বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৪ জানুয়ারী ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ১৯টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৭১

আবার আগ্রাসন

২১শে ফেব্রুয়ারী ফেব্রুয়ারী ২০১২

শীত কথা

শীত জানুয়ারী ২০১২

আমার গাঁয়ে শীত

গ্রাম-বাংলা নভেম্বর ২০১১

বিশ্বকাপ ক্রিকেট / নববর্ষ (এপ্রিল ২০১১)

মোট ভোট ৭১ রক্তভূক বৈশাখ

দীপক সাহা
comment ৫৩  favorite ২  import_contacts ৬৫৪
বৈশাখ।
তোমার গায়ে রক্তের দাগ।
ছোপ ছোপ শুকনো রক্ত।

তুমি এলেই
পুরনোকে ভুলে যাওয়ার হিড়িক পড়ে যায়।
বিধু বাবুর দোকানে লাল সালুতে মোড়া
নতুন খাতা আসে। নতুন কাপড়
নতুন মিষ্টির গন্ধে মৌ মৌ চারিদিক।
তোমার গায়ের তামাটে রক্তের দাগ
কেউ দেখে না। কালের ধুলোর নীচে
চুপচাপ লুকিয়ে থাকে।

অথচ সোনা ভাবী চলে উল্টো পথে।
তুমি এলেই পুরনো কথা
মনের ফাঁক গলিয়ে
ঝর ঝর করে বেরিয়ে আসে।
পাথরের মতো নিশ্চল - অসহায় সোনা ভাবী
হঠাৎ স্বর্গ মর্ত্য আকাশ পাতাল কাঁপিয়ে
চিৎকার করে কেঁদে ওঠে।
তার বুক ছিদ্র হয়ে বেরিয়ে আসে
অবিশ্রান্ত বিলাপ।

কচি আম, শিশু কাঁঠাল, এইমাত্র
ফলের আকার নেওয়া লিচু
অবাক হয়ে দেখে
কী অসম্ভব কষ্ট নিয়ে
ক্রমশ: শেষ হয়ে যাচ্ছে একটা মানুষ।

রমনার বটের শেকড়ে এখনো
ছড়িয়ে আছে টুকরো টুকরো মাংস -
সোনা ভাবীর প্রিয়তম।
তোমাকে বরণ করতেই সেই প্রিয়তম
গিয়েছিল রমনার বট মূলে।
পুরনোকে ঝেড়ে ফেলতে যেয়ে
নিজেই পুরনো হয়ে গেল। এখন
নিঃশব্দ শুয়ে আছে সে
ছায়া হয়ে - বটের ছায়ায়।

বৈশাখ।
তোমার গায়ে তারই রক্তের দাগ।
ছোপ ছোপ শুকনো রক্ত।
সোনা ভাবীর কাছে- এর সব কিছুই
নতুন হয়ে ফিরে আসে।

হে বৈশাখ।
তুমি এই একজনকে ৰমা করে দিও।
নতুন বছর এলেই যে
পুরনোকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে।
অগণিত মানুষের বিপরীত স্রোতে
হাটতে থাকে একা - নিঃসঙ্গ -
আর যার বুক ফেটে বেরিয়ে আসে
বর্ষা ধারার মতো কান্না;
তার প্রিয়তমকে ভিজিয়ে দেয়-
ভিজিয়ে দেয় তোমাকে।

এভাবে ভিজতে ভিজতে একদিন
তোমার গায়ের রক্তের দাগ উঠে যাবে।
ছোপ ছোপ শুকনো রক্তের দাগ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন