বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৫ ডিসেম্বর ১৯৯১
গল্প/কবিতা: ১৪টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৩৯

মুক্তির শেষ নিশ্বাস

মুক্তিযোদ্ধা ডিসেম্বর ২০১২

স্মৃতি অন্বেষিত বেদনা

গ্রাম-বাংলা নভেম্বর ২০১১

যাই বলে অবেলায়

বন্ধু জুলাই ২০১১

বাবা (জুন ২০১২)

মোট ভোট ৩৯ বাবা এল, তবে...

মামুন আবদুল্লাহ
comment ১৩  favorite ০  import_contacts ৪০৩
কনকনে শীতের ভোররাতে গায়ে যদি কাঁথা না থাকে হঠাৎ যেমন চমকে উঠি, তেমনি চমকে উঠি মাঝে মাঝে বাবা কাছে না থাকায়। শীতের শেষে বসন্ত আসে, কিন্তু বাবা আসে না। আসে না সে আর তার ভালবাসার ডালি নিয়ে।
তবু মনে মনে বলি, বাবা, তুমি আসবে একদিন, আমার সামনে এসে আমায় বুকে জড়িয়ে ধরে কত আদর তুমি করবে। চুমোয় চুমোয় ভরে দেবে গাল দুটো। তোমার সেই দিনের অপেক্ষায় আমি এখনো অধীর হয়ে দিন গুনি। কিন্তু তুমি তো আস না।
মার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, মা, বাবা আসে না কেন?
-তোমার বাবা অনেক দূরে থাকে। আসবে কেমনে?
-বাবা দূরে থাকে কেন?
মা বলে, দূরে থাকে তোমার জন্য জামা কিনবে বলে, তুমি তো পুতুল খুব পছন্দ কর, পুতুলের বিয়ে দেবে না তাই বিয়ের শাড়ি কিনতে গেছে তোমার বাবা। এখন যাও লক্ষ্মীটি, খেলা কর বন্ধুদের সাথে আমি রান্না করছি।
চলে আসি মার কাছ থেকে। মনে মনে বাবাকে অনেক কামনা করি, বাবা আসবে আমার জন্য নতুন জামা কিনবে, পুতুলের জন্য জামা কিনবে এমন বাবা আসলেই হয় না।
কত স্বপ্ন দেখি বাবাকে নিয়ে, এই বুঝি পিছন থেকে বাবা আমার চোখ টিপে ধরল। আমাকে ঝাপটে ধরে অনেক আদর করল। কিন্তু বাবারা কেমন হয়, বাবাকে কি দেখতে পারব আমি?
আবার দৌড়ে গিয়ে মার কাছে যাই, আচ্ছা মা বাবা দেখতে কেমন? বাবা কি আমায় নিয়ে কোলে করে নাচবে? আমি বাবাকে আমার নতুন লেখার খাতাটা যদি দেখাতে পারতাম। সেখানে বাবার একটি ছবিও এঁকেছি। তুমি দেখবে সে ছবি? দৌড়ে গিয়ে নিয়ে এসে মাকে দেখাই।
- বেশতো এঁকেছিস, একদম ঠিক তোর বাবার মতো।
-কিন্তু আমি তো বাবাকে দেখিই-নি। কেমন করে তাকে চিনব, মা?
-তোমার বাবা এলেই তাকে তুমি চিনতে পারবে। পাগল মেয়ে আমার, যাও এখন গিয়ে খেলা কর, আমি তোমার জন্য ভাত রাঁধছি।
- আচ্ছা মা, ভাত রাঁধছ কেন? চাল রান্না করছি বলতে পার না?
আমার কথা শুনে মা শুধু মুচকি হাসে। বলে, তোমার কাছে এখন অনেক কিছু শিখতে হবে বুঝি? সোনার টুকরা মেয়ে আমারবলে কোলে জড়িয়ে নেয় মা।
আমি চলে আসি।
দিন চলে যায়, মাস যায় এমনকি বছরের দুটো করে ঈদও চলে যায় কিন্তু বাবা আসে না। রাতের তারার সাথে যদি মিতালী করা যেত, তবে তারা এতদিনে হাতের তারায় নেমে এসে নাচানাচি করতো। কিন্তু বাবার জন্য এতই ছটফট করছি বাবা আসে না।
বাবার অদেখায় বাবার প্রতি রাগ আমার প্রচণ্ড বেড়ে গেল। গত বর্ষায় দাদি মারা গেল। দাদির সব ছেলে মেয়ে দেখতে এসেছিল অথচ আমার বাবা আসল না। দাদি আমাকে কত আদর করতো, আজ দাদির মৃত্যুতে বাবা আসে নি। কার প্রতি বাবার এত অভিমান, বাবা এমন কেন? বাবারা বুঝি এমনই হয়।
আবার মনে হল, না, আমার বাবা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বাবা। মা বলেছে, বাবা আমার জন্য জামা কিনতে, পুতুলের শাড়ি কিনতে দূরে গেছে। সে ঠিকই আসবে। মনে মনে বলি, বাবা তুমি রাগ করো না, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তুমি আসলে তোমার কোলে চড়ে আমি অনেক আনন্দ করবো।
বাবার কাঁধে চড়ে বলব, জান বাবা, আমি স্কুলে আবৃত্তিতে ফার্স্ট হয়েছি। জান বাবা, তুমি থাকলে আমার সেদিন কত আনন্দ হতো। আমার বন্ধুদের সব বাবাই সেখানে সেদিন ছিল। তুমি এত দেরি করে আসলে কেন বাবা?
আমি বাবার মুখের দিকে চেয়ে থাকব, বাবা কী উত্তর দেয়, তা শোনার জন্য।
বাবা হয়তো বলবে, সত্যিই মা আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি আর কোত্থাও যাব না তোমায় ছেড়ে। এই তোমায় ছুঁয়ে কথা দিলাম। বাবার চোখ থেকে হয়তো তখন টপ্ করে দুফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়বে। আর আমি বাবার চোখ মুছে দেব। বলবো, তুমি আমার লক্ষ্মী বাবা।

বাবার অপেক্ষায়
মহুয়া, ক্লাস-৪

নিজের মেয়ের লেখা ডায়েরির এখানটায় চোখ আটকে যায় শাহরিয়ারের। আট বছর, হ্যা দীর্ঘ আট বছর পর বিদেশফেরত শাহরিয়ারের এখন মেয়ে বলতে কেবল ঐ একটি ডায়েরি মাত্র। বাবাকে নিয়ে অনেক কথা, স্বপ্ন, আবেগ, ভালোবাসা মিশে আছে তাতেঅমাবশ্যার আধারের মতো।
প্রতিটি পাতায় পাতায় লেগে আছে অকৃত্রিম ভালোবাসার অনুরণন। শুধু স্মৃতি কেবল ঐ একটি ডায়েরি। চোখের পানি আটকে রাখা সত্যিই দায় এখন তার। কারণ, তার মেয়ে আর নেই। বাবার মুখ দেখবে বলে যে অধীর আগ্রহ তা এখন দাদির কবরের পাশে শুয়ে বাবাকেই যেন উপহাস করছে। দাদির যেদিন কুলখানি হবে, সেদিন সবার অগোচরে কোন্ অদৃশ্য হাতছানির টানে ঘরের পেছনের বদ্ধ পুকুরে ‍ডুবে স্বপ্নময় আশার অনাকাঙ্ক্ষিত বেদনা নিয়ে চলে গেল দাদির কাছে।
যেখানে কেবল শান্তির ঘুম, যেখানেকেবল অফুরন্ত স্বপ্নের হাতছানি।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন