বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৯ মার্চ ১৯৮১
গল্প/কবিতা: ২৩টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৩৯

বউ কথা কও

শাড়ী সেপ্টেম্বর ২০১২

দীপ জ্বেলে যাই'১৯৭১

মুক্তির চেতনা মার্চ ২০১২

আর্ত্বনাদ

মুক্তির চেতনা মার্চ ২০১২

মা (মে ২০১১)

মোট ভোট ৩৯ আমি একটু বৃষ্টিতে ভিজি মা!

তির্থক আহসান রুবেল
comment ৩৮  favorite ১  import_contacts ৫৬৯
প্রচলিত একটা গল্প দিয়ে নতুন গল্পটা শুরু করি। ছেলেটির জন্মের মাসখানেকের মধ্যেই বাবা মারা গেলেন। মানুষজন বলতে লাগলো ছেলেটা অপয়া। জন্মের পরপরই বাবাকে খেল। মাস কয়েক পর দাদা বাড়ি থেকে মা সহ শিশু সন্তানটিকে বের করে দেয়া হলো। ভাইয়েরা বাড়তি বোঝা মনে করে বোনকে জায়গা দিল না। মা পড়লেন অকুল পাথারে। কোনভাবে একটা বস্তিঘরে ঠায় মিলল। সেখানে খেকে পরের বাড়ীতে ঝিয়ের কাজ করে ছেলেকে বড় করতে লাগলেন। মায়েরা যেমন হয়, তেমনটিই তিনি। নিজে ঠিক মত না খেয়ে, ছেলেকে বেশী করে খাওয়াচ্ছেন। ভালটা ছেলের জন্য রেখে, উচ্ছিষ্টটুকু নিজের জন্য সদা বরাদ্দ। ছেলেটা স্কুলে ভর্তি হয়। স্কুল পেরিয়ে কলেজ। মা তাকে না পাওয়াটুকু বুঝতে দিতে চায় না। ফলে ছেলেটি অন্য সবার মতোই নিজেকে স্বাভাবিক মানুষই মনে করে। কিন্তু বন্ধুদের হাতে যে মোবাইল!! অনেক আবদার, অভিমান আর ঝগড়া। তারপর একদিন মা তার বহু যত্নে গুছিয়ে রাখা কানের দুল বিক্রি করে দিলেন। যে দুল তিনি অনেক অভাব অনটনের মধ্যেও রেখে দিয়েছিলেন ছেলের বৌকে দিবেন বলে। যাই হোক ছেলেটি সেই দুল বেচা পয়সা দিয়ে মোবাইল কিনল। এবার তো মোবাইলের খাদ্য দরকার। তাই মাকে এসে বলল, সবাই প্রাইভেট পড়ে..... আমাকেও পড়তে হবে। মা বললেন, অবশ্যই পড়বি। যাক, মোবাইলের খাদ্য তো মিলল। এবার যে, মোবাইলে একজন গার্লফ্রেন্ড দরকার। কিন্তু এটা তো আর মায়ের কাছে আবদার করে পাওয়া যাবে না। ঠিক তখনই দেবদূত হিসেবে হাত বাড়িয়ে দিল ক্লাসমেট মারুফ। মারুফের মাধ্যমে মোবাইলে পরিচয় হলো মিতার সাথে। মিতা কেমন যেন একটা স্বরে কথা বলে। ছেলেটির শরীরের কাটা দাঁড়িয়ে যায়। মিতা অনেক কথা বলে। প্রথম দিকে ফোন একটু কম দিলেও.... এখন দেয়। নয়ত ছেলেটি বিপদেই পড়ে যেত। কারণ, মোবাইলের জন্য এত খাদ্য তো যোগাড় করা সম্ভব না। এদিকে মা ভেবে বসে আছেন, ছেলে বুঝি এবার ভাল মতো পাস করে নিজেকে দাড় করাবে। সব দুঃখ বুঝি কেটে যাবে। ছেলে তো ইতিমধ্যে কলেজ পাস করে ভার্সিটিতে পড়ে। ছেলেটির একদিন বিয়ে দেবেন। ঘর আলো করে চাঁদের মতো বউ আসবে। নাতি নাতনীতে ঘর ভরে যাবে। মা তাদের নিয়ে খেলবেন। কিন্তু তার জন্য এখনো বছর দুয়েক অপেক্ষা করতে হবে। এদিকে ছেলেটি ইদানীং খুব মন মরা হয়ে বসে থাকে। মা সেটা খেয়াল করে। কিন্তু কেন যেনো জিজ্ঞেস করা হয় না। একদিন মা জিজ্ঞেস করেই বসল, আচ্ছা তোর ইদানীং কি হয়েছে রে!! কোন কারণে মন খারাপ? ছেলেটি উদাস নয়নে মায়ের মুখের দিকে তাকায়। মাকে জানায় মিতার কথা। বলে, জানো মা... মিতার সাথে কথা হয় আজ কয়েক বছর। কিন্তু একবারও দেখা হয়নি। ও দেখা করতে চেয়েছে। কিন্তু আমি করিনি। ও কত্ত বড়লোকের মেয়ে। আমি তো ওকে নিয়ে কোথাও বসতেও পারবো না। একবার বসলেই কয়েক হাজার টাকা নাই হয়ে যাবে। মা মনে মনে হাসেন। ছেলে তার ভালবাসায় মজেছে। মা বলেন, ঠিক আছে আমি তোকে টাকা এনে দিচ্ছি। তুই দেখা করে আয়। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি দিন দশেক কয়েকটা হোটেলে মসলা বাটা, বাসন ধোয়া আর পানি টানার কাজ করলো। এই হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমে হাজার দুয়েক টাকা জমে গেল। ফলাফল, হঠাৎ করেই মা অসুস্থ হয়ে গেলেন। আর ছেলে টাকাটা নিয়ে চলে গেল মিতার সাথে দেখা করতে। মিতার সাথে দেখা হবার সাথে সাথেই ছেলেটির বুকটা ঠাণ্ডা হয়ে গেল। এ তো স্বর্গের পরী। এত সুন্দর মেয়ে উপরওয়ালা বানিয়েছেন কি করে! তাও আবার তার জন্য!!! তারা কোল্ড ড্রিংস খাচ্ছে, গল্প করছে। পিজা খাচ্ছে, গল্প করছে। ছেলেটির বুকের ভেতর ঘণ্টা বাজছে। শরীর কাঁপছে। ইচ্ছে হচ্ছে যদি মেয়েটার হাত একবারের জন্য ছুঁতে পারতো! মিতা বলে, কি আমার হাত ধরতে ইচ্ছে করছে? ছেলেটি লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল। মিতা হাত বাড়িয়ে ছেলেটার হাত নিজের মুঠোয় নিয়ে বলল, তুমি কাঁপছো কেন? মেয়েটি আরো কাছে এসে বসে। হাতটা আরো জোরে ধরে বলে, দেখা তো হলো। এবার কি হবে? ছেলেটি কোন উত্তর খুঁজে পায় না। তাই বলে বসলো চূড়ান্ত কথাটি, আমায় বিয়ে করবে? মেয়েটি দুনিয়া কাঁপিয়ে হেসে উঠলো। বললো, তুমি আমায় ভালবাসো? ছেলেটি মাথা নাড়লো। মেয়েটি বলে, তাহলে যে পরীক্ষা দিতে হবে! যদিও কাপুরুষেরা পরীক্ষা দিতে ভয় পায়! যাই হোক, তোমাকে পরীক্ষা দিতে হবে না। ছেলেটির পুরুষত্বে আঘাত লাগে। সে খুব ঠাণ্ডা গলায় বলে বসে, আমি সব রকমের পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত। যত খুশি নাও। বল কি পরীক্ষা দিতে হবে। মেয়ে বলে, তুমি আমার জন্য কতটুকু পারো? ছেলেটি বলে, দুনিয়ার এমন কোন কাজ নেই যা আমি পারি না। এবার মেয়েটি বলে, আচ্ছা তুমি কি তোমার ভালবাসার নিদর্শন হিসেবে তোমার মায়ের কলিজাটা এনে আমাকে দেখাতে পারবে? ছেলেটি একটু চুপ থেকে বলে, আমার মা আমার জন্য সব পারে। জীবনে কত কষ্ট করেছে আমার জন্য। কতদিন আমাকে খাইয়ে নিজে না খেয়ে থেকেছেন। কত রাত শুধু এক গ্লাস পানি খেয়ে রাত কাটিয়েছেন। মা নিশ্চয়ই রাজি হবেন। আচ্ছা, আমি তোমাকে এনে দেবো মায়ের কলিজা। কিন্তু তুমি আমায় বিয়ে করবে তো তখন? মেয়েটি হঠাৎ ছেলেটির গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলে, উত্তর পেলে? আরো অনেক কিছু তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। তোমার কোষে কোষে আমি সুখের জীবাণু ঢুকিয়ে দেবো। সে সুখে তুমি পাগল হয়ে যাবে। আমার উত্তপ্ত নিঃশ্বাস আর তোমার বুকের আগুন মিলে পৃথিবীর সব বরফ গলে যাবে। দেখবে তখন কত সুখ তোমার চারপাশে। ছেলেটির হাতটি টান দিয়ে টেবিলের নীচ দিয়ে কোথায় যেন নিয়ে গেল মেয়েটি। খুব উষ্ণ। ছেলেটির দম বন্ধ হয়ে এলো। সে টের পেলো... তার হাতের দুপাশে মেয়েটির দুটো রানের উষ্ণতা। ছেলেটি সাথে সাথে বেরিয়ে গেল। কিন্তু বাড়ি গিয়ে দেখে মা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে মাটিতে। আর পাশেই পানির জগটি পড়ে আছে। পানিতে মায়ের কাপড়, চুল সব ভিজে গেছে। মা কি তবে মারা গেলেন? না না তাহলে আমার কি হবে!! ছেলেটি ভাবে। যে কোন মূল্যে মা কে বাঁচাতে হবে। নয়ত আমার জন্য যে সুখ, যে ভালবাসা অপেক্ষা করছে .... তার কি হবে!!! কিন্তু ডাক্তার ডাকতে গেলে তো টাকা লাগবে! তাহলে উপায়? আর ঠিক তখনই তার মনে পড়ে গেল, সে তো বিল দিয়ে আসেনি। ছুটে আসবার সময় তার খেয়াল ছিল না। পুরো টাকাটাই পকেটে। কাজেই ডাক্তার ডাকা যায়। ডাক্তার স্যালাইন দিয়ে গেলেন। মা ঘণ্টা কয়েক পর আস্তে আস্তে চোখ খুললেন। খুলেই দেখলেন ছেলের মুখ। গভীর মমতায় তাকালেন। দেখলেন ছেলেটি কত উৎকণ্ঠা নিয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। এই না আমার ছেলে, মায়ের সুস্থতার জন্য কত টেনশন। কিন্তু মা তো ছেলের এই মুখ দেখতে চান না। তিনি চান সন্তানের হাসি মাখা মুখ। মায়ের মনে পড়ে গেল, ছেলেটি মিতার সাথে দেখা করতে গিয়েছিল। মা জিজ্ঞেস করলেন, কি রে বাবা.... দেখা হলো? ছেলেটি লম্বা একটা শ্বাস ফেলে বলল, মা তুমি আগে সুস্থ হও। তারপর সব কথা হবে। আমি সুস্থ সুন্দর ভালবাসা দিতে চাই। মনে মনে বলল।
মা ছেলের সেবায় দিন কয়েকের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠলেন। এবার তিনি ছেলের মুখোমুখি বসলেন। সব শুনলেন। তারপর একটা শ্বাস ফেলে বললেন, তুই তো কোন মিথ্যে বলিস নি। তোর মাকে নিয়ে তুই যা বলেছিস তা তো পুরোপুরি ঠিক। আমি তোর জন্য সবই পারি। তোর সুখের জন্যই তো আমার সারাজীবনের কষ্ট। এই বলে, মা বুকে ছুড়ি বসিয়ে দিলেন। বুক চিড়ে বের করে আনলেন পবিত্র কলিজাখানি। একটা শ্বেতশুভ্র কাপড়ে মুড়িয়ে দিলেন ছেলের হাতে। বললেন, যা বাবা বউ নিয়ে আয়। কিন্তু মা তোমাকে যদি আবার দরকার হয়, কোথায় পাবো? তুমি তো মারা যাচ্ছ! মা হেসে বলেন, আকাশের একেবারে মাঝামাঝি একটা তারা আছে, যা অন্যদের চেয়ে বড়.... সেখানে আমি থাকবো। তোর যে কোন কথা আমাকে বলিস, আমি শুনবো। ছেলেটি, কাপড়ের পুটলিটি নিয়ে দৌঁড়াতে লাগলো। আজ তার ভালবাসা পূর্ণ হতে যাচ্ছে। যার জন্য সারা পৃথিবী পাগল.... আজ সে তা-ই পেতে যাচ্ছে। হঠাৎ সে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। আর সাথে সাথে কাপড়ের পুটলি থেকে মায়ের কলিজা গড়িয়ে পড়ল মাটিতে। ছেলেটির শরীর কেঁপে উঠলো। কলিজাটি সাথে সাথে তুলে ধরল। কলিজা বলে উঠল, বাবা.. তুই ব্যথা পাসনি তো? ছেলেটি বলে, মা... কলিজাতে মাটি-বালি লেগে গেছে। এটা কিভাবে হাতে নেবে মিতা! হাতে ময়লা লাগবে না! মা বলেন, তাহলে তাড়াতাড়ি কলের পানিতে কলিজাটি ধুয়ে নে। ঐ যে, উত্তর কোনায় একটা কল আছে। ছেলেটির মুখে আবারো হাসি ফুটলো।

বহু বছর পর, হঠাৎ একদিন রাকেশের মনে পড়ল মায়ের কথা। সবাই তখন ঘুমাচ্ছে। বাইরে সেদিন কোটি কোটি তারা। তার মনে পড়ল, মা তো তাকে দেখছে। সে তারাটির দিকে তাকিয়ে বলল, মা জানো.... আজ এত বছরে আমার তোমার কথা কখনই মনে পড়েনি। কিন্তু আজ কেন মনে পড়ছে? ছেলেটি শুনতে পেল, মাকে নিয়ে একটা গল্প লিখতে হবে। প্রকাশক তোকে বারবার অনুরোধ করছে মাকে নিয়ে লিখতে। কিন্তু মা, আমি তো আমি তো কোন গল্পই পাচ্ছিনা। কেন রে বাবা, তোকে আমি একটা মায়ের গল্প শোনাতাম না সব সময়। সেটাই তুই তোর পাঠকদের শোনা। ছেলেটি বলে, আচ্ছা মা... তোমরা মায়েরা... মানে জগতের এই মায়েরা লক্ষ কোটি বছর ধরে সন্তানদের জন্য এভাবেই বুঝি কষ্ট করে যাবে ? মা বললেন, আরে আমরা যে মা...। তোর বুঝি ঘুম আসছে না! আচ্ছা যা, শুতে যা। আমি একটা মুষলধারে বৃষ্টির ব্যবস্থা করছি। এই বৃষ্টিতে তোর ভাল ঘুম হবে। আর সাথে সাথেই বৃষ্টি নামলো। মা বলল, কি রে ঘুমোতে গেলি না? মা, আজ একটু বৃষ্টিতে ভিজি? তুমি সেই আগের মতোই আমাকে একটু দেখ। আমি একটু বৃষ্টিতে ভিজি মা!
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • তির্থক আহসান রুবেল
    তির্থক আহসান রুবেল নাহিদ ভাই, দুই কে এক করলেন....!!!
    প্রত্যুত্তর . ২১ মে, ২০১১
  • রাজিব ফেরদৌস
    রাজিব ফেরদৌস একটা বিষয়ে হাজার গল্প হোক, হাজার কবিতা হোক এবং তা হাজার লেখক কবি লিখুক, পাঠকের কাছে সেইটিই ভাল লাগবে যেটি পড়তে পড়তে তার মনেই হবেনা আমি গল্প পড়ছি। সেটি হতে পারে লেখকের লেখার ভঙ্গীর কারনে, সেটি হতে পারে তার বর্ণনার ভঙ্গীর কারনে, আবার সেটি হতে পারে তার সহজ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২২ মে, ২০১১
  • তির্থক আহসান রুবেল
    তির্থক আহসান রুবেল রাজিব ভাই, কমেন্ট খুব কম পাচ্ছিলাম। কিন্তু আপনার বিশাল এক কমেন্ট বড় একটা ঘর পূরণ করে দিল।
    প্রত্যুত্তর . ২৩ মে, ২০১১