বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৯ মার্চ ১৯৮১
গল্প/কবিতা: ২৩টি

সমন্বিত স্কোর

৪.১৫

বিচারক স্কোরঃ ২.১ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.০৫ / ৩.০

বউ কথা কও

শাড়ী সেপ্টেম্বর ২০১২

দীপ জ্বেলে যাই'১৯৭১

মুক্তির চেতনা মার্চ ২০১২

আর্ত্বনাদ

মুক্তির চেতনা মার্চ ২০১২

২১শে ফেব্রুয়ারী (ফেব্রুয়ারী ২০১২)

মোট ভোট ৫৮ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.১৫ মিলাও হাত... চিয়ার্স

তির্থক আহসান রুবেল
comment ২৫  favorite ১  import_contacts ৬০৪
কানে হেডফোন, কপালে রুমাল বাধা, থুতনীর নিচে কয়েক টুকরো দাড়ি, চিকন সুতার মতো চিফ, চোখে সানগ্লাস। যদিও সন্ধ্যা হতে খুব বেশী দেরী নেই। তবু এক সময়ের মাহফুজ, মানে আজকের জনপ্রিয় আরজে (রেডিও জকি) মাফি চলে এসেছে ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানের মিটিং এ। প্রাইভেট ভার্সিটি জীবনের প্রথম ভাষা দিবস। সো...!!

বাই দ্যা ওয়ে! এখানে আরো যারা উপস্থিত আছে তারা কেউ নিজেকে আগামী দিনের ডিজে (ডিসকো জকি), ভিজে (ভিজুয়াল জকি), এ্যংকর (উপস্থাপক), মডেল যে কোনটাই হতে পারে। কারণ স্বপ্নই তো পথ দেখায়। সবার সাজই বলে দেয়, এরা সাধারন না। তাহলে অসাধারণ কিসে! ঠিক ধরেছেন। রাইট চয়েস! বাবা (ইয়াবা) খেতে পারে ভিজিয়ে বা পুড়িয়ে। শীষার টান দু অঙ্কের সেকেন্ডে পৌছাঁয়। বাইরে থেকে ছেলে-মেয়ে আলাদা করা গেলেও এই একটা ক্ষেত্রে সবাই এক। বেদম কাজ নিয়ে সবাই ব্যস্ত থাকে অনেক বেশী। বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের ফ্ল্যাটে রুটিন করে উদ্যমতা, পড়াশোনা কম হলেও মেইনটেন, সন্ধ্যায় ডিজে পার্টি তারপর.... হিংটিংছট।

সো ডিয়ার রিডার্স, এই ইয়ং বয়েজ এন্ড গার্লস যখন দেশজ কালচার রক্ষায় একটা কিছু করতে চায় ভাষা দিবসে... তখন আমাদের তো অবশ্যই সাধুবাদ জানাতে হয়! কারণ রক্ত তো কথা বলবেই একদিন না একদিন। তাদের না হয় একটু পরেই বলল! জাস্ট লুক, ইভান এন্ড মাফি বোধয় টক করছে তাদের আয়োজন নিয়ে। অবশ্য আমি অয়েল নোন যে কি হবে দেয়ার! কারণ প্রতিবছর আমি দেখছি তাদের। মানে তাদের মতো এই ডিজুস ইয়ংগারদের।

ইভান আর মাফির প্রপোজালটাই সবাই এঙ্প্টে করলো। খুব সহজ হিসাব। অন্তঃত একটা দিনের জন্য তারা সব কিছুতে বেঙ্গলপনা রাখতে চায়। এই ল্যঙ্গুয়েজের জন্য দোজ দ্য মরটাল ব্লাড দিয়েছে। সেই ব্লাডের ঋণ শোধ করতেই হবে। কত বোন, ভাই কতকিছু হারিয়েছে। সবাই একমত হলো যে, প্রতি বছরের মতো এ বছর ঢাকায় তারা কিছু করবে না। তারা মাফির বাবার বাগানবাড়িতে পালন করবে এবারের শহীদ দিবস দেশজ আবহে। বাকিটা এখন আর জানানো যাবে না। সেটা সারপ্রাইজ সব কো লিয়ে।

যথারীতি ৫ ছেলে আর ৪ মেয়ের একটা বহর পৌঁছে গেল শিমুলতলী। শিমুলের রংটা কেমন তা ঠিক মনে পড়ছে না। তবে গাঁয়ের চারপাশ সবুজ। নীচে মেটে আর উপরে নীল। তাদের নিয়ে বড় মাইক্রোটা যখন গেট দিয়ে ঢুকল তখন মোতালেব ব্যস্ত হয়ে পড়ল কি রেখে কি করবে।

তারিখ ২০ থেকে একুশে পা দিতে আর মিনিট দশেক। সো ডিয়ার রিডার্স লেট হ্যভ সেলিব্রেট। সবার পরনে দেশী পোষাক। চলে এসেছে দেশী বাংলা মদ, দেশী মুরগী ভুনা, লোকাল চানাচুর, দেশী আলুর চিপস। কাউন্ট ডাউন শুরু। দশ, নয়, আট...... দুই এক শুন্য..... মিলাও হাত...... চিয়ার্স....

এদিকে সারা দেশের কোটি কোটি জনতা এখন রাস্তায় নগ্ন পায়ে হাটছে শহীদ মিনারের পথে। সবাই সবার মতো গাইছে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি। ছেলে হারা শত মায়ের অশ্রু গড়া এ ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন