বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৫ অক্টোবর ১৯৯৫
গল্প/কবিতা: ১টি

সমন্বিত স্কোর

৪.২৫

বিচারক স্কোরঃ ২.৪৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

গল্প - এ কেমন প্রেম? (আগস্ট ২০১৬)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.২৫ অন্য আমি আর মিরা

তামিম Ahmed
comment ৬  favorite ০  import_contacts ১৩১
১.
গল্পটার শুরু একটু অন্যভাবে করি?
নাহ থাক ইচ্ছে করছে না ।
রুদ্র
মানে আমি, ছোট বেলা থেকেই একটু কেমন জানি স্বভাবের ।
কেমন জানি মানে, কেমন জানি । যে বয়সটায় বন্ধুরা স্কুল ফাকি দিয়ে মেয়েদের পিছনে দৌড়ত , তখন আমি পুরো সিরিয়াস ।
না না , পড়াশোনা নিয়ে নয়, ফিফার কঠিন ময়দানের যুদ্ধ নিয়ে ।
কলেজে ওঠার পর বন্ধুরা বহু চেষ্টা করেছিল ভালোবাসার মর্ম বোঝাতে, একদিন তো জোর করে ইমরুল এর বাসায় নিয়ে আমাকে দেবদাস ছবি দেখানোর বন্দোবস্ত করা হলো । জীবনের সেরা তিন ঘন্টার ঘুম মনে হয় সেদিনই দিয়েছিলাম ।
ইমরুল, আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু । নাম ইমরুল বলেই হয়ত লাইফের রুলগুলো তার একদম পছন্দ নয়। আমি তার কাছে একটা বিশাল ইডিয়ট রোবট, যার কোন অনুভূতিই নেই । অবশ্য, আমার মত একটা অনুভূতিহীন রোবট কি করে তার বন্ধু হয়ে গেল সেটা এক রহস্য । কলেজ জীবনে ইমরুলের প্রেম বিষয়ে অধিকতর গবেষনা, আর আমার ফিফার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, ফলাফলঃ কলেজ পরবর্তি জীবনে দুজনেরই ঠিকানা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি । যদিও চেষ্টা করেও, দুজন এক ইউনিভার্সিটে ভর্তি হতে পারিনি । মনে আছে, প্রথম দিন ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস এর পর আমরা দুই বন্ধুই খুব আনন্দিত হয়েছিলাম । ইমরুল খুঁজে পেয়েছিল তার জীবনের ৭ম ভালোবাসা আর আমি পেয়েছিলাম আমার জীবনে ফিফার কিছু কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী ।
২.
আচ্ছা গল্পটা শুরু করি?
মেয়েটাকে আমি একদম খেয়াল করতাম না, মেয়েটাকে মানে মিরাকে । প্রিয় খেলোয়াড় মেসি হওয়ায়, ফোনের প্যাটার্ন লকেও এম লিখে রেখেছিলাম । ক্লাসমেট আদিব ফোনের প্যাটার্ন লক কোডে এম দেখে, নিজেকে অতি চালাক প্রমান করতে গিয়ে, পুরো ক্লাসে ছড়াল এম ফর মিরা । পুরো ক্লাস অবশ্য নয়, মিরা জানত না । জানবেই বা কি করে, সারাদিন শুধু মেকআপ আর মেকআপ , মুখে মেকাপ মারাটা যে কারো হবি হতে পারে,এই মেয়েটাকে দেখলে বোঝা যেত । এরপর কিছুদিন পর আবিষ্কার করলাম, মিরা পুরো জগতটা জুড়ে জায়গা করে নিয়েছে, না না,আপনারা যেমনটা ভাবছেন তেমনটা নয় । এই ধরুন বাসে বসে আছি, তো রিক্সার পেছনে লেখা মিরা ,রিক্সায় বসে আছি তো বাসের পেছনে লেখা মিরা , আম্মাকে নিয়ে হাসপাতালে গেলাম, ডাক্তার বলল আম্মাকে মিরা ডায়গনিক সেন্টারে দেখাতে, মিরা ডায়গনিক সেন্টারের ডাক্তারের নাম মিরা জানার পরোও ততটা অবাক হইনি, যতটা হয়েছি যখন কথিত সাধু বাবা বলে দিলেন মিরা নামের কোন মেয়েই হবে আমার জীবন সঙ্গী । মিরা রবরবে , কি ফিফা কি পড়াশোনা কোনটাতেই মনোযোগ দিতে পারছিলাম না, । একবার ভেবেছিলাম মিরা কে গিয়ে ঝাড়ি মেরে কিছু কথা বলি। বলি, “ তোমার নামটা কি চেঞ্জ করা যায় না ? আকিকার টাকা আমি দিয়ে দিব । তোমার বাবা মা কি আর কোন নাম খুঁজে পায়নি ?” কিন্তু সাহস হত না, জীবনে কোন মেয়ের সাথে ঠিক ভাবে কথাই বলি নি , তার উপর মেয়েটাকে গিয়ে ঝাড়ি দিতে হবে ।এই প্রথম মনে হচ্ছে, লাইফে সবার কিছুটা হলেও ইমরুল এর মতো হওয়া উচিত। সব সমস্যার সমাধান পেয়ে গেলাম যখন জানতে পারলাম, মেয়েটার একটা বয়ফ্রেন্ড আছে, এয়ারফোর্স অফিসার ক্যাডেট বয়ফ্রেন্ড । খুব হাইপ্রোফাইল । যদিও দূর থেকে ছেলেটাকে আমার একটু ইমরুল টাইপের মনে হত, তা হোক, আমি তো বেশ খুশি , ক্লাসে সবাইকে চুপ করানোর একটা অজুহাত তো পাওয়া গেলো ।
৩.
দুদিন পর ক্লাস শেষে বাসায় এসে দেখলাম মুদির দোকানে চাচা আমাদের বাসায়, আর আম্মার মুখে রাজ্যের রাগ । দূর থেকে মনে হলো মুদির চাচা আমাকে নিয়েই কিছু বলছেন । সামনে যেতেই ব্যাপার পরিষ্কার, চিড়া আনতে গিয়ে আমি নাকি চাচাকে বলেছি, মিরা দিন চাচা মিরা । আর তা শুনে চাচা তার ছোট মেয়ে মিরা এর প্রতি আমার এই অন্ধ ভালোবাসার কথা আম্মাকে বলতে এসেছেন । চাচা তো একবার আম্মাকে বেয়াইনো বলে ফেললেন ।চাচার কথাগুলো আম্মার কাছে আরো অর্থবহ হলো যখন জানাগেলো , আমার ডায়রীর সব পাতাতে নাকি ছোট ভাই মিরা লেখা খুঁজে পেয়েছে ।
আমি লিখেছি মিরার নাম ? লিখতেই পারি, কারো নাম লিখলেই তো আর তাকে ভালোবাসা হলো না । মিরা চক্রে পরে আমি যখন টালমাটাল , তখন জানতে পারলাম, সেই আদিব গাধাটাই নাকি আবার মিরা কে গিয়ে বলেছে, সে নাকি আমার ক্রাশ, আমি নাকি মিরা কে ছাড়া বাঁচতেই পারব না । উত্তরে নাকি মিরা শুধু একবার হেসেছিল ।
এরপর শুধু হাসি, আমাকে দেখলেই মিরার সেই হাসির মানে আমি বুঝতে পারতাম না । ওর হাতটা ধরতে খুব ইচ্ছে করত । না না , মিরা কে ভালোবাসি বলে নয়, ভালোবাসলেই কেবল হাত ধরতে ইচ্ছে করবে এমনটা কোথায় বলা আছে ? ।
ওর সাথে ওর বয়ফ্রেন্ডের ছবিগুলো ফেসবুকে দেখতে ইচ্ছে করত না বলে , ফেসবুক আইডিটাই বন্ধ করে দিয়েছিলাম , না না , জেলাস ফিল করে নয় , ফেসবুকে এত ছবি দেয়ার কি আছে ? মিরা আমার গার্লফ্রেন্ড হলে, গালে চড় মেরে বলতাম বয়ফ্রেন্ড নিয়ে এত বেশি শো অফ চলবে না ।
মেয়েটা মাঝে মধ্যেই আমাকে বিপদে ফেলত, কি ঝামেলা হতো ইমরুল টাইপ বয়ফ্রেন্ডটার সাথে, আর ক্লাসে এসে মুখ লুকিয় কাঁদত, অনুভূতিহীন রোবট হয়েও আমি কেন জানি কেঁদে দিতাম . না না মিরাকে ভালোবাসি বলে কাঁদতাম না , ভালো না বাসলে কাঁদা যাবে না এমনটা কোথায় বলা আছে ?
মিরার সাথে আমার শেষ দেখা হয়েছিল বর্ষণমুখর একদিনে, দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজছিলাম, বুঝতে পারছিলাম দূর থেকে মিরা অবাক হয়ে আমার এই বৃষ্টি ভেজাটা দেখছিল, আমার কি তখন ওকে ডেকে একসাথে ভেজা উচিত ছিল ? যতক্ষণে মিরা নামটি উচ্চারিত করতে পারলাম ততক্ষনে মিরা নামের কেউ সেখানে ছিল না ।

৪.
আজ এত বছর পর আবার বর্ষায় বৃষ্টিতে ভিজছি, দূর থেকে কেউ চিৎকার করে বলছে “শুনছ এই বয়সে বৃষ্টিতে ভিজলে শরীর খারাপ করবে”
অনার্স শেষ করেছি চার বছর আগে, মিরাও শেষ করেছিল আমার সাথেই । শুনেছি, তার এয়ারফোর্সের অফিসার হাসবেন্ড জাতিসংঘ মিশনে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে, আসলে আমার ধারনা ভুল ছিল, মিরার বয়ফ্রেন্ডটা ইমরুল টাইপের নয়, অনেক মহান মনের মানুষ ছিল । মিরা এখন কোন এক কলেজে শিক্ষকতা করে । আর আমি? আমি মিরা কে নিয়ে বেঁচে আছি নিয়মিত । যাকে বিয়ের ২ বছর পরে এসেও ভালোবাসার চেষ্টা করছি, মুদির দোকানের চাচার ফ্যাকাশে মুখ আর আম্মার ইমোশনাল ব্লাক মেইলিং শিকারে মিরা আজ আমার স্ত্রী । আপনাদের শুনতে পাওয়া কণ্ঠটি আমার স্ত্রী মিরার । আচ্ছা মিরা কে কি বৃষ্টিতে ভিজতে ডাকা উচিত আমার ? না থাক, সে দূর থেকেই দেখুক আমায়, দেখুক আমার মিরা হয়ে
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন