বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ মে ১৯৮৯
গল্প/কবিতা: ১টি

গল্প - প্রেম (ফেব্রুয়ারী ২০১৭)

ইরাবতীর পরিণতি

Bristy Bilash
comment ০  favorite ০  import_contacts ১৯
সবকিছু নিশ্চুপ,সাদা,শীতল..যার জন্য এত ঝড়,এত যুদ্ধ, এত আলো, এত রঙ.. সে মানুষটা সাদা কাপড় জড়িয়ে নীথর শরীরে আমার সামনে পড়ে। মনে হয়েছিল ঝড় শেষ,এইতো, হয়তো কিছু মিনিট হবে মানুষটা আমার পাশে ছিল...সব রঙ নিয়ে। আমি তো সবাইকে খুশিই করতে চেয়েছি,তবুও এত অভিশাপ কেন আমার কপালে? সত্যি কি Happy বলে কিছু নেই? নাকি আমার জন্য নেই, জানিনা, সত্যিই জানিনা.....
ইরার নতুন জীবন (জানুয়ারী,২০০৮)
ইরা কেবল উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে,মায়ের আঁচলের নীচে বেড়ে উঠা ইরা হঠাত আবিষ্কার করে সে অনেক বড় হয়ে গেছে, কখন যে ঘর ছাড়ার ডাক এসেছে!
না জীবন ও জীবিকার তাগিদে নয়, মা বাবার স্বপ্ন পূরনের জন্য। ২০০৮ এর মেডিকেল এডমিশন পরীক্ষায় ১৫০ তম হয়ে ঢাকা মেডিকেলে পড়তে আসে ইরা। চোখ ভিরা স্বপ্ন আর বুক ভরা কষ্ট নিয়ে ঢাকায় হলে এসে হাজির হয় সে। আজ ও চোখে ভাসে ইরার সেই দিনের কথা,সে আবেগ, বাবা চোখ ছল ছল করা জল। ঢাকায় এসেই নিষ্ঠুর বাস্তবতা আর স্বার্থপর পৃথিবীরর মুখোমুখি হয় ইরা।
হলে থাকতে না পারায়, খুব নিকট আত্নীয়ের বাসায় ইরার বাবা বাসা ভাড়া করে দেয়,কিন্তু মাস না কাটতেই অপমান আর অভিমানের বোঝা কাঁধে হলেই যুদ্ধ করবে বলে হাজির হয়। অপমানের থেকে যুদ্ধটা মনে হয় অনেক সহজ। তখন কি ইরা জানতো, আরো কত বড় বড় যুদ্ধ অপেক্ষমাণ ইরার জীবনে?
মেডিকেলের দিনগুলি (জুলাই ২০০৯)
প্রচন্ড পড়ার চাপ, বান্ধবীদের আড্ডায় দিন ভালই কেটে যাচ্ছিল। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষা শেষ। এখন নিজেকে চিনতে পারেনা ইরা। আয়নার সামনে এ কে? হঠাত করে মথ থেকে প্রজাপতি কবে হল ইরা? একটু সাজগোজ,ভাসা ভাসা চোখে কাজল আর খোলা চুল,ব্যাস তাতেই এত রুপ? কোথায় ছিল এতদিন!
প্রথম প্রেম (আগাষ্ট ২০০৯)
সকাল ৭টার ৩য় বর্ষের প্রথম ক্লাস, আরামের ঘুম ভাঙতে দেরী হয় সেদিন। কিন্তু প্রথম ক্লাশ। দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লাশে যাচ্ছে ইরা,না জানি কি আছে আজ কপালে! রাস্তায় নীলয়ের সাথে দেখা,কখনো কথা হয়নি নীলয়ের সাথে, কিন্তু বিপদে পড়লে মানুষ খড় কুটোও আকড়ে ধরে।
ইরা: এই নীলয়,একটু দাড়াও,কি দেরী হয়ে গেল আজ,স্যার যা রাগী! আমার খুবই ভয় লাগছে!
নীলয়:আরে ধুর! কি আর হবে! একটু বকবেই তো আর কি!
না সেদিন ক্লাসটা হয়নি। এর ৩ মাস পর নীলয় আর ইরার প্রেম হয়। ক্লাসের সবাই অবাক! নীলয়ের মত danm care cool dude এর সাথে ১৯৬০'র ইরা!
হ্যা প্রেমটা টিকে মাত্র ৩ মাস। ঝগড়া অভিমান হঠাত নীলয়ের মনে হয় he is no more interested in Era...ইরার জন্য প্রথম প্রেম ছিল এটা, আর নীলয়ের জন্য ইরা ছিল আরো অনেক time pass এর মতই time pass। ক্ষনিকের জন্য ইরার মনে হয় সব শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু শেষ হওয়া এত সহজ নয়, তখনও ইরা সেটা বুঝেনাই।
অনেক psychotherapy আর counselingএর পর কিছুটা স্বাভাবিক হয় ইরা। রাতে কড়া ঘুমার ঔষধ লাগে ইরার। চোখ খুল্লেই দেখতে পায় কিছু মানুষ ঠোঁটের হাসি দিয়ে, বাকা চোখে তাকাচ্ছে, সত্যিই তো সব ইরার দোষ! কেন ও প্রেম করবে, আর সবার মত নিয়তি নয় ইরার সেদিনই বুঝে যায় সে। ইরার প্রথম প্রেমের অভিজ্ঞতা বিভীষিকাময়। সে দিনগুলোতে ইরার সাথে আরেকটা মানুষ কষ্ট পায়, ইরার বাবা। একমাত্র আদরের মেয়ে ইরা। এতকিছুর ফলাফলে যা দাঁড়ায়, ইরা নিজেকে ঘরবন্দী করে ফেলে, বান্ধবীরা একে একে দূরে সরে যায় কিংবা দূরে ঠেলে দেয় ইরা। বাঁকা হাসির থেকে একা নিজের মত থাকাই আরামপ্রদ।
ফেসবুক (ডিসেম্বর ২০১০)
একা একা জীবনে একমাত্র সংগী হয় ফেসবুক। সজল আসে ইরার জীবনে। অনাকাঙ্ক্ষিত আগমন বলা চলে, প্রেম বলা যায় না, অভ্যাস হয়ে যায় সজল। কিন্তু কবে কখন কিভাবে সজলের সাথে বলা স্বাভাবিক কথাগুলোই অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায় ইরার। অভ্যাস থেকে আসক্তি। সজল নৌয়াখালীতে থাকে আর ইরা ঢাকায়। কথার পিঠে কথা, হাসি আর কান্নায় কিভাবে ১ বছর কেটে যায় ইরার, ইরা টেরই পায়না। এখন ইরা ৪র্থ বর্ষে, জুলাই ২০১০, ২য় পেশাগত পরীক্ষা। খুব টেনশান আর পড়ার চাপে ফেসবুকে যাওয়া হয়না অনেকদিন।
এক সকালে অপরিচিত নাম্বার থেকে কল।
কল: ইরা!
ইরা : হুম কে!
কল: আমি সজল! একটু বাইরে আসবে?
ইরা: মানে কি!! আপনি কেন?
সজল: একটু প্লিজ, আর কখন ও আসবোনা
চরম বিরক্তি আর বিস্ময় নিয়ে নিচে নামে ইরা, এই অনাকাক্ষিত মানুষটিই ইরার বাকি জীবনে পরম আকাক্ষার মানুষ হয়।
সজল: সরি
ইরা: কেন আসছেন?
সজল: ......
ইরা: আপনি কি সারা জীবন এভাবে আমার care করবেন??
সজল: যদি তুমি বলো
কতোটা ছেলেমানুষি! ছিঃ ! ঘরে ফিরে ইরা কাদে।
কোথায় সে আর কোথায় সজল! সে দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানে পড়ে আর সজল! একটা কলেজে অর্নাসে পড়ে মাত্র! কিভাবে সে ছেলেকে এই কথা বলে ইরা! ইরা ছিঃ!
এরপর বেশ কয়েকদিন সজলের ফোন ধরেনা ইরা। কিন্তু আসক্তি বলে কথা! দিন শেষে একা জীবনে কাউকে লাগে, না যৌনাভুতির জন্য নয়, হাসি কান্ন ভাগাভাগি করতে। হ্যা এতদূর পড়ার পর এটা মনে হওয়াই স্বাভাবিক কি দুশ্চরিত্ররে বাবা এই মেয়ের! না জানা এক ছেলেকে এইসব বলে। কিন্তু যার জীবনে এত ঘটনা সেই জানে সে কথাগুলো কতটা আবেগী ছিল! যাই হোক,এটা পাঠকদের জানিয়ে রাখা উচিৎ বলে মনে হল এখন। এটা কোন গল্প নয়। একটা জীবনের সত্য সব ঘটনা।
ডিসেম্বর ২০১০ এ ইরা হার মানে সজলের কাছে। শুরু হয় ইরা আর সজলের চুপি চুপি দেখা করা, একসাথে খেতে যাওয়া। ইরা এটুকু বুঝে সজলকে ছাড়া তার চলবেনা। কিন্তু কেন চলবেনা এটা বুঝে আর ও পরে।
অতঃপর তারা
জুলাই ২০১২, ইরা এখন ইন্টার্ন ডাক্তার, সজল পড়পড়া শেষ করে ঢাকায় এসে ছোট একটা চাকুরী করে। সজল আর ইরার প্রেমের কথা তখন ইরার বন্ধুমহল আর কর্মমহলে ছড়িয়েছে! আবার ছিঃ ছিঃ রোল উঠে! ইরা তখন অনেক ,অনের demand তার। কেন ও এসব ছিঃ ছিঃ শুনবে? ইরা তো চায়নি সজল কে! কেন ও সজলের জন্য ছিঃ শুনবে। হঠাত করব সজলকে এড়িয়ে চলে ইরা, খারাপ ব্যবহার শুরু করে সজলের সাথে, এই ইরা সজলের কাছে একেবারেই অজানা। যে ইরার জীবনে সজল ছাড়া আর কোন বন্ধু ছিল না, সে ইরার জীবনে সজলের জায়গা নেই। ইরার সব আগ্রহ এখন সার্জারি বিভাগের সেই ভাইয়া, যার সাথে ইরা সারাদিন কাজ করে। সেই ভাইয়ার ইরা রাজকন্যা।
ইরা মানুষ চিনতে বরাবরই ভুল করে, ভুল ভাঙে, যখন বুঝে সে ভাইয়ার প্রধান আকর্ষণ ইরা না, ইরার শরীর। সজল আজও ইরার হাত ধরতে গেলে কাপে আর এই ভাইয়া ইরাকে শোয়ার প্রস্তাব দেয় এবং এর কিছুদিন পরেই ইরা জানতে পারে সে লোকের অনেক আগেই বিয়ে ঠিক করা। ইরা বুঝে কি ভুল সে করেছে!
ইরা সবসময় ভালো মানুষটাকে অবহেলা করে এসেছে, তার ভালো মানুষির সুযোগ নিয়েছে, ঠকিয়েছে মানুষটাকে। আশেপাশের মানুষের এত কথা ভালোই কাজে দিয়েছে। কিন্তু এই আশেপাশের মানুষ তখন কোথায় ছিল যখন ইরা হতাশার সাগরে তলিয়ে যাচ্ছিল, কোথায় ছিল যখন ইরা মানুষের কটুক্তির ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারতো না। তখন ফোনের অপরপাশের মানুষটি ইরা না ঘুমানো পর্যন্ত কানে ফোন ধরে রেখে পাহারা দিত তাকে। বিনিময়ে কিছুই চায়নি কোনদিন। যখন ইরা বলেছে এই নিক্কৃষ্ট মানুষটির ইরার পাশে দাঁড়ানোর যোগ্যতা নেই, সেইদিনও কিচ্ছু বলেনাই সে, কিংবা বলার মত শক্তি ছিলনা তার, অবাক চোখে তাকিয়ে এক হৃদয়হীনার কথা শুনে গেছে আর ভেবে গেছে এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের মূল্য কি আছে! শুধু তার কাছে না!!!! পৃথিবীর সবার কাছে স্ট্যাটাসটাই প্রধান ব্যপার।
যায় হোক ইরা ফিরে যায় সজলের কাছে, সজলও হেরে যায় ইরার চোখের জলের কাছে, সেদিন ইরার চোখের জল সব গ্লানি ধুয়ে দিলেও, কখনো জোড়া লাগালে পারেনাই সজলের চুর্ন বিচুর্ন হৃদয়কে...
এরপর........
২০১৩ তে ইরার বিয়ের জন্য প্রস্তাব আসতে থকে, ১বছর নানা টাল বাহানা করে বিয়ে প্রস্তাব বাতিল করতে থাকে ইরা। কিন্তু কত দিন এভাবে আর!শেষে অপরিসীম সাহস যোগাড় করে বলে ইরা। কিন্তু ওই যে! একই ভুল করে ইরা। ইরা অনেক বিশ্বাস করে তার ছোটফুফুকে বলে, আর তার পরের দিনই ইরার বাবা মা সহ হাজির হয় ইরাকে অপমান করতে। ৪ জানুয়ারি ২০১৫, আজও অন্তর কেপে উঠে ইরার সেই দিনের কথা মনে পড়লে! ইরা কে অনেক কথা শুনায় ইরার আত্মীয়রা। ইরার বাবা অসুস্থ হয়ে যান এইসব শুনে, এতকিছুর ভীড়ে এটাই অবাক হয় যে কেউ সজলের নামটা পর্যন্ত জানতে চায়না। আর এই কথা ইরা যখন তার এক আত্মীয়াকে বলে সে আত্মীয়া তাকে বলে, যে ছেলের যোগ্যতা তার নাম জেনে কি তসবি গুনবে! ইরার মায়ের মাথায় ঢুকায় যেভাবেই হোক ইরা কে বাসায় নিতে হবে, না হলে এটা ইরার মায়ের জীবনে চরম ব্যর্থতা, ব্যর্থতাই বটে, ইরা আসলেই এতদিন জানতোনা ইরাকে ডাক্তার করার স্বপ্নের পিছনে একটাই কারন, ভালো মানে এস্টাব্লিস্ট ছেলের সাথে বিয়ে দেওয়া। একটা সময় ছিল, যখন রূপ হলেই চলতো, যেহেতু ইরার রূপ ছিলনা খুব একটা তাই ইরার জন্য ডাক্তার হওয়াটা জরুরি ছিল।
আবার ভয়ংকর এক বাস্তবতার মুখোমুখি ইরা। এক আত্মীয় তো বলেই ফেলে এইরকম রাস্তার ছেলের সাথে হ্রহামেশাই সম্পর্ক হতে পারে, এইসব ব্যপার না। এখন মুর্দা কথা এইসব রাস্তার ফকিরকে ছেড়ে দাওয়া উচিত।
সেদিন ইরার মনে একটাই কথা ঘুরে কোথায় ছিল এই পরম শুভাকাঙ্ক্ষী সম্প্রদায় যখন ইরা হতাশার সাগরে ডুবে যাচ্ছিল? তাদের মনে তো দূরের কথা ঘরের ও ইরার জন্য যায়গা ছিলনা। যে মানুষটা ইরার পাশে এতদিন ছিল তার পরিচয় ইরার আত্মীয়দের কাছে রাস্তার ছেলে। আর কিছু নয়!
ইরা কে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। ইরা র বাবা নিশ্চুপ হয়ে যান মেয়ের ধোঁকাবাজিতে। আবার ছিঃ ছিঃ র রোল উঠে। কিন্তু ইরা র অবাধ্যতার কাছে হার মানে ইরা র বাবা, ইরা কে দুই বছর সময় দেন এবং শর্ত দেন ছেলেকে ভালো সরকারি চাকুরী পেতে হবে, কেননা ইরার বাবা জানতেন এই ছেলের পক্ষে কেরানীর চাকুরী ছাড়া আর কোন চাকুরী পাওয়া সম্ভব না। আত্মীয়রা বলেন বাপের এই আদরের জন্যই তো মেয়ের এই দশা! তাদের মেয়ে হলে এতক্ষনে বাসায় ধরে নিয়ে যেয়ে বিয়ে দিয়ে দিত। জোর করে বিয়ে দেওয়া কোন ব্যপার নাকি! কবুল পাশ থেকে বলে দিলেও হয়, আর বিয়ের পর জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করলে তা তো আর আমাদের সমাজে ধর্ষন না, তাইনা?
নীরব যুদ্ধ
এই ঘটনায় সজল আরেক দফা ভেঙে পড়ে, কিন্তু গুন নাকি দোষ জানিনা সজল ভেঙে পড়লেও হার মানেনা। সব আঘার মুখ বুজে সহ্য করে যুদ্ধ করে যায়।
১ বছর কাটে, সজল সরকারি অফিসার হয়।
এত বছরের যুদ্ধের পর সজলের সাথে বিয়ে হয় ইরাবতীর।
জানুয়ারি ২০১৬
আজ ইরার বিয়ে। সব মেয়ের বিয়ে নিয়ে অনেক স্বপ্ন থাকে, ইরার একটাই ছিল, সজল। বিধাতা তাই তাকে এতটুকুই দিলেন। সে বিয়েতে স্টেজ ছিল না, ফটোগ্রাফার ছিল না। আর রাস্তার ছেলের বিয়েতে এসে নিজের স্ট্যাটাস হারাবে নাকি ইরার আত্মীয় রা!!!! তাই মানুষ ও খুব বেশি ছিলনা। এইরকম এক ছেলেকে যে মেয়ে বিয়ে করে সে মেয়ের জন্য মেয়ের মায়ের ও আহ্লাদ থাকেনা। কেন এত শিক্ষিত করা মেয়েকে!!!! শেষ ফলাফল তো শুন্য!!!!!!!!!
না এগুলো ইরার মুখের বা মনের বা বানানো কথা ছিল না। এগুলো ছিল ইরার উপর বর্ষিত বাণী। ইরার মনে তখন একটাই কথা, কৃতজ্ঞ বিধাতা! আমার বাবা মা'র আশির্বাদে অবশেষে আমার বিয়ে হচ্ছে সজলের সাথে, আদৌ কি ছিল আশির্বাদ?
ছোট্ট ইরাবতী
জুলাই ২০১৬
আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনে ইরা দেখতে পাচ্ছে ছোট্ট ইরা কে। হ্যা মেয়ে হবে ইরা আর সজলের। সজলের সব কষ্ট আজ শেষ। বিধাতার উপর সব অভিমান শেষ। বিধাতা তার জন্য তার জীবনের সব থেকে দামী উপহার পাঠিয়েছেন আজ...... আজ সবথেকে খুশির দিন ইরা আর সজলের জীবনে.....
ইরাবতীর পরিণতি......
ডিসেম্বর ২০১৬, ইরার সামনে সজল,না না সজলের মৃতদেহ,ইরার বাবা মা আসছেন সজলের বাসায় ইরা কে দেখতে, ছোট্ট ইরাবতীকে দু'য়া দিতে, সজল বাইকে করে বাসায় ফিরছিল, আজ তার ইরাবতী খুব খুশী!
এইসব ভাবতে ভাবতে সজল কখন চলন্ত ট্রাকের সামনে পড়ে যায়, কিছু বুঝে উঠার আগেই সজল আবিষ্কার করে সজল তার শরীরের বাইরে,সজল দ্যাখে সজলের দেহটা খন্ড বিখন্ডিত হয়ে রাস্তায় পড়ে। একটায় প্রার্থনা তখন সজলের, সজলের ইরাবতী যেন এই সজলকে না দ্যাখে!
...............................
এখন ইরাবতীর একটাই কাজ, প্রতীক্ষার দিন গোনা.... কবে ফিরে যাবে ইরাবতী সজলের কাছে, কবে ইরাবতী ডাকটা আবার শুনবে ইরা! সজল ছাড়া যে সে শুধুই ইরা,ইরাবতী না।
ইরাবতীর পরিণতি এখন শুধু অন্তহীন প্রতীক্ষা.......
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন