বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৫ অক্টোবর ১৯৭০
গল্প/কবিতা: ৬২টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৮৫

বিচারক স্কোরঃ ১.৫১ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৩৪ / ৩.০

প্রতীক্ষার অবসান

আমার আমি অক্টোবর ২০১৬

" বসন্ত বরণ । "

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

" অমর প্রেম । "

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

স্বাধীনতা (মার্চ ২০১৩)

মোট ভোট ৩৯ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৮৫ সরল ভাবনা

এফ, আই , জুয়েল
comment ১৯  favorite ০  import_contacts ৭৩৮
এই তো সেদিনের কথা । পলাশীর আম্রকাননে তুমুল লড়াই হচ্ছে । তরুণ সেনা-নায়ক মীর মদন ও মোহনলাল অমিতবিক্রমে যুদ্ধ করে ক্লাইভ বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করে দিচ্ছে । চারদিকে নবাবের তরুণ সেনাদের বীরোচিত উল্লাস । জয় শুধু সময়ের ব্যাপার । এরকম একটি মুহূর্তে মীরজাফরের নেতৃত্বে অতি সেয়ানা অমাত্যবর্গের ষড়যন্ত্রের ফলে নবাব সিরাজ দিশেহারা হয়ে পরেন । তরুণ প্রজন্মের তরুণ সেনাদের নিশ্চিত বিজয় সেয়ানা প্রজন্মের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে হাতছাড়া হয়ে যায় । বাংলার স্বাধীনতা অস্তমিত হয় । শুরু হয় ব্রিটিশ রাজত্ব । ইংরেজিকে রাষ্ট্রভাষা করা হয় ।

ধর্মীয় মূর্খতাকে কাজে লাগিয়ে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়িয়ে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বাঁধানো হয় বার বার । সেই স্বার্থলোভী সেয়ানা প্রজন্মের সহায়তায় শুরু হয় ইংরেজদের সীমাহীন শোষণ , দুঃশাসন ও নিপীড়ন । কিন্তু এ অবস্থা বেশীদিন চলতে পারে নি । জেগে উঠে তরুণ প্রজন্ম । শুরু হয় স্বদেশী আন্দোলন । নারীরাও এগিয়ে আসে জীবন বাজী রেখে । ভারতবর্ষ স্বাধীন হয় । পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি দেশের জন্ম হয় । কিন্তু স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল অধরাই থেকে যায় । উর্দু আর হিন্দিকে দুদেশের রাষ্ট্রভাষা করা হয় । তরুণ প্রজন্মের উদারতার সুযোগে সেয়ানা প্রজন্ম ক্ষমতার দ্বন্দ্ব , দুর্নীতি আর লুঠপাটে মেতে উঠে । শুরু হয় জন-অসন্তোষ । এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ বাঁধে । ভারতীয় ট্যাঙ্ক বহর লাহোর অভিমুখে এগিয়ে যায় । বিপন্ন পাকিস্তান । পরাজয় নিশ্চিত । এমন সংকটময় মুহূর্তে বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালী সেনারা বুকে মাইন বেঁধে ট্যাঙ্কের নিচে ঝাঁপিয়ে পরে । একেকটি ট্যাঙ্ক বিকট শব্দ করে হাওয়ায় উড়তে থাকে । সেই যাত্রায় পাকিস্তানের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাথতে বাঙালী সৈন্যদের বীরোচিত ভূমিকা ইতিহাস সৃষ্টি করে । এরকম অবস্থার পরেও পাকিস্তানী সেয়ানা নেতাদের মিথ্যা আর চাতুরী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অসন্তোষকে বাড়িয়ে তোলে ।

১৯৭১ সাল । বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে ৭ই মার্চ জাতির পিতা শেখ মজিবর রহমান একটি কালজয়ী ভাষণ দিলেন । জেগে উঠলো বাঙালী । তরুণ প্রজন্ম মুক্তির বাসনায়---স্বাধীনতার চেতনায়---নয় মাসের যুদ্ধে লড়াকু ভূমিকা পালন করে গেল ।

আশা ছিল---, দেশ স্বাধীন হলে আমরা আগের চেয়েও অনেক সুখে থাকতে পারব । কিন্তু বিধি বাম । আবার সেয়ানা প্রজন্মরা স্বাধীনতাকে বিফল মনোরথ করে দিলো । মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে গেল । মৌলিক অধিকার মুখ থুবড়ে পরলো ।

একটি স্বাধীন দেশের সুন্দর ধর্মীয় নির্দেশনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য জাতির পিতা ইসলামিক ফাউন্ডেশন গঠন করেছিলেন । বহুভাষাবিদ ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সাহেবের নেতৃত্বে নামকরা বাঙালী বুদ্ধিজীবীদের প্যানেল করে কুরান ও হাদীসের বঙ্গানুবাদ করেছিলেন । এতে করে মাতৃভাষায় ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা এদেশবাসীর জন্য সহজ হয়েছিল । কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে এই ধারা মুখ থুবরে পরে । উদাসীনতা ও উদারতার মিশেলে ধর্মীয় নির্দেশনার ক্ষেত্রে এক মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হয় । সেয়ানা প্রজন্ম আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠে । এর একটি অংশ ধর্মের নামে ধান্ধাবাজী শুরু করে দেয় । আর একটি অংশ গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে তোলে । আর একটি অংশ লুঠপাট , দুর্নীতি করে কালোটাকার মালিক বনে যায় । জনগণ দিশেহারা হয়ে পরে । স্বাধীনতা এলো । কিন্তু একে রক্ষা করবে কে ? সেয়ানা প্রজন্মের দ্বারা কখনোই সম্ভব নয় । সবক্ষেত্রে সেয়ানা প্রজন্মের দৈরাত্ব এত বেড়ে গেছে যে---, জনগণ স্বাধীনতার সুফল আর কি ভোগ করবে ---,এটা কেমন ---সেটা ভাববার মানসিকতা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছে ।

এই অবস্থার অবসানের সময় এসেছে । জাতির তরুণ প্রজন্ম আবার জেগে উঠেছে । এদেশের মানুষের সত্যিকার মুক্তির জন্য ধর্ম-ব্যবসায়ীসহ সব সেয়ানাদের মুখোশ খুলে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র ।

তরুণ প্রজন্মের হাতে নেশা আর নীল ছবি তুলে দিয়ে সেয়ানা প্রজন্ম কম খেলা খেলেনি । বিবেক -বুদ্ধি আর জ্ঞান-ধ্যান সহ তরুণ প্রজন্ম যদি একবার জেগে উঠে---, তাহলে যুগ যুগ ধরে স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেয়া মতলববাজ সেয়ানা প্রজন্ম খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না । পিছু হটতে বাধ্য হবে । জয় বাংলার গগন বিদারী আওয়াজে সকল অপশক্তির পতন হবে । জাতী আবার জেগে উঠবে---, জেগে উঠবে বার বার ।।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন