বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৯ মার্চ ১৯৮১
গল্প/কবিতা: ২৩টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৬৬

বউ কথা কও

শাড়ী সেপ্টেম্বর ২০১২

দীপ জ্বেলে যাই'১৯৭১

মুক্তির চেতনা মার্চ ২০১২

৫২'র গল্প

২১শে ফেব্রুয়ারী ফেব্রুয়ারী ২০১২

মুক্তির চেতনা (মার্চ ২০১২)

মোট ভোট ৬৬ আর্ত্বনাদ

তির্থক আহসান রুবেল
comment ৩৮  favorite ১  import_contacts ৬২৮
আমি আজ আর কোথাও দিতে পারি না আমার পিতৃ পরিচয়।
কোথাও বলতে পারি না, আমার পিতা অমুক।
কারণ আমার পিতাকে সবাই চেনে। সবাই জানে তার কর্ম। যে কর্মের ফল ভোগ করছি আমি।
যখন কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার বাবার নাম কি? কি করেন?
আমি লজ্জায় মুখ লুকাই। শুধু বলি, কেনো এ প্রশ্ন? আমি কি আমার পরিচয়ে পরিচিত হতে পারি না? আয়নায় আমার প্রতিবিম্ব আমাকে নিয়ে হাসে। একই রকম জিজ্ঞাসাবোধক!
আমি বলতে পারি না কাউকে আমার বাবা একজন ধর্ম ব্যবসায়ী। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী। পারিনা কাউকে বলতে, আমার আদর্শ আমার পিতা। আমার চোখে সেরা মানুষ আমার পিতা। বলতে পারি না, আমিও আমার বাবার মতো হবো!
এমনি করে যখন আমি বিভ্রান্ত! যখন বলি যে, আমার কি কিছুই নেই... পরিচয় দেবার মতো?
তখনই আমাকে পাঠিয়ে দেয়া হলো দেশের বাইরে। আমার মতো, আমার বোনও কোনদিন কাউকে বলতে পারেনি তার পিতৃ পরিচয়। এমন কি কোনদিন তার কোন বন্ধু কিংবা বান্ধবীকে বাসায় আনেনি। পাছে জেনে যায় সব!
আজ, বিদেশের মাটিতে বসে ইন্টারনেটে আমি দেশের খোঁজ নিই। বাংলাদেশে নাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সামনে দাঁড় করাবে! এদেশে সকল বাঙ্গালী যখন ২১ শে ফেব্রুয়ারী, ২৬ মার্চ কিংবা ১৬ই ডিসেম্বর পালন করে.... সেদিন আমি ভিন্ন কোন শহরে অবকাশে যাই। কখনো কখনো ইচ্ছে হয়, আমিও যোগ দেই। আবার মনে হয়, যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, তোমার বাবা কি মুক্তিযোদ্ধা?
মায়ের ঘরে যে পুরুষটি প্রতি রাতে ঘুমায়, তাকে আমি বাবা বলি। আমার সাথের ছেলে-মেয়েরাও একই ভাবে তাদের বাবাকে চেনে। পরিচয় দেয় বাবা বলে। অথচ আমি বাবার পরিচয় লুকাতে লুকাতে আজ হয়ে গেছি বেজন্মা। আমার দেশ বলে আজ আসলে কিছু নেই। নেই আমার বাবা, আমার মা। আমি বেজন্মা। শ্রেফ একজন বেজন্মা। নতুবা আমি কেন দিতে পারবো না, আমার পিতার পরিচয়। সবার মতো আমার পিতাও তো আমাকে লালন-পালন করেছে। মুখে তুলে খাইয়েছে ভাত!
আচ্ছা! দেশের সব তরুণ যখন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের মিছিলে শামিল। তখন আমারও কেন সেই মিছিলে যেতে ইচ্ছে করছে? আমি ভাবি! ভাবতে ভাবতে রাত পেরিয়ে সকাল আসে। সকাল শেষে রাত!
আচ্ছা, আসামীরা তো বিচার শেষে স্বাভাবিক জীবনের দরজায় পা রাখার সুযোগ পায়। আমি কি আমার পিতার বিচার শেষে, তার পরিচয় দিতে পারবো পিতা হিসেবে! যদি তার জেল হয়, কিংবা ফাঁসি! মৃত বাবার লাশটিকে কাঁধে নিয়ে আমি কি যেতে পারবো কোন গোরস্থানে? দেশের মানুষ কি বাংলার মাটিতে আমার বাবার লাশ দাফন করতে দেবে? নাকি আমার মতো তাকেও পাঠানো বিদেশের মাটিতে! আমাকে কি ভিক্ষা করতে হবে, সাড়ে তিন হাত মাটির জন্য! নাকি রাজাকার, আলবদর, আলশামসের জন্য আলাদা কবরস্থান হবে? যেমন আছে বুদ্ধিজীবি কবরস্থান। আচ্ছা সে কবরে কি বছরে একদিন বাঙ্গালীরা দেশ প্রেমে জাগ্রত হয়ে জুতা ছুড়বে?
কখনো কখনো ভাবি, আমি কি এ দেশের সন্তান! না কি একজন রাজাকারের? কোনটা আমার পরিচয়?
সারারাত ভেবে ঠিক সূর্য উঠার আগে বুঝতে পারলাম, আমি এদেশের সন্তান। আমি কোন রাজাকারের সন্তান নয়। হয়ত আমার জন্ম যিশুর মতো! তাই তো স্বজাতির পাশে জায়গা নিতে, আমি আজ মিছিলে নামবো। আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই। আমি আমার বোন হত্যার বিচার চাই। আমি যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই। আমি আমার মায়ের স্বামীর.... ফাঁসি চাই!
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন