বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
গল্প/কবিতা: ৩৫টি

ধর্ষিত পতাকা, ধর্ষিত স্বাধীনতা

স্বাধীনতা মার্চ ২০১৩

তোমার সাথে, পায়ে পায়ে চলা

বাংলা ভাষা ফেব্রুয়ারী ২০১৩

ডুব সাঁতারের নায়ক

ঈর্ষা জানুয়ারী ২০১৩

ঈর্ষা (জানুয়ারী ২০১৩)

ফুল, পাথর ও সবুজ শ্যাওলার গল্প

আহমেদ সাবের
comment ৪৭  favorite ৭  import_contacts ৭৮১
বৈশাখের খররোদ্রে, আকাশ ছোঁয়া মায়ের পাঁজর থেকে
একটা চাঙ্গড় খসে, দ্বিখণ্ডিত হয়ে ছিটকে পড়লো তারই পায়ের নীচে;
তারপর গড়িয়ে গেলো শ্যামল উপত্যকার দুটো ভিন্ন ঠিকানায় -
সুনামিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দুই সহোদরের মতো।

বৃষ্টির নিষাদ, নিষ্করুণ বল্লম ফোটাল ওদের গায়ে।
বন্যার অশান্ত পানিতে শ্বাস-রুদ্ধ হয়ে
ওরা একে অন্যের দিকে চেয়ে থাকলো অনুকম্পায়;
দৈবগ্রহে তবু, ওরা টিকে গেলো বর্ষার নিষ্ঠুর ছোবল।

শরতের স্বর্ণাভ রোদে ওরা খিল খিল করে হেসে উঠলো ঝর্না হয়ে;
হেমন্তের উদাসী হাওয়া ওদেরকে মনে করিয়ে দিলো মায়ের কথা।
বিচ্ছিন্ন দ্বীপে দাঁড়িয়ে ওরা নীরবে দু ফোটা অশ্রু ফেললো মায়ের জন্যে,
মাকড়সার জালের মতো বয়ে যাওয়া কাকচক্ষু-জল স্রোত-ধারায়।

অবশেষে, হেমন্তের সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়ে নেমে এলো শ্বেত ভাল্লুক।
গাছ গাছালির বেড়াজাল ফাঁকি দিয়ে এক টুকরো নরোম আলো
এতটুকু উষ্ণতার পরশ বুলালো একটা পাথরে; আর
আরেক খণ্ড বন্দী হয়ে থাকলো হিমের নিষ্করুণ কারাগারে।

দেখতে দেখতে পয়মন্ত পাথরের গা ঘেঁষে
শীতের শাসনকে উপেক্ষা করে মেলা বসালো পাহাড়ী ফুলের রঙ্গীন সম্ভার।
পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারীরা পরম আগ্রহে
উপভোগ করলো ফুল আর পাথরের অপার্থিব সৌন্দর্য।

আর, শীতের জঠরে বন্দী বর্ণহীন পাথরে, শ্যাওলার আস্তরণ পড়ে
সেটা সবুজ থেকে সবুজতর হতে থাকলো দিনে দিনে।



সিডনী ১৬ ডিসেম্বর, ২০১২

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মোঃ আক্তারুজ্জামান
    মোঃ আক্তারুজ্জামান ছোট বেলা দেখতাম লাঙ্গলের ফলায় আটকে অদ্ভুত রকমের শব্দ তুলে আমনের ক্ষেতে উঠে আসতো মস্ত এক একটা চাঙ্গর| বাবার চেহারাটা হয়ে উঠতো মলিন| আমরা কাঠের বড় মুগুর দিয়ে তা ভেঙ্গে গুড়ো করতাম| আমাদের সেই অজপাড়া গাঁওয়ের মাটি মানুষের চাঙ্গরের সাহিত্য পাতায় এত সুন্দর স্থান...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২১ জানুয়ারী, ২০১৩
  • তাপসকিরণ রায়
    তাপসকিরণ রায় লেখার সুন্দর ধারাবাহিকতায় কোথাও কোথাও এক দুটি শব্দ ও ভাব নিয়ে ভাবছিলাম।কবিতার নাম খানি কিন্তু বড় আধুনিক--গদ্য কবিতার ভাব ভাবনায় আপনি বেশ এগিয়ে আছেন বুঝতে পারলাম।প্রবাসী লেখককে আন্তরিক ধন্যবাদ।
    প্রত্যুত্তর . ২৩ জানুয়ারী, ২০১৩
    • আহমেদ সাবের ধন্যবাদ তাপসকিরণ রায়। "কোথাও এক দুটি শব্দ ও ভাব নিয়ে ভাবছিলাম" - ভাবনাটা যদি কবিতার কোন অসামঞ্জস্যতা নিয়ে হয়, জানালে অত্যন্ত খুশী হবো। লেখকের দৃষ্টিতে অনেক সময় অনেক কিছু এড়িয়ে যায়। ভালো থাকবেন।
      প্রত্যুত্তর . ২৩ জানুয়ারী, ২০১৩
  • জালাল উদ্দিন  মুহম্মদ
    জালাল উদ্দিন মুহম্মদ আর, শীতের জঠরে বন্দী বর্ণহীন পাথরে, শ্যাওলার আস্তরণ পড়ে
    সেটা সবুজ থেকে সবুজতর হতে থাকলো দিনে দিনে। ------- // সৌন্দর্যের আবেদনময় আলোকচ্ছটা । সাধুবাদ সাবের ভাই।
    প্রত্যুত্তর . ২৫ জানুয়ারী, ২০১৩