কাছে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করার। তোমাদের যার যা খুশি আমার সাথে করে যেতে পারো। কোনো অভিযোগ নেই আমার। থাকবেই বা কেমন করে? আমি যে একজন মা। তোমরা অনেকেই আছো আমায় মা বলে ডাকো। এ ডাক শুনতে আমার খুব ভালো লাগে। সন্তানহারা হলেও এ ডাক শুনে আমার মাতৃত্ব সদা জাগ্রত থাকে। হয়তো বা এ কারণেই তোমাদের দেয়া সকল জ্বালাতন সহ্য করাটা আমার গা সওয়া হয়ে গেছে। তাছাড়া তোমাদের নিয়ে যে আমার অনন্ত আশা। যদি তোমরা মা ডাকতে ডাকতে সত্যিকার অর্থে কোনোদিন আমার সেই সন্তানরূপে চোখের সামনে এসে দাঁড়াও, সেই আশা।

তোমরা কি জানো? যারা আমায় মায়ের মতো ভাবো, তাঁদের জন্যে আমার ব্যকুল হিয়াটা সর্বদা কাঁদে। তোমরা কি শুনতে পাও সেই কান্না? ওরা ঠিকই শোনে। ঐ ওদের কথা বলছি। আমার হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের কথা। আমিও রোজ শুনি এ আমিসত্তার মাঝে ওরা যে সকরুণ সুরে কাঁদে। ওদের কান্নার কথাগুলি আমি বুঝি। আমি ওদের অনেক খুঁজি। রাত্তিরে ঘোর তিমিরেও মাঝে মাঝে দ্যুলোকবাসী সেতারার ফাঁকে ওদের আবিস্কারের চেষ্টা করি। কিন্তু পাই না। অনেক খুঁজে দিশাহারা হলে ওরা অলক্ষ্যে থেকেই আমায় ইশারার মাধ্যমে তোমাদের দেখায়। তখন অনুভব করতে পারি ওরা যে আমার ধমনিতে চিরকালের জন্যে মিশে গেছে।

ভাবতে খুব ভালো লাগে। ওরা কেউ আমার মুখের কথা ঠিক রাখতে আবার কেউ আমার নিশানা ধরে রাখতে বুকের তাজা রক্ত ঢেলেছিল রাজপথে। সেই রক্তের গন্ধ আজো নিঃশেষ হয়ে যায়নি। অথচ নিজেদের কৃতিত্ব লুকিয়ে রেখে ওরা আজ তোমাদের কথা বলে। ওরা আমায় মিথ্যে বুঝাতে চায়। জানাতে চায় তোমরাও আমায় ভালোবাসো। কিন্তু আমি তা মেনে নিতে পারি না। আমি তো বুঝি। তোমরা মুখে বলো ভালোবাসো, বাস্তবে ভালোবাসার তেমন কাছাকাছি আসতে পারো না। তাই ওদেরকে বড় স্বার্থপর মনে হয়। হ্যা স্বার্থপরই তো। যারা নিজের কথা না ভেবে পরের কথা ভাবে, তাদেরকে তো স্বার্থপরই বলতে হয়। আজ বড়ই অনুশোচনা হয় আমার। ওদের যুগে ওরা জানতো- যে পরের চেয়ে নিজ স্বার্থকে বড় করে দেখে, সেই স্বার্থপর। এ কথা তোমাদের যুগের কারো কারো মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে তাল মিলিয়েই বলছি। তোমরা অবাক হইও না। নীরলে ভেবে হিসেব মেলানোর চেষ্টা করো। আমার ঐ অকুতোভয় বীর সন্তানেরা কী কী রেখে গেছে তোমাদের কল্যাণে? আর তোমরাইবা তার মূল্য কতটুকু বুঝতে পেরেছো?

তোমাদের তো অবশ্যই মনে আছে আমার গৌরবময় ইতিহাস, আমার সন্তানদের আত্মত্যাগের কথা। তোমরা সকলেই জানো, আমার বুকে সুখের তরী ভাসানোর আশায় আর স্বাধীন জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে তোমাদের চলার পথ সুগম করার নেশায় মত্ত হয়ে তোমাদের ভায়েরা প্রাণ দিয়েছিল। ভয়ঙ্কর থাবার মুখেও পিছপা হয়নি ওরা। ওদের কথা যে কখনোই ভুলবার নয়। আর তোমরা? পেরেছো আমার ঐ সন্তানদের আত্মাকে শান্তি দিতে? তাদের আত্মবলিদানের উদ্দেশ্য সফল করতে? পারোনি। পারোনি বলেই আজ আমার বুকে ক্ষণে ক্ষণে বেদনার বীণ বেজে ওঠে। পারোনি বলেই আজ আমার অসহায় সন্তানেরা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটায়। যদি পারতে তাহলে আমার কপালে অন্যায়-অবিচার, হত্যা-লুণ্ঠনের মতো কলঙ্কের চিহ্ন থাকতো না। বিশ্বদরবারে দুর্ণীতিতে আমি মাকে শীর্ষস্থানে বসতে হতো না। এই কি তোমাদের স্বাধীনতা? এই কী মায়ের প্রতি তোমাদের শ্রদ্ধাবোধ? এই অপমান মেনে নিতে আমার অনেক কষ্ট হয়।

আমি তোমাদের অনেক চিন্তায় ফেলে দিয়েছি, তাই না? কি যা-তা বলে তোমাদের মনে হতাশার ঝড় সৃষ্টি করছি। হয়তো তোমরা ভাবছো তোমাদের প্রতি আমার কোনো ভালোবাসা নেই, বা তোমাদের মুখে বলা ভালোবাসাটুকু আমি গ্রহণ করছি না। এটা ভাবলে ভুল। তোমরা আর ভুলের মধ্যে ডুবে থেকো না। আমি যে তোমাদের মুখ থেকে বেরুনো ঐ মা ডাক শুনে সদা পুলকিত হই। এটাই তো এখন তোমাদের ভালোবাসার জন্য আমাকে প্রেরণা দেয়। আমি জানি, তোমাদের যদি আমি অনন্তকাল ভালোবেসে যেতে পারি, তবে কোনো একদিন তোমরাও আমায় ভালোবাসবে ঠিক আমার ঐ সন্তানদের মতো করে। সেই ভালোবাসার সুর তোমাদের মুখ থেকে নয়, মর্মতল থেকেই সেদিন বেজে উঠবে। আমি অপেক্ষায় আছি সেদিনের, যেদিন তোমাদের ভালোবাসা আমার বুকের সকল দীর্ঘঃশ্বাস দুর করে দিবে। সেদিন আমি জানবো আমার সন্তানেরা ধরিত্রীর শ্রেষ্ঠ সন্তান আর আমিই ধরণীপরে সবচেয়ে সুখী মা।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন