বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯২
গল্প/কবিতা: ১টি

সমন্বিত স্কোর

৩.২২

বিচারক স্কোরঃ ১.৪২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

গল্প - রহস্যময়ী নারী (জুলাই ২০১৬)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.২২ মৃত্যুপ্রেম

অরণ্য
comment ৩  favorite ১  import_contacts ৪১৫
রাত ১ টা । রাব্বির হাতে জলন্ত সিগারেট । এই সময়টা রাব্বি ছাদে বসে সিগারেট খায় , আর আকাশ দেখে , মাঝে মঝে একা একা কথা বলে ,এই অভ্যাসটা তার আগে ছিল না , কিন্তু এখন কেন জানি তার আকাশ দেখেতে ভালো লাগে , বৃষ্টি দেখতে ভালো লাগে , বৃষ্টির পানি যখন তার পুরু কাচের চশমার গায়ে এসে পরে এক অদ্ভুত অনুভুতি কাজ করে
ছাদে খুট করে একটা শব্দ হ্য় , অতি রুপবতি এক মেয়েকে ছাদে উঠতে দেখে সে । এত রাতে এই মেয়ে , হয়ত নতুন ভারাটিয়া হবে হয়তো ! রাব্বিই প্রথমে শুরু করে ,
- এই যে মিস আপনি এত রাতে ??? , এত রাতে ছাদে উঠা নিষেদ । জানেন না ???
- নাতো । আমরা নতুন এসেছিতো । তাই জানি না ।
- হুম্মম ,
-ছাদে উঠা নিশেদ কেন ?
-রাতের বেলা এই ছাদে এক ছেলের ভুত হাটা হাটি করে, একটু হেসেই উত্তর দেয় রাব্বি ,
মেয়েটা অবিশ্যাষের দৃষ্টিতে তাকায় রাব্বির দিকে , তারপও জিজ্ঞেস করে ছেলেটা ভুত হলো কিভাবে ?? রাব্বি শুরু করে ভুতের কাহিনী ।।
এই বাড়ির তিন তলায় একটা ফ্যামিলি থাকতো , তদের একটা ছেলে ছিল , তনয় । তনয় এর ফ্যামিলি অনেক কনজারভেটিভ টাইপের । এটা করা যাবে না , ওঁটা করা যাবে না , সারাদিন শুধু পড় আর পড় ,
এইচ এইচ সি পরীক্ষার পর তনয় কে ঢাকায় ভর্তি করাতে চায় তার বাবা। তনয় তার বাবা কে অনেক ভয় পায় , মিডিল ক্লাস কনজারভেটিভ ফ্যামিলির ছেলে হলে যা হয় আর কি ? সব কিছুতেই তাদের না , সারাদিন শুধু পড়া লেখা আর পড়া লেখা ছারা তারা কিছুই বুঝে না । তোমাকে বড় হয়ে এটা হতে হবে ওটা হতে হবে । এই কথা গুলোই তাদের কানে বাজে ।
যাই হক তনয়ের বাবা তনয়কে ঢাকার একটি ভালো কলেজে ভর্তি করিয়ে দেয় , ওই কলেজের প্রিঞ্ছিপাল আবার তার বাবার বন্ধু , এইখানেও এক বিপত্তি উলটা পাল্টা করলেই সোজা নালিশ চলে যায় বাবার কাছে। আর দশটা ছেলের মতো বেড়ে উঠতে পারেনি তনয়। ইচ্ছা মতো তার জীবনটাকে সাজাতে পারেনি । ছোট বেলা থেকেই তনয় একটু চুপচাপ সভাবের গম্ভির টাইপ ছেলে , কাওকে মন খুলে কিছু বলেতে পারে না । পেটের কথা গুলো গলা পর্যন্ত এসে আটকে যায় , মুখ দিয়ে বের হয় না ।
অবশেষে কলেজের প্রথম দিন । নুতুন ক্লাশ , নতুন পরিবেশ নিয়ে অনেক এক্সাইটেড তনয় । যথারীতি ক্লাশ শেষ হয় । কিন্তু না বোরিং ক্লাশ বোরিং পোলাপাইন । তার উপর সে এই এলাকায় একবারেই নতুন । আড্ডা মারারো কেউ নেই ।
পরদিন ৮ টায় ক্লাশ একটু দেরি হয়ে যায় ক্লাশে ধুকতে । কমনরুম দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ এক মেয়ের সাথে তার চোখাচুখি হয়। ১ সেকেন্ডের জন্য হলেও সে স্ট্যাচু হয়ে থাকে । এত সুন্দর চোখ জীবনে কনোদিন দেখনি । কাজল দেয়া ওই চোখ । নেশা ধরে যায় , শুধু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে ।
প্রথম দেখাতেই ওই চোখের প্রেমে পরে যায় তনয়। খোজ নিয়ে জানতে পারে মেয়েটা তাদের পাসের ক্লাশের বি সেকশনে পড়ে । বন্ধুদের সাথে দেখা করার ছলে মেয়েটাকে দেখে আসে প্রায়াই দেখা হয় তার সাথে । আস্তে আস্তে ভালো লেগে যায় মেয়েটাকে । , ওই ভালো লাগা পর্যন্তই শেষ । সাহস করে মেয়েটার সাথে কথা বলবে এটা স্মভব না । চুপচাপ সভাবের ছেলে তনয় , মেয়েদের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তাই জানেনা না ,তার উপর প্রিঞ্চিপাল তার বাবার বন্ধু কোন ক্লেংকারি হলে তাকে কলেজ ছেরে চলে জেতে হবে ক্লাশ, হোস্টেল আর ক্লাশের ফাঁকে তার প্রিয় মুখ টাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখে কেটে যায় কয়েকটা দিন ।
রুমে বসে ঝিমাচ্ছে সে, হঠাথ কেলেন্ডারের দিকে চোখ পরতেই মাথা খারাপ হয়ে যায় তার , আরে কাল তো ৭ আগস্ট মালেক স্যারের মিড এক্সাম ।
মিড এক্সাম তাই রাত জেগে পড়তে থাকে তনয়। এক আননোন নাম্বার থেকে কল আসে তার মোবাইলে , রিছিভ করতেই ওইপাশ থেকে এক মেয়ের কণ্ঠ ভেশে আশে ।
-হ্যালো
-আচ্ছা এটাকি সজিবের মাম্বার মেয়েটি জিজ্ঞেস করে ??
-আপনি কোণ সজীবকে খুজছেন ? আমি দুইজন সজীবকে চিনি । আমার এক ক্লাশমেট আর এক কাজিনের নাম সজীব ।
- আমি ফিজিক্সের সজবি কে খুজছি ?
- সরি রঙ নাম্বার ।আমি চিনি না
-আচ্ছা আপনার নাম কি?
-আমার নাম তনয় ।
মেয়েটির কণ্ঠে এক মায়া আছে কথা বলতে ইচ্ছা করে। মায়া ভরা কোন মেয়ের কল কেটে দেয়া কনো ছেলের পক্ষে স্মভব না । মেয়েটা অনর্গল কথা যাচ্ছে আর তনয়ও সুবোধ বালকের মত আনসার দিতে থাকে । এক পরজায়ে তনয় জিজ্ঞেস করে আপনার নাম কি?
- আমার নাম পরি।
- ধুরও পরি কারো নাম হয় নাকি ???
- হা আমি দেখতে অনেক সুন্দরতো তাই আমার নাম পরি । খিল খিল করে হেসে উঠে মেয়েটি ।
এমন মিষ্টি মধুর হাসি কেউ কোনোদিন শুনেছে বলে মনে হয় না । এই হাসি কেমন জানি , কানের মদ্ধে আলাদা জঙ্কার তৈরি করে ।
- এই সব পরি টরি নাম আমার পছন্দ না ।
- আচ্ছা আপনি একটা নাম ঠিক করে দেন ওই নামেই ডাকবেন আমায় । এই বলে আবারো খিল খিল করে হেসে উঠে পরি ।
তনয় ভাবে নাহ এই মেয়েরতো হাসির হাসির রোগ আছে খালি হাসে !!!
-আচ্ছা এখন থেকে আপনার নাম অদ্রিকা ...।।
- অদ্রিকা নামটি অনেক সুন্দর । মানে কি এর ?
- অদ্রিকা মানে অপ্সহরি মানে পরি ।
অদ্রিকা আবার খিল খিল করে হেসে উঠে । নাহ এই মেয়ের আসলেই হাসির রোগ আছে । আরও কিছুক্ষন কথা বলে তারা । অদ্রিকা গুদবাই বলে নাইন কেটে দেয়।
পরদিন এক্সকাম এর চাপে রাতের কথা মনে থাকেনা তনয়ের , তার উপর সেতো আবার অলরেডি নীল নয়নার প্রেমে হাবু ডুবু খাচ্ছে ...........................।
রাতে আবার অদ্রিকার কল আবার তাদের মঝে কথা চলেতে থাকে । মেয়েটার সাথে কথা বলে তনয় বুঝতে পারে মেয়েটার হাসির রোগ না শুধু প্রকৃতর প্রতিও তার আলাদা একটা তান আছে ।তার আকাশ ভালো লাগে, জ্যোৎস্না ভালো লাগে । পূর্ণিমা রাত তার কাছে রহস্যের মনে হয় । বৃষ্টিতে ভিজতে ভাল লাগে অদ্রিকার । এই মেয়েটার সব কিছুই যেন আলাদা । রহস্যের ঘেরা ।
তনয়ের মাথায় এইসব ধুকে না । ভ্যাগাবন্দ টাইপের ছেলে সে প্রকৃতি নিয়ে তার মাথা বেথা নাই । বৃষ্টি হইলেই কিবা না হইলেই কি !!!!!
সব কিছু স্বপ্নের মতো মনে হয় তনয়ের কাছে , একদিন অদ্রিকা তনয়কে দেখতে চায় । তনয়ও মনে মনে অদ্রিকার একটি ছবি আঁকে মিলিয়ে দেখতে চায় সে ।
- তোমার এফবি অ্যাকাউন্ট দাও । আমি অ্যাড করে নিচ্ছি ।। তাহলে দুইজন দুইজন কে দেখতে পারব অদ্রিকা কে বলে তনয় ।
-আমারতো এফবি অ্যাকাউন্ট নাই ! অনেক আগে একটা ছিলও দিএকটিভ করে দিছি ।
- হুর মিছা কথা এই জুগে এফবি নাই এমন কেউ আছে নাকি ??
- আচ্ছা আপনি একটা এফবি অ্যাকাউন্ট খুলে দেন । আমি পিক আপলোড দিচ্ছি আমরা দুইজন ওই এফবি টা ইয়ুজ করব হি হি ।
তনয় অদ্রিকার নাম দিয়ে একটা এফবি খুলে দেয় । পিক দেখেতো তনয় পুরাই থ !!!!!!!!!!!!! এইটা কিভাবে সম্বভ ?????? আরে এইতো সেই মেয়ে । যাকে মনে মনে খুজতেছে সে ।
- তুমি বলনি কেন ? তুমি আমার কলেজের ? (একটু অভিমানের সুরেই জিজ্ঞেস করে তনয় )
- বলি নি কারন , তুমি যদি আমার সাথে কথা না বল । আসলে তোমায় প্রথম দেখায় আমার ভাল লেগে যায় , আমি এসব প্রেম ভালোবাসা বিশ্বাস করি না। কিন্তু তোমাকে দেখার পর...... আমি জানি না আমি কি করব । তোমার সাথে খুব কথা বলতে ইচ্ছা করতেছিল তাই কল দেই । তুমি কি আমার সাথে আর কথা বলবে না??
তনয় কি উত্তর দিবে ভেবে পায় না সে কি বলে দিবে আমারও যে তোমায় অনেক ভালোলাগে , আমি যে তোমার ওই চোখের প্রেমে পরে আছি !!!! কিন্তু বলতে গিয়েও কোথায় যেন একটা ভয় কাজ করে তার মনে ... । রাতে ঘুমাতে গিয়ে অনেক চিন্তা করে কিন্তু কোন কূলকিনারা পায় না সে । সে কি বলে দিবে তার মনের কথা নাকি কিছুদিন অপেক্ষা করবে ???

বৃহস্পতিবার আর রবিবারটা তনয়ের জন্য বিশেষ দিন কারন এই দুইদিন তনয় আর অদ্রিকারদের একসাথে প্রাকটিকাল ক্লাশ হয় । পুরা সপ্তাহ জুরে অপেক্ষা করে এই দিন্ দুটির জন্য ।অদ্রিকাকে একটু মনে ভরে দেখতে পারবে। অদ্রিকা এইসবের কথা কিছুই জানে না , থাক কিছু কিছু জিনিস না জানাই ভাল ।
অতপর তারা প্রথম দেখা করবে । সেদিন শক্রবার ছিল । এত দিন তাদের কলেজেই দেখা হতো কিন্তু কথা বলতে পারত না , কলেজ কি আর সবার সামনে কথা বলা যায় আর তনয় যেই টাইপ ভিতু ছেলে তার পক্ষেতো অস্মভব
তনয় আর অদ্রিকা একটা রেস্টুরেন্টে বসে আছে। অদ্রিকা একের পর এক কথা বলে যাচ্ছে আর তনয় মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে । প্রতিদিনই দেখে মেয়েটিকে। তাতে মেয়েটা পুরোনো হয় না । অদ্রিকার চোখগুলোর থেকে নিজের চোখকে সরাতে পারে না ! এক জোড়া চোখের ভেতর এক সমুদ্র মায়া ছিলো ... সেই সমুদ্রে ডুবে যাচ্ছিল ... অতল মায়ায় তলিয়ে যাচ্ছিল ।
তনয় নিজের মনেই বলে উঠে "অনন্তকাল ধরে এতটা মুগ্ধতা নিয়ে আমি তোমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে চাই ... অনেকটা মূহুর্ত, অনেকগুলো মিনিট, ঘন্টা, দিন, মাস, বছর, যুগ আমি এভাবেই থাকতে চাই ... ঘড়িটাকে কেউ একটু থামিয়ে দিক ... আমি এভাবেই বুড়ো হয়ে যেতে চাই !! আমার চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসবে ... সেই ঝাপসা দৃষ্টিতেও এতখানি মুগ্ধতা নিয়ে আমি তোমাকে দেখতে চাই ... আমাকে শুধু দেখতে দিও ... আমাকে ভালোবাসতে হবে না ... আমাকে ভালোবাসার সুযোগ দিতে হবে না ... আমাকে শুধু একটুখানি মুগ্ধ হওয়ার সুযোগ দিও । কি জানি কি অদ্ভুত মায়া ছিলও ওঁই চোখগুলোতে ! যে মায়ার বন্ধনে আজও আটকে পরে আছে সে ।
ওমা মেয়েতা দেখি মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে কথা বলে । আন্মনেই হেসে উঠে তনয়।
- অই হাসো কেন । ??
- তুমি যখন মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে কথা বলতেছিলা , তখন অনেক কিউট লাগছিলো তোমায় ।
- veeeeeeeeeeee
অদ্রিকাকে বাসায় পৌছিয়ে তনয় হোস্টেল এ ফিরে যায় । তনয় এর কাছে সব স্বপ্নের মতো মনে হয় , মনে হয় সে কনও এক ঘোরের মদ্ধে আছে । এত সুখ তার কপালে আল্লাহ কিভাবে লিখে রাখল ???? এইভাবেই তনয় আর আদ্রিকার দিন চলে যায় ।

বিকাল ৫ টা । তনয় ঘুমিয়ে ছিল । হঠাৎ অদ্রিকার কল !
- অই চল আজ দেখা করি ?
- আরে পাগল নাকি তুমি । কেও যদি দেঝে ফেলে ।ঘুমজরানো কণ্ঠে তনয় উত্তর দেয় ।
- আরে কেউ দেখবে না । আমরা ওই রাস্তায় দেখা করব । সন্ধ্যা বেলা । ওই সময় মানুষজন কম থাকে ।
তনয়ের কেমন জানি একটু ভয় ভয় লাগে । কেও যদি দেখে ফেলে । কনও ঝামেলা হয় যদি ????
- আচ্ছা তুমি জলদি আসো , আসলে তোমায় আমার হাত ধরতে দিবো ।
হাত ধরার লোভেই হোক আর অদ্রিকার দেখার ইচ্ছাই হোক তনয় রাজি হয়ে যায়, রাজি না হয়ে উপায় আছে ভালোবাসার মানুষের সানিদ্য কে না পেতে চায় ...!
আসলেই রাস্তাটা একটু নির্জন , রাস্তায় লাম্প পোস্টের আলো ছারা আর কোন আলো নেই , তবে একটু পর পর অটো সিএনজি যাতায়াত করে ।
অদ্রিকাকে রিক্সা থেকে নামতে দেখে এগিয়ে যায় তনয় । আজ অন্য রকম লাগতেছে অদ্রিকা কে । অনেক সুন্দর লাগতেচে অদ্রিকা । এত মায়া কেন মেয়েটার চেহারায় , হাল্কা মিষ্টি কোন পারফিউম এর ঘ্রান আচ্ছে তার সরির থেকে। পুরাই ঘোর লেগে জায় তনয়ের . অদ্রিকা একটা নীল কালারের ড্রেস পরে আসছে । নীল কালার তনয়ের অনেক প্রিও। নীল কালারের জন্যই হয়তো অদ্রিকা কে ভয়ংকর সুন্দর লাগছে । কোন ছেলের চোখে কনও মেয়েকে ভয়ংকর সুন্দর লাগা ঠিক না। এই চেহারা মন থেকে জীবনেও মুছতে পারবে না । সয়ং মিস ওয়ার্ল্ড কেও তার সামনে দার করিয়ে দিলেও সে ওই মেয়ের মাঝে খুত ধরবে আর বলবে অদ্রিকাই সব থেকে সুন্দর
নাহ তনয় আজ অদ্রকার হাতটি ধরতে পারে নাই । ধরতে গিয়েও কথায় জানি কিন্তু কাজ করে তার মনে ?????
রাতে কল দেয় অদ্রিকাকে । কিন্তু অদ্রিকা কল রিছিভ করে না ।। অনেক গুলা মেসেজ দেয় কোন রিপ্লাই নাই । কিছুক্ষন পর অদ্রিকার কল আসে । কল রিচিভ করতেই অদ্রিকার কান্নার শব্দ শুনতে পায় তনয় । কিছু কিছু মানুষের কান্না শক্ত হৃদয়ের মানুষের মনকে বরফের মতো গলিয়ে ফেলবে । এই মেয়েটার কান্না সেরকম । এই কান্না শুনে যেকোনো মানুষের মনের ভিতর ধেউ তৈরি করতে সক্ষম। তনয়েরও সেম অবস্তা । মেয়েটা কান্না করেই যাচ্ছে , ফুফিয়ে ফুফিয়ে কান্না ।
- এই কাদতেছ কেন?? । ওই কি হইছে অদ্রিকা বলতো ???
- আমার আগে একটা বয় ফ্রেন্দ ছিলও তার সাথে আমার ব্রেকাপ হয়ে যায় । তোমাকে বলি নি । আমার মনে হচ্ছে আমি তোমার সাথে চিট করতেছি । ......এই বলে আবার কন্না শুরু করে মেয়েটি
তনয় আর কিছু শুনতে পারেনি তার কান শাঁ শাঁ করতেছে । এই এক কথায় তার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরে , তার কিন্তুর জবাব সে পেয়ে যায় । নাহ অদ্রিকা তাকে ভালোবাসে না । তার একজন সঙ্গি দরকার যাতে পূর্বের প্রেমের সৃতিগুলো ভুলে থাকতে পারে । তনয় কিছু বলে না । কি বলবে কিছুই বুঝতে পারে না । আস্তে করে কল কেটে দেয়। রাতে ঘুমাতে পারে না , সব কিছু কেমন যানি ওলট পালট লাগে তার কাছে । এত দিন যা ভেবে ছিলও সব কি ভুল ছিলও !! সব মিথ্যা !!!
সকালে অদ্রিকার সাথে তনয়ের আবার কথা হয় , সব সাভাবিক কাল রাতে যেন কিছুই হয়নি । তনয়ও এই নিয়ে কথা বলে না আর । ও তো অদ্রিকারে ভালোবাসে যা হবার তা হবেই । এই মেয়টা এমন কেন ? এত রহস্য ঘেরা !! নাকি পৃথিবীর সব মেয়ের মাঝেই কোন রহস্য লুকিয়ে থাকে ??

অনেকগুলো দিন কেটে যায় , তারা দুজন আরও কাছে চলে আসে । তনয় কনদিন ভাবে নি কনও মেয়েকে সে ভালবাসবে ? তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখবে ? অদ্রিকার স্বপ্নগুলই তনয় নিজের মনে করে নেয়। কোন একদিন পিকাপ করে সারা শহর ঘুরে বেরাবে দুজন , হতবা জ্যোৎস্না রাতে পাপাশা পাশি হাতে ধলে গল্প করবে তারা। হয়বা কোন শিতের কুয়াশা ঢাকা পথে হেটে বেরাবে । হয়তোবা পূর্ণিমা রাতে অদ্রিকার কাধে মাথা রেখে জ্যোৎস্না দেখবে । হয়তোবা কোন এক বৃষ্টির দিনে অদ্রিকা বলবে চলো বৃষ্টিতে ভিজি ,তনয় প্রথমে না করবে । তনয় ইচ্ছা করেই না করবে ওচায় অদ্রিকা অকে জোড় করে ধরে নিয়ে যাক । আস্তে আস্তে তনয়ের মনে জায়গা করে নেয় মেয়েটি ।
অদ্রিকার একটা খারাপ দিক আরেকটা ভালো দিক ছিলও । ভালোটা হলও ও সব সময় তনয় কে খায়িয়ে দিত। তখন তার কাছে মনে হত he is the most happiest person in the word আর খারাপ দিকটা প্রায় সে হারিয়ে যেতো , কল এস এম এস কন কিছুর রিপ্লাই দিতো না। যদি জিজ্ঞেস করা হয় কথায় হারিয়ে ছিলা ? তোমার কতো খুঁজেছি ??
- এত খোঁজাখুঁজির দরকার নাই । আমি এমনি।
এই সামন্য একটা কথাই দুমরে মুচরে যেতো তনয়ের ভিতরটা , অদ্রিকা সেসব কনদিন ও জানেনি ......।।
আচ্ছা তনয় আর অদ্রিকার রিলেশনটা কি ?? অদ্রিকা আসলে কি চায় ?? ইজ শী নিড সামওয়ান টু রিমুভ হার লনলিনেস?? । নাকি অন্য কিছু ? আচ্ছা অদ্রিকা যে দিনের পর দিন রাতের পর রাত তনয়ের সাথে কথা বলে এটা আসলে কি ?? কোনও অভ্যাস নাকি অভ্যাসের পিছনে কোনও ভালোবাসা ?? নাকি শুধুই মোহ । কোথায় যানি পড়েছিল প্রথম প্রেমের পরবর্তী প্রেমই হচ্ছে প্রথম প্রেমকে ভুলে থাকার অভিনয় করা

রাত ১ টা ৩০মিনিট ৩২ সেকেন্ড , হঠাৎ অদ্রিকার মেসেজ ।
“আমি সুইসাইড করব , কিন্তু ওড়নাটা ফ্যানের সাথে বাঁধতে পারছিনা ?”
ঘুমিয়ে ছিলও তনয়। মেসেজ পেয়ে লাফ দিয়ে উঠে কল দেয় অদ্রিকা কে
-ওই কি বল এইসব , মানে কি ??
-মানে কিছুই না সুইসাইড করব , কিন্তু ওড়নাটা ফ্যানের সাথে বাঁধতে পারছিনা একটু বলে দিবা ?
-ওই পাগলামি করও নাতো , কি হইছে বলনা ?
- কিছুই না। টুট টুট কল কেটে দেয় সে । মোবাইল বন্ধ ......
তনয় কল দিয়ে এক সিএনজি ম্যানেজ করে ফেলে এখনি অদ্রিকার বাসায় যাবে । পরে ওর ফ্রেন্ডরা বুঝায় দেখ অদ্রিকা যথেষ্ট বুদ্ধিমতি মেয়ে। এসব পাগলামি করবে না । তুই একটু শান্তও হও। কিন্তু তনয় শান্ত হতে পারে না , কনও কিছুই ভাবতে পারে না সে সারারাত চোখের পাতাগুলো এক সেকেন্ডের জন্যও বন্ধ করতে পারে না সে । যদি অদ্রিকার কিছু হয়ে যায় ...................................................।
সকালে অদ্রিকার কল। সব স্বাভাবিক । দিব্বি সারারাত ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিছে অথছ তনয় ............
প্রথম যেদিন তনয় অদ্রিকার হাত ধরেছিল তনয়ের হৃদপিণ্ড ফেটে যাওয়ার মতো অবস্তা উত্ত্বজনায় !!!! এই কথাগুলো মনে পরলেই হাসি পায় তনয়ের । দুজন দুজনের চিমটা চিমটি , লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা করা । তাকে ম্যাথ বুঝিয়ে দেয়ার ছলে, তার খাতায় ছোট ছোট ভাব বিনিময় !!! এইসব উল্টা পাল্টা ভাবতে ভাবতে তনয় এর রাত পার হয়।
কতোদিন কোচিং শেষ করে এদিক ওদিক ঘুরতে যাওয়া , কবে তাদের প্রথম দেখা , কবে তাদের প্রথম কথা বলা ? এই সব কিছুই মনে থাকে তনয়ের । মাগার ম্যাথ , এনালগ কমিউনিকেশন ওর সুত্র , কিংবা ফিজিক্সসের সুত্র গুলো তার মাথায় ধুকে না । প্রেমে পরলে কি এইসব মনে রাখতে হয় ??? নাকি ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে সারাদিন চিন্তা করার কারণে এইসব মাথায় ঘুড়ে তার । সব কিছুই বুঝতে পারে কিন্তু বুঝতে পারে না শুধু অদ্রিকাকে ...!
কি সব উল্টা পাল্টা চিন্তা ভাবনা তনয়ের , অদ্রিকা হয়ত এমন কিছুই ভাবে না তাকে নিয়ে । তার কল্পনার রাজ্যে রাজপুত্র হয়তো অন্য কেউ । হয়ত তার মনে অন্যকেউ আগেই জায়গা দখল করে আছে , যেটা কনদিন পরিবর্তনত করা যাবে না ।আল্লাহ তায়ালা নাকি মেয়েদের অনুভুতি বুঝার ক্ষমতা দিয়ে পাঠিয়েছেন ?? তাহলে তুমি কেনও বুঝ না ?? হয়ত অনুভুতিহীন মেয়ে তুমি ?? নাকি অনুভুতি বুঝার নিয়রন গুল অন্য কারও দখলে ??
শেষ দিকে তনয় আর অদ্রিকার সম্পর্কের টানা পোড়ান শুরু হয়। কনফিউজড আচরণ করে মেয়েটা । অনেক দিন কেটে যায় , মঝে তাদের কথা বলা বন্ধ থাকে , আবার সব স্বাভাবিক আবার সব কিছু আগের মতো । এমন খুব কম দিন গেছে তনয় আর অদ্রিকার কথা হয়নি। ক্লাশ শেষে , এক্সাম শেষে ইভেন কি ক্লাশের মাঝেও তাদের চ্যাটিং অফ থাকতো না !!!!
অবশেষে অদ্রিকা তার মনের কথা টুকু জানিয়ে দেয় একটি মেসেজের মাধ্যমে ।
“ আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে । আব্বু আম্মুর পছন্দ করা ছেলের সাথে । আর আমি আব্বু আম্মুর পছন্দকরা ছেলেকেই বিয়ে করব । আমায় ক্ষমা করে দিয়ো ......। “
মেসেজ টি পরে ঠিক থাকতে পারে না তনয় । হাও ফানি !!!!!!!!!!!!!! চোখের দৃষ্টি ঘোলা ঘোলা লাগে । চশমার কাচটাতেঁ হয়তো ধুলা জমে আছে । রিক্টার স্কেলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প এসে লন্দ ভণ্ড করে দেয় তার পুরো পৃথিবী কি জেনো অজানা একটা ব্যথা অনুভব করে সে । খুব কষ্ট হাটতে, তারপরও হাঁটছে.........।
ছাদে শুয়ে চাঁদ দেখে তনয় , খুব ইচ্ছা হয় কার্নিশে দাঁড়িয়ে হাত দুটি ছড়িয়ে দিয়ে নিজের এই দেহ টাকে হেলিয়ে দেই ছয়তলার এই ছাদ থেকে। বাতাসে বাধা পেতে পেতে কোন এক সময় দেহটা মাটি ছুবে আর নিশ্বাস টা চলে যাবে। কি হয় এমন করলে । আচ্ছা রাস্তা পার হওয়ার সময় কনো ট্রাক এসে যদি তার মাথাটা থেতলে দিতো ভালো হতো মনে হয় ...।।
কি আছে তনয়ের মাঝে , কনো মেয়েকে মুগ্ধ করার মত কিছুই নেই তার মাঝে । অতি সাধারন একটা ছেলে । ভালো ছেলেদের জন্যে মেয়ের মনে ভালোবাসা জন্মায় না , যা থাকে শুধুই করুনা ......। কোথায় জানি পরেছিল প্রতিটি সাধারন ছেলের জীবনে সাধারন একটা প্রেম থাকে , ওই সাধারন প্রেমের পিছনে থাকে অসাধারণ কোন মেয়ে ।
বুকটা ফাকা ফাকা লাগে তার । কোথাও যেন চিন চিন বেথা অনুভব করে সে , নাহ গ্যাস্ট্রিকের বেথা না এটা , না পাওয়ার বেথা এটা ,
আচ্ছা অদ্রিকা যে বলল “ভালোবাসার সুতোয় বেধে রাখব “ এটা কি ছিল??
ওই দিন রাতে যে কল দিয়ে বলল “ আমি তোমায় অনেক ভালোবেসে ফেলেছি !!!!!“ কি জানি আবেগি মেয়েদের আবেগের বসে অনেক কিছুই বলে সব কথা সত্য হিসেবে মেনে নিতে নেই ।
তনয় এইসব ভাবে আর দীর্ঘশ্বাস ছারে , আজ আকাশের চাঁদ টাও কেমন জানি মন মোরা ! উজ্জলত নাই । একটু পর পর উকি দিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায় মেঘের আড়ালে । আচ্ছা পহেলা বৈশাখে যে সাদা আর লাল রঙের শারিটা কিনেছিল ওইটা তো দেয়া হলো না অদ্রিকাকে ? সাদা মুক্তার মালাটাও দিতে পারলাম না মেয়েটাকে । থাক এই সব ছেলে মানুষী জিনিষ তার পছন্দ হবে না...............।
কয়েকদিন পর খবর পায় তনয় , অদ্রিকার আব্বুর পছন্দ করা ওই ছেলে অদ্রিকার এক্স বয়ফ্রেন্দ।
ঘোড়ের মধ্যে দিন কাটে তনয়ের । সারাদিন শুধু অদ্রিকার কথা ভাবে । ক্লাশ পরীক্ষা কিছুতেই তার মন নেই । সারাদিন মন মোরা হয়ে বসে থাকে । আসলে সব সপ্ন পুরন হয় না , ভালোবাসতেও ভাগ্য লাগে ।
অদ্রিকা অবস্য মাঝে মাঝে কল দিয়ে খোজ নেয় । ভালো আছে মেয়েটি অনেক ভালো আছে । ভালো নেই শুধু তনয় । তনয়ের মনে হয় এই পৃথিবীর স্বার্থপর মানুষগুলোর মতো সে যদি হতে পারত তাহলে সেও আজ ভালো থাকতো । তার আপনজন বলতে আকাশের ওই চাঁদ । রাতের বেলা ছাদে বসে একা একা কথা বলে তনয় ।
আচ্ছা মানুষ কি চাইলেই সব সৃতি ভুলে যেতে পারে ?? তুমি জানো আজো তোমার জন্য বড্ড মায়া লাগে, জ্যোৎস্না রাতে ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকি এই বুঝি ফোন আসলো,এই বুঝি তুমি বলবে আমি তোমায় অনেক ভালোবাসি । নাহ ফোন আসে না । আচ্ছা তুমি তো আর ফিরবে না, তাহলে এতো ভালবাসি কেন তোমাকে,কেন ভুলতে পারি না ।
আচ্ছা তোমার কি মনে আছে তোমার আর আমার রিক্সায় ঘুরার কথা গুলো ? তুমি আর আমি যেদিন ব্রিজে হাটতে যাই । তোমার কি মনে আছে আমার মুখে গুড নাইট শোণার জন্য কতো বাহানাই না করতে। আমারও তোমার ওই কিউট কিউট বাহানা গুলো ভালই লাগতো । শেষ পর্যন্ত যখন গুড নাইট বলতাম তুমি তখন একটা কথাই বলতা “আপনি এতো পচা কেন ?? “ অবস্য এই কথাটা আমাকে বহুবার শুনতে হয়েছে ।
আচ্ছা তোমার সাথে যার বিয়ে ঠিক হইছে তাকেও কি তুমি আমার মতো খায়িয়ে দাও । আচ্ছা তোমার কি কোচিং এর কথা গুলো মনে আছে তুমি তাকিয়ে থাকতে বোর্ডের দিকে আর আমি তাকিয়ে থাকতাম তোমার দিকে ?? আচ্ছা তোমার কি মনে আছে হূট করে যেদিন আমার হস্টেলে চলে আসলে , কিংবা FnF এর কথা। তুমি সাহসী ছিলে বটে ??!!!!!
ভিতু ছিলাম তো আমি সময় থাকতে তোমায় জয় করে নিতে পারি নি। তোমাকে নিজের করে নিতে পারি নি .........................!!
টলস্তয় এর একটা উক্তি পরেছিলাম গল্পে । যেখানে উনি বলেছেন অতিত বা ভবিষ্যৎ বলে কিচ্ছু নেই । বর্তমানটাই সব। আমাদের কিছু বলার থাকলে এক্ষুনি বলতে হবে । কিছু করার থাকলে এক্ষুনি করতে হবে । ভালবাসতে হলেও নাকি এক্ষুনি বাসতে হবে। ভবিষ্যৎ একটা মরীচিকা ।
আমার সামনে ছিলে তখন কেনও আরেক্তু তোমায় দেখলাম না , স্পর্শ করলাম না , অনুভব করলাম না । তোমার ওই কাজল কালো চোখের দিকে তাকিয়ে আরেকটু কেনও মুগ্ধ হলাম না ............। মাঝে মাঝে খুব কথা বলতে ইচ্ছা করে তোমার সাথে । আরেকবার যদি তোমায় মুগ্ধ হয়ে দেখার সুযোগ পেতাম ।
কিন্তু এখন চাইলেও পারে না তনয় । অদ্রিকা এখন অনেক দূরে ...।।



২১ নভেম্বর আজ । অদ্রিকার বার্থ ডে। নদীর পারে বসে আছে তনয় আর অদ্রিকা । আজ তাদের শেষ দেখা । আর কিছুদিন পর অদ্রিকার বিয়ে । দুজনেই চুপচাপ । কেও কোন কথা বলছে না । বাতাসটাও তাদের বিরক্ত করতে চায় না । তনয়ই শুরু করল প্রথম ।
-পরি ? । কেমন আছো ?
- ভাল আছি তুমি । সিগারেট খেয়ে এসেছও তাই না। তোমাকে না বলছি আমি সিগারেট খাওয়া মানুষদের একদম পছন্দ করি না । এই জন্যই তুমি আমার বয় ফ্রেন্ড হতে পারো নাই।
তনয় চুপ করে থাকে । কিছু একটা বলতে গিয়েও বলে না ।
-পরি ! তুমি তো আমায় ভুলে যাবে তাই না ?
- ভুলে যাওয়াটাই কি উচিত না। আমার হাসবেন্দ আছে । অন্যকোন ছেলের কথা ভেবে কি লাভ
- আচ্ছা আমার কথা কি তোমার মনে পরে নাহ ???
- জানি নাহ !!!!!!!!!
তনয়ের খুব ইচ্ছা করছে পরিকে বলতে ...। পরি তোমায় আমি অনেক ভালোবাসি , তোমায় আমি শেষ বারের মতো একটু ছুয়ে দেখতে পারি ... কিন্ত নাহ মুখ দিয়ে এইসব কথা তার বের হবে না তনয়ের । পরি এখন অন্যের । সে চলে যাবে অদ্রিকার জীবন থেকে । তার ছায়াও কনোদিন দেখতে পারবে নে । পচা শামুকে কেও পা কাটতে চায় না । সে একটা পচা শামুক ...।
দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে । আকাশটাও আজ তাদের সঙ্গি , মন খারাপ করা আবহাওয়া। একটু পর পর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে । ভারি বর্ষণ হবে আজ তাই জানান দিচ্ছে । তনয়ের চোখে বিন্দু বিন্দু জল । বৃষ্টি শুধু আকাশ থেকেই ঝরে না মাঝে মঝে মানুষের চোখ দিয়েও বৃষ্টি ঝরে । পুড়ো কাচের চশমার গ্লাস ভেদ করে এই জল পরির চোখে পরবে না...............।




এতটুকু বলে রাব্বি চুপ করে আছে !!। হঠাথ ঘোর কাটলও তার পাশে দাঁড়ানো মেয়েটির কথায় ;
-তার পর কি হল ???
- তারপর কি হল তা আর জানা যায় নি। হয়তো অদ্রিকা তার রাজপুত্র কে নিয়ে রঙ্গিন স্বপ্ন বুন্তেছে । হয়তোবা তনয় সিগারেট এর আগুনে তার স্বপ্ন গুলো একটা একটা করে জীবন্ত কবর দিচ্ছে । বাই দা ওয়ে তোমার নাম কি??
- আমার নাম পরি।
রাব্বি কিছুই বলল না । কোথাও যেন একটা চিন চিন বেথা অনুভব করলো । নাহ এ ব্যাথা গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা না ।
- অনেক্ষন তো গল্প হোল । যাও বাসায় যাও , ভোর হয়ে গেছে ।
-আচ্ছা আপানার নামটা কি ?
- মৃদু হেঁসে বলল আমার নাম তনয় !

আজানের শব্দ ভেসে আসে পুব দিক থকে । মেয়েটি আজানের শব্দ শুনে মাথায় কাপর দেয় । হঠাৎ হিম শিতল একটা বাতাশ তার পাশ দিয়ে চলে যায় ।
যেই দিকে রাব্বি দাড়িয়ে ছিল ঐখানে এখন কেউ নেই । শুধু সিগারেট এর শেষ অংশটুকু পরে আছে । নিভু নিভু আগুন জানান দিচ্ছে কেও একজন ওখান দাড়িয়ে সিগারেট খেয়েছিল এতক্ষন ........................।।

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন