বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২১ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬
গল্প/কবিতা: ১৫টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৩২

জলনৌকো

কি যেন একটা জানুয়ারী ২০১৭

ঈদের শাড়ী

শাড়ী সেপ্টেম্বর ২০১২

আবছা আবছা বাবার স্মৃতি

বাবা জুন ২০১২

গ্রাম-বাংলা (নভেম্বর ২০১১)

মোট ভোট ৩২ গ্রাম বাংলার একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি

জাবেদ ভূঁইয়া
comment ১৮  favorite ০  import_contacts ৪১৬
||এক||
গ্রামটা খুব ছোট ।আকাবাকা মেঠোপথ ।চারদিকে ফসলের মাঠ ।মাঝখানে সবুজদের বাড়িটা ।ঘন সবুজে ঘেড়িত একটা ছোট্ট বাড়ি ।তিনজন থাকে ।একসাথে ঘরে স্থান সংকুলান হয়না তাই গাদাগাদি করে থাকে ।তবে নেই কোন উত্‍কুন্টা ,চিন্তা ।চারপাশে বিশুদ্ধ অক্সিজেন ।মুক্ত মুক্ত জীবন ।সবুজের মা ভিক্ষা করে এ বাড়ি ও বাড়ি ।বাবাকে সে কোনদিন কাজ করতে দেখেনি ।সারাদিন এদিক ওদিক ঘুরে ফিরে আর সন্ধায় বাড়ি ফিরেই মাকে মারদোর ।জুয়োর টাকার জন্য ।জুয়ো জিনিসটা আসলে কি সেটা ঠিক ভাল করে জানেনা তৃতীয় শ্রেণী পড়ুয়া সবুজ ।তবে বুঝে ওটা খুব খারাপ জিনিস ।ওটা করতে অনেক অনেক টাকার প্রয়োজন হয় নিত্যদিন ।ওটা মানুষকে পশুতে পরিণত করে ।
||দুই||
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়ে সবুজ ।আজ থেকে গরমের জন্য স্কুল ৮ থেকে শুরু হবে ।খুশি মনে বই খাতা গুছিয়ে বসে বাইরে তাকায় ও ।ছোট্ট একটা উনুনে মা রান্না করছে ।দাউ দাউ করে চারদিকে আগুন জ্বলছে ।মাঝে হাড়িটাতে দগ দগ করে ভাত ফুটছে ।
:-মা আর কতবার লাগেবে ?
একটু তাড়স্বরেই প্রশ্ন করল সবুজ ।
:-এই তো বাপধন আর বেশিখন লাগবেনা নে ।
মার কন্ঠে ধৈর্যতা ,আকুলতা আশ্বাসের মিশেলে এক অদ্ভুত স্বর ।
এই ফাকে একটু পড়ে নেই না কেন ? মনে মনে ভাবে সবুজ ।রাতে সমাজটা ভাল করে পড়তে পারে নাই ও ।পড়বেই বা কি করে কেরাসিন যে ছিলনা ।
হঠাত্‍ করেই কালকের ঘটনাটা ঝাপসে উঠে সবুজের চোখে ।
কাল ছিল শনিবার ।চরসুবুদ্ধী বাজারের হাট ।মা সারাবাজার হেটে হেটে এর কাছে ওর কাছে চেয়ে কটা টাকা এনেছিল কেরোসিন আর আধপোয়া ডাল কেনার জন্য ।যেইনা সবুজ মার কাছ থেকে টাকাটা নিয়ে বাইরে বেরোল অমনি বাবা এসে হাজির ।আর যায় কোথায় ।সবুজের হাতে ১০০টাকার নোট দেখে জ্বলসে উঠলো বাবার জোয়ারী চোখ ।
:-দে টাকাটা দে ।
:-না দেবেনা ।এইডা মার টাহা ।
প্রতিবাদ করে উঠে সবুজ ।ও ওর দুটা চোখ বাবার চোখে নিবদ্ধ করে ।একটা লোভি ,পশুর দৃষ্টি ওকে এ ফোড় ওফোর করে দিয়ে যায় ।বেশিখন তাকিয়ে থাকতে পারেনা ও ।
:-দে কইতাছি ।নাইলে কিন্তু ...
:- কি করবা তুমি !তোমার লাইগা হাড়া হাটে ঘুড়ি টাকা আনিছি ?
বাবার কথা কেড়ে নিয়ে খেকিয়ে উঠে মা ।
সবুজ লক্ষ করে চারদিকে কি যেন একটা খুঁজছে ওর জোয়ারী বাবার চোখ ।হ্যা পেয়েও যায় ।রান্নাঘরের পাশেই জ্বালানী হিসেবে ব্যবহারের জন্য একটা বাঁশ এনে রেখেছিল মা ।ওটাই কুড়িয়ে এনে মাকে বেদম পিটাতে লাগল বাবা ।
:-এই থাম বাবা ।থাম ।
সামনে দিয়ে আকড়িয়ে মাকে বাবার পশুত্বের ছোবল থেকে রক্ষা করতে চেষ্টা করে ও ।
কিন্তু না ।জোয়ারী বাবার লোভ তো ওর হাত ।মাকে ছেড়ে দিয়ে হিচড়ে পাচড়ে টাকাটা হাতে নিয়ে গালে একটা চড় বসিয়ে দেয় সবুজের ।ব্যাথায় কান্না ভূলে বাবার হনহন করে চলে যাওয়ার পথে তাকিয়ে থাকে সবুজ ।চোখদুটো কান্নায় ঝাপসা হয়ে যায় ওর ।

:-ও সবুজ খাতি আই ।
মায়ের ডাক পড়ে ।সবুজ আসতে আসতে চোখ মুছে খেতে চলে যায় ও।
||তিন||
ঘন ঝুপটা পাড় হয়ে বই হাতে রাস্তায় উঠে পড়ে সবুজ ।পড়নে ময়লা ছেড়া সাদা শার্ট আর তিন বছরেরও পুরোনো একটা প্যান্ট ।এখানে ওখানে ছ্যাড়া স্থানে মা সুন্দর করে তালি লাগিয়ে দিয়েছে ।
আকাবাকা রাস্তাটা দিয়ে স্কুলের পথে হেটে চলে ও ।হঠাত্‍ করেই দখিন থেকে একটা দমকা হাওয়া উড়ে আসে ।সবুজের সবাঙ্গ বুলিয়ে দিয়ে চলে যায় কোথায় ।
সবুজের মনে হয় হাওয়াটা ওর সব দুঃখ যন্ত্রনা যেন কোথায় উড়িয়ে নিয়ে গেছে ।
ফুরফুরে মেজাজে স্কুল প্রাঙ্গনে প্রবেশ করে সবুজ ।একজন ভাল ,সুশিক্ষিত মানুষ হতে ।ওর বাবার মতো পশু হতে নয় ।

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন