বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ২টি

সমন্বিত স্কোর

২.৫৭

বিচারক স্কোরঃ ১.১৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৪ / ৩.০

গল্প - শ্রমিক (মে ২০১৬)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৫৭ একটা সেলাই মেশিন চাই

মামুন মাহফুজ
comment ৬  favorite ০  import_contacts ৩১৭
একটা সেলাই মেশিন চাই....
আমাদের একজন ছুটা কাজের বুয়া আছে। মাসে ৫০০ টাকা দেই এক কাজের জন্য। বেশিরভাগ সময়ই কাজটা হয় কাপড়কাচা।
সার্ভিস বেশ ভালো।মহিলা নামাজী। বোরকা পড়ে কাজে আসে। বোরকা খুলে কাজ শেষ করে আবার বোরকা পরে বাসায় চলে যায়। ৫-৬টা বাসায় কাজ করে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় তার। এই দিয়ে কি সংসার চলে?
ছেলেটা হিফজ পড়ছে। সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে বাসায় ফেরে। ডাক্তার বলেছে ভালো এবং পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। আর কি ভালো খাবার দিতে পেরেছে জানি না। তবে একগ্লাস দুধ প্রতিদিন দেয়। আর সেই দুধটা আমরাই রেখে দেই। তবে দুধের বিল পরিশোধ করে সে। যদি আমরাই দিতে পারতাম ভালো লাগতো। পারি না। আমাদের দুই ছেলের জন্য হাফ কেজি দুধ রাখা হয়। তাতেও গিন্নীর মাঝে মাঝে আপত্তি। দুধের খরচটা কমাতে হবে। আসলে খরচ বাড়লেও আমাদের বেতনতো বাড়ে না, বরং কমে।তাই খরচ কমাতেই হয়।
বুয়ার ছেলের চিকিৎসার জন্য একশ টাকা দিতে পারবা। বুয়াতো কখনও চায় না। এবারই চাইলো। আমার গিন্নীর এমন কথায় বুকটা ভেঙে যাচ্ছিল। কীভাবে না বলি?
নিজের ছেলেটা রাতে ঘুমাতে পারে না; সর্দিতে নাকবন্ধ হয়ে থাকে, গলাব্যাথায় রাতে বিছানায় বসে বসে কাঁদে। আদদ্বীনে নিয়ে গেলে ১০০ টাকা ভিজিট তাই নিতে পারছি না। ঠিক সেসময় বউ যদি বলে বুয়ার ছেলের জন্য ১০০টাকা দিতে পারবা?
আমি কী জবাব দেবো?
কবে লাগবে? দিও
কোত্থেকে?
বিদ্যুৎবিলতো দেওনাই সেখান থেকে দিও।
বিদ্যুৎবিল কিন্তু ২ মাসের জমে গেছে।....
আল্লাহ ভরসা...দেখা যাক...
সেই বুয়ার জন্যই বউ আজ আবার একটা সেলাই মেশিন চেয়েছে। কেন? সেই গল্পটা আরও কষ্টের।
বাড়ি বাড়ি কাজ করে সে, ভারি ভারি কাজ। যে কারণে পেটের ভিতর একটা সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মারা গেছে।
আল্রাহর রাসুল যেখানে একটা গর্ভবতী পশুর প্রতি মমত্ববোধ দেখিয়েছেন আমরা সেখানে একজন গর্ভবতী মহিলাকে দিয়ে ভারি কাজ করাই। এরই নাম হিউম্যানিটি।
আপনারা জানেন তাকে সেলাই মেশিন কিনে দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। ঠিক যখন এসব ভাবছি তখন আমার এক বড় ভাই বলে কাজ করে মজা পাচ্ছ?
আমি সত্যিটাই বললাম, মজা পাচ্ছি না।
কী কাজ করছি আমরা? মানুষের জন্য কিছুইতো করতে পারি না....
শুধু এই একজন বুয়া নয়। কতো মানুষ কষ্টে আছে। কারও জন্যইতো কিছু করতে পারছি না আমরা।
তাহলে আমরা কী কাজ করি?
শুধু উপদেশ দেই....শুধুই উপদেশ....নছিহত....যতোটা পারা যায় খরচ করি নছিহতের পেছনে.....
অথচ পেটে ক্ষুধা থাকলে কোনও নছিহত ভালো লাগে না। তার জ্বলন্ত সাক্ষীতো আমি নিজেই।...
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • কেতকী মণ্ডল
    কেতকী মণ্ডল খুব বাস্তব কথাগুলো। মনটা ভার হয়ে গেল। ভোট রইল লেখায়।
    প্রত্যুত্তর . ২৩ মে, ২০১৬
  • Md.Nazmul Hasan Shanto
    Md.Nazmul Hasan Shanto কেতকী মণ্ডল ...। আপনার প্রতিটি কমেন্ট লেখদের সম্মানিত করে , কিছু কিছু কমেন্ট দেখে মনে হয় , সে ছাড়া আর কেউ না তো কমেন্ট করতে পারে ,নাত গল্প লিখতে পারে, না গল্প কবিতা বুঝে । হিংসারও একটা মাত্রা থাকা উচিৎ । লেখকের প্রতি শুভ কামনা ...।
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ২৩ মে, ২০১৬
  • ফেরদৌস  আলম
    ফেরদৌস আলম সত্যিই তো তাই, আমরা অসহায় মানুষদের জন্যই বা কী করি? করা উচিত ভাবার আগেই। সুন্দর লাগলো!
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ২৪ মে, ২০১৬