বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ১টি

সমন্বিত স্কোর

২.৭২

বিচারক স্কোরঃ ১.৫২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.২ / ৩.০

গল্প - প্রায়শ্চিত্ত (জুন ২০১৬)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৭২ অবশেষে....

মাহমুদ শান
comment ৫  favorite ১  import_contacts ১৪৪
ভালোবাসা দিবসে আমার কোনও বিশ্বাস নেই। শুধু ভালোবাসা দিবস কেন কোনও দিবসই আমার কাছে বিশেষ কোনওে আকর্ষণ বয়ে আনে না। বাবা দিবস, মা দিবস, ভাষা দিবস, স্বাধীনতাদিবস, বন্ধু দিবস এমনকি নিজের জন্মদিনটাও আমার কাছে খুব প্রিয় কিছু নয়। কেন এমনটি হয় আমি জানি না। তবে এড়াবার জন্য বলি ওসব দিবস টিবস আবার কী? আমার কাছে সব দিনই সমান। প্রতিদিনই আমি মাকে ভালোবাসতে চাই বাবাকে মনে রাখতে চাই, বন্ধুত্বের জন্য সেক্রিফাইস করতে চাই। আর স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবস ভালো লাগে না তার কারণ হচ্ছে এ দু’টি দিবসে এতো বেশি রাজনৈতিক আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ চলে যে হঠাৎ না নিজেই ক্রসফায়ারে পড়ে যাই এমন ভয় হতে থাকে। তাছাড়া দিবস পালনের নামে সরকারি দল জনে জনে চাঁদাবাজি করে। সারাদিন রাত হিন্দি গান আর শেখ মুজিবের ভাষণ চালায়। যেন স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও এই ভাষণই শোনাটা সবার দায়িত্ব। কারও পড়ালেখা থাকতে পারে না। কারও অসুস্থ স্ত্রী বাবা মা বা সন্তান থাকতে পারে না।কার কী হলো তা জানার কোনও প্রয়োজন আছে বলে কেউ মনে করে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতাদিবসে হিন্দি গান বাজানো হলে সেটি স্বাধীনতা চেতনায় তীব্র আঘাত হানে। আমরা স্বাধীন হয়েছি একদেশ থেকে অন্যদেশের দাস হবার জন্য? আমরা ক্রমশ ভারতের দাসত্বে বন্দি হচ্ছি। আমাদের সবকিছুই আজ ভারত নিয়ন্ত্রিত। আমাদের মিডিয়া, কৃষ্টি কালচার, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি ভীষণ ভাবে নতজানু ভারতের প্রতি। আমাদের বিজিবি বাহিনী যেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষীবাহিনীর বি টীম। তারা কখনও উঁচু গলায় কৈফিয়ত দাবি করতে পারে না বর্ডারে প্রতিনিয়ত কেন বাংলাদেশী খুন হয় বিএসএফর গুলিতে? অন্যদিকে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে হিন্দি চ্যানেলের মাতামাতি। হিন্দি গান ছাড়া আমাদের কোনও ফাংশন চলে না।বাংলাদেশের শিশুরা সকালে উঠেই হিন্দিতে ডাবিং করা কার্টুন ডোরেমন দেখতে বসে। তারা বাংলা ইংরেজির চেয়ে ফ্লুয়েন্টলি হিন্দি বলে। স্বাধীন সত্তা কোথায়? তাহলে এতো ঢাকঢোল পিটিয়ে দিবস পালন কেন করা হয়? যদি চেতনাই না জাগ্রত হয়? উল্টো এক মুক্তিযোদ্ধার দল আরেক রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধার দলকে রাজাকার, আইএসআই বলে গালি দেয়। ছিঃ কী জঘন্য রাজনীতি! যাই হোক এসব কারণে ভালোবাসা দিবসটাও আমার কাছে সিগনিফিকেন্ট কিছু নয়। কিন্তু এবারের ভালোবাসা দিবসটি যেন একরাশ ভালোবাসা নিয়েই ফিরে এলো আমার জীবনে। রাতে হঠাৎ একটা মিসকল এলো।ফোন দিয়ে দেখি মেয়ে কণ্ঠ। প্রথম প্রশ্ন কেমন আছো? আমাকে ভুলে গেছো? -নাহ ভুলিনিতো!... আমার অনেকদিন আগের স্মৃতি। অনেক ভালোবাসার স্মৃতি একমুহূর্তে চোখের সামনে ভেসে উঠলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি বছর অধিকাংশই কেটেছে যার কথা ভেবে সেই মেয়েটির ফোন আজ এত বছর পর।আমি ভুলে গেছি কি না জানতে চায়। ও নিশ্চিত আমি ভুলতে পারিনি। ভুলে গেছি জানলে কোনওদিন ফোন দিত না। -শুক্রবার আমার বিয়ে, তোমার অনুমতি চাই। -মানে? তুমি এতদিন বিয়ে করোনি? -না -সত্যিই? -হ্যাঁ -কারজন্য ওয়েট করেছো? -কারও জন্য নয়। ভাগ্যের জন্য। -বুঝলাম না। -কেন বুঝলে না? আমিতো বলেইছি আমি কোনওদিন বিয়ে করবো না। -তাহলে এখন কেন করছো? -বাবা মার কথা আর ফেলতে পারলাম না। -তো সেই বাবা-মার কথা আরও আগে শুনলেই ভালো হতো! -আরেকটা কারণ আছে। -কী? -যে ছেলেটাকে বিয়ে করতে যাচ্ছি সে তোমাকে মেনে নিয়েছে। -এর মানে কী? -এর মানে হচ্ছে আমি ওকে বলেছি আমার আগে একটা বিয়ে হয়েছে। এরপরও ও আমাকে বিয়ে করতে প্রস্তুত কি না। ও রাজি হয়েছে। এর আগে যতোজনকে বলেছি তারা দৌড়ে পালিয়েছে। -তো প্রথম বিয়েটা তোমার কার সাথে হলো? -কেন তুমি জানো না? -নাতো। তুমিতো আমাকে জানাওনি। -তোমাকে জানাবো কেন। প্রথম বিয়ে তো তোমার সাথেই হয়েছে। -ফাজলামি করবা না। তুমি বিয়ে করলে আমি কোনওদিন অন্য কোনও মেয়েকে বিয়ে করতাম? তুমিইতো আমাকে খালিহাতে ফেরৎ পাঠালে। আমিতো তোমাকে বিয়ে করতেই গিয়েছিলাম। -আমিকি তখন এতকিছু বুঝতাম? সেই একদিনের না তে আমার সারাজীবনটা এভাবে নষ্ট হয়ে যাবে তা কি আমি কোনওদিন ভেবেছি? -তাহলে কী ভেবেছিলে? -ভেবেছিলাম তুমি ওয়েট করবে। -ওয়েট করতে কি তুমি বলেছিলে?কোনও ইঙ্গীত কি দিয়েছিলে?দাওনি। আমি ১৮টা দিন নানাভাবে নিজেকে বোঝাতে চেষ্টা করেছি তুমি আমাকে ভালোবাসো। এটা তোমার প্রত্যাখ্যান নয়। কিন্তু এই আঠারো দিনে তুমি একবারও আমাকে ফোন করোনি। এরপর সব আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে আমিই তোমাকে ফোন দিলাম।তুমি বললে তুমি ব্যস্ত। এরপর আমার কী ভাবা উচিৎ্? আর ঠিক তখনি আমি সিদ্ধান্ত নিলাম তোমার আগে আমি বিয়ে করবো।তোমার অপমান অবেহেলার প্রতিশোধ নিবো। -নিয়েছোতো। মন ভরেছে? -না এই প্রতিশোধে কারও মন ভরে না। -আমার বিয়েতে আসবে? -না। -কেন? -ভালোবাসার মানুষের বিয়ে হয়ে গেলে কারই বা ভালো লাগে? -ও খানিকটা হাসে। তারপর বলে তুমি কি বলো আমি এখনও বিয়ে করবো না? -না বিয়েতো তুমি করবেই কিন্তু সেই কষ্টটা কেন আমি পাশে দাঁড়িয়ে সহ্য করবো? -তাহলে তুমি আমাকে বিয়ে করো! -আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। -কী হলো? উত্তর দাও -আমি গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম- -সেই সুযোগ কি আর আছে? -যদি থাকে? -না নেই। -কোনদিক থেকে নেই? তোমার দিক থেকে? নাকি আমার দিক থেকে? -কোনও দিক থেকেই নেই। -কই আমিতো বলছি, আসো, আমাকে নিয়ে যাও। -কথাটাকি সত্যিই। আমি তোমাকে নিতে এলে তুমি আসবে আমার সাথে? -তোমার কী মনে হয়? -তাহলে তোমার মাকে দাও ফোনটা। -এবার ও অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। বুঝলাম ও আবার আমার সাথে গেইম খেলেছে। -আমি আরও জোরালো ভাবে বললাম। -আমি আসছি তুমি তৈরি থেকো। আর তোমার মাকে ফোন দাও, না হয় আমি অন্যভাবে তার সাথে যোগাযোগ করবো। -পাগলামি করো না।যা হবার হয়ে গেছে। এবার আমাকে আমার বিয়েটা করতে দাও। -আমিতো ঠেকাইনি।তুমি যাকে খুশি বিয়ে করো। একবার নয় ৫বার করো। আমিতো সেদিনই তোমার দাবি ছেড়ে দিয়ে এসেছি। যেদিন তুমি আমাকে খালিহাতে বিদায় দিলে, বুঝিয়ে দিলে তোমার মা-খালারা আমাকে পছন্দ করেনি। -ঝগড়া করোনা । একটু সুন্দর করে বলো। তারপর ও অনেকক্ষণ চুপ থাকে বিড়িবিড়করে কী যেন বলে আমি বুঝিনি। কাঁদোকাঁদো কণ্ঠে বলে এতটাদিন আমি তোমারই ছিলাম কিন্তু টের পাইনি। আজ যখন বিয়ের বন্দোবস্ত হয়ে গেছে তখন মনে হচ্ছে আমি বুঝি সত্যিই তোমার থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছি। -তোমার সাথে কি আমার এমন কোনও স্মৃতি আছে? যা নিয়ে তুমি এতটা বছর কাটিয়ে দিতে পারো? -না নেই।আমি তোমাকে কতটুকুইবা পেয়েছি। আমি যখন এইটে পড়ি তখন একবার এসেছো। তারপর আবার এলে আমি যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি। আর তৃতীয়বার দেখা হলো তোমার ক্যাম্পাসে। আমি ভর্তিপরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম। আমার চান্স হলো না কেন? চান্স হয়নি বলেইতো আমি আর পেরে উঠলাম না তোমার সাথে। আমার বারবার মনে হচ্ছিল তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট আর আমি চান্সই পেলাম না! তা কী করে হয়? তোমার আমার সম্পর্ক হয় কি করে? তুমি কি তোমার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী সুন্দরী মেয়েদের রেখে আমাকে ভালোবাসবে?তাই সংকোচে তোমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করিনি। -কিন্তু আমি যখন সত্যিই তোমাকে আনতে গেলাম তখন কেন তুমি বেঁকে বসলে? -আমি আসলে তখন বুঝে উঠতে পারিনি। তুমি সত্যিই আমাকে বিয়ের অফার দিচ্ছ এটা আমি সিরিয়াসলি ভাবিনি। আমি ভেবেছি দুষ্টামি করছো। -তোমাদের ওখান থেকে ফেরার পর সারারাস্তায় আমি ফোনটাকে চোরের মতো পাহারা দিয়েছি। যদি তুমি ফোনকরে বলো, রাজি হও….আমি সঙ্গে সঙ্গে তোমার কাছে ফিরবো। তোমাকে না নিয়ে আমি কী করে যাই। কিন্তু না তুমি একটা ফোনও দিলে না। শুধু সেদিন কেন ১৮দিন তোমার কোনও কলই পেলাম না। কী নিষ্ঠুর তুমি। হঠাৎ মনে হলো বউ ডাক্তারের কাছে গেছে অনেক্ষণ হলো। এবার নিশ্চই ফিরবে।কথা শেষকরা দরকার।ভাবতে না ভাবতেই কলটা কেটে গেলো। ব্যালেন্স শেষ। ও কি ফোন ব্যাক করবে? না করবে না। ও জানে ফোন করলে সেটা আমার বউও ধরতে পারে আর সেটা হলে খুব বিশ্রী একটা কাণ্ড হবে। আমার বউর সাথে ওর বেশ কয়েকবার ঝগড়া হয়েছে। ঝগড়াটা একেবারেই মেয়েলি।আমার বউ ওকে যা খুশি বলেছে, ও ও যা পেরেছে বলেছে।তুই তোকারি যাচ্ছেতাই।…উফ! কী যে গেছে কয়েকটা দিন।… তারপর আমার বউ টেকনিক পাল্টায়। আমার নামে একগাদা বদনাম করে। বলে আমি ৬টা প্রেম করেছি। ওই আমার একমাত্র প্রেম নয়। কথা সত্য। প্রেম আমি আরও করেছি। সেটা আমি মনে করি দোষের কিছু নয়। তবে একজনকে রেখে আরেকজনের সঙ্গে নয়। একটার পর একটা করেছি।একটা ক্লোজ করে আরেকটা। আর কাউকেই আমি ঠকাইনি। আমার কাজিনকে আমি খুব ভালোবাসতাম। তখন জান ছিল না।কাজিন তার বাবা-মার চাপে বিমানবাহিনীতে কর্মরত এক ছেলেকে বিয়ে করলো।তারপর আমি বেশকিছুদিন শুন্যতা অনুভব করতেই হঠাৎ জানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। ওকে আমি প্রথম দেখি ক্লাস এইটে। কিন্তু তখন ওকে ভালোবাসার কথা বলার মতো পরিবেশ সাহস বা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।আমি মনে মনে ভালোবাসাতাম। ওর কাজিনের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করতাম ওর মনোভাব। কিন্তু কোনদিন ও আমাকে কিছু জানায়নি।তারপর হঠাৎ কয়েকবছর পর ও ফোন দেয়। সেই ফাঁকে আমি আমার কাজিনের সাথে প্রেমটা সেরে ফেলি।বাকী প্রেমগুলো প্রেম নয়। ছিঁটেফোঁটা।ফুপাতো বোনকে পছন্দ হতো। সরাসরি প্রপোজ করেছি, কিন্ত দুই ফ্যামিলির কেউ মেনে নেয়নি। পালিয়ে বিয়ে করতে চেয়েছি ফুপাতো বোন তাতে রাজি হয়নি। বরং ওর মা ওকে কিরাকসম দিয়ে আমার কাছ থেকে ওকে সরিয়ে নিয়েছে। অল্পদিনের হলেও সেই প্রেমটা ছিল অনেকটাই পরিণত বয়সের। একবাড়িতে আমরা ফুপাতো-মামাতো ভাইবোন ভাবী মিলে প্রায় ১০-১২জন। সবার ঘর আলাদা হলেও সম্পর্ক খুব ভালো। সেই ভাবীরা বড় আপুরা আমাদের এই প্রেমকে প্রাথমিকভাবে বৈধতা দিলেন। এমনকি সহযোগিতাও করলেন।কিন্তু প্যাচ লাগালো তৃতীয়পক্ষ। আর এমন প্যাচ যা অত্যন্ত জঘন্য। আমাকে ক্যাম্পাসে পাঠিয়ে দুই পরিবারের মাঝে বিশাল দেয়াল তুলে দিল আমার ছোট চাচা। একদিকে খেপিয়ে তুলল আমার ফুপুকে, অন্যদিকে খেপিয়ে তুললো আমার মাকে।ফুপুকে বলা হলো, তোর আর্থিক অবস্থা ভালো না, তাই বলে নিজের মেয়েকে এভাবে বিকিয়ে দিবি? এরকম কথা শোনার পর কোনও মায়ের পক্ষে কি সম্ভব আর দু’দণ্ড নীরব থাকা? আর আমার মাকে বলা হলো, আপনার ছেলে রাতে মেয়েকে নিয়ে ছিল, ওরা টোপ ফেলে আপনার সর্বনাশ করতে চায়। মানসম্মান নষ্ট করতে চায়। এ কথা শুনেতো আমার মা তেলেবেগুনে জ্বলে ফায়ার। আমাকে জিজ্ঞেস করে রাতে তুই কই ছিলি? কেন আপনি জানেন না আমি কোথায় ছিলাম? সত্যি করে বল তুই অমুকের সাথে একসাথে ছিলি না? আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম।আমার মা আমাকে এসব কী বলছে? প্রেম করা কাউকে ভালোবাসা আর তার সাথে বিবাহবহির্ভূত রাতকাটানোকি এক কথা? ছিঃ আমি আমার মাকে যা খুশি বললাম। এও বললাম আপনার নিজের চরিত্র ঠিক নাই বলে আপনি আমার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করছেন। মা বলে তোর চাচা নাকি নিজে দেখেছে? সেতো ভোরবেলা। আমি তাদের বাসায় গেছিলাম আর ওর সাথে আমার বিশেষ কিছু কথা ছিল তাই ওকে ডেকে পাঠিয়েছিলাম। অমুককে দিয়ে ডাকাইছি। তাকে জিজ্ঞেস করেন। সবাই সাক্ষী দিল আমার পক্ষে। বিশেষকরে আমার আরেক ফুপুর মেয়েতো ব্যাপক সাহসের সঙ্গে আমার পক্ষে দাঁড়ালো। বলে মামানী ভাইয়া আমাকে বললো অমুককে ডেকে দিতে, আমিই ডেকে দিয়েছিলাম। সেটা রাতে নয়, সকালে। তিলকে তাল বানানো মানুষগুলো কতোকীই পারে। আমি মাকে বললাম। আমি অমুককে ভালোবাসি এটা হাজারবার বলতে পারি দ্বিধা নেই। কিন্তু যে কথা আপনি মুখ দিয়ে উচ্চারণ করলেন একথা আমি ভাবতেও পারি না। আপনাদের চোখের আড়ালেইতো এত বড় হয়েছি, কোনওদিন কোনও কমপ্লেইন পেয়েছেন? যখন কোনও মেয়েকে পছন্দ হয়েছে সবার আগে আপনাদের জানিয়েছি। অমুকে ছবি, তমুকের ছবি আপনাদের দেখাইনি? কাউকেই আপনাদের পছন্দ না।আবার নিজেদেরও কোনও পছন্দ নাই। উল্টো অপবাদ দিচ্ছেন? মা সব দোষ চাপালেন আমার চাচার উপর। চাচা নাকি আব্বাকে ডেকে এইসব বলেছেন। আমিতো আরো থ।আমার বাবাও জানে এসব কথা? তাহলে বাবা কেন আমাকে কিছু বলল না? মা বলে, তোর বাপতো চাইবেই তার বোনের মেয়ের সঙ্গে তোর বিয়ে হোক। আমি একটু শক্তি পেলাম। আমার বাবা চাইলেতো আর কথাই থাকে না। বাবা চায় কি চায় না আমি জানি না।বাবাকে দেখে কিছুই বোঝা যায় না। তবে মা বাবার সাথে অনেক ঝগড়া করেছে বিষয়টা নিয়ে।বাবাকে দোষারোপ করেছে। আর আমার চাপা স্বভাবের বাবা সবকিছু নীরবে হজম করেছে আর ভাইয়াকে বলেছে ওকে যেভাবে হোক ক্যাম্পাসে পাঠাতে হবে। তারপর দু’জনে মিলে যুক্তি করে বুঝিয়ে শুনিয়ে আমাকে ক্যাম্পাসে নিয়ে যায়।যাওয়ার সময় ফুপুর কাছ থেকে বিদায় নেয়ার সময় ফুপুকে জড়িয়ে ধরে তাকে মা সম্বোধন করি। ক্ষমা চাই। ফুপু আমার কপালে চুমু খেয়ে বলেন মন দিয়ে পড়ালেখা করবি।এরপর শুরু হয় আসল খেলা। তুমুল ঝগড়া। যার কিছুই আমি টের পাইনি। আমি তখন কুষ্টিয়ার পথে। রাতে রুমে ফিরে কম্পিউটার অন করতেই ওর ছবিটা স্ক্রিনে ভেসে ওঠে। বাবার চোখ পড়ে। আমি লজ্জায় পড়ে যাই। কিন্তু লুকাতেও পারছিলাম না।ডেস্কটপের ছবি সরাতে কিছুটাতো সময় লাগে।বাবা হয়তো আমাকে লজ্জার হাত থেকে রক্ষা করতেই বললেন “এটা কে? অমুক না? ছবিতেতো ভালোই দেখতে…” আমার পরানটা ভরে গেলো। ভাবলাম বাবার হয়তো সায় আছে। কিন্তু না আমার বাবা এক অন্যরকম মানুষ।পজিটিভলি নেগেটিভ। পজিটিভ বলেই নেগেটিভ করে ফেলেন। মন থেকে মুছে ফেলেন। ঠিক তাই হলো। এই মেয়েকে নিয়েতো তুই সুখী হতে পারবি না। তোর চাচারা সারাজীবন আজেবাজে কথা বলবে।তোর মাও মেনে নেবে না। কী দরকার? তারচেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও মেয়েকে পছন্দ করিস আমরা দেখেশুনে বিয়ে করাবো।….অথবা লেখাপড়া শেষ হোক তারপর তোর যাকে ইচ্ছা বিয়ে করিস।আমার ইচ্ছা নেই ছেলেমেয়েদের মতের বিরুদ্ধে কিছু করা। আর তার ফল ভালোও হয় না। সিনেমা নাটক হলে বাবাকে ধরে চুমু খেতাম। কিন্তু সেটা পারলাম না।তবে নিজেকে এতটুকু বোঝাতে পারলাম যে প্রেম করতে আমি পারি বাট, দেখেশুনে করতে হবে। যাতে সবার পছন্দ হয়। এরপর একবছর কেটে গেলো। ওর সাথে আর কোনও যোগাযোগ হলো না।অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দেয়ার পর ঢাকা গেলাম। এসময় ফুপু আমাকে ফোন দেয়। বলে একটা সারপ্রাইজ আছে, বাসায় আয়। বাসায় গিয়ে জানলাম সারপ্রাইজ হলো ও কলেজের কম্পিটিশনে তিনটা ইভেন্ট ফার্স্ট এবং সেকেন্ড পুরস্কার পেয়েছে। রচনা, হাতের লিখা এবং গানে। ।ফুপু ব্যাপক আয়োজন করে খাওয়ালেন। আর ফুপাতো বড়বোনেরা আমাকে আচ্ছামত সাইজ করলেন।তোদের বাড়িতে আমার মাকে এত বড় অপমান করা হলো তোরা কিছুই করলি না কেন? আমি কী করবো? আমিতো ছিলামই না। একে একে শুনলাম সব হিস্ট্রি। আমার চাচা ফুপুকে কী বলেছে। মা কী বলেছে সেসব। শুনে আমার মনে হলো কোন লজ্জায় আমি ফুপুর বাসায় পা রাখলাম? আমার কারণে যাদের এত বাজে কথা শুনতে হলো, তাদের আমি মুখ দেখাই কী করে? ও আমার সাথে কোনও কথাই বলল না। তবু আমি ফুপুর অনুমতি নিয়ে ওর সাথে দেখা করলাম। বড় আপুদের বললাম আমার বিষয়টা আমাকে একটু সেটেল করতে দিন।ও রান্নাঘরে মুখ ঢেকে ছিল। যে একদিন আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছিল সে আজ আমাকে দেখাই দিচ্ছে না।তবু আমি কিছুক্ষণ নিজের কৈফিয়ত দিলাম।তারপর বল্লাম- তোমার মাকে যারা অপমান করেছে তাদের উপর আমি বদলা নেবো।তুমিই ওই বাড়ির বউ হয়ে যাবে। দেখি কে কী বলে? কার এত সাহস তোমাকে তোমার মাকে কোনও কথা শোনায়। তুমি রাজি? ও বলে- না আমার জন্য আপনাদের সংসারে কোনও গ্যান্জাম হোক আমি তা চাই না। তাহলে এর সমাধান কী? ওরা যা চেয়েছিল তাইতো হলো? ওরা জিতলো আমরা হেরে গেলাম! আপনি কয়জনের সাথে যুদ্ধ করবেন? আপনার ভাই চায় না, মা চায় না, বাবা চায় না চাচা চায় না।… আমার মাকে ভুল বোঝানো হয়েছে। তাকে শুধরে দিলেই সে সব বুঝবে। বাবা হাঁও বলেনি নাও বলেনি। আর ভাইয়াতো বললেইকি না বললেই কি আমি কি ওর কথায় কোনও সিদ্ধান্ত নেই নাকি? ও চুপ থাকে কথা আর আগায় না। একসময় আমি বিদায় নেই। ভাইয়ার কাছ থেকে জানতে পারি ও নতুন এক মানুষের প্রেমে পড়েছে। আমি বিশ্বাস করি না। এমনকি ততদিন বিশ্বাস করিনি, যতদিন না ওরা বিয়ে করেছে। এই চ্যাপ্টার ক্লোজ হতেই পুরনো জান ফিরে এলো এবং খুব অল্পসময়ের মধ্যেই সেও ক্লোজ হয়ে গেলো।আমি এতটাই ডেসপারেট ছিলাম যে কেউ ঝুলিয়ে রাখবে তা হবে না। কারও জন্য ওয়েটও আমি করবো না। ইয়েস অর নো বলতে হবে। ইয়েস নো কোনওটাই না বললে সেটাও নো।ইয়েস বললে বিয়ে ৫বছর পরও হতে পারে সমস্যা নেই। কিন্তু ঝুলিয়ে রেখে আমার প্রেমের বয়স শেষ হয়ে গেলে তখন না করলে আমার সর্বনাশ!আমি প্রেমকরার মজা পুরোটাই পেতে চাই।জান আমাকে ইয়েস নো কোনওটাই ফাইনালি জানায়নি। তবু আমি ওয়েট করেছিলাম কারণ বিদায়েরে সময় সেও পেছন থেকে আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছিল। এই একটা জিনিস আমার এত প্রিয়।যদি বিয়ে ছাড়া চুমু খাওয়া বৈধ হতো আমি বিয়ে না করে এতেই সন্তুষ্ট থাকতাম।আমার যে বউ হবে তাকে প্রতিদিন একশ চুমু খাবো এবং সেও যেন আমাকে একশ চুমু খায় তাকেও বাধ্য করবো। এমন চিন্তা ছিল আমার। কিন্তু তা আমার ভাগ্যে হয়নি। আমি সংসারজীবনে আজ প্রায় ১০ বছরেও এখনও বউকে অসংখ্য চুমু খাই কিন্তু বউ ভুলেও আমাকে একটা চুমু খায় না। ও যেন ভালোবাসা বোঝেই না। অথচ অল্পদিনের হলেও ওকেওতো আমি ভালোবেসেই বিয়ে করেছি! তাই জানের দেয়া তিনটি চুমুর স্মৃতি আমার মনে আজও দাগ কেটে আছে। কাজিনের দেয়া চুমুগুলো আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। ওর জড়িয়ে ধরা আর ঝড়ের গতিতে চুমু খেয়ে পালানোর স্মৃতিই যেন সবচেয়ে মধুর স্মৃতি আমার কাছে। ভগ্যিস ওরা কিছু চুমু আমাকে দিয়েছিল নয়তো আমার বউ যেভাবে আমাকে বঞ্চিত করেছে তাতে এই খেদ আমার চিরকাল থেকে যেত। আজ শুক্রবার জানের বিয়ে হয়ে গেলো।বিয়েতে যাইনি। গেলে সংসারে তেলেসমাতি লেগে যেত। ভোরে ফোন দিয়ে জানকে বললাম ভালোবাসা আর সংসার একজিনিস নয়। বউর সাথে ১০ বছর কাটিয়ে মনে হচ্ছে শুধুই সংসার করলাম ভালোবাসা হলো না।মাঝে মাঝে ভালোবাসা বলে কিছু বিভ্রম ঘটেছে যদিও।কিন্তু তুমি তোমার বরকে ভীষণ ভালোবাসবে। একজনকে ভালোবাসলে আরেকজনের ভালোবাসা কমে না। -ভালোবাসতে পারবো কি না জানি না। তবে আমার মনে হয় আমি ওকে ঠকাচ্ছি… -কেন? -আমি আসলে তোমাকে ছাড়া আর কাউকে ভালোবাসতে পারবো বলে মনে হয় না। -পারবে পারবে।যে একজনকে ভালোবাসতে পারে সে অন্যকাউকে ভালোবাসতে পারবে না তা কি হয়? স্বামীকে এতটাই ভালোবাসবে যে কখনও যদি ছাড়াছাড়ির ভাব হয় ভালোবাসর স্মৃতিগুলো মনে করে আবার দুজন এক হতে পারবে।আমিতো একজন স্বামী। আমি বুঝি একজন স্ত্রীর ভালোবাসা কতোটা দামী।প্রেমিকের ভালোবাসা পাওয়া সহজ কিন্তু নিজের স্ত্রীর ভালোবাসা পাওয়া অতো সহজ নয়। -কী বলো উল্টো কথা। -উল্টো নয়, এটাই ঠিক। ভালোবাসতে হয় তাই বাসছে। মন থেকে বাসছে না। মন থেকে বাসতে হয় না।প্রেমিকের জন্য যে ব্যাকুলতা থাকে স্বামীর জন্য সেই ব্যাকুলতা কি থাকে? খুব সস্তা হয়ে যায় একে অপরের কাছে। নিজেকে সস্তা করে ফেলবে না আবার এতটা মুল্যবানও করে ফেলো না যাতে সে ভুল বুঝতে শুরু করে।আর তাকেও সস্তা মনে করো না। একটা জিনিস মাথায় রাখবা পুরুষ কখনও সস্তা নয়। সে স্বামীই হোক আর প্রেমিকই হোক। এটা মেয়েরা বোঝে না। যখন হারায় তখন বোঝে। -আচ্ছা মনে রাখবো। আর দুজনের মধ্যে কখনও মনোমালিন্য হলে আমার সাথে শেয়ার করো।কষ্টটা হালকা হয়ে যাবে।আমি যেহেতু পারিবারিকভাবে বিয়ে করিনি তাই বিয়ের পর অনেক কষ্টই কারও সাথে শেয়ার করতে পারিনি।তুমি পারবে। বিয়ে হলো আজ শুক্রবার ১৯ শে ফেব্রুয়ারি আর ও আমাকে ফোন দিল ১৪ই ফেব্রুয়ারি। ইয়াং জেনারেশন যাকে ভালোবাসা দিবস বলে!এর কি কোনও কারণ আছে? ভাবছি আবার ভালোবাসাময় জীবন শুরু করবো। ভালোবাসাহীন বেঁচে থাকা খুব কঠিন।ভালোবাসাহীন সংসার যেন এক বিরাট বোঝা। আমি আর পারছি না।জান তুমি কি পারবে তোমার স্বামীকে সুখী করতে? নাকি তুমিও ব্যর্থ হবে তোমার স্বামীর ক্ষেত্রে? তাহলেকি আজ আরও দুটি ভালোবাসার অপমৃত্যু হলো? বিয়ে মানেই ভালোবাসার মুত্যু? মানুষকি তবে কলাগাছ? একবার ফল দিলেই সে আগাছা, তাকে কেটে ফেলতে হয়। সে মুল্যহীন।মানুষও কি তবে তাইই? বিয়ে হয়ে গেলেই তার সমাপ্তি? এরপরতো নতুন কলাগাছের জন্ম হয়। সে চলে যায়, আসে নতুন পোল।নামেরও কি অদ্ভূত মিল। কলাগাছের চারাকে বা বাচ্চাকে বলে পোল আর মানুষের বাচ্চাকে বলে পোলা। বড়ই বিচিত্র মানবজীবন।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন