বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯
গল্প/কবিতা: ৮টি

সমন্বিত স্কোর

২.১৮

বিচারক স্কোরঃ ০.৯৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.২ / ৩.০

শান্ত শিষ্ট

আমার স্বপ্ন ডিসেম্বর ২০১৬

ভালোবাসার বাইওনারি

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৬

বহিরাগত

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৬

গল্প - রহস্যময়ী নারী (জুলাই ২০১৬)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.১৮ দ্বিতীয় সওদা

সমাধিরঞ্জন
comment ১  favorite ০  import_contacts ১১১
মজদুরির অনিয়মিততা রামলালাকে সপরিবারে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করল। ঘরের দরোজায় মরচেপড়া তালা ঝুলিয়ে পড়শি হরিধনকে দেখতে বলে বেরিয়ে পড়ল তিরিশ কিলোমিট্যর দূরে মাঝারি মাপের উঠতি শহর নারায়ণগড়ের উদ্দেশ্যে। মূলোৎপাটিত সব পরিবারের মতো রামলালাও বৌ ছয় বছরের মেয়ে রাধা আর ছমাসের বুকচোষা মাংসহীন ছেলে নিয়ে অস্থায়ী ভাবে স্টেশনের পরিত্যক্ত প্লাটফর্মের এক কোণে জায়গা করে থাকতে লাগলো। সে তো একা গ্রাম ছেড়ে শহরে আসেনি। এখানেও আর পাঁচটা শহরের মতো গ্রাম ছেড়ে আসা মানুষের বুবুক্ষু ভিড়। কখনো কাজ পায় কখনো অনাহার। ওপর থেকে অপুষ্টি জনিত রোগ, যার নাম যারা লেক্সিকন ঘাঁটে তারাই জানে। অগত্যা একদিন অসুস্থ স্বামিকে বাঁচাতে স্ত্রী ছ বছরের মেয়েকে শহরের ভিড়ে হারাতে হল। কোন এক মামা রাধাকে নিয়ে চলল আর এক শহরে।

রাধা এই ইন্সটিট্যুশনে ট্রেনিং নিতে লাগলো। এক এমন ইন্সটিট্যুশন, যা পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে বহাল তবিয়তে বিরাজমান। দেখতে দেখতে রাধার বয়স হল দশ, এখনও সে অপরিণত দ্রব্য। একদিন এক বেসরকারি সংস্থা ‘শিশুসাথী’-র পরিচালিকা মিস. দেশপান্ডের নজর রাধাকে ধরে ফেলল। যথারীতি অর্গল মুক্ত করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল। রাধার বিশেষ কিছুই মনে নেই, মা বাবা এবং নারায়ণগড় স্টেশন ছাড়া। এই সূত্রের লেজ ধরে শিশু উদ্ধারকারী মিস. দেশপান্ডে রাধাকে তার পরিবারের হাতে তুলে দিতে গিয়ে দেখল, তার বাবা আর নেই। অনিচ্ছাসত্বেও মাকে বাধ্য করা হল তাঁকে গ্রহণ করতে। যান্ত্রিক সংবাদ মাধ্যম বাহবা জানাল মিস. দেশপান্ডেকে।

কলাবতী একটা রুটির আধা রাধাকে দিল খেতে। দিন শেষ হয়ে রাতের আবির্ভাব ঘটতেই কলাবতী তার এক ভাইয়ের কাছে রাধাকে দিয়ে বলল, ‘যা মামার সঙ্গে, বড়ো শহরের বাবুদের বাড়িতে চাকরি করবি’

গতবারের সওদায় সে মাত্র পাঁচশ টাকা পেয়েছিল, স্বামী তাতে বাঁচেনি। এবারের পাঁচ হাজার যদি তাকে চার বছরের অসুস্থ ছেলেকে বাঁচাতে পারে, এই আশায় তার কোটরে ঢোকা চোখ টলটলে হয়ে এল।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন