বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৯ নভেম্বর ১৯৮৬
গল্প/কবিতা: ৫টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৪৩

কষ্টের পরে....

কষ্ট জুন ২০১১

সাধ-সাধ্য

বিশ্বকাপ ক্রিকেট / নববর্ষ এপ্রিল ২০১১

অভিনন্দন

বিশ্বকাপ ক্রিকেট / নববর্ষ এপ্রিল ২০১১

মা (মে ২০১১)

মোট ভোট ৪৩ উপলব্ধি...

অদৃশ্য
comment ১৯  favorite ২  import_contacts ৪১৮
খাবার টেবিলে ভাত নিয়ে নাড়াচাড়া করছে তৃষা। একদম খেতে মন চাইছে না ওর।
‘কি হোল খাচ্ছ না কেন?’ মা জিজ্ঞাসা করলেন।
‘খেতে ইচ্ছা করছে না।’
‘খেতে ইচ্ছা করছে না তো এতগুলো ভাত নিলে কেন?ভাত খেয়ে শেষ কর প্রতিদিন ভাত নষ্ট করা এক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে তোমার’।
‘আমি কি ইচ্ছা করে নষ্ট করি না কি?প্রতিদিন ভাত তরকারী আর ডাল খেতে আমার আর ভাল লাগে না’।
‘এই তোমার এক বাহানা হয়েছে। আমি কত কষ্ট করে রান্না করি আর প্রত্যেকদিনই এটা খাবনা সেটা খাবনা। ফাস্টফুড দেখলে তো এসব কথা মাথায় আসে না’। এবার বেশ রেগে গিয়েই মা বললেন।
মার কড়া কথা শুনে বেশ রাগ হল তৃষার। ভাতের থালা ফেলে হাত ধুয়ে ফেলল সে। তারপর চুপচাপ খাবার ঘর থেকে সামনের বারান্দায় চলে গেল।
না হয় ও প্রতিদিন একটু ভাত প্লেটে রেখে দেয় তা নিয়ে মা কেন যে এত রাগ করে বুঝতে পারে না ও।
বাইরে গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ। সামনেই একটা বাড়ি বানানোর কাজ চলছে। একটানা ইট ভাঙা আর ঢালাই এর শব্দ। তৃষাদের একতালার বারান্দার সামনেই দুই তিনজন ইট ভাঙানি মহিলা কাজ করছে। বারান্দায় বসে তাদের কাজই দেখছিল তৃষা। আসলে মার সাথে রাগ করে ওর নিজের কাছেই খুব খারাপ লাগছিল। এমন সময় মা এসে ওর পাশে বসলেন।
বললেন-‘আমি যা বলি তোর ভালর জন্যই তো বলি। সেটা নিয়ে এত রাগ করলে হয়। এই যে প্রতিদিন ভাত নষ্ট করিস এটা কি ভাল মা? অল্প করে খাবি কিন্তু পুরোটা খাবি আমি তো তোকে বেশী খাবার জন্য জোর করছি না’।
তৃষা কোন কথা বলছে না দেখে মা একটু পরে আবার বললেন-‘তোর যে বয়স এখন আমার সব কথাই তোর কাছে খারাপ লাগবে। যাই হোক ঠিকমত তো দুপুরের খাবার খেলি না। যদি ক্ষুধা লাগে তবে খাবার টেবিলে মাল্টা আছে কেটে খাস’।
মা চলে যাবার পর আরও কিছুক্ষণ বারান্দায় বসে থেকে যখন তৃষা ঘরে ঢুকতে যাবে তখন এক ইট ভাঙানি মহিলা বারান্দার কাছে এসে বলল-‘আফা এক গেলাস পানি দিবেন? তেষ্টায় গলাটা ফাইট্টা গেল’।
‘আচ্ছা দাঁড়ান নিয়ে আসছি’ বলে ভিতরে পানি আনতে গেল তৃষা। জগ থেকে পানি ঢালার সময় মাল্টাগুলোর দিকে চোখ পড়ায় তৃষার মনে হল ওই মহিলাকে কয়েকটা মাল্টা দেয়া যায়, বেচারি সকাল থেকে ইট ভাঙছে। মাকে বললে মাও খুশী হবে আর ওর ওপর মার রাগও কিছুটা কমবে।
যেই ভাবা সেই কাজ পানির গ্লাস আর দুটো মাল্টা সহ বারান্দায় ফিরে প্রথমে পানি খেতে দিল মহিলাকে। পানি খাওয়া শেষ করে মহিলা যখন চলে যাচ্ছিল তখন তৃষা ডেকে তার হাতে মাল্টা দুটো তুলে দিল।
কিছুক্ষণ তৃষার দিকে তাকিয়ে থেকে মহিলা জিজ্ঞাসা করল-‘আফা এই গুলা কেমনে খামু?’
‘কিভাবে খাবেন মানে? মাল্টা কিভাবে খাবেন জানেন না?’
‘আফা এই গুলা তো খালি ফলের দোকানে দেখি, খালি জানি এই গুলা বিদেশী কমলা অনেক দাম। এগুলা কি কমলার মত ছিলা খামু আফা?’
হতভম্ব হয়ে তৃষা বলে-‘না না এগুলো চার টুকরা করে কেটে খাবেন’। তারপর কৌতূহল সামলাতে না পেরে জিজ্ঞাসা করে-‘আপনি সত্যিই কখনও মাল্টা খান নি?’
করুণ হাসি হেসে মহিলা বলে-‘আফা দুই বেলা ভাতই জোটেনা ঠিকমত, মাল্টা কই পামু। তয় আজকে আমার মাইয়া দুইটা অনেক খুশি হইব ওরা অনেক দিন ধইরা এই গুলা খাওনের বায়না ধরছিল’। এই বলে মহিলা আবার ইট ভাঙতে চলে গেল আর হতবাক তৃষা শূন্য দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে রইল।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন