বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৬ ডিসেম্বর ১৯৯৩
গল্প/কবিতা: ১টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৫৫

বিচারক স্কোরঃ ১.৭৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

গল্প - আমার আমি (অক্টোবর ২০১৬)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৫৫ হেটে আসা রাস্তা আমায় ভাবায়

আরিয়ান রাইটিং
comment ২  favorite ০  import_contacts ২০১
আমার পছন্দের একটা চিকন কাঁচা রাস্তা আছে।প্রায় এই রাস্তায় আমি হাঁটি।রাস্তার ধুলোবালিতে নিজের পা ডুবিয়ে হাটতে ভাল লাগে।দু পাশে রয়েছে সারি সারি গাছ।গাছের ডালে লুকিয়ে থাকা চড়ই পাখির ঝাক।কিচির মিচির সবসময় করেই চলেছে।ভাল লাগে শুনতে।পাখি দের সাথে কথা বলতে পারলে ভাল হত।এরা সব সময় আনন্দে থাকে।আনন্দের উৎস জানা যেত।

এই রাস্তার একটা বিশেষত্ব রয়েছে।পুরোটা রাস্তা ছায়া যুক্ত।এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আরেক প্রান্তের দিকে তাকিয়ে থাকলে কেমন যেন একটা অনুভূতি হয়।আমি ঘন্টার পর ঘন্টা তাকিয়ে থেকেছি এই অনুভূতি বোঝার জন্য।কখনো চোখ ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পরেছে বলে মনে হয়না। তবু অনুভূতিটা বুঝতে পারিনি।রহস্য হয়ে এখনো পরে রয়েছে।রহস্যটা হল কিভাবে?

আমি তখন ভার্সিটি এডমিশনের জন্য একটা কোচিং সেন্টারে ক্লাস করছি।ক্লাস করছি আগে বলাটা ঠিক হলনা মনে হয়।ভর্তি হবার পরপর আমার একটা বাইক দূর্ঘটনা ঘটে।বাইক টা ছিলো জাকারিয়ার।আমার খুব কাছের বন্ধু।ভাগ্যক্রমে আমার তেমন কিছু হয়ে ছিলোনা।তবে আমার বন্ধুর খুব খারাপ অবস্থা হয়।জাকারিয়াকে নিয়ে অনেক দৌড়াদৌড়ি করেও বাঁচানো যায়নি।এর জন্য নিজেকে এখনো দায়ি মনে করি।প্রায় মনে হয় ঐ দিন আমি সাথে না থাকলে এমনটা হয়তো হত না। আমি মানুষিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরি।জীবনে সব থেকে বেশি আনন্দ করার মুহূর্তগুলো ওর সাথে কাটিয়েছি।এই ঘটনার পর থেকে আনন্দ নামের শব্দটা হারিয়ে যেতে দেখতে হয়েছে।জাকারিয়ার হাসির মুহূর্তগুলো সিগারেট এর ধোয়া হয়ে উড়ে যাচ্ছে।আমি সেটা দাঁড়িয়ে দেখছি।আমার হাসিটাও এখন আর নেই। হাসি নামক বিষয়ে যে মরিচা পরতে পারে এটা জানতে শিখেছি। আসলে ভাবা যায়না এমনটা হল কি করে ?
সব কিছু চাপা রেখে আমি তখন নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টায় ছিলাম।কোচিং এ ক্লাস করা শুরু করলাম।প্রথম কয়েকটা ক্লাস করতে পারিনি।ক্লাসের বিষয় বস্তু তখন বুঝতে সমস্যা হচ্ছিল।ক্লাসে গম্ভির ভাবে বসে থাকতাম।না চাইলেও গম্ভিরতা এসে পরতো।কেও কথা বলতে আসলেও কথা বলার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলতাম। ঠিক এমন সময়টাতে পাশে এসে দাঁড়িয়ে ছিলো একটা মেয়ে।নাম স্নেহা।একদিন আমার সামনে এসে হুট করে নাম জানতে চায়।আমি প্রথমে একটু অবাক হয়ে ছিলাম।মনে তখন প্রশ্ন অপরিচিত মেয়ে আমার নাম জানতে চাচ্ছে কেনো?তবে প্রশ্ন না করে আমার নাম বলে দিলাম।নিউটন, আমার নাম!
স্নেহা তখন হাসতে হাসতে অস্থির।হাসাটাই স্বাভাবিক।আমার বাবা ছিলেন ফিজিক্সের টিচার।অতি মাত্রায় শিক্ষকতা করতেন।অতি মাত্রা প্রকাশ করলো শেষে আমার নাম রেখে।বাবা এখন নেই তবে নামটা রয়ে গেছে।স্নেহার হাসি থামলে সহজ গলায় জানতে চাই আপনি কে?আমার প্রশ্ন শুনে স্নেহা বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে ছিলো।
স্নেহা আর আমি একই ক্লাসে ছিলাম।আমি ঘাপটি মেরে বসে থাকতাম বলে কথনো খেয়াল করিনি।তবে এই মিষ্টি মেয়েটা আমাকে খেয়াল করতো।কেনো করতো জানতে পারিনি।তবে অনুমান করে নিয়েছি।কিছু না মিলাতে পারনে যে ভাবে মিলানো হয় সেই ভাবেই অনুমান করা।এই ছিলো প্রথম পরিচয়ের মুহূর্ত।

প্রথম পরিচয় থেকে খুব তারাতারি আমাদের পরিচয়ের ডালপালা জন্মাতে লাগল।যে শূণ্যতা ছিলো হঠাৎ কেও এসে সেটা পূরন পরে দিলো।আমার মিলিয়ে যাওয়া হাসি একটু একটু করে ফিরে আসতে শিখছে।মাঝে মধ্যে মনে হত এই অপরিচিত মানুষটা হঠাৎ আমি কি করে পেলাম?এই মানুষটার হাসিতে লুকায়িতো কোনো রহস্য আছে।স্নেহা কে দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়।ঐ যে একটা বর্ননা আছেনা দুধে আলতা টাইপের।স্নেহা ঠিক সেরকম।স্নেহার হাসির সাথে তার চোখটাও হাসে।মানুষের চোখ হাসতে পারে স্নেহাকে না দেখলে বোঝাই যাবেনা। আমার আর স্নেহার আনন্দ মাখা মুহূর্ত গুলো জাকারিয়াকে হারাবার দুঃখ কে মুছে দেয়।নতুন উচ্ছাস আমার মাঝে এসে আশ্রয় নেয়।আমি যা কিছু করি সব কিছু স্নেহাকে জানাতাম। না জানিয়ে থাকতে পারতাম না।একদিন দেখা না হলে অস্থিরতা অনুভব করতাম।হয়তো এটাই ভালবাসা।

ভালবাসতে শুরু করেছি কবে থেকে কি করে জানবো ?ভালবাসার মধ্যে থাকলে তা ধরা যায়না।নিজেকে প্রশ্ন করে সঠিক উত্তরও পাওয়া যায়না।তবে জানলাম কিভাবে।স্নেহা নামের মেয়েকে জীবনের মুল্যবান সম্পদ মন নামের জিনিসটা কবে দিয়ে ফেলেছি ?কবে ভালবেসেছি ?

ঐ দিনটা ছিলো সব থেকে সুন্দর।আকাশে সাদা মেঘগুলো বিকেলের মিষ্টি রোদে সোনালী বর্নের হয়ে উঠেছে।ঝিরিঝিরি বাতাসে পছন্দের সেই রাস্তাটাকে আজ আমার করে নিয়েছি।বাতাসে গাছের পাতায় মধুর সঙ্গীতের সৃষ্টি হচ্ছে।চড়ই পাখির ডাকে সেই সঙ্গীতের গভীরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।কাঁচারাস্তাটার এই প্রান্তে দাড়িয়ে সবুজের খেলা দেখছি।স্নেহা নামের কোনো ডানা সহ পরী সবুজ শাড়িতে নিজের ডানাকে লুকিয়ে আমার দিকে হেটে আসছে।এত সুন্দর কেনো মেয়েটা ?প্রকৃতি আজ আমাকে কি দেখাচ্ছে ? এই সৌন্দর্য চোখ সহ্য করতে পারছেনা।আমি অন্যদিকে তাকাবার চেষ্টা করছি কিন্তু তাও পারছিনা।
স্নেহা নামের মেয়েটা আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।তার মুখে মুচকি হাসি।আমার দিকে তাকিয়ে সে বলল একটা চমৎকার নিউজ আছে।আমি তখন খুবি আগ্রহি হলাম।।স্নেহা তার বাম হাতটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো।হাতে একটা রিং।আমার মাথায় হাজার ভোল্টের ফ্লাড বাল্ব জ্বলে উঠলো।আমার ছলছল চোখটাকে ধরে রেখে হাসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।স্নেহার বাবা স্নেহা আর ইমরান এর সম্পর্ক কে মেনে নিয়েছে।স্নেহার যে সম্পর্ক ছিলো আমি ঐ দিন প্রথম জানলাম।আমার তখন কিছুই বলার ছিলোনা।আমি এই পরীটার শুধু বন্ধুই ছিলাম।আর কিছুই না।

অনেক গুলো বছর চলে গেছে।আমরা এখনও বন্ধু।কোনো দিনো স্নেহাকে মনের কথা বলিনি।জানি বলাও হবেনা।
একটা রাস্তায় এত বার আমি হেটেছি।তবু মনে হয় রাস্তাটা আজো নতুন। কথনো ঐ প্রান্তে যেয়ে বুক ফুলিয়ে বলতে পারিনা এই রাস্তায় হেটে এসেছি।এই রাস্তা আমার পরিচিত।এখানে দাড়িয়ে কি পেয়েছি কি হারিয়েছি তার হিসাব কশে কি হবে।বিশ্বাস এর মনভাব নিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখতে দেখতে আজ চোখে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
বিভ্রান্তিটাও দেখার মত।চেনা পথ যেটা আজ নতুন সেই পথে তুমি আসছো।সবুজ শাড়ি তে সবুজে ঘেড়া এই রাস্তায় তোমার ছোট ছোট পা ফেলা।প্রকৃতিকে কি অপরূপ লাগছে।আমি একা হাটলে লাগেনা তুমি একা হাটলে লাগে।আচ্ছা তুমিকি সত্যিই আসছো ?সবুজ শাড়িতে তোমাকে এত ভালো লাগে কেনো ? কি আছে এই সবুজে?
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • আহা রুবন
    আহা রুবন শুরুটা করতে হয় সহজ দিয়ে। বর্ণনাধর্মী গল্প লেখা বেশ কঠিন। আপনাকে লিখতে হত সংলাপধর্মী গল্প। মাঝে মাঝে গল্প না হয়ে রচনা হয়েছে। যদি ভাল গল্প লিখতে চান পড়ুন, ভাল গল্প কেন ভাল লাগছে বোঝার চেষ্টা করুন। শুভ কামনা থাকল।
    প্রত্যুত্তর . ৩ অক্টোবর, ২০১৬
  • কাজী জাহাঙ্গীর
    কাজী জাহাঙ্গীর বেশতো, কিছু আবেগের মুহুর্ত নাহয় এরকমই হলো, শুভ কমনা ভোট আর আমার গল্পে আমন্ত্রণ।
    প্রত্যুত্তর . ১২ অক্টোবর, ২০১৬