বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

গল্প - কি যেন একটা (জানুয়ারী ২০১৭)

বন্দেমাতরম

Sandip Biswas
comment ০  favorite ০  import_contacts ৪৪
ভোরে চোখটা খুলল বৃষ্টির আওয়াজে। ৭ টা বাজে। এখনও সূর্য মামা মেঘের আড়াল থেকে বের হতে পারেনি। আজ অফিসে অনেক কাজ। তার মধ্যে সকাল থেকেই এই বৃষ্টি। আজকের plan টা মনের মধ্যে ছকে নিতে নিতে চা এর কাপ এ চুমুক দিলাম। তখনই পাসের বাড়ির রেডিওতে বন্দে মাতারম গান টা শুরু হল। খবরের কাগজের প্রথম পৃষ্ঠাতেও বিশাল করে আমাদের দেশের পতাকা আঁকা। ভিজে কাক দেয় দাক শুনতে শুনতে বের হলাম রাস্তায়। ৩ মিনিটের হাঁটা পথ বাস স্ট্যান্ড অবধি। চারিপাশ থেকে কানে আসছে বিভিন্ন রকম দেশাত্মবোধক গান এর খিচুরি। এত বড় দিনটা আমরা পতাকা তুলে, গান বাজিয়ে কোনোভাবে কাটিয়ে দিয়ে থাকি প্রতিবারের মত। তারপর ঘুরে বেরানো, মুভি দেখা, নেশা করা তো আছেই। মদ্যা কথা ৬৮ বছর আগে পাওয়া স্বাধীনতা আজ সবাই যখন নানা ভাবে উপভোগ করছে, আমরা কিছু লোক জল ঠেঙিয়ে অফিস যাচ্ছি। ১০ মিনিট হল বাস ছেড়েছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভিজে পতাকা নুয়ে আছে। দৃশ্যটা মন মত ছিলনা বলে বাসের ভিতরেই চোখ ঘোরাতে থাকলাম। কেউ ঘুমাচ্ছে, কারো কানে head phone গোজা, কেউ নির্বিকার ভাবে বাইরে তাকিয়ে। অবশেষে গড়িয়াহাট বাস স্ট্যান্ড এ নেমে অফিসের দিকে পা বারালাম। দেরি হয়ে যাওয়ায় সরু গলির short cut পথটাই ধরলাম। দুই পাসে বিশাল বিশাল ফ্ল্যাট। কোনও একটা ফ্ল্যাটের ওপর থেকে কিছু বাচ্ছা ছোটবড়-ছেড়া কাগজ উড়িয়ে দিচ্ছে রাস্তার ওপর, আর আনন্দে লাফাচ্ছে। ওদের আনন্দের কারন জানার জন্য একটা ছেড়া কাগজ তুলে নিলাম। ওটা ছিল একটা কাগজের পতাকার ছেড়া অংশ। আবার তাকালাম বাচ্চাগুলোর দিকে। ওদের বাবা-মা এর ওপর খুব রাগ হতে লাগল। রাগ থামিয়ে আবার যখন ভাবলাম অফিসের দিকে আগাই, দেখলাম একটা বাচ্ছা ছেলে ওদের ফেলে দেওয়া জঞ্জালের থেকে খুজে নিয়েছে একটা আস্ত, মুড়ান কাগজের পতাকা। গায়ে জামা নেই; সাকাল থেকে মুখে কোনও খাবার উঠেছে কিনা কে জানে; সে ওই পতাকাটা যত্ন করে ভাঁজ মুক্ত করে আনন্দের সাথে নিয়ে এগিয়ে চলল।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন