বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮
গল্প/কবিতা: ৮টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

২৩

বন্ধুতা ! এক সুতা

বন্ধু জুলাই ২০১১

হে অভিযাত্রী ! আমরা ছিলাম যাত্রী সহযাত্রী

বন্ধু জুলাই ২০১১

অসম প্রেম আর অসীম দুঃখবোধ

কষ্ট জুন ২০১১

বর্ষা (আগস্ট ২০১১)

মোট ভোট ২৩ বরষা ক্ষুরধারা খরপরশা- তোরা আজ যাসনে ঘরের বাহিরে !

দেওয়ান লালন আহমেদ
comment ১৯  favorite ০  import_contacts ৪০০
গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা ।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা –
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা ।।

কবিগুরুর এই ‘’সোনার তরী’’ তে আমরা যে বিমুর্ত বর্ষা দেখি তা যেমন্ মহাকালের না পাবার কিংবা না দেখার তীব্র বাসনা তেমনি আমাদের বর্তমান জীবনে বর্ষা হয়ে আসে ক্ষুরধার কিংবা খরপরশার মতই ।এই বর্ষায় কদম্ব ফুল নাই এই বর্ষায় কোলা ব্যাঙ্ এর কোলাহল নেই , ইলশে মাছের ঘ্রাণ মাখানো গ্লাস নেই,সাত আসমান জমিনের বুক ফাটানো বর্ষন নেই আছে শুধুই হাহাকার আর নগরে গ্রামে গঞ্জে নিরন্তর শীর্নকায় মানুষ গুলির জীবন যুদ্ধের প্রানান্তকর প্রচেস্টা । এই বর্ষায় ফলে না শুধুই ফলিত হয় , তাইতো আর সেই ছোটবেলার মত মাঠে বৃষ্টির পানিতে ফুটবল নেই নেই গ্রামের বাড়ির চকের রাস্তার কলাগাছের ছোট ভেলায় পাড়ি জমান। শুধু নেই নেই আর নেই , আছে তবে কী !
যান্ত্রিকতার মাঝে নগরের বাণিজ্যে হাউজিং আর ফ্ল্যাটে পুকুর নালা ডোবা আর খাল বিল গুলির দখল বেদখলের পায়তারায় দ্বায়সারায় সিটি ছেদী সিটি ভেদী সিটি কর্পোরেশন । বুড়িগংগা আর ধলেস্বরীতে তাই তো আর কোন দ্বায় নেই বর্ষার ,বর্ষা তাই বুঝি এসে যায় আমাদের একতলা ফ্ল্যাটের নিচে আমাদের রাস্তায় ঘাটে সেভটিক ট্যাংকে , তাই বুঝি এক পশ্লা বৃষ্টিতে প্রানান্তকর কষ্ট আর দুর্ভোগ আসে এই শহরে , রাস্তা ডুবে ,ইট সুরকি ক্ষয়ে ক্ষয়ে রাস্তা গুলোকে নাস্তানাবুদ করে ফেলে , যার ফলে যানজটে নাকাল হই আমরা । এই তো সেদিন ঢাকা থেকে গাজীপুর গেলাম সময় লাগল তিন ঘন্টা আবার ফিরে এলাম সময় লাগল চার ঘন্টা , কি দুঃসহ জীবন যানজটের কাছে অসহায় আমরা , দোষ আমাদের এই বেরসিক বর্ষার , সাত ঘন্টা শুধুই জ্যাম আর ঘর্মাক্ত দেহ আর মশায় কাদায় মশকাদানি ? এমন বেঢোপ সিটি কর্পোরেশনের কিদরকার ছিল ? জলাধার আর নালা ডোবাগুলি নেই তাই এই পানি নিয়ে আমাদের এত মাথা ব্যাথা । তাই তো অতিষ্ট হয়ে নাকাল হয়ে এই সভ্য পৃথিবীর অসভ্য নাগরিক হয়ে আছি আমরা । আমার জানা নেই পৃথিবীতে দ্বিতীয় আর কোন দেশ আছে কি যেখানে বর্ষা এলে নাগরিক দুর্ভোগ আর ভোগান্তি আর যানজটের কাছে মানুষ নতি স্বীকার করে ফেলেছে ? এক পশলা বৃষ্টি হলেই সাত্য সকালে বাস নেই সিএনজি নেই থাকলেও দ্বিগুন ভাড়া আর পাল্লা পাল্লিতে নিরুপায় , নাগরিকের সকাল টায় শুরু হল এমন রাহুদশা দিয়ে, সি এন জি চলছে হঠাৎ ভিতরে পানি ঢুকে স্ট্যার্ট বন্ধ কিংবা ম্যানহোলের ঢাকনা তে সংঘর্ষ ,এই না হল বর্ষা ,
কবিগুরু বেচেঁ থাকলে হয়ত লিখতেন

“ নীল বাতিতে নিয়ন আলোতে বিষাক্ত গ্যাসেতে আকাশ টা আজ নাইরে
দখলকারীদের দখলদারীতে জলাশয় ডোবা খাল নালা গুলো আজ নাইরে
তিল ঠায় আজ নাইরে ,ওরে ! বৃষ্টি এলে তাইতো
তোরা আজ যাসনে ঘরের বাহিরে “

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন