বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৮০
গল্প/কবিতা: ৫টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৩২

ছবি

বাবা জুন ২০১২

জানি দুস্ত

বন্ধু জুলাই ২০১১

কষ্ট

কষ্ট জুন ২০১১

মা (মে ২০১১)

মোট ভোট ৩২ আশ্রয়

এস.এম. মোবিন
comment ১৬  favorite ০  import_contacts ৪৮৭
'মা" হচ্ছে মাটি বা পৃথিবী যা ছাড়া অস্তিত্ব থাকে না। আর বাবা হল ছাদ বা আকাশ। যখন মাথার উপর থেকে এর ছায়া সরে যায় কেবল তখনই তাকে অনুভব করা যায়। বাবা এক তীব্র অনুভূতির নাম। মা তো অস্তিত্ব জুড়ে বিরাজ করেন। একটি সংসারে বিশাল উঁচুটা নিয়ে যিনি বিরাজ করেন,জীবনের প্রথম যাকে দেখে ভক্তি শ্রদ্ধা ও মূল্যবোধের নির্দেশনা দেখা মেলে তিনিই হচ্ছেন বাবা।
আর এই বাবা নামের সাথে পরিচয়ের আগেই বাবা চলে গেলেন আমাদের আর পৃথিবীর মায়া ছেড়ে। কতই বা বয়স আমার চার কি পাঁচ মাস। এই পহেলা বৈশাখ এলেই সবাই তৈরি হয় আনন্দ করার জন্যে আর আমি কাঁদি বাবাকে হারানোর ব্যথা নিয়ে। সংসার জীবনের নয়টি বছর ছিল বাবা মায়ের সুখের সংসার। এক মেয়ে আর দুই ছেলে যাদের সম্বল। আপু মনে হয় বাবাকে খুব পছন্দ করতেন, তা না হলে বাবা রোড এক্সিডেন্টে মারা যাওয়ার ছয় মাস না যেতেই আপু মারা যান। বাবা আর আপুকে হারিয়ে মা আমার পাথর হয়ে যায়। যেই দেখতে আশে শুধু ফেলফেল করে তাকিয়ে থাকে। কান্নার কোন ভাষা যে আজ তার জানা নেই। তার ও এক বছর না যেতেই দুই চাচা ও মারা যান। এ যেন মৃত্যুর প্রতিযোগিতায় নেমেছে সবাই। হতভাগী যে দিকে চায় যেন সাগর শুকিয়ে যায়।
দাদা দুই বিয়ে করার সুবাতে পেল আবার সৎ শাশুড়ি। হায়রে নিয়তি ,সকাল থেকে সন্ধ্যা চলে অত্যাচারের মধ্য দিয়ে। আর বলতে থাকে দুই ছেলেকে আমাদের কাছে দিয়ে বিয়ে করে ফেল। শেষ পর্যন্ত ঘর থেকে আলাদা করে দিল। কিন্তু মা আমার হার মানতে শিখেনই। বাবার বন্ধু মাকে একটি গাভী ও একটি সেলাইয়ের মেশিন কিনেছেন । শুরু হল মায়ের অগ্নি পরীক্ষা, সারা দিন সেলাইয়ের কাজ করেন আর আমাদের লিখা পড়া করার চাপ দেন। এই ভাবে নিজের জীবন যৌবন বিসর্জন দিয়ে দুই ছেলেকে ডিগ্রী পাশ করিয়ে ছাড়েন। আসুন আমরা সবাই মিলে মাকে স্যালুট যানাই।
ছুটির দিনে ম্যাগাজিনে সদর আলীর একটি লিখা পড়েছিলাম। এই সমাজে সদর আলীর মত এতিমদের পাশে এসে দাঁড়ানো এবং তাদের মাথায় হাত বুলানো মানুষের সংখ্যা খুবই কম। আমার খুব ইচ্ছা সদর আলী চাচাকে যদি কাছে পেতাম তার পা ছুঁয়ে সালাম করে বলতাম আমার জন্য দুয়া করবেন যেন জীবনে আপনার মত কিছু করে যেতে পারি। আজ যদি বাবা বেচে থাকতেন অন্য কারো আদর চাওয়ার প্রয়োজন ছিল না, আর যদি চাচারা ও বেচে থাকতেন বাবার আদর চাচাদের কাছে ও কিছু পেতাম। আর আপু ও যদি বেচে থাকতেন তার ভালোবাসা নিয়ে ও থাকতে পারতাম। এখন কোথায় পাব বাবার আদর মাখা আশ্রয়, কোথায় পাব চাচাদের ভালোবাসা, কোথায় পাব আপুর মত মায়া ভরা আদর, এ কথা গুলো যখন মনে হয় তখন আর চোখে পানি ধরে রাখতে পারি না।
এখন বড় ভাইয়ের সংসার হয়েছে। বাড়ছে দিন দিন দূরত্ব। মা ই আমার একমাত্র আশ্রয়। এ ছাড়া যে কেউ নেই এই হতভাগার। এই দুঃখ আমি কাকে বলব, কে শুনবে আমার এ কষ্টের কথা, এ কেমন জীবন আমার লিখতে লিখতে এখন ও কেঁদে ফেললাম।
প্রিয় পাঠক কান্না নয়,ভালোবাসাই পারে আমাদের মত হতভাগাদের জীবন বদলে দিতে। দোয়া করবেন যেন বাবাকে নিয়ে ও লিখতে পারি।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন