বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ অক্টোবর ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ৪টি

গল্প - প্রেম (ফেব্রুয়ারী ২০১৭)

বয়ঃস‌ন্ধিকাল

সাইফ মুহাম্মদ হা‌সিব খান
comment ০  favorite ০  import_contacts ৩২
মাদরাসা থেকে বাসায় ফিরছি। হাতে অনেক কাজ।
সময় মাত্র একদিন। চিন্তায় আছি কীভাবে কী করবো।
অটো থেকে নেমে বাসা পর্যন্ত পৌছার সর্বশেষ পথ ১০মিনিটের। হেটে যেতে হবে।
৫মিনিট হাটার পর কলেজিয়েট স্কুলের মাঠ। অটো থেকে নামার পরই কানে মাইকের আওয়াজ এসেছে। ভাবলাম স্কুল মাঠে কোন মাহফিল সেমিনার হবে হয়ত। যাবার পথে দেখে নেয়া যাবে।
স্কুলের কাছাকাছি হওয়া পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছিল না ভালভাবে।
স্কুল গেইটের সামনে বিশাল একটা সেমিনার গেইট করা হয়েছে। সেমিনারের বিষয়বস্তু মোটামুটি ভড়কে দেয়ার মত। ‘প্রেম সেমিনার’
নিশ্চই এসব কিছু প্রেমিক রাসেলের কাজ। একটুখানি ঢু মারার জন্য মনস্থির করলাম।
ভিতরে গিয়ে দেখি শাকিল ভাই কথা বলছেন। অশ্রুসিক্ত। সবাই শুধু আহ! আহ! করছে। বেচারা! ছয় ছয়বার প্রেমিকা বদল করেছে। একজীবনে কারো এতবার ব্রেকআপ হবার নজীর মনে হয় নাই।
শাকিল নেমে গেছে। রাসেল ভাইয়ের উপস্থাপনা।
বললেন- এখন আপনাদের সামনে এমন একজন প্রেমকাহিনী শুনাবেন যিনি এখনো প্রেমই করেন নাই।
যার বয়স আঠারো। এ এলাকায় নতুন। নাম- মোহাম্মদ সাকিব খান।
বক্তৃতা শুরু হলো। আমি নিজেও একটা খালি চেয়ারে বসে পড়লাম।

"আসসালামু আলাইকুম। আমি সাকিব। আমার বয়স ১৮।
এই বছরের ছেলেগুলোর স্বভাব খুবই অদ্ভুত হয়। কাউকে ভাল লাগে না। কোথাও মন বসে না। উড়ন্ত ভাব এসে পড়ে।
আমিও এর ব্যতিক্রম নই। নিজেকে বড্ড একা একা লাগে। বিষন্নতায় ভুগি সারাক্ষণ।
যেদিন আমি বেশি বিষন্ন থাকি সেদিন অদ্ভূত সব স্বপ্ন দেখি। গতকাল খুব বেশি বিষন্ন ছিলাম। তাই দেখে ফেললাম এক মজার স্বপ্ন। আজ সেই স্বপ্নটাই আপনা‌দের বলব।
‌দেখলাম~
নানা রকম ময়লা-আবর্জনার মাঝে ডুবে আছি।
কোমড় অবধি ময়লা ঠাসা!
উপরে উঠার অনেক চেষ্টা করছি।
দূর্গন্ধে টিকতে পারছি না। কয়েকবার বমিও করে ফেললাম।
যতই উপরে উঠার চেষ্টা করছি ততই ময়লার ভিতরে ঢুকে যাচ্ছি। গলা পর্যন্ত চলে এসেছে। আরেকটু হলে ডুবে যাব।তলিয়ে যাব অতল গহ্বরে। আর উঠতে পারবো না। কোনদিন না।
এতদাসত্ত্বেও আমার উঠার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
বুঝতেই চাচ্ছি না যে, যত নাড়া দিব তত ডুবব।

হঠাৎ দেখি হাতে আতর নিয়ে একটা সুন্দর পরী আমার দিকে আসছে। ময়লা-আবর্জনার ঠিক এক ইঞ্চি উপর দিয়ে হাটছে সে।
গায়ে একটা লাল চাদর। নিচে কী পরেছে বুঝা যাচ্ছে না। কিছু হয়ত নাও থাকতে পারে। সুন্দরীদের গায়ে যেন সব কাপড়ই বেমানান। শরীরই তাদের সব সৌন্দর্য।
আমার করুণাবস্থা দেখে মেয়েটার হাটার গতি বেড়ে গেলো।
আমি ডুবে মুখ অবধি চলে এসেছি। দম বন্ধ হতে আরেকটু বাকী।
ওর মনে হয় আমার প্রতি মায়াই হলো।
আগে একটিবারও চাইল না। এখন এমন এক ভঙ্গিমায় তাকাল মন চাইল এখনই ... করে… ফে‌লি।
আতরের মুখ একটানে খুলে ফেলল। তারপর তা নিয়ে আমার নিকটে চলে এলো। একদম নিকটে। সুবাসে আমার মন মাতোয়ারা, পাগলপারা।
আমি অনেক কষ্টে একটা হাত বাড়িয়ে মনে মনে বললাম- আতরটা দিন প্লিজ।
কারন ততক্ষণে আমার বলার শক্তিও খতম। অনুভূতিটা তখনো বাকি ছিলো বিধায় এমন মুহুর্তেও আমি রুপসির প্রেমে পড়ি। একটু আগে বাচার আশা ছেড়ে দিলেও এখন মনে হচ্ছে এভাবে মরে যাবার কোন মানে হয় না। যেভাবেই হোক আমাকে জাগতে হবে। অন্তত এই মেয়েটিকে ভালবাসার জন্য হলেও।
ও আতর বাড়িয়ে দিয়েছে। সরাসরি নাকের নিকট। আমি ঘ্রাণে জেগে উঠতে শুরু করেছি। উচ্চ আকর্ষণ বলতে কিছু থাকলে সেটাই হয়ত হচ্ছিল।
ইতিমধ্যে ঘুমটাও ভাঙ্গল।
উঠে দেখি কাজের মেয়েটা চা নিয়ে দাড়ানো। আমি হতচকিয়ে উঠলাম। আমার রুমে ও কী করে এলো?
মা-বাবা ছেড়েছে? না! তা কখনো না।
আসলে ওকে কাজের মেয়ে বললে ভুল হবে। এত সুন্দর মেয়ে কখনো ‘কাজের’ হতে পারে না।
লোকমুখের ফিসফিসানিতে অবশ্য হালকা পাতলা জেনেছি যে, আমার অদ্ভুত মা-বাবা ওর সাথেই আমার বিয়ে ঠিক করেছেন। সুন্দর হলেও ওরা অনেক গরিব। টাকা না খাকলে নাকি স্বভাবও নষ্ট হয় অনেকের। সেই জন্য ওর পিতা-মাতার অনুমতিতে ইন্টারভিউ স্বরুপ কয়েকদিন আমাদের বাসায় এসেছে। দুই বছরের টেস্ট।
সব্বাই দোয়া করবেন আমার বিয়েটা যেন ওর সাথেই হয়।!!!"
প্যান্টটা অনেক্ষণ যাবত কাঁপছে। মোবাইলটা ভ্রাইবেট দেয়া ছিল। বের করে দেখি ১৮টা মিসকল। ১০টা আমার মায়ের আর ৮টা…..
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন