বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ৪০টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১০

জোত্স্না রাতে

পূর্ণতা আগস্ট ২০১৩

অপূর্ণ ইচ্ছা

ইচ্ছা জুলাই ২০১৩

আলোতে ফিরে আসা

অন্ধকার জুন ২০১৩

ভালবাসা (ফেব্রুয়ারী ২০১১)

অন্য রকম ভালোবাসা

আনিসুর রহমান মানিক
comment ৩০  favorite ৫  import_contacts ১,০৪০
-আসতে পারি?
ফাইল হতে চোখ তুলে দরজার দিকে তাকালাম।দরজায় একটি ছোটখাটো আকর্ষণীয় চেহারার মেয়ে দাড়িয়ে।
-জী আসুন।
-আসসালামু আলাইকুম।
-ওয়ালাইকুমুস সালাম।
আমি কি বসতে পারি,বলেই উত্তরের অপেক্ষা না করে মেয়েটি টেবিলের সামনে রাখা চেয়ারে বসে পড়ল।
মেয়েটি বসলে আমি বললাম-বলুন কি জন্য এসেছেন?
মেয়েটি চোখ তুলে তাকাতে ইতস্তত বোধ করছে।মেয়েটি অত্যন্ত সুন্দর,বয়স ১৫/১৬ হয়তো হবে কিংবা তারও কম।হয়তো স্কুলে পড়ে।আমি এসব কি ভাবছি?
মেয়েটিকে বললাম-আপনি,মানে আপনি কেন এসেছেন?
মেয়েটি সংকোচের সাথে বলতে লাগল-আমি লিমা।আমি গার্লস স্কুলে দশম শ্রেণীতে পড়ি।তারপর থেমে যায়।
আমি ভাবতে থাকি মাত্র তিন মাস হল এ অফিসে এরিয়া ম্যানেজার হয়ে এসেছি।বলতে গেলে একেবারে নতুন।অথচ মেয়েটি কেন এসেছে আমার কাছে।কি প্রয়োজন তার চাকরী নাকি অন্য কিছু।চা আনতে বলব কিনা ভাবছি।আসলে কি করব ঠিক বুঝতে পারছি না।লিমা নামের মেয়েটিকে চুপ করে থাকতে দেখে বললাম-দেখুন,আপনি কেন এসেছেন তা এখনও জানতে পারলাম না।লিমা ঝট করে মুখ তুলে বলল-আপনাকে দেখতে,বলেই মুখ নামিয়ে ফেলল।
-মানে,আমি চমকে উঠে বললাম।
-না মানে,লিমা মাথা নিচু করে বলে চলল আপুর সাথে আপনার বিয়ের কথা চলছে কিনা!তাই আপনাকে দেখতে,মানে আপনার সাথে কথা বলতে এসেছি।
আমি চেয়ারে হেলান দিয়ে ভাবলাম-মা তাহলে দেখি এবার আমাকে বিয়ে দিয়েই ছাড়বে তা না হলে এই শহরেও ঘটক লাগিয়ে দিয়েছে।আপাততঃ যে আমার বিয়ে করার ইচ্ছে নেই মা তা একদম বুঝতে চান না।সবে চাকরীতে ঢুকেছি।এন,জি,ও র চাকরী।এই আছে এই নেই।বিয়ে করার পর যদি চাকরী চলে যায় তখন কিভাবে চলবে।
লিমাকে বললাম তা আপনি কেন,বিয়ে তো আর আপনি করবেন না,করবে আপনার আপু,তা আপনার আপু কোথায়?
-বাড়িতে।
একবার ভাবলাম জিজ্ঞেস করি আপুর নাম,পড়াশুনার খবর তাদের বাড়ির ঠিকানা।কিন্তু প্রোক্ষণেই ভাবলাম,না বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে,বেশী আগ্রহ দেখানো হবে।এর আপুটি কি এর মত সুন্দর,নাকি আরও সুন্দরী।
-আমি আসি।চেয়ার থেকে উঠতে গিয়ে থামল লিমা।
-কেমন দেখলেন,পছন্দ হয়েছে?
-হ্যাঁ খুব, মাথা নিচু করেই জবাব দেয় লিমা।
-সেকি আপনি তো বেশীর ভাগ সময়ই মাথা নিচু করে থাকলেন,কখন আমাকে দেখলেন।
মনে হল মেয়েটি বেশ লজ্জা পেল।লজ্জা পাওয়ায় মেয়েটিকে এখন আরও সুন্দর লাগছে।আমি বললাম-নাস্তা খেয়ে যান।
মেয়েটি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল-আজ নয় অন্যদিন খাব।বলেই মেয়েটি চলে গেল।
মেয়েটির এরকম আচরণে আমি একটু অবাক হলাম।ব্যাপারটিকে আমার কিছুটা রহস্যময় মনে হল।প্রোক্ষণেই ভাবলাম-কিশোরী বয়স,একটু চঞ্চলতা,লাজুকতা থাকতেই পারে।অফিসের কাজে মন দিলাম।
লিমার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম বা বলা যায় বিয়ের প্রসঙ্গটা ভুলেই গিয়েছিলাম।মেয়েটির ফোন পেয়ে চমকে উঠলাম- আমাকে চিনতে পেরেছেন?
-নাম না বললে চিনবো কেমনে।
-বাঃ সেদিন যে নাস্তা খাওয়াতে চাইলেন।
-ও হ্যা এবার বুঝতে পেরেছি তুমি----কেমন আছ?এই দেখ তোমাকে তুমি করে বললাম।
-হ্যা, হ্যা অবশ্যই তুমি করে বলবেন।
আমি বললাম-হ্যা তুমিতো আমার চেয়ে অনেক ছোট।ওপাশ থেকে কোন শব্দ না পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম-আজ স্কুলে যাওনি?
-না আজ ছুটি।আপনি এখন কি করছেন?
ফোনে তোমার সাথে কথা বলছি।
ওপাশ থেকে হাসির শব্দ শোনা গেল।হাসতে হাসতে বলল-আপনি তো বেশ মজার মানুষ।অফিসে কাজ বাদ দিয়ে ফোন করছেন।প্রোক্ষণেই বলল-আপনি বিরক্ত হচ্ছেন নাতো!
আমি ভাবলাম-আসলে মেয়েটির সে দিককার সাথে আজ মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।সেদিন সামনে যে মেয়েটির কথা বলতে যতটা সংকোচ ছিল,আজ যেন ঠিক তার উল্টো,অনেক সপ্রতিভ,স্বাচ্ছন্দ্য।
-হ্যালো কিছু বলছেন না যে,বিরক্ত হচ্ছেন তাই না।
-না খুশী হয়েছি।আসলেই লিমার সাথে কথা বলতে ভাল লাগছে।জীবনে অনেক মেয়ের সাথে কথা বলেছি,একসাথে চলেছি,পড়েছি কিন্তু এরকম ভালোলাগা কোন সময়ে লাগেনি।এ যেন এক অন্যরকম ভালোলাগা।
-তোমার আপু কোথায়?
-ও আপু বাইরে গিয়েছে,আম্মুর সাথে মার্কেটে।তারপর একটু থেমে বলল-আমি এখন রাখি,পরে কথা বলব,একটু তাড়া আছে বলেই ফোনটা রেখে দিল।
তার এ আচরণে আমি আরও অবাক হলাম।মনে হল ও চুপিসারে ফোন করেছিল।বিষয়টা লিমা কাউকে জানতে দেয়নি।
এর কদিন পর অফিস ছুটির সময় রুম হতে বের হচ্ছি।এমন সময় ফোন বেজে উঠল।একবার ভাবলাম থাক ফোনটা ধরব না,এই অফিস ছুটির সময় আবার কে ফোন করল।কিন্তু রিসিভারটা তুলে নিলাম-হ্যালো।
-এখনও বাড়ি যাননি?
-বের হচ্ছিলাম।
-কেমন আছেন?
-ভালো,তুমি?
-ভাল,আপনারা কয় ভাইবোন?
-হঠাৎ এ প্রশ্ন?আর যার সাথে তোমার আপুর বিয়ের কথা হচ্ছে যারা ঘটকালী করছে তারা তোমাদেরকে জানায়নি?
-না এমনি বললাম।আসলে কি কথা বলব বুঝতে পারছিলাম নাতো।
আমি দ্বিধায় পড়ে গেলাম।কিছুটা চিন্তিত হলাম।আমার কাছে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম মনে হতে লাগল।মেয়েটি বোনের পাত্র দেখতে এসে নিজেই দুর্বল হয়ে পড়েনিতো।
-কি কিছু বলছেন না যে,কি ভাবছেন?
আমি বললাম -ফোন কেন করেছ,বললে না যে।
-এমনি কেমন আছেন,তাই জানতে।
-বাঃ খুশী হলাম।তা তোমার আপুকে দাও,ওর সাথে একটু কথা বলি।
-এই যা:।আপুর সাথে কথা বলবেন কি।আপু তো এখন বাইরে,বাসায় নেই।তারপর একটু থেমে বলল-আজ রাখি,ভাল থাকবেন।
বাড়িতে এসে বিষয়টা নিয়ে ভাবতে লাগলাম।মেয়েটি কি কিছু লুকোচ্ছে?সে কি আমার প্রতি দূর্বল।হয়তো ,হয়তো নয়।কিন্তু আমি?আমিও কি দূর্বল হয়ে পড়ছি তার প্রতি।তা না হলে ফোন বেজে উঠলেই তার কথা প্রথমে মনে পড়ে কেন।কিন্তু আমার তো এখন আবেগের বয়স নেই।আমার এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়। মেয়েটির সাথে নিশ্চয়ই আমার কমপক্ষে চৌদ্দ পনের বছর বয়সের পার্থক্য হবে।আর মেয়েটি, তার আবেগের বয়স,এ বয়সে অনেককেই ভাল লাগবে।ভালবাসতে মন চাইবে।সেটাইতো স্বাভাবিক।
ফিল্ড থেকে ফিরতেই রিসেপসনিষ্ট জানালেন দুজন অতিথি ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছেন আমার জন্য।আমি রুমে পাঠাতে বলে আমার রুমে চলে এলাম।
একটু পরে দুটো মেয়ে ঢুকল।স্কুল পোশাক পড়া দুটো মেয়ে লিমা ও একজন।
-কেমন আছেন?
-ভাল,তোমরা।
-ভাল।
চেয়ারে বসতে বলে বললাম-স্কুল থেকে ফিরছো বুঝি?
লিমা মাথা নীচু করে সায় দিল।
-ও তোমার বান্ধবী?
-শুধু মাথাটা উচু করে জ্বী বলে আবার মাথাটা নীচু করে ফেলল লিমা।
-কি নাম তোমার?
-সাথী।স্কুল এস.এস.সি পরীক্ষার ছুটি।
-তা বেশ লম্বা ছুটি তাহলে।
আজ আবার অবাক হলাম।লিমা সামনা সামনি কথা বলতে লজ্জা পাচ্ছে।
এবার লিমা চোখ তুলে বলল-আপনাকে আমাদের ফোন নম্বরটা দিলে ফোন করবেন তো।
আমি বললাম- বাঃ বেশ তো।তোমাদের সাথে যখন পরিচয় হল,কেন করব না।অবশ্যই তোমাদের খোঁজ খবর নেব।
ফোন নম্বর লেখা একটা কাগজ বাড়িয়ে দিল।
লিমা মাথা উচু করে বলল-তবে আপনি আব্বা আম্মাকে নালিশ দিবেন নাতো!
আমি অবাক হয়ে বললাম-নালিশ,কেন কিসের নালিশ?
-না আমরা যে এখানে আসি,ফোনে আপনার সাথে কথা বলি।
আমি বললাম-আচ্ছা।তা তোমার আপুকে দেখাবে না।
-আমরা আসি বলেই তারা দুজনে প্রায় দৌড়ে রুম হতে বেরিয়ে গেল।আমার কথার জবাব কিংবা আমাকে কোন কথা বলবার সুযোগ না দিয়ে তারা চলে গেল।
দুদিন পর মনে হল একটু ফোন করি।ওপাশ থেকে ভারী পুরুষের কণ্ঠস্বর শোনা গেল-হ্যালো।
আমি কিছুটা ভড়কে গেলাম।বললাম-হ্যালো,এটা কি লিমাদের বাড়ি?
-জ্বী।
-ওকি আছে?
-আপনি কে বলছেন?
-আমি কি বলব বুঝতে পারছি না।একটু ভেবে নিয়ে বললাম-ওর বন্ধু।
ও পাশের কন্ঠস্বর হো হো করে হেসে উঠল।-বন্ধু! এ কথাটা বলতে এতক্ষন লাগে।ছোট্ট একটা ছেলের কন্ঠস্বর।
আমি অবাক হয়ে বললাম-তুমি কে?
-আমি মিশু।লিমা আপুর ছোট্ট ভাইয়া।কেমন ভয় পাইয়ে দিয়েছিলাম।
আমি সাহস পেলাম।যাক এর সাথে কথা বলা যাবে।
-তা লিমা কোথায়?
-আপুতো বাইরে গেছে।
-আর তোমার বড় আপু?
-বড় আপু!মনে হল বেশ অবাক হল মিশু।
-হ্যা তোমার বড় আপু।
-তুমি আপুর কেমন বন্ধু হে,তুমি জান না আমরা দুভাই বোন।আমি আর লিমা আপু।
আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম।তাহলে সব মিথ্যে।লিমা মিথ্যা পরিচয়ে আমার সাথে দেখা করতে এসেছে।
মিশু বলল-কি কিছু বলছ না যে।আপু আসলে কিছু বলতে হবে?
-না,বলে রিসিভারটা রেখে দিলাম।
পরদিন সকালে ফোন বেজে উঠল।
-হ্যালো-
-কেমন আছেন?
-ভালো।তুমি?
-আপনি কাল ফোন করেছিলেন?
-হ্যা কে বলেছে?
-মিশু।
-কিন্তু আমি তো আমার পরিচয় দেয়নি।
-মিশু বলেছে আপু তোমার বন্ধু ফোন করেছিল।আপনি বাদে আমার আর কোন বন্ধু নেই তো।
-তাই নাকি!
-হ্যা আপনি রাগ করেননি তো।আমি মিথ্যে বলেছি যে।
-কিন্তু তুমি মিথ্যে বলতে গেলে কেন?
কিছুক্ষণ কোন শব্দ নেই।আমি বললাম-হ্যালো কিছু বলছ না যে।
-আপনাকে আমার---তারপর আবার কোন কথা নেই।
-আপনাকে আমার খুব ভাল লাগে।
-আমি বললাম-বেশ তো।
-আমি আপনাকে ভালবাসি।
এ রকম কথা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।কিছুটা অপ্রস্তুত হলাম।কি বলব ভেবে পাচ্ছিলাম না।
লিমা বলল-আপনাকে ছাড়া আমি আর কিছু ভাবতে পারি না,পারছি না।আমার পড়াশুনা একদম হচ্ছে না।তারপর একটু থেমে নিয়ে বলে-আপনার কি আমাকে পছন্দ হয়েছে?
আমি বললাম-দেখো লিমা এটা পছন্দ অপছন্দের ব্যাপার নয়।তুমি এখনও অনেক ছোট।এসব বিষয়ে ভাববার বা সিদ্ধান্ত নেবার সময় কোনটিই তোমার হয়নি।তুমি এখন মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা কর--
কথা থামিয়ে দিয়ে বলে-আমাকে ভাল না বাসলে যে,আমি পড়তে পারব না,পড়তে পারছি না।
আমি বললাম-দেখো তোমার যে বয়স,এ বয়সে এরকম অনেককেই ভাল লাগবে,ভালবাসতে মন চাইবে।আজ যেমন আমাকে ভাল লাগছে,হয়তো কদিন পর দেখবে অন্যজনকে ভাল লাগছে।
-উপদেশ দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।এবার বলুন,আপনি কি আমাকে ভালবাসবেন?আমি যে আপনাকে কখনও ভুলতে পারব না।আমি আপনাকে প্রচণ্ড প্রচণ্ড ভালবাসি।
-লিমা তুমি পড়াশুনা কর,আমি চাই তুমি অনেক বড় হও।
ওপাশ থেকে লিমা লাইনটা কেটে দিল।
বিষয়টা নিয়ে আমি অনেক ভাবলাম।বেশ কদিন হল লিমা ফোন করেনি।আমিও অফিসের কাজে বেশ সময় দিলাম।ভাবলাম ভালই হল মেয়েটি নিশ্চয়ই আমাকে ভুলে গেছে।পড়ায় মন দিয়েছে।এভাবে ছয় মাস পার হয়ে গেল।আমার বদলীর অর্ডার চলে এসেছে।নিজ জেলা শহরে।চলে আসবার পূর্বে লিমার কথা মনে পড়ল।ইচ্ছে হল একবার কথা বলে যাই।ফোন করলাম।-হ্যালো।স্লামালিকুম।এটা কি লিমাদের বাড়ি?
-জ্বী,ও পাশ থেকে এক ভদ্রমহিলার কন্ঠ শোনা গেল।
আমি আমার পরিচয় দিয়ে বললাম-ও কি আছে?
তিনি বললেন-আমি ওর মা বলছি।ওতো ওর খালার সাথে একটু বাইরে গেছে।তা ওর সাথে আপনার কি দরকার?
-না মানে,ওর সাথে পরিচয় হয়েছিল তো,বেশ লক্ষ্মী মেয়ে।আমি আজ চলে যাচ্ছি।তারপর একটু থেমে নিয়ে বললাম-আপনার যদি কোন আপত্তি না থাকে,আমি আপনাদের বাড়িতে একটু আসতে পারি।
-বাঃ বেশতো আসুন পরিচিত হওয়া যাবে।
বেশ আনন্দের সাথেই গ্রহন করলেন লিমার মা।হয়তো ভাবছেন এরিয়া ম্যানেজার,বয়স্ক লোক হবে হয়তো।
মায়ের কাছ হতে নেয়া ঠিকানা ধরে চকলেটের কৌটা কিনে বাড়িতে উপস্থিত হলাম।
দরজা খুলে ভিতরে বসতে দিল কাজের মেয়ে।লিমার বাবা মা দুজনে ড্রইংরুমে এসেই চমকে উঠলেন।
আমি আমার পরিচয় দিয়ে বললাম-লিমা ফিরেনি?
লিমার মা বললেন-না ফেরেনি,আপনি আসুন।
আমি অবাক হলাম,বললাম-আমি বুঝতে পারছিনা।আপনি আসতে বলে আবার এখন বিদায় করে দিচ্ছেন।
-জ্বী,আপনি আসুন।লিমার সাথে দেখা হবে না।
-আমি বললাম- আমার অপরাধ। ্
এবার লিমার বাবা মুখ খুললেন-আপনি বসুন।আপনি কি সত্যিই এরিয়া ম্যানেজার?
আমি বললাম-জ্বী এবং বদলী হয়ে আজই চলে যাচ্ছি।
-আপনার সাথে লিমার পরিচয়।
-ও আমার অফিসে এসেছিল।
আমি মনে মনে ভাবছি এরাতো লিমা এবং আমার কথা জানবার কথা নয়।তবে মনে হয় কিছু একটা সমস্যা হয়েছে।
-আমি আসলে বুঝতে পারছিনা।মনে হচ্ছে আপনারা কিছু লুকচ্ছেন?
-আমরা না আপনি ।লিমার মা বেশ রাগত স্বরে জবাব দিলেন।
-আমি মানে_-
-হ্যা আপনি।আপনাকে লিমা পছন্দ করে,ভালবাসে এটা জানেন।
-পছন্দ করে এটা জানি।
-এতটুকু একটা মেয়ের সাথে আপনি ছিঃ ছিঃ
আমি বললাম-দেখুন বিষয়টা আমিও তাকে বুঝিয়েছি।এবার লিমার বাবা মুখ খুললেন-লিমা আপনাকে প্রচণ্ড ভালবাসে।সামনেই ওর পরীক্ষা ওর রুমে আপনার ছবি টাঙ্গিয়ে রেখেছিল,আর সারাক্ষণই পড়াশুনা বাদ দিয়ে আপনাকে নিয়ে ভাবত।
আমি অবাক হলাম,আমার ছবি।কিন্তু আমার ছবি পেল কোথা থেকে?
-সে প্রশ্ন তো আমারও।লিমার মা ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললেন।অল্প কদিন হল আপনার সব ছবি তার রুম থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।ও মনে হয় আপনাকে ভুলতে বসেছে।কাজেই আমরা চাইনা তার সাথে আপনার আর দেখা হোক।
-আসলে আমি জানিনা এত কিছু ঘটে গেছে।আমায় ক্ষমা করবেন।
সোফা থেকে উঠে বের হতে যেতেই লিমা সঙ্গে একটা ছোট ছেলে সহ হাজির।
আমরা সবাই থমকে দাঁড়ালাম।আমি বেশ বিব্রতর অবস্থায় পড়লাম।
লিমা বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল-ও আপনি কেমন আছেন,কখন এসেছেন,বাড়ি চিনলেন কেমনে?
লিমার মা বাবার দিকে তাকিয়ে লিমাকে বললাম-ভাল করে পড়াশুনা কর।আর আমি আজ এ শহর থেকে চলে যাচ্ছি।
-কোথায় ,কেন?
-আমি বদলী হয়েছি একটু পরেই ট্রেন।
-আমার জন্য দোয়া করবেন।যেন পরীক্ষায় ভাল ফল করতে পারি।
-অবশ্যই বলে এগোতে নিতেই লিমা থামিয়ে দিয়ে বলল-একটু দাঁড়ান আমি আসছি।
আমি দাড়িয়ে লিমার বাবা মার দিকে অসহায়ের মত তাকিয়ে থাকলাম।
অজানা আতংকে দাঁড়িয়ে থাকলাম।বুঝতে পারছি না লিমা কি করবে।
অল্পক্ষণের মধ্যেই লিমা এসে হাজির।হাতে একটা সুদৃশ্য প্যাকেট।
প্যাকেটটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল-এটা আপনার জন্য।
প্যাকেটটা নিয়ে বেরোতে যেতেই আবার থামতে হল-চকলেটের কৌটাটা কার জন্য?ছোট্ট মিশুর কথায় হেসে টেবিল হতে চকলেটের কৌটোটা মিশুর হাতে দিয়ে বললাম-এটা তোমার আর আপুর জন্য।
চকলেটের কৌটাটা নিয়ে মিশু বলল-তুমি নিশ্চয়ই আপুর সেই বোকা বন্ধু।
আমি শুধু হেসে মাথা নেড়ে সায় দিয়ে বেরিয়ে এলাম ঘর হতে।
ট্রেনে চড়ে জানালার পাশে সিটে বসে পড়লাম।ট্রেন চলতে শুরু করেছে।ব্যাগ হতে লিমার দেয়া প্যাকেটটা নিয়ে মোড়কটা খুলে ফেললাম।সমরেশ মজুমদারের বই,সাতকাহন।কভারটা উল্টালাম।ভেতরে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা-আমার অতি প্রিয়,ভাললাগা,ভালবাসার মানুষটির জন্য-লিমা।
জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বাড়ি ঘরগুলোর পিছন দিকে পালানো দেখতে থাকলাম।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন