বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

গল্প - কি যেন একটা (জানুয়ারী ২০১৭)

শেষটা জানতে চাই

Bappi Mridha
comment ০  favorite ০  import_contacts ৪৪
সেই কখন থেকে বাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু বাসের দেখা নেই।মানুষের ধৈর্যের একটা সীমা আছে।অনেক আগেই সেই সীমা অতিক্রম করে এখন ধৈর্যের বাধে ফাটল ধরেছে।এরকম চলতে থাকলে সেই ফাটল বৃদ্ধিপেয়ে যে কোনো সময় ধৈর্যের বাধ ভেঙে যেতে পারে।এমনিতেই মন মেজাজ খারাপ।আজ আফিস শেষ হবার কিছু আগে অনিচ্ছাকৃত ছোট একটা ভুলের কারনে বসের অনেক গালা গালি হজম করতে হয়েছে।শালা,যা বললো আমি পরীক্ষায় ফেল করলেও বাবা কখনো এতো গালা গালি দেয় নি।
আরো পাক্কা ৫মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলাম।বাসটা যখন আসলো তখন একটু শান্তি পেলাম।বাসটা অপ্রত্যাশিতভাবে অনেকটা খালি ছিল।সচরাচর এই টাইমে বাস এরকম খালি থাকে না।কেন আজ বাস এত খালি তা নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুললো না।এটাই স্বাভাবিক।ভালো কিছু ঘটলে আমারা তা নিয়ে কখনো প্রশ্ন তুলি না।কিন্তু খারাপ কিছু ঘটলেই প্রশ্ন আর প্রশ্ন।
বাম পাশের একটা সীটে বসেই শান্তিতে সীটের সাথে গা এলিয়ে দিলাম।উফ এখন যদি একটা সীগারেটে দুইটা টান দেয়া যেত বেশ লাগতো।পকেট হাতিয়ে সীগারেট খুজতে ছিলাম।এমন সময় পাশের সীটের লোকটার প্রতি খেয়াল হলো।মাঝবয়সি একটা লোক। বাসে উঠলেই যাদের ঘুম আসে এই লোকটা সম্ভবত তাদের দলে।খেয়াল করলাম লোকটা ঘুমের ভিতর মৃদু হাসতেছিলো।একটুপর উচ্চস্বরেই হেসে উঠলো।একটুপর লোকটা ঘুমের ভিতর কান্না শুরু করে দিলো।আমার বেশ মজা লাগছিলো।কিন্তু এই মজা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।কিছুক্ষণ পর লোকটা ঘুমের ভিতর মৃগী রোগীর মত অস্বাভাবিক ভাবে মোড়ামুড়ি শুরু করলো।আমি ভাবলাম লোকটা হয়তো অসুস্থ হয়ে পরেছে।তাই সাত পাচ না ভেবেই আমি ডান হাত দিয়ে লোকটাকে ধাক্কা দিলাম,"এই যে ভাই আপনার কি খারাপ লাগতেছে?"লোকটার অবস্থার কোন পরিবর্তন নেই।আবারো ধাক্কা দিলাম,"ভাই গাড়ি থামাতে বলবো?"এইবার ধাক্কা খেয়ে লোকটা একটু নড়েচড়ে বসলো।বড় একটা হাই দিয়ে দু হাত দিয়ে চোখ রগড়াতে ছিল।ভাবটা এমন যেন এই মাত্র শান্তির একটা ঘুম থেকে উঠলো।আমার দিকে তাকিয়েই মৃদু হেসে দিলো।তারপর আমায় বললো,"আপনি আমায় কিছু বলেছেন?"
"আপনার কি খারাপ লাগতেছে?"
"কেন বলুনতো?"
"না মানে আপনি অস্বাভাবিক আচরণ করতেছিলেন তো তাই।"
"ঠিক কিরকম। "
তখন আমি তাকে সব খুলে বললাম।লোকটি আমার কথা শুনেই হেসে খুন। যেন কত ফানি কথা বলেছি।মেজাজটা আবার গরম হয়ে গেলো।আমি বলেই ফেললাম,"আপনি হাসছেন কেন?এখানে হাসার কি হলো?"
"আসলে আমি অসুস্থ হইনি।আপনাকে দেখে আমার বেশ ভালোই লেগেছে।আপনাকে আমি সব খুলে বলছি।অন্যদিন কেউ এই একই প্রশ্ন করলে কোন উত্তর দেই না।কিন্তু আপনাকে আমি সত্য কথাই বলবো।"
আমি ভাবতেছিলাম এর ভিতর আবার খুলে বলার মত কি আছে।তারপরও তার কথা বলার ধরন আমার ভিতর প্রচন্ড কৌতুহল সৃষ্টি করলো।তাছাড়া বাঙালী মানেই কৌতুহল প্রিয়।লোকটা বলা শুরু করলো,"আসলে আগে আমি বাসে উঠলেই অনেক খারাপ লাগতো।আমি বাসার বৌএর সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারলেও এই বাসের সাথে কোনো ভাবেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারতাম না।আবার ট্যাক্সি বা সিএনজি তে চলাচল করার মত অতোটা স্বচ্ছলও না।বাসে উঠলেই এই ধরুন কখনো বমি বমি আসে আবার কখনো মাথা ঘুরায়।জ্যামে পরলে তো কথাই নেই।তো এই ব্যাপারে অনেকে অনেক সাজেশন দিছে কিন্তু কোনোটায়ই তেমন ফল পাই নি।কিছুদিন আগে আমার ছোট ভায়রা একজন হুজুরের ঠিকানা দিলো।বললো ওনার ওষুধে নাকি সবাই ফল পেয়েছে।এসব হুজুরে কোনদিন আমার বিশ্বাস ছিলো না।তারপরও আমার বউ আর ভায়রার জোরাজোরি তে না গিয়ে পারলাম না।সেই হুজুর আমার সমস্যা শুনে আমায় কিছু ভরি দিলো।বললো বাসে উঠে একটা ভরি খেতে।তো ওই দিন বাসায় আসার পথে বাসে উঠে অনিচ্ছাস্বত্তেও একটা বড়ি খেলাম।খাবার একমিনিটের ভিতর মনেহলো আমার চারপাশ সব পরিবর্তন হয়ে গেল।তখন আর আমি বাসের ভিতর নেই।আমি অন্য কোথাও চলে গেছি।আমার মনে হয় এই ভরি খেলেই ঘুমিয়ে যেতাম আর এমন সব স্বপ্ন দেখতাম মনে হতো যেন সব বাস্তব।তবে মাঝে মাঝে মনে হয় এগুলো স্বপ্ন না।বাস্তব।এই বড়ি আমায় অন্য কোথাও নিয়ে যায়।আর আশ্চর্যের ব্যাপার হলো বড়ি খাবার আগে আমি যদি দুইবার নিজেকে বলে নিতাম যে আমি অমুক জায়গায় নামবো,ওই জায়গায় আসার ঠিক দুই মিনিট আগে আমি কল্পনার জগৎ থেকে ফিরে আসতাম।এখন আর আমার বাসে উঠতে তেমন সমস্যা হয় না।একটা বড়ি খাই ব্যাস।"
আমার মনে হলো লোকটা আমার সাথে চাপা মারছে।লোকটা হয়তো আমার মনের কথা বুঝতে পেরেছে।তাই লোকটা আমায় বললো,"কি ভাবতেছেন,আমি আপনার সাথে চাপাবাজি করলাম?তাহলে এখনই প্রমান হয়ে যাক।"
এই বলে লোকটা পকেট থেকে একটা বড়ি বের করে আমার দিকে বাড়িয়ে বললো,"নিন ধরুন।কি হলো নিন?আরে ভাই একটা খেয়েই দেখুন না।"
লোকটা এমন ভাবে সাধাসাধি করতেছিল না নিয়ে পারলাম না।আমি যেই বড়িটা মুখে দেবো ঠিক তখন আমার মাথায় আসলো -এই বড়ি যদি আমি খাই আর লোকটা যদি একজন অজ্ঞানপার্টি হয় তাহলে তো সে খুব সহজেই আমায় বোকা বানিয়ে সব নিয়ে পগার পাড়।নাহ কিছুতেই এটা এখন খাওয়া যাবে না।কিন্তু লোকটাকে কি বলবো।পেয়েছি।আমি লোকটাকে বললাম,"নাহ এটা এখন খাওয়া যাবে না।"
লোকটা বললো,"কেনো বলুন তো?"
"না মানে আমি আমার ভাইয়া আর ভাবির সাথে থাকি।প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে তাদের ভিতর ঝগড়া হবেই।তাদের ঝগড়ার কারনে আমি একদিনও শান্তিতে ঘুমাতে পারি না।তাই ভাবলাম আজ এই বড়িটা বাসায় গিয়ে খাই।কি বলেন?"
"এজ ইউ উইস"
যাক বাচা গেলো।একটুপর দুজনই বাস থেকে নেমে গেলাম।ওই লোকটা অবশ্য আমার আগেই নামলো।বাসায় এসে ফ্রেস হয়ে খেয়ে ঘুমাতে গেলাম।বালিশে মাথা দিতে না দিতেই শুরু হলো ভাইয়া ভাবির ঝগড়া। সব মিলিয়ে মেজাজ এমনিতেই গরম ছিলো।নাহ,আজ এর একটা হেস্তোনেস্তো করবোই।বাসায় হয় তারা থাকবে নয় আমি।বিছানা থেকে উঠতেই টেবিলের উপর রাখা বড়িটার দিকে চোখ পরলো।তখন যে আমার কি হলো নিজের উপর আমর কোনো কন্ট্রোল ছিলো না।এক পা এক পা করে ভরিটার দিকে এগিয়ে গেলাম।হাতে নিয়েই কোনো কিছু না ভেবেই খেয়ে ফেললাম।ভরি খাবার এক মিনিটের ভিতর মনে হলো আমার চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসছে।একটুপর আমার চারপাশে অনেক লোকজনের কোলাহল শুনতে পাচ্ছি।ধীরে ধীরে কোলাহল বাড়ছে।এর সাথে ট্রেন ছাড়ার হুইছেল শুনতে পেলাম।মুহূর্তের ভিতর সব অন্ধকার দূর হয়ে আমায় চারদিক থেকে সাদা কূয়াশা ঘিরে ধরলো।লোকজনের কোলাহল আর ট্রেনের হুইসেল শুনে আমি বুঝতে পারলাম আমি এখন কোন ট্রেন স্টেশনে আছি।কিন্তু চারপাশের কুয়াশা না দূর হলে তো কছুই সিওর হতে পারছি না। তারপর যে ভাবে হঠাৎ কুয়াশা আসছিল ঠিক সেইভাবেই হঠাৎ উধাও হয়ে গেল।
আমি ঠিকই ধরেছিলাম।এটা একটা ট্রেন স্টেশন। কিন্তু আমি এখানে কিভাবে এলাম?আমি কি স্বপ্ন দেখতেছি?হাতে একটা চিমটি কাটলাম।উফফ,,।এই যে ব্যাথা পেলাম।তারমানে এসব যা ঘটছে সব বাস্তব?বাট হাউ ইস ইট পসিবল?হাউ?
আমি চারিদিক ভালো ভাবে তাকিয়ে বোঝার চেস্টা করলাম এটা কোন ষ্টেশন। স্টেশনের একপাশে বড় করে ইংরেজিতে লেখা"মুম্বাই প্লাটফর্ম"।হায় আল্লাহ আমি এখন ইন্ডিয়া?
কি করবো কিছুই মাথায় আসছে না।এখন আমি কোথায় যাবো?কার কাছে যাবো?একবার ভাবলাম পুলিশের কাছে যাই।কিন্তু পরক্ষনেই মনে হলো আমি যদি পুলিশের কাছে গিয়ে বলি যে আমি একটা বড়ি খেয়ে বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়া এসেছি তাহলে পুলিশ হয় আমায় পাগল ভাববে না হয় জঙ্গি।দ্বিতিয়টা ভাবার সম্ভাবনাই বেশি।একজন জঙ্গি ধরতে পারলে আখেরে তাদেরই লাভ।কে জানে প্রমোশন ও পেয়ে যেতে পারে।
নাহ পুলিশের কাছে মোটেই যাওয়া যাবে না।কিন্তু আমি এখন কোথায় যাবো?সব থেকে বড় সমস্যা হলো আমার কাছে কোনো পাসপোর্ট নেই।আর কারো সাথে যে কথা বলবো তারও উপায় নেই আমি হিন্দি ভাষাটা তেমন বুঝি না।এসব ভাবতে ভাবতে অন্যমনস্কভাবে হাটতেছিলাম।হঠাৎ কারো সাথে প্রচন্ড জোরে ধাক্কা খেলাম।একটা মেয়ে কন্ঠ শুনতে পেলাম,"কানা নাকি?দেখে চলতে পারেন না?"
আমি আমার নিজের কানকেই বিশ্বাস করাতে পারছি না।মেয়েটা বাংলায় কথা বলেছে?আমি ভুল শুনলাম না তো?আমি বলেই ফেললাম,"আপনি বাঙালী? "
মেয়েটি আমার মুখে বাংলা শুনে একটু অবাকই হলো।তখন লজ্জিত ভাবেই মেয়েটা আমায় বললো,"সরি,আসলে আমি ভাবছি আপনি বাংলা বোঝেন না।তাই বাংলাতেই গালাগালি দিলাম।আপনি তাহলে বাঙালী? "
"হ্যা।"
"কিন্তু আপনি এমন অন্যমনস্কভাবে হাটতেছিলেন কেনো?"
"যদি বলি এই কেনোর উত্তর দিলে আপনি বিশ্বাস করবেন না।"
"আপনি বলেই দেখেন না।কি এমন বলবেন যে আমি বিশ্বাস করবো না?আপনার গার্লফ্রেন্ড পালিয়েছে নাকি বৌ?"
"এর কোনোটাই না।আচ্ছা আপনার যখন জানার এতই আগ্রহ তাহলে আপনাকে আমি বলতেছি, কিন্তু সব শোনার পর আমায় পাগল ভাবতে পারবেন না?"
"ওকে ডান।একটা কাজ করি চলেন।স্টেশনের বাইরে একটা কফিসপ আছে।ওখানে বসেই কফি খেতে খেতে আপনার অবিশ্বাস্য কাহিনী শুনবো।"
আমি মেয়েটার দিকে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলাম।আমার চাহনি দেখে মেয়েটা বললো,"কি ভাবছেন?মেয়েটা এত গায়ে পরা স্বভাবের কেন তাইতো?আসলে এখানে প্রান খুলে বাংলায় কথা বলার মতো লোক খুব কম পাওয়া যায়।আর তার উপর আপনি যখন কি সব অবিশ্বাস্য কাহিনী শুনাবেন তাই আর লোভ সামলাতে পারলাম না।"
মেয়েটার কথা শুনে আমি না হেসে পারলাম না।"তাহলে চলুন কফিসপে।"
যেতে যেতে মেয়েটা বললো,"আপনার নামই তো জানা হলো না।আমি রত্না।"
"আমি শুভ্র।"
"আপনি দেখতে যেরকক সুন্দর, আপনার নামটাও ঠিক ততোটাই সুন্দর।"
আমি হেসে বললাম,"থ্যাংকস।কই আপনার কফিসপ?"
তখন রত্না আমায় হাত দিয়ে আমার অপর পাশের কফিসপটা দেখালো।কফিসপে ঢুকে কোনার একটা টেবিলে মুখোমুখি বসলাম।রত্নাই দুটো কফির অডার দিলো।
"এবার বলুন আপনার সেই অবিশ্বাস্য কাহিনী। "
আমি তখন রত্নাকে সব খুলে বললাম।এর ভিতর কফি দিয়েগিয়েছিলো।সব শুনে ও হা করে বসে রইলো।ওর কফি সেই কখন ঠান্ডা হয়ে গেছে।শেষে বললো,"এসব কি আসলেই সত্য?"
"বলেছিলাম না আপনার বিশ্বাস হবে না।"
"আপনিই বলুন আপনার সাথে কেউ এসব বললে আপনি বিশ্বাস করতেন?করতেন না।"
রত্না একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো,"তাহলে এখন কি করবে বলে ঠিক করেছেন?কোথায় যাবে?আর আপনার কাছে তো কোনো টাকা পয়সাও নেই,তাই না?"
"হ্যা।কি যে করবো কিছুই মাথায় আসছে না।"
"বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতের সাথে আমার এক আঙ্কেলের বেশ ভালো পরিচয় আছে।দেখি আমি তাকে বলে কিছু করা যায় কি না।তবে তার জন্য ও তো সময় লাগবে।আচ্ছা আপনি এক কাজ করুন।আজ রাতটা আমার বাসায় থেকে জান।দেখি কাল কি করা যায়।অবশ্য আমার সাথে যেতে আপনার যদি কোনো আপত্তি না থাকে।"
"কি যে বলেন।আমার আবার কিসের আপত্তি।আপনার বাসার লোক কিছু মনে করবে না আমাকে আপনার সাথে দেখলে?"
"সেই সুযোগ নেই মশাই, আমি একা থাকি।"
"আপনার বাবা মা?"
"তারা আমেরিকা থাকে।আমি একটি প্রাইভেট ব্যাঙ্কে চাকরি করি।আসলে আমার দেশ ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছে করে না।আর তাছাড়া আমি নিজের মত স্বাধীন থাকতে ভালোবাসি।তাই বাবা মার সাথে যাওয়া হয়নি।তারা অবশ্য প্রতি মাসে আমার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা পাঠায়।তাতেই আমার বেশ ভালোভাবে চলে যায়।আমার জব এর কোনো দরকারই ছিলো না।কিন্তু সাড়া দিন বেকার বসে থাকা আমার পক্ষে স্বম্ভব না।তাই এই ছোটো খাটো জব টা করি।"
প্রায় এক ঘন্টা পর আমরা রত্নার বাসায় আসলাম।বাসায় এসে আমাদের ভিতর তেমন কথা হলো না।আমরা দুটি আলাদা রুমে শুয়ে পরলাম।সকালে রত্নার ডাকে ঘুম ভাঙলো।চোখ মেলেই দেখি রত্না আমার জন্য কফি হাতে দাঁড়িয়ে।
আমি কফি মুখে দিয়েই বুঝলাম এটা আনাড়ি কারো হাতে তৈরি।আমার দিকে তাকিয়েই বলল,"ভালো হয়নি?"
"হিম ভালো হয়েছে,তবে চিনিটা একটু বেশি হয়ে গেছে।"
"আসলে আমি এই প্রথমবারের মত কফি তৈরি করলাম।হয়েছে কি সকালের কফি থেকে শুরু করে নাস্তা আর দুই বেলার খাবার আমার বাসার বুয়া তৈরি করে।কিন্তু বেচারি দুই দিন ধরে অসুস্থ।তাই কষ্ট করে নাস্তা বাইরে খেতে হবে।"
"এ নিয়ে আপনি চিন্তা করবেন না।আমি একদম খারাপ রান্না করি না।আপনি শুধু আমায় রান্না ঘরটা দেখিয়ে দেন।"
"সত্যিই আপনি রান্না করতে পারেন?তাহলে ভালোই হলো।আমি রাতে ওই আঙ্কেলের সাথে ফোনে কথা বলেছি। উনি বলেছেন এর জন্য এক সপ্তাহ টাইম লাগবে।আপনি বরং এই এক সপ্তাহ আমার বাসায় থেকে জান আর আমায় আপনার রান্নার কিছু জাদু দেখান।"
"আপনি কি তাকে ওই ভরির কথা বলেছেন?"
"মাথা খারাপ?তাহলে উনি আপনার সাথে সাথে আমায় ও পাগল ভাববে।আমি বলেছি যে আমার একজন ক্লোজ বাংলাদেশী ফ্রেন্ড ইন্ডিয়া এসে তার সব কিছু চুরি হয়ে গেছে।"
এরপর আমি সত্য সত্যই আমার রান্নার জাদু রত্নাকে দেখাতে থাকলাম।উনি অফিসে চলে যাবার পর আমি রান্না করে রাখি।রাতে খাবার পর আমরা প্রতিদিন ঘুরতে বের হই।দুইদিনের ভিতর আমরা আপনি থেকে তুমিতে চলে আসি।রত্না তিন দিনের জন্য অফিস থেকে ছুটি নিলো।আসলে ও চাইছিলো আমায় ভালোভাবে কম্পানি দিবে।
আমরা এই তিনদিনে মুম্বাইয়ের উল্লেখযোগ্য সব জায়গা ঘুরে দেখলাম।ধীরে ধীরে রত্নার চাল চলন কথা বার্তা ওর লাইফস্টাইল সব কিছু আমার ভালো লাগতে শুরু করলো।আমাকেও যে ওর ভালো লাগতো না তা নয়।ওর কথা বার্তায় আমি বেশ বুঝতে পারতাম ও আমায় লাইক করতে শুরু করেছে।
একদিন অফিস থেকে বাসায় এসেই রত্না আমায় বললো,"শুভ্র একটা সুখবর আছে।বলোতো কি হতে পারে?"
আমি ভাবলাম ওর হয়তো প্রমোশন হয়েছে।এ কথা বলতেই ও বলল,"ধুর বোকা।তোর বাংলাদেশে ফিরে জাবার ব্যবস্থা পাকা পাকিভাবে হয়ে গেছে।আঙ্কেল আজ আমার অফিসে আসছিলো।তিনি আমায় বললেন কাল সকালে তোমায় নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের অফিসে যেতে।এখন থেকে তারাই তোমার ফিরে জাবার আগ পর্যন্ত থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করবে।"
ওর মুখথেকে এ কথা শুনে আমার ভালো লাগার পরিবর্তে কেন যেনো খারাপ লাগতে ছিলো।তারমানে আমি কি রত্নাকে ভালোবেসে ফেলেছি?
আমি ছোট্ট করে বললাম,"ও, এটা তো ভালো কথা।ফিরে তো যেতেই হবে।"
রত্না আমার কথা শুনে বললো,"কি ব্যাপারা তুমি খুশি হও নি?"
"হ্যা আমি অনেক খুশু হয়ছি।কতদিন পর আবার নিজের দেশে ফিরে যাবো।"
আমার চোখে কান্না চলে আসছিল।তাই খাবার গরম করার ছুতো দিয়ে ওখান থেকে চলে গেলাম।
রান্না ঘরে গিয়ে ভাবতেছিলাম কাল আমি চলে যাবো।এর আগে যে করেই হোক রত্নাকে আমার মনের কথা বলতেই হবে।হ্যা আমি কাল সকালেই বলবো।হঠাৎ রত্নার রুম থেকে চিকপাক শুনতে পেলাম।আমি ওর রুমের দিকে একটু এগিয়ে গেলাম।ও কারসাথে ফোনে চিৎকার করছিলো।আর বারে বারে বলতেছিলো,"তুই আমায় খুনকরার হুমকি দেখাস?সাহস থাকে তো কালই তুই আমায় খুন কর।দেখি তোর কতো সাহস।"এই কথা বলেই ও ফোন রেখেদিলো।
এই নিয়ে আমি রত্নাকে কোনো প্রশ্ন করলাম না।রাতে ঘুমোনোর সময় ভাবতেছিলাম কিভাবে কাল ওকে প্রপোজ করবো।এইসব ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে গেলাম।পরদিন সকালে কারো চিৎকারের শব্দে ঘুম ভাঙলো।মনে হলো রত্নার রুম থেকেই চিকের শব্দ আসছে।আমি দ্রুতো ওর রুমে গেলাম।গিয়ে যা দেখলাম তা তে আমি পুরো পাথর হয়ে গেলাম।রত্না ফ্লোরে পরে আছে। ওর গলা দিয়ে রক্ত পরছে।পাশেই একটা লোক চাকু হাতে দাঁড়িয়ে।এটা দেখে যে কেউ বলে দিতে পারবে যে এই লোকটা রত্নাকে এই চাকু দিয়ে জবাই করেছে।এটা দেখেই আমার মাথায় রক্ত উঠেগেলো।আমি দৌড়ে লোকটাকে ধরেই একটাঘুষি দিয়ে গলা চেপে ধরলাম।লোকটা বাচার জন্য হাতের ছুড়িটা আমার কাধে বসিয়ে দিলো।আমি ব্যাথায় চিৎকার দিলাম।কিন্তু তারপরও আমি লোকটাকে ছাড়লাম না।আমি তাকে রত্নার ওড়না দিয়ে খাটের সাথে শক্ত করে বাধলাম।এবার ওকে জিজ্ঞেস করলাম ও কেন রত্নাকে খুন করলো।
আমি ওকে প্রশ্ন করতেই লোকটা হাসা শুরু করলো।হাসি থামিয়ে বললো,"তোর যখন এতই শোনার শখ তাহলে শোন।আমি ওকে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
ঠিক এই সময় আমি কারো প্রচন্ড ধাক্কায় কল্পনার এই জগৎ থেকে ফিরে আসলাম।মানে আমার ঘুম ভেঙে গেলো।চোখ মেলে দেখি ভাইয়া আর ভাবি আমায় ধাক্কা ধাক্কি করছে আর বলতেছে,"এই শুভ্র,,তোর কি হয়েছে?"
আমি তাদের দিকে বোকার মতো তাকিয়ে আছি।তারা বলতেছিলো তুই এতো জোরে চিক দিলি কেন?কোনো খারাপ স্বপ্ন দেখতেছিলি বুঝি?
তখনো আমি ঘোরের ভিতর ছিলাম।ওই রাতে আমার মুখ দিয়ে কোনো কথাই বের হলো না।ভাইয়া ভাবি মনে করেছিলো আমি অসুস্থ হয়ে গেছি।তারা সারা রাত আমার মাথায় পানি দিলো।ওই রাতে বেশ কয়েকবার আমার ঘুম এসেছিলো।কিন্তু আমি আর ওই কাহিনী দেখতে পাই নি।সকালে একটু সুস্থ হলে আমি ভাইয়া ভাবিকে সব খুলে বললাম।ভাবির উপর আমার এত রাগ হলো কি বলবো।সে যদি ওই টাইমে আমায় ধাক্কা না দিত তাহলে আমি রত্নার খুনের কারন জানতে পারতাম।
এই কৌতুহল আমায় বেশ ভালোভাবেই পেয়ে বসলো।এরপর কতদিন ওই রোডে বাসে যাতায়াত করেছি কিন্তু আর কোনোদিন সেই লোকের সাথে আমার দেখা হয় নি যে আমায় বড়ি দিয়েছিলো।
এরপর আমি যত জনের কাছে এই কাহিনি শেয়ার করেছি তারা সকলে বলেছে এটা আমার স্বপ্ন ছিলো অথবা ওই বড়িতে ড্রাগ মিশানো ছিলো যা আমার হেলুসিনেশনের জন্য দায়ী।
তবে ড্রাগ হোক আর যাই হোক আমি আবার ওই বড়ি খেতে চাই।আর জানতে চাই কেন ওই লোক রত্নাকে খুন করলো।শুধু একটা বড়ি।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন