বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৩
গল্প/কবিতা: ১টি

গল্প - প্রেম (ফেব্রুয়ারী ২০১৭)

“রক্তাক্ত ডায়রী”

আখতার উজ্জামান সুমন
comment ০  favorite ০  import_contacts ১৭
শ্রাবনের এক ভেজা সকাল। রাতভর বৃষ্টি হয়েছে রিমঝিম ধারায়। সকাল থেকেও একই ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে। শৈবাল এমনিতেই লেট-রাইজার। আজ ঘুমাতে আরো ভাল লাগছে। বিছানা ছেড়ে উঠতেই ইচ্ছা করছে না। কিন্তু তারপরও তাকে উঠতে হবে। কারণ, তার ধুমপানের বদ অভ্যাস আছে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই সিটারেটের ধুয়া না গিললে তার সারাদিনের কর্মধারাবাহিকতায় অসঙ্গতি ঘটে। বালিশের নিচ থেকে ঘরিটা বের করে দেখল ১০:৩০ বাজে। ভাবল, নিশ্চই বুয়া এতক্ষণে রান্না শেষ করে চলে গিয়েছে। রুমের একটা চাবি বুয়ার কাছে দেয়া আছে। সকালে শৈবালকে ঘুম থেকে না জাগনোর বিষয়ে বুয়াকে নোটিশ দেয়া আছে। শৈবাল ধিরে ধিরে বিছানা ছেড়ে বসল। সিগারেটের প্যাকেটা হাতে নিয়েই দেখল, প্যাকেটে সিগারেট নেই। সে মনে মনে খুব বিরক্ত হল। চশমাটা চোখে দিয়ে ছাতাটা মাথায় তুলে শৈবাল বাহিরে বের হল। গলি ধরে ২/৩ মিনিট হাটলেই দোকান। শৈবাল গলি ধরে হাটছে। মানুষজনের তেমন কোন চলাচল নেই। বৃষ্টির এই ধারাটা শুরু হয়েছে আরো দিন তিনেক ধরে। একটি মেয়েকে দেখে শৈবাল চমকে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকল। আশ্চর্য না হয়েও পারল না। আশ্চর্য হবারইতো কথা। কাধে পার্স ঝুলিয়ে বুকে একটি মোটা বই আকড়ে ধরে মাথাটা নিচু করে খুব ধিরে ধিরে হাটছে। বৃষ্টিতে যে সব ভিজে যাচ্ছে মেয়েটির সে খেয়ালই নেই। শৈবাল ভাবল, মনে হয় বৃষ্টিতে ভিজতে ভাল লাগছে বলেই ভিজছে। আবার পরক্ষণেই ভাবল, শখ করেই যদি ভিজবে তাহলে বইপত্র ভিজাচ্ছে কেন? শৈবাল দাঁড়িয়েই থাকল। মেয়েটি ধিরে ধিরে হাটতে হাটতে এসে শৈবালের সামনে এসে দাড়িয়ে পরল। সে হঠাৎ সামনে কাউকে দেখে আতকে উঠল। শৈবালের দিকে মাথা তোলে তাকাল। শৈবাল মেয়েটির চোখে-মুখে বিলাসি-হৈমন্তিকে দেখতে পেয়েছিল। শৈবাল সরি বলে সরতে চাইল না। সে বলল, “কি ব্যপার অমন বৃষ্টিতে ভিজছেন যে? ভিজেই যেহেতু গেলেন, চলুন একটা সাবান কিনে দেই, গোসলটাও সেরে ফেলবেন।” মেয়েটি মাথা তোলে কথাটা শুনে পাশ কেটে চলে গেল। শৈবাল দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে হাসল।

দিন ৪/৫ পর। আজ আর বৃষ্টি নেই। শৈবাল বাসা থেকে বের হয়ে ইউনিভার্সিটির পথে হাটছে। তার সাথে তার আরো ২/৩ জন বন্ধুও আছে। একটা মেয়ে ছাতা মাথায় দিয়ে তাদের পাশ কেটে যাচ্ছে। শৈবাল খেয়াল করল, সেই মেয়েটিইতো। অবাক ব্যপার সেদিন ছাতা ছিল না, বৃষ্টিতে নিঃসঙাকুচে ভিজল আর আজতো সারা দিনেও বৃষ্টি হবে বলে কোন আভাস নাই, কিন্তু আজ ছাতা কেন? শৈবাল ৫/৭ কদম পেছনে এসে মেয়েটির সামনে দাড়াল। বলল, ছাতাটা কি আজকে কিনেছেন? মেয়েটি সেদিনের মতই কথা না বলে চলে গেল।

পরের দিন। আবার ইউনিভার্সিটির পথে। এবার মেয়েটির সাথে আরেকটা মেয়ে আছে। শৈবাল তাদের পেছন পেছন হাটছে। শৈবাল একটু জোরে হেটে তাদের সামনে চলে যাচ্ছিল। ভাবল, থাক আজ আর কিছু বলার দরকার নেই। মেয়েটি হয়ত তাকে ফালতু ভেবে থাকবে। মেয়েটি পেছন থেকে শৈবালকে ডাকল-
-এই যে, শুনুন!
শৈবালতো অবাক। তাইতো, সে-ই। আজ মেয়েটিকে অনেক হাসিখুশিই দেখাচ্ছে। পেছন ফিরে শৈবাল একটু এগিয়ে গেল। মেয়েটি উচ্ছাস নিয়েই আবার বলল-
-আপনি সেদিন কি বলেছিলেন? আপনি কি আমাকে চিনেন?
-না। আপনি কি করেন?
হাটতে হাটতে তিনজনে কথা বলতে বলতে পরিচয় পর্ব সারতে সারতে ইউনিভার্সিটি গেইটে চলে আসল। এ্রভাবেই শুরু। মেয়েটের নাম বেবী। থাকে শৈবালের পাশের বাসায় একটি ছাত্রীবাসে। শৈবাল যে বাড়িটিতে থাকে সেটিও ছাত্রাবাস। কিন্তু শৈবাল আর সবার চেয়ে একটু ভিন্ন বলে সে একা একটি সেপারেট রুমে থাকে। তার সবকিছুই সেপারেট। পাশের বাসায় যে ছাত্রীবাস আছে শৈবাল তা জানতও না। পাশাপাশি থাকাতে বারবার বেবীর সাথে তার দেখা হত, কথা হত। দেখা আর কথা হতে হতে দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে গেল অল্প দিনেই। বেবী একদিন জিজ্ঞাসা করল,
-তোমাদের বাসায় গভীর রাত পর্যন্ত প্লেয়ার বাজায় কে? আবার মাঝেমাঝে রাতের বেলায় ছাদে গিটার বাজানোর শব্দও পাই।
-আমার রাত জাগার অভ্যাস, তাই কিছু একটা করি।
-তাহলে তুমিই! তোমার প্লেয়ারের গানগুলো আমাদের খুব প্রিয়। আমরা সব মেয়েরাই রাতে তোমার প্লেয়ারের গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পরি। তোমার গিটার শুনতেও ছাদে যাই। আমরা সব মেয়েরাই তোমাকে নিয়ে কত কথাইনা বলি।
শৈবাল শান্ত গলায় বলল-
-তাই নাকি?
-তাই নাকি মানে! তাই? তোমাকে একদিন সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেব।
-না, আমার সবার দরকার নেই।
-কেন? কোন সমস্যা?
-হুম। সবার মাঝে আমি ভাল থাকতে পারি না।
-কেন?
-এই কেনটাইতো বুঝি না। তবে বুঝি যে, এক কানের ধন পাঁচ কানে গেলে সস্তা হয়ে যায়।
কিছুদিনের মধ্যে তাদের দু’জনের সম্পর্কটা আরো গভীর হল। এখন তারা দিন ক্ষণ স্থান ঠিক করে দেখা করতে শুরু করল। ধিরে ধিরে দু’জন দু’জনকে ভালবাসতে শুরু করল। ভালবাসা, মান-অভিমান এভাবেই চলছিল দিনগুলো। প্রতিদিন ২/৩ বার দেখা হওয়াটা নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে গিয়েছে। একদিন কি যেন কি একটা ব্যপার নিয়ে বেবীর সাথে রাগ করে শৈবাল তার হাত কেটে একদম রকআরক্তি। পরদিন ইউনিভার্সিটিতেও যায়নি। বেবী সারা ক্যাম্পাস খোঁজে তাকে না পেয়ে বিকালে তার রুমে গেল। রুমে গিয়ে বুয়ার কাছে জানতে পারল, শৈবাল সারাদিন ধরে ঘুমাচ্ছে। সারাদিন কিছু খায়নিও। বেবী রুমে ঢুকেই টেবিলের উপর ঘুমের ঔষদগুলো দেখল। আরো একটা ডায়রিও আছে। ডায়রীটা খোলে দেখেই তার চোখ দু’টো কপালে গেল। রক্তাক্ত ডায়রী। অনেকগুলো পাতা রক্তে ভিজে শুকিয়ে গেছে। বেবী আতঙ্কিত হয়ে ঝাপ দিয়ে শৈবালকে ধরে। ধরেই বুঝতে পারল, শরীরে প্রচন্ড জর। দেখল, বিছানাও রক্তাক্ত। বেবী এত জোরে তাকে আকড়ে ধরে যে, সাথে সাথেই শৈবালের ঘুম ভেঙ্গে যায়, কিন্তু ভাল করে চোখ মেলে তাকানোর শক্তিটাও ছিল না। শৈবাল ফেল ফেল করে মৃদু চোখে বেবীর দিকে তাকিয়ে থাকে। বেবী চিৎকার করে বলতে থাকে-
-কী হয়েছে তোমার? কী হয়েছে? কী করেছ তুমি? কোথায়? কোথায়? আমাকে দেখাও।
শৈবাল গামছা দিয়ে প্যছানো তার ডান হাতটা উপরে উঠালো। গামছা খুলে দেখল। তারপর শৈবালকে কতকিছু বকাবকি করতে করতে বুয়ার সহযোগীতায় তাকে পাশের একটি ডিসপেনসারি থেকে ট্রিটমেন্ট করিয়ে বাসায় নিয়ে এল। বেবী খাবার গরম করে নিজ হাতে শৈবালকে খাওয়ালো। ঔষধ খাওয়ালো, সব গুছগাছ করল। তারপর শৈবালকে অনেক কিছু বুঝাতে বুঝাতে আর সময়ের দিকে খেয়াল নেই বেবীর। যখন খেয়াল হল তখন রাত দশটা বাজে। এখন আরেক টেনশন। এতরাতে সে কোথায় ছিল বাসার অন্যমেয়ে ও বাড়িওয়ালাকে সে কি বলবে? আবার এদিকে শৈবালকে একা রেখে যেতেও তার টেনশন হচ্ছিল। ভাবল, শৈবাল যা করতে বলবে তাই করবে। শৈবালকে জিজ্ঞাসা করলে সে থেকে যেতে বলল। বেবী সারা রাত শৈবালের পাশে বসে বসে কাটিয়ে দিল। একসাথে বেশি ঘুমের ঔষধ খাওয়াতে শৈবালের কোন হুসজ্ঞান নাই। সারারাত সে নিথর পরে ঘুমাল। রাতে বেবী খুব ভয় পেয়েছে। বারবার শৈবালের জর উঠানামা করছে। একবার শৈবালের কপালে হাত রেখে মনে হয়েছে সে গরম পাতিলে হাত দিয়েছে। সকালের দিকে শৈবালের জর কমল। ধুমের ঔষদের এ্যকশনও কিছুটা কমল। বেবী বাসায় গিয়ে বলল, একটা জরুরী প্রয়োজনে সে দেশের বাড়ি গিয়েছিল। রাততো কেটে গেল, শৈবালও সুস্থ হল, কিন্তু দু’দিন ধরে সে বেবীকে দেখল না। আরো দু’দিন পার হল। শৈবাল সারাদিন গলির মাথায় দাড়িয়ে থাকল। আজ তার সাথে সে দেখা করবেই। এই পথ দিয়েইতো বেবী আসবে। বিকাল বেলায় দেখল, সেই প্রথম দিনের মত মাথা নিচু করে এক ধ্যানে ধিরে ধিরে হাটতে হাটতে গলিতে ঢ়ুকল। সে সামনে এগিয়ে গিয়ে বেবীর খোঁজ খবর জানতে চাইল। বেবী সেই প্রথম দিনের মতই জবাব না দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। পর দিন আবার একই রকমভাবে অনেক অপেক্ষা করে বিকালে দেখা পেল। কিন্তু বেবীর একই আচরন। কি হয়েছে শৈবাল কিছুই বুঝতে পারছে না। পরদিন ইউনিভার্সিটিতে বেবীর ক্লাসে ঢুকে ওকে টেনে বের করে আনল। ক্লাসের সবাই তাকিয়ে তামাশাটা দেখল। শৈবাল বেবীকে জিজ্ঞাসা করল-
-কি হয়েছে?
বেবী কোন উত্তর দেয় না। শৈবাল বারবার জিজ্ঞাসা করছে। কিন্তু বেবী মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকল।
হঠাৎ বেবী চিৎকার করে বলল-
-কেন বুঝ না, একটা মেয়ে একা একটা ছেলের বাসায় রাত কাটাতে পারে না।
বলেতে বলতে কাদতে শুরু করল বেবী। শৈবাল কিছুই বুঝল না। বলল-
-কি হয়েছে? সব খুলে বল।
-কেন তুমি জান না? তুমিতো ছেলে, তাই তোমাকে কেউ কিছু বলে না। তবে তোমার তো দোশ নেই, তুমিতো বেহুশ ছিলে, কিন্তু আমার তো হুশ ছিল। আসলেই দোশ আমার।
শৈবাল তখনও কিছুই বুঝেনি। সে ধমক দিয়ে কান্না থামিয়ে বুঝিয়ে বলতে বলল। বেবী আর কিছুই বলল না, চলে গেল। পরে শৈবাল জানতে পেরেছে যে, সেরাতের বিষয়টা পাড়ার সবাই জেনেছে। একটা অসুস্থ মানুষের পাশে সারারাত কাটানোটাও সমাজ ন্যাগেটিভ এ্যঙ্গেল থেকেই দেখেছে। বাসার মেয়েরা, পাড়ার ছেলেরা, ক্লাসের ছেলে মেয়েরা সবাই বেবীকে আড় নজরে দেখে, বাজে মন্তব্যও করে। শৈবাল সব ভেবেচিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল।
পরদিন আবার পথে বেবীর জন্য অপেক্ষা করল। বেবীকে পেয়ে একরকম জোর করেই সে তাকে নিয়ে চলল। কোথায় যাচ্ছে বেবী বারবার তাকে জিজ্ঞাসা করল। শৈবাল শুধু বলে, তুমি গেলেই দেখতে পাবে। পথে দু’জন আর কোন কথা বলল না। রিক্সা করে একটি বাড়ির সামনে এসে নামল। বেবী খেয়াল করল, যে বাড়িটাতে তারা ঢুকছে সে বাড়িটার প্রধান ফটকে বড় বড় করে লেখা আছে-কাজী অফিস। বেবী শৈবালকে বলল-
-আমরা কোথায় যাচ্ছি?
শৈবাল আঙ্গুল উঁচিয়ে বড় বড় করে লেখাটা দেখাল। বেবী বলল-
-কেন?
-বিয়ে।
-কিসের বিয়ে? কার বিয়ে?
শৈবাল একটু মজা করে হেসে বলল- তোমার বিয়ে।
বেবী বিষয়টা বুঝতে পারল। বলল-
-তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে! বিয়ে কি ছেলে খেলা?
-না, বুড়োদের খেলা। চলো, এই খেলাটাই খেলব।
- না। বলেই সে উল্টো পথে হাটতে লাগল।
শৈবাল তার পেছন পেছন গেল। তাকে অনেক বুঝাতে চেষ্টা করল। কিন্তু সে শুনলই না। একটা রিক্সা ডেকে উঠে চলে গেল।
পরদিন খুবে সকালে। বেবী শৈবালের রুমে এসে হাজির হল। বলে-
-চলো।
-কোথায়?
-তুমি চলো আগে।
শৈবাল রেডি হয়ে নিল। শৈবাল বেবীর পেছন পেছন বের হয়ে যেতে লাগল। দু’জনের মুখেই কোন কথা নেই। এই কয়দিন শৈবাল প্রতিদিন রাতে বেশ কয়েকটা করে ঘুমের ঔষদ খায়। তাই সে ভাল করে চলতে পারছিল না। একবার পরেও গিয়েছিল। বেবী তাকে টেনে উঠাল আর বলল, আর কত ঘুমের ঔষধ খাবে তুমি?
-তুমি যতদিন বাধা দিতে না পারবে ততদিন।
-হয়েছে। এখন সোজা হয়ে হাট। তোমাকে নিয়ে যাব একজায়গায়।
কোথায় নিয়ে যাবে সে কথা শৈবাল আর জিজ্ঞাসা করল না। রিক্সা, বাস আবার রিক্সা করে তারা পৌছালো। শেষবার রিক্সায় উঠেই বেবী তাকে বলেছে, শৈবালকে বেবী তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। শৈবাল বলল-
-কেন?
-কারণ আছে।
-কারণটা কি?
-এমনি। আমাদের বাড়িতে একবার বেরাতে হবে। এতে তো তোমার কোন সমস্যা হওয়ার কথা না।
-না। কিন্তু বাড়িতে তো আগে থেকে বলে রাখলে ভাল হত।
-তোমাকে ভাবতে হবে না। তোমাকে কেউ কিছু বলবে না। আমি সব ব্যবস্থা করেছি।
তাদের বাড়িতে একদিন থেকে সবার সাথে পরিচয় হল, কথা হল, চেনা হল, জানা হল। তারপরদিন শৈবাল একাই চলে আসল। তারপরদিন বেবীও বাড়ি থেকে এল। এসে সে তার বাসস্থান বদলাল। কিন্তু শৈবাল কিছুই জানতে পারল না। বেবী শৈবালকে বলেছিল, সে আরো কয়েকদিন পর বাড়ি থেকে আসবে। দিন ৩/৪ পরে ইউনিভার্সিটিতে হঠাৎ করেই বেবীর সাথে দেখা। বলল-
-কবে আসছ?
-আরো ২ দিন আগে।
-তুমিতো বলেছিলে আরো কিছুদিন থাকবে।
-হু। চলে এসেছি। কাজ ছিল।
বেবী খুব তাড়া দেখিয়ে চলে গেল। পরের দিন শৈবাল গলির মুখে সারাদিন দাড়িয়ে থাকল কিন্তু বেবীর দেখা পেল না। তারপরের দিন ক্লাসে গিয়ে বেবীর সাথে দেখা করল। বলল-
-কাল সারাদিন কোথায় ছিলে?
-বাসা আর ক্লাস।
-কই, তুমিতো বাসা থেকে বের হওনি।
-আমি বাসা বদল করেছি।
-কোথায়? কবে? আমাকে বলনি যে?
-তুমি জেনে কি করবে?
এবারও তাড়া দেখিয়ে বেবী উঠে গেল। পাড়ায় যে তাকে নিয়ে কি সব আলোচনা হয় এই কয়দিনে শৈবালও তা টেড় পেল। তার ঘুমের ঔষদ খাওয়ার মাত্রা বেড়ে গেল। আবার পরের দিন বেবীকে সবার সম্মুখে হাত ধরে টেনে ক্লাস থেকে বের করে রিক্সায় উঠিয়ে নিয়ে গেল। এবার আর কোন প্রশ্ন করল না বেবী।
শৈবাল সোজা সেই কাজী অফিসে নিয়ে গিয়ে বেবীকে বিয়ে করে ফেলল। বেবীও সেদিন আর কোন বাধা দেয়নি। তারপর থেকেই তারা একসাথে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন