বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৯ এপ্রিল ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ১০টি

সমন্বিত স্কোর

৪.১৩

বিচারক স্কোরঃ ২.৩৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

মানুষ! তুমি আছো?

কি যেন একটা জানুয়ারী ২০১৭

একটি বেনামী পোস্টকার্ড

আমার আমি অক্টোবর ২০১৬

গরাদ গলা হাত

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

গল্প - আমার আমি (অক্টোবর ২০১৬)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.১৩ এবং অন্যান্য

অর্বাচীন কল্পকার
comment ১  favorite ০  import_contacts ১০১
রাস্তা ফাঁকা। তেমন মানুষজন নেই। দূরে কয়েকটা শেয়াল এর ডাক শোনা যাচ্ছে। সেই ডাক অবশ্য কিছুক্ষণ পরেই মিলিয়ে গেল। বাতাসের একটা শব্দ ছাড়া বলতে গেলে কোন শব্দ শোনা যাচ্ছিল না।
বাতাসের শব্দের কোন নাম নেই। কেউ কেউ ‘শোঁ শোঁ’ বলে সম্বোধন করে।
আমার ঠিক নামটা পছন্দ হয় নি। আসলে এটা নাম নয় যদিও। আর আমি খুব ভালো করে কান পেতে শব্দটুকু শোনার চেষ্টা করেছি। সেটা ঠিক ‘শোঁ শোঁ’ বললে ভুল হবে; আরো কিছু আছে।
অপেরা ঘরের অর্কেস্ট্রার মতো এটা অনেকগুলো বিভিন্ন খণ্ডকালীন সুরের সমষ্টি।
অতএব বলা চলে বাতাস হচ্ছে শোঁ শোঁ এবং অন্যান্য।
প্রকৃতির এই ভানুমতির নাম এরকম ধারাবাহিক নাটকের মতো দিতেও আমার আপত্তি। আমি একে ডাকি ‘নীরব’ নামে।
নীরব রাস্তার যেই ধ্বনি, সেটা বাতাসের ধ্বনি। ‘নীরব’ নীরবতাকে আঘাত করে না। তাই এর নাম ‘নীরব’ই সই।
নীরব রাস্তা মনে হয় গল্পের জন্যে অনুপযুক্ত।
নীরবতা ভেঙে হঠাৎ আকাশ হালকা করে গর্জে উঠলো। লক্ষণ ভালো নয়। যেকোন মুহুর্তে বৃষ্টি নেমে যাবে।
আমি হাঁটছিলাম আলতো করে।
এখন গতি বাড়ালাম। হন হন করে দ্রুত পায়ে হেঁটে যাচ্ছি।
নিশ্চুপ সড়ক হঠাৎ শুকনো পাতার মতো মর্মর করে জেগে নীরবতাকে বিদায় দিচ্ছে।
**********************
‘আজকে কি কিছু বলেছে?’
‘নাহ! এখনো কিছু বলছে না’।
হতাশ হয়ে পড়ার মতো। এই নিয়ে অনেকদিন হলো। আর কতো?
মনে মনে প্রশ্ন করে ক্ষান্ত হতে হয় তাকে। একজন ডাক্তার সামান্য হয়ে পড়ে মাঝে মাঝে।
কিন্তু তার ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে কথাটাকে গণিতের সমীকরণে ঠেলে দিলে দাঁড়ায় , মাঝে মাঝে= ১ বার।
এই সত্যটুকু মেনে নিতে ইচ্ছে হচ্ছে না তার।
টেবিলের উপরে রাখা কাঁচের পেপারওয়েটটাকে চরকির মত ঘুরাতে থাকে সে।
খুব চিন্তিত হয়ে গেলে মানুষ ব্রেইনের সম্পূর্ণ অংশকে চিন্তায় ব্যস্ত রাখে না। প্রতিটা ক্লাসের দুষ্ট ছাত্রের মতো কাজ করে এটা।
ক্লাসের দুষ্ট ছাত্রের কাজ যেমন এদিকে ওদিকে কী হচ্ছে সেটা খেয়াল করে কী কী হচ্ছে না সেটা ঘটানো, তেমনি এই চ্যাপ্টা মাথার ঘিলুগুলি এর কিছু অংশকে দুষ্টুমি করতে কাজে লাগায়।
নোমানের ক্ষেত্রে এরা সামনে কিছু একটা পেলে সেটাকে চরকির মতো ঘুরাতে চেষ্টা করে।
কিছুক্ষণ পর সে সামনে রাখা ফাইল গুলো থেকে লাল কালিতে লেখা ‘কেবিন নাম্বার ৩৬৭’ নামক ফাইলটা বের করলো।
এই ফাইলটা সে অনেকবার এরকম করে বের করে কয়েক পাতা উল্টে পাল্টে ফের রেখে দিয়েছে। কারণ ফাইল জুড়ে সাদা কাগজের বিশাল বুক ছাড়া কিছু দেখার নাই।
প্রথম পাতাতে একটা মনমরা পাসপোর্ট সাইজের ছবি। পাশের ছককাটা ঘরে নাম, ঠিকানা কিচ্ছু লেখা নাই।
তার কাছে চিকিৎসা হচ্ছে সাজানো ডোমিনো গুটির লাইনের মতো। প্রথম গুটি পড়া মাত্র বাকিগুলো চোখের পলকে পড়ে যায়।
সেজন্যে রোগীর নাম না জেনে কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না তার জন্যে।
কথাটা কিরকম গাঁজাখুরি। রোগীকে সাড়াতে হলে নাম জানতে হয় এটা কোথাও লেখা আছে নাকি? কয়েকশ কেজি বই গেলা ডাক্তাররা মাথা নাড়ে।
নাহ! কোথাও লেখা নেই।
অনেকে বিরক্তিতে কপালে হাত দেয়। অনেকে চুপচাপ বসে গাল চুলকায়। অনেকে রাগ দেখিয়ে চেয়ার ছেড়ে চলে যায়।
আসলে রোগটা মানসিক- শারীরিক নয়। মানসিক রোগের মধ্যে চিকিৎসার প্রায় পুরোটা জুড়ে আছে কথা।
তাই নোমানকে কেউ প্রতিবাদ করেও না। দীর্ঘদিন যাবৎ কেবিনে পড়ে থাকা ৩৬৭ নাম্বার যে কথা বলে না সেই কথাটাও ঠিক না।
মাঝে মাঝে বিড়বিড় করে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে। হতাশায় আফসোস করে।
কান্নায় ভেঙে পড়ে।
কখনোবা অট্টহাসিতে কাঁপিয়ে দেয় চার দেয়াল।
কখনোবা রেগে তেড়েফুঁড়ে যায় মুষ্টি পাকিয়ে। আর ‘কখনো’ একদম চুপ হয়ে পড়ে থাকে।
শেষের ‘কখনো’ হচ্ছে যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়।
সে তখন কিছু বলে না। শুধু ‘নীরব’ ছাড়া কিছু শোনা যায় না।
কিছুক্ষণ পরে হাল ছেড়ে বের হয়ে যায় ডাক্তার। আর রিসিভারের অপর পাশে জানানো হয়-“নাহ। এখনো কিছু বলছে না”।
*****************
আমি অপেক্ষায় আছি।
সবাই অপেক্ষায় থাকে। যে অলস শুয়ে থাকে; আপাতদৃষ্টিতে যাকে অদরকারি মনে হয়- সেও অপেক্ষায় থাকে। যারা অধৈর্য হয়ে উঠে; তারাও অপেক্ষায় থাকে।
শুধু ঘাপলা হয় যখন অপেক্ষা তাকে পরীক্ষা করা শুরু করে। তখন মানুষের আজগুবি অনুভূতিগুলো ধারালো হয়ে উঠে।
এখন যেমন আমার হয়ে উঠছিল। ভাগ্যিস হয়ে উঠেনি।
যার অপেক্ষায় ছিলাম সে কিছুক্ষণ আগে আমার কেবিনে এসেছে।
আবির্ভাব সাদামাটা হবে সেটা ভাবিনি। এই চার কোণাকার বাক্সে গত কয়েক বছর ধরে কেউ আসেনি। তিন বছর।
যেটাকে গণিতের সমীকরণে দিলে দাঁড়ায়, ৩ বছর=৩৬ মাস।
অথবা ১৫৬ সপ্তাহ এবং কিছুদিন।
অথবা ১০৯৫ দিন এবং কিছু ঘণ্টা।
“এবং অন্যান্য”। জমে উঠা ভরাট গলায় বলে উঠে আবার থেমে গেল। আমি আড়চোখে তাকাই।
হ্যাঁ। আমার বহুল অপেক্ষিত মানুষের মুখ থেকেই কথাটা বের হয়েছে। আমি তেমন পাত্তা দিলাম না।
মনে মনে গুণতে লাগলাম কপালের ডানদিকে আঙুল দিয়ে চুলকাতে চুলকাতে।
অথবা ২৬,২৮০ ঘণ্টা এবং কিছু মিনিট; ১৫,৭৬,৮০০ মিনিট এবং কিছু সেকেণ্ড; ৯৪৬০৮......
“এবং অন্যান্য”। কথা শেষ হবার আগেই ফের জমে খাদে নেমে যাওয়া গলায় বলে উঠলো সে।
আমি চুপ হয়ে গেলাম। অপেক্ষিত মানুষকে বাহিরে বাহিরে উপেক্ষিত করতে হয়। অতীত থেকে এইটুকু শিক্ষা নিতে পেরেছি আমি।
সামনের টুলে বসে থাকা মানুষটা দেখতে আমার প্রায় কাছাকাছি। এরকম আরেকজন মানুষ আছে দেখতে আমার কাছাকাছি। তার কথা পড়ে বলি। কারণ এই মুহুর্তে তার কথা নাম মনে পড়ছে না।
মানুষটা মানুষটা বলতে আমার ভালো লাগছে না। তার নাম স্মরণ।
খুব আর্টিস্টিক মা বাপ না থাকলে এমন অভিধান ঘাটা নাম দেবার কথা না। এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এরা সাহিত্যের বারোটা বাজিয়ে রাখে। নামের সাথে কাজের মিল থাকে না।
আবার অসাহিত্যিক নামের এক বোকাসোকা যুবক ঠিকই কলম নিয়ে কাগজের পর কাগজ রাঙায়। নামের অসঙ্গতি ঢাকতেই তারা আশ্রয় নেয় ছন্মনামের।
পরণে তার সাদা সুতি পাঞ্জাবি-পায়জামা। গাল ভর্তি খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি। তবে চেহারা উজ্জ্বল আছে। আর অপর দিকে সাদা বিছানায় আমি ‘কালা-কুলা’ একজন মানুষ আড়চোখে তাকিয়ে আছি।
স্মরণ হঠাৎ গলা পরিষ্কার করে নিল শুকনো কেশে।
তুমি কি কথা বল না কারো সাথে?
বলি। বলতাম আর কি। তুমি কে?
আমাকে না চেনার ভান করে লাভ নেই। একটু আগেই তুমি আমাকে স্মরণ নাম দিয়েছ- সেটা আমি জানি।
আর কী কী জানো তুমি?
আমি প্রায় সবই জানি। তুমি কে, তুমি কে ছিলে এবং অন্যান্য।
তুমি কিভাবে জানলে? আমি বিশ্বাস করি না।
বিশ্বাস হয়ে যাবে এখনই।
সাদা পাঞ্জাবির সাইড পকেট থেকে একটা সাদা খাম বের করে আমার দিকে ছুঁড়ে মারলো প্রায়। সেটা আমার বুকের মধ্যে এসে সুতাকাটা ঘুড়ির মত গুঁতো খেয়ে মেঝেতে পড়ে গেল। আমি পাত্তা দিলাম না।
আর কী জানো?
এবং অন্যান্য।
এই বলে মুচকি হাসতে থাকলো সে। এরপর হঠাৎ সেটা অট্টহাসিতে রূপ নিল। সেই হাসি আর থামছে না। লক্ষণ খারাপ। হাসতে হাসতে মারা পড়বে নাকি বেটা? বহুদিন পর চার দেয়াল কেঁপে উঠছে। আমি অবাক হয়ে তাঁকিয়ে থাকলাম দেয়াল গুলোর দিকে।
এর আগে কখনো এভাবে দেখা হয় নি। দেয়ালগুলো কেমন ঢেউয়ের মতো করে দুলে উঠছে হাসির তালে তালে।
আমি ভয় পেয়ে গেলাম। হাতের পাশে কিছু নেই। এদিক ওদিক সন্ধানী চোখ মেলে দিলাম। কই কিচ্ছু নাই।
অবশ্য মানসিক রোগীর কেবিনে কোনো কিছু রাখার কথা না। আমার হাতে এখন দরকার লোহার একটা দন্ড। পুরনো মরচে পড়া লোহার দন্ড। কিন্তু কিছুতেই এরকম কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। আর ওদিকে হাসিও থামছে না। আমি চোখ মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরে উঠলাম বিরক্তিতে।
চুপ করো। খবরদার! (চিৎকার করে উঠলাম)
হাসির শব্দ হালকা কমে আসলো। এরপর আস্তে আস্তে একদম থেমে গেল। আমি মাথা তুলে দেখলাম সে নেই।
এদিকে। সেদিকে। উপরে। নিচে।
কোথাও নেই। একদম হাওয়া হয়ে গেছে। তখন চোখ গেল মেঝেতে ফেলে রাখা খামের দিকে। সেই পুরনো সাদা খামটা।
নাহ! পিছু ছাড়লো না। পিছু ছাড়বেও না এই অতীত।
খামটা তুলে নিলাম হাতে।
**********************
আজকের দিনটা আগের চেয়েও খারাপ যাবে। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর পরই দেখা গেল ঘাড় বাম দিকে কাঁত হয়ে আছে। হাজার চেষ্টা করেও সোজা করা যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় সব কাজ-কর্ম সেড়ে হাসপাতালে আসা খুবই বিরক্তিকর। তার উপরে এসে দেখে ৩৬৭ নাম্বার নাকি সকাল থেকে অনেক জোরে জোরে হাসছে।
‘ইডিয়ট’- মনে মনে গালি দিয়ে উঠলো নোমান। কথাবার্তার সময় তোমার মামদোবাজি শুরু হয় আর এখন রঙ্গশালার সার্কাস চলছে তাই না?
হন হন করে সে হেঁটে রওয়ানা দিল কেবিনের দিকে। দক্ষিণ দিকের বারান্দার একদম শেষ সরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল সে।
দরজার পাশে ময়লা হয়ে যাওয়া একটা কাগজে সুন্দর করে লেখা ‘কেবিন নং- ৩৬৭’।
দরজাগুলো কাঁচের তৈরি। যেন বাইরে থেকেই দেখা যায় সবকিছু।
বাইরে থেকে দেখা গেল রোগী নেই। নোমান কাঁচের একদম গায়ে লেগে ভিতরের দিকে তাকালো। ভিতরের দেয়াল ঘেঁসে হাত দিয়ে মাথা ঢেকে বসে আছে সে। প্রচণ্ড ভয়ে মাথা তুলছে না।
স্যার ঘণ্টাখানিক হলো সে মুখ তুলছে না।
কথা বলেছে কিছু?
না স্যার। তবে সে একটা খাম দেখিয়ে আকার ইঙ্গিত করেছে।
আকার ইঙ্গিত মানে? কিছু বুঝাতে চেয়েছে?
স্যার, ঠিক বুঝা যায় নি। তবে আপনার নিজের দেখতে পারলে সুবিধা হতো।
মানুষের রাগ উঠে গেলে সবকিছু বিধ্বংসী উপায়ে সমাধান করার পাশবিক আনন্দ আকাঙ্ক্ষা জাগে। নোমানেরও জেগে উঠলো। সে ঘাড়ে হালকা করে হাত বুলালো। নাহ! ধরাও যাচ্ছে না। ব্যথা বেড়ে উঠে হঠাৎ করে। সে মাথা নিচু করে বললো,
ইসিটি দাও। তারপর ঘুম পাড়িয়ে দাও।
এই বলে সে ঘুরে তার চেম্বারের দিকে রওয়ানা দিল।
নোমানের সামনে সেই পুরনো ফাইলটা খোলা। টেবিলের উপর পেপারওয়েটটাকে হালকা করে ঘোরাচ্ছে সে। তার ঘাড় এখন তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে। তার সামনে স্ট্রেচারে হাত পা বাঁধা অবস্থায় ৩৬৭ নং রোগী শুয়ে আছে। কিছুক্ষণ হলো তার জ্ঞান ফিরেছে।
তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নোমান। কারণ তার মনে হচ্ছে রোগী এখনই কথা বলে উঠবে। কিন্তু তাকে প্রশ্ন করলে সে কখনো উত্তর দেয় না। সেজন্যে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে।
রোগী জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিল।
আপনি দেখতে প্রায় আমার মতো। সকাল থেকে মনে হচ্ছিল আমার মতো দেখতে আরেকজন আছে। এখন বুঝতে পারলাম সেটা আপনি।
হঠাৎ করে কথা না বলা একজনের কাছ থেকে এমন কথা শুনে নোমান হকচকিয়ে গেল। অন্তত আর যাই হোক, সে কোনদিক থেকেই এই পাগলের মতো দেখতে না। তাও সে ডানদিকের দেয়ালে ঝুলানো আয়নায় একবার তাকালো। নাহ! কোন চান্স নেই।
আচ্ছা। তাই নাকি? তুমি করে বলি। দেখতে আমরা একি বয়সের। কি বলো?
রোগী চুপচাপ বসে আছে। কিছু একটা তার চোখে ঠেকেছে। সেদিকে তাকিয়ে আছে।
কি ব্যাপার? কিছু বলছো না কেন? তোমার নাম কী? এতটুকু দিয়ে শুরু করি?
রোগী কিছু বলছে না। কারণ তার কাছে সবকিছু অন্যরকম ঠেকছে। এর আগে একবার এরকম হয়েছে। এইতো আজ সকালে যখন স্মরণ হাসছিল।
চায়ের কাপ থেকে ধোঁয়া উড়ে যাচ্ছে। এমন সাধারণ একটা দৃশ্য। অথচ সে অবাক হয়ে তাঁকিয়ে আছে ধোঁয়ার দিকে। সে বিড়বিড় করে উঠলো,
‘ভাঙা আশার ন্যায় সর্পিল হয়ে, আঁকাবাঁকা পথে,
সে হাজার ছলনায় যায় হারিয়ে’
৩৬৭!! শুনতে পাচ্ছো কিছু? তোমার নাম কী? তুমি নিশ্চয় চাও না তোমাকে এই বিদঘুটে সংখ্যা দিয়ে ডাকি। নামটা বলো।
তার কানের ভেতরে হঠাৎ সংখ্যা শব্দটা গিয়ে রিনরিন করে বেজে উঠলো। আবারো উদাসিন হয়ে সে বলে উঠলো অস্ফুট স্বরে,
‘কিছু সংখ্যা পাতনে মোড়ানো রূপালী রাতে,
দেয় সে রাঙা মায়াবী হাত বাড়িয়ে’।
৩৬৭!! তুমি কিছু বলছো?
নোমান সামনে ঝুঁকে গেল। ৩৬৭ তখনো বিড়বিড় করে কিছু বলছে। তার চোখে ভীতি। অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সে। নোমান চেয়ার ছেড়ে উঠে সামনে গিয়ে কান পাতলো। তখনো বলে যাচ্ছে ৩৬৭,
‘ভাঙা আশার ন্যায় সর্পিল হয়ে, আঁকাবাঁকা পথে,
সে হাজার ছলনায় যায় হারিয়ে
কিছু সংখ্যা পাতনে মোড়ানো রূপালী রাতে,
দেয় সে রাঙা মায়াবী হাত বাড়িয়ে’।
আস্তে আস্তে তার চোখ থেকে ভীতি সরে গেল। চোখ বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল। হঠাৎ সে চিৎকার করে সামান্য এই চারটা লাইন আওড়াতে লাগলো।
আর বিস্ময়ে চোখ ছোট ছোট হয়ে গেল নোমানের। বড্ড পাগলের কাছ থেকে কবিতা শুনে সে কিংকর্তব্যবিমুঢ়!
আজকের দিনটা আসলেই খারাপ!
************
আজকে পাঞ্জাবিটার রঙ বদলালাম। কেমন লাগছে?
আজকের রঙটা অদ্ভুত। এইরকম রঙ এর আগে কোথাও দেখেছি কিনা মনে পড়ছে না। কিরকম হালকা করে বেগুনী রঙ এর মাঝে কেউ এক শিশি মেঘ ঢেলে দিয়েছে।
আমার সামনে স্মরণ বসে আছে। এই নিয়ে ২ মাস হলো। সে প্রতি সকালে আসে। কিছুক্ষণ পর মিলিয়ে যায়। এই দুইমাসে অনেককিছু হয়ে গেছে হয়তো।
আবার নাও হতে পারে। হয়তো আমি সেই আগের মতোই শুয়ে পড়ে দিন কাটাচ্ছি।
কী জানি! হয়তো কিছুই সত্য না। মনের ভিতর এখন অনেক দ্বিধা। একে তো নিজের উপর সন্দেহ। অপেক্ষিত স্মরণ এর আবির্ভাবের পর থেকে আমি ঠিক নিজেকে চিনতে পারছি না। এই যেমন সামান্য একটা হালকা সাদাটে বেগুনী রঙের একটা পাঞ্জাবিকে দেখেও হাজার উপমা মনে ঘুরছে। শুধু রঙের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও চলতো।
মাছির উড়ে যাওয়ার মাঝেও দেখা যাচ্ছে ছন্দ খুঁজে পাচ্ছি। দেয়ালের মাঝে কান পেতে কিসের যেন সুর কানে ভেসে আসছে। সময়ের মাঝে খুঁজে পেয়েছি মনমুগ্ধতা।
এটা আমি ঠিক আছে। কিন্তু কোন আমি? সেটার সংজ্ঞা খুঁজে পাচ্ছি না।
আর দ্বিতীয়ত, স্মরণকে নিয়ে দ্বিধা।
তুমি কে স্মরণ?
হাহাহাহাহা! আমি স্মরণ। কে আবার? তুমি আমাকে চিন এবং জান। তাই প্রশ্ন না করে নিজেকে জিজ্ঞাসা করো।
আমি তোমাকে জানি বা চিনি না। তুমি আমাকে কতটুকু চিন?
আমি তোমাকে প্রথম দিনেই বলেছি। আমি তোমার সব জানি। আর ওই খামটা কোথায়?
খাম? ওহ, হ্যাঁ!
সাদা সেই খামটার কথা ভুলে গিয়েছিলাম প্রায়। এজন্যেই স্মরণকে চিনতে পারছিলাম না। খামটা আমার কাছেই আছে। অনেকদিন পড়ে ছিল চাদরের নিচে চাপা পরে।
ডাক্তারকে খামটা দেখাব বলে ঠিক করেছি। আমি আজকাল ডাক্তারের সাথে কথা বলি। একটা সময় সবকিছু দুর্বোধ্য ধাঁধাঁর ন্যায় ঠেকছিল। উপায় না দেখে কথা বলা শুরু করি। কিন্তু কোন কিছুই পরিষ্কার করে বলা হয় না।
খামটা খুলে দেখল সে। ফের ভিতরে ভরে সীলগালা করে ফিরিয়েও দিল। আমাকে কিছুই বললো না।
বলার কিছু নেই আসলে। আমি দেখিনি ভিতরে কী আছে, শুধু জানি সেটা আমার অতীত।
খাম ফিরিয়ে দিচ্ছ কেন? নাও! নিয়ে যাও।
দিয়ে দিচ্ছ আমাকে? সত্যি।
হ্যাঁ, দিয়ে দিচ্ছি। কেন? ভয় দেখাচ্ছ?
ভয়? ভয় স্রেফ একটা সিদ্ধান্ত। আমি তোমাকে অতীত দেখাচ্ছি।
তুমি আমাকে কয়েকটা সাদা কাগজের হুমকি দেখাতে পারো। কিন্তু আমার অতীত আমি পিছনে ফেলে এসেছি। আমার বর্তমান আমাকে নিজস্বতা, স্বকীয়তা ফিরিয়ে দিচ্ছে।
খামটা ঠিক ওর মুখ বরাবর ছুঁড়ে মারলাম। সেটা হালকা এদিকে সেদিকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ওর পাশ কেটে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। আমি অতীতকে সাথে রাখব না।
নতুন আমি আমার বর্তমান। বর্তমানের ‘আমি’র শক্তিতে আমি শক্তিমান।
স্মরণ চোখ ছোট ছোট করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
তুমি নিশ্চয়ই জানো তোমার অতীত কী?
অতীত! শব্দটা হঠাৎ খুব জোরেসোরে আঘাত করে বসে। আমি জানি অতীত কী।
‘অতীত মানে ধূলো, অতীত মানে স্মৃতি,
অতীত মানে গাঢ় আঁধারে ডুবে থাকা পূর্ণিমা,
অতীত মানে পিছুটান, হেরে যাবার হাতছানি,
সীমাহীনতার মাঠে লম্বা দাগটানা সীমা’।
“অতীত হচ্ছে সাদা এপ্রোণ”। স্মরণ ঠোঁটে মুচকি হাসি এনে বলে উঠে।
হ্যাঁ, আমার অতীত হচ্ছে সাদা এপ্রোন। আর গলায় ঝুলে থাকা অসহায় স্টেথোস্কোপ।
এবং অন্যান্য।
স্মরণ আবার খামটা খুলে ফেলেছে। এর ভিতর থেকে একটা ছোট চারকোণাকার কাগজ বের করলো।
কিছুক্ষণ চোখ কুঁচকে তাকিয়ে থাকলো, এরপর মাথা নাড়লো। নাহ, এটা না। এরপর আরো একটা কাগজ বের করলো।
সেটাও পছন্দ হলো না। এরপর আরো একটা। এরপর আরো।
এবং কয়েকশ’ বারের পর তার চোখ ঝিলিক দিয়ে উঠলো। হ্যাঁ, এটাই।
কেবিন নাম্বার ৩৬৭! মনে আছে তোমার?
না! আমার কিছু মনে নেই।
মিথ্যে বলছো কেন? মনে নেই তোমার? সেই নিষ্পাপ দুটি চোখ, যেটা তোমার পাশবিক হাতে অন্ধ হয়ে গেল?
না! আমার কিছু মনে নেই। তুমি চলে যাও স্মরণ।
আমার মধ্যে ভয় কাজ করতে থাকে। ভিতরের রক্তগুলো ঠান্ডা হয়ে উঠলো। হ্যাঁ, আমার সব মনে আছে।
ছোট ছোট দু’টি শুকনো পা। নরম হাতগুলো। আমার মনে আছে। এইটুকু একটা বাচ্চা। আর হঠাৎ থরথর করে কাঁপতে থাকা দুটো হাত।
এবং অন্যান্য।
অতীত! অতীত এক পশু। অতীত এক নোংরা অনুভূতি। হাজার আলোর ভিড়ে একফোঁটা গাঢ় আঁধার, যেটা তার ঘৃণা দ্বারা মলিন করে দেয় আলো।
অতীত এক পিশাচ। হাজারটা সুখস্মৃতি থাকতে পারে কারো। কিন্তু একটা দুঃস্বপ্ন সেটাকে মুছে দিতে যথেষ্ট।
**************
নোমানের অস্বস্তি লাগছে।
অস্বস্তি লাগা দোষের কিছু না। অস্বস্তি লাগতেই পারে। তার আজকাল প্রায়ই কাজটা হচ্ছে। কাউকে সামনে ডাকার পর দেখা যায় অস্বস্তি লাগা শুরু করে নানা কারণে। আজকের কারণটা একটু ভিন্ন। চা খেতে যেয়ে এক ফোঁটা চা পড়ে গেছে সাদা এপ্রোণটার উপর। বিশ্রী একটা হলদেটে দাগ পড়ে আছে।
এরকম দাগ একবার হয়েছিল স্কুলে থাকা অবস্থায়। হেডমাস্টারের হাতে প্রথম পুরস্কার নিতে স্টেজে উঠছে, ঠিক এমন সময় দেখা গেল বাম কলারের দিকে হালকা হলদেটে রঙ লেগে আছে।
এতদিন পর সে বুঝতে পারলো দাগটা কোথাকার। তার খুব রাগ হচ্ছে। তবুও মুখে হাসি এনে কথা বলতে হবে। বড় হয়ে যাবার এই অভিশাপ। জীবন হয়ে যায় যাত্রাশালা।
৩৬৭ নাম্বারকে আবার ডাকা হয়েছে তার চেম্বারে। কারণ, গতমাসে সে একবার বলেছিল নোমান দেখতে প্রায় তার মতো। এই কথাটাতে সমস্যা নেই। সমস্যা হচ্ছে সে আরো বলেছিল, সকাল থেকে তার মনে হচ্ছিল তার মতো দেখতে আরেকজন আছে। তার মানে সে এর আগে আরেকজনের কথা বলেছে। তখন রাগের মাথায় কথাটার এই জটটা তার চোখে ধরা পড়েনি।
তাই আজকে রাগ করা যাবে না। সে ২-৩ মিনিট সময় নিয়ে ঠান্ডা হচ্ছে।
৩৬৭!
জ্বি স্যার। (মুখ হাসি হাসি করে বললো সে)
তোমার মতো দেখতে আরেকজন কে? তার কথা তো বললে না।
আমি জানি না সে কে।
তোমাকে যে কাগজগুলো দিয়েছিলাম সেগুলো কি করেছ?
স্যার লিখেছি। যখন চোখে যেটা ভেসে উঠে সেটাই লিখেছি স্যার।
আমি তোমার কাগজগুলো পড়েছি। তুমি কি শুধু কবিতাই লেখেছ? নাকি অন্য কিছু আছে?
আমি জানি না। অন্যকিছু কী থাকতে পারে?
নোমান একটা কাগজ বের করে সামনে রাখলো। কলম দিয়ে দাগানো একটা ছবি আঁকা। আঁকার ধরণ দেখে মনে হচ্ছে ৫ ৬ বছর বয়সী বাবুর হাতে আঁকা।
কাঠির মতো আঁকা একটা মানুষ। কিন্তু মানুষটার দুইটা মুখ। পিছনে একটা খামের ছবি। অদ্ভুত করে ভাঙা অক্ষরে লেখা ‘স্মরণ’।
স্মরণ কে? এটাই কি তোমার মতো দেখতে মানুষ?
আমি জানি না স্যার। আমি কিচ্ছু জানি না।
৩৬৭ আমাকে সব খুলে বলো।
আমি কিছু বলতে পারবো না।
ভয়ে চিৎকার করে উঠে ৩৬৭। সে জানে সে চুপ থাকতে পারবে না। নোমান উঠে একদম তার মাথার সামনে এসে দাঁড়ালো। সে জানে তাকে না বলে থাকতে পারবে না।
কতক্ষণ লাগলো সেটা সময়ের হিসাবে বললে হবে আধা ঘণ্টা। শেষে বলার পর ক্লান্ত হয়ে পড়লো সে।
নোমান তার চেয়ারে ফিরে গেল। সে কিছুক্ষণ বসে ঠান্ডা হলো। তাকে সবকিছু গুছিয়ে বলতে হবে।
৩৬৭! তুমি কি জানো তুমিই স্মরণ?
জ্বী স্যার। আমি জানি।
স্মরণ তোমার একটা কল্পনা। এরকম অসুখ নতুন কিছু না। তোমার মতো একাকী মানুষের জন্য এটা হবে আমি জানতাম।
স্যার, স্মরণ আমাকে ভালো হতে দিবে না। আমি আসলে আগের ‘আমি’ না। আমি নতুন কেউ। আমি আর আগের ডাক্তার নেই। যার ভুলে নিভে যায় দুটি তারা। আমি নতুন ‘আমি’।
সেটা তুমি তোমার ভুল হিসেবে নিচ্ছ। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নিজের মেয়ের চিকিৎসা করতে গেলে যে কারোরই হাত কাঁপার কথা।
আমি জানি না স্যার। স্মরণ চিঠিটা নিয়ে গেছে।
৩৬৭! তুমিই স্মরণ। এটা বিশ্বাস করলে এইরকম কথা বলছো কেন?
৩৬৭ কথাটা শুনেছে কিনা সেটা বুঝা গেল না। সে তার কথা চালিয়ে যেতে লাগলো।
সেটা রাতের মধ্যেই ঢেলে দিয়েছে লাল ডাকবাক্সে। স্যার, সেটা উদ্ধার করতে হবে। সকালের আলোর পরে যখন পোস্টম্যান তার সাইকেল নিয়ে আসবে। সে চিঠিটা পাবে স্যার। চিঠিটা পৌছে যাবে সবার হাতে হাতে। স্যার আপনার কাছেও আসবে। সবাই জেনে যাবে ৩৬৭ কে ছিল!
স্মরণ! থামো। শান্ত হও।
না স্যার। সবাই জেনে যাবে। আমার অতীত আমাকে শেষ করে ফেলবে।
পাগলের মতো ছটফট করতে থাকে স্মরণ। নোমান বুঝতে পারলো অবস্থা বেগতিক। তাড়াতাড়ি করে সে ইনজেকশন নিয়ে এগিয়ে যায়। ঠিক তখন স্মরণ শান্ত হয়ে যায়।
স্যার। আমি সব জেনে গেছি। আমি সব বুঝে গেছি।......
*************
নিশ্চুপ সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে নোমান।
নীরব রাস্তা আর বেশিক্ষণ নীরব থাকবে না। একটু আগে আকাশ কয়েকবার গর্জে উঠেছে ভয়ংকরভাবে।
সে হাঁটার গতি আরো বাড়িয়ে দিল। বৃষ্টি নামার আগেই সব কাজ শেষ করতে হবে।
দূরে অন্ধকারের মধ্যেও লাল রঙের ডাকবাক্সটা দেখা যাচ্ছে। সে প্রায় দৌড়ে সেটার কাছে চলে গেল। চিঠিটা বের করতে হবে।
ওভারকোটের ভিতর থেকে লোহার দন্ডটা বের করলো সে। জোরে জোরে কয়েকটা আঘাত করতেই ছোট তালাটা একদম হা করে পড়ে গেল।
ডালা খুলতেই বেড়িয়ে আসলো হাজার হাজার চিঠি।
তাড়াতাড়ি স্মরণের চিঠিটা বের করতে হবে। ভোরের আলো আসার আগেই। অন্ধকারে একটার পর একটা খাম হাতড়ে যাচ্ছে নোমান। কিন্তু চিঠিটা খুঁজে পাচ্ছে না সে।
হালকা ফোঁটায় ফোঁটায় বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে।
নোমানের চিঠিটা নষ্ট করা খুব জরুরী। অতীতকে গলা টিপে মেরে ফেলার এই মোক্ষম সুযোগ।
বাঁচতে হবে নতুন ‘আমি’ কে নিয়ে।
কারণ সে শুধু নোমান নয়। সে অসুস্থ, সে রোগী, সে ৩৬৭, সে-ই স্মরণ এবং অন্যান্য- যার ভুলে নিভে গিয়েছিল দুটি তারা।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • কাজী জাহাঙ্গীর
    কাজী জাহাঙ্গীর মানসিক রোগীর কাহিনী লিখতে গিয়ে বোঝাই যাচ্ছে বেশ মানসিক চাপে ছিলেন, পড়তে গিয়ে আমিও মনে হয় তালগোল পাকিয়ে ফেলেছি। কখন নোমান আর কখন স্মরণ বুঝতে পারছিলাম না। বেশ লিখেছেন, অনেক শুভ কামনা ভোট আর আমার গল্পে আমন্ত্রন।
    প্রত্যুত্তর . ২১ অক্টোবর, ২০১৬