বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২০ জুন ১৯৮৫
গল্প/কবিতা: ১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

গল্প - উপলব্ধি (এপ্রিল ২০১৬)

মোট ভোট নিরুদ্দেশ

শুভ্র ভাই
comment ৬  favorite ০  import_contacts ২২৩
‘ভাই তোমারে আবার কবে যাতি হবে?’
নানীর ডাকে সম্বিত ফিরে পেলাম। আমার আপন নানী নয়। চাচীর মা, সেই সম্পর্কের নানী। অনেক দিন বাদে গ্রামে এসেছি। বছরের একবারের বেশী গ্রামের বাড়ি আসা হয় না আজকাল। অফিস থেকে যে কদিন ছুটি ছাটা মেলে তাতে নিজের বাড়ি আসতে যেতেই শেষ। আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাওয়া আর হয়ে ওঠে না। বসন্তের কোকিল না ডাকলে বেশ চমৎকার একটা বাতাস বইছে। বাতাসে গরমের আভা। রৌদটাও পড়েছে সেরকম। চাচীর ঘরের বারান্দায় এসে বসে আছি। উঠোনে একপাল হাঁস মুরগী কলরব জুড়ে দিয়েছে। মুগ্ধ হয়ে এসব দেখছিলাম। এই ছোট ছোট জিনিসেও যে মুগ্ধ হওয়া যায় তা গ্রামের মানুষ এখন বুঝবে না। বুঝবে যখন বাড়ি ছেড়ে আমাদের মত অনেক দূরে চলে যেতে হবে। বারান্দায় ঝোলানো দড়ির দোলনায় হেলান দিয়ে নানী বসে ছিলেন। আমি বললাম,
- এই তো পরশু।
- মাত্র। আরো দুদিন থেকে যাও। এদ্দিন পরে আইলে
- কি আর করা বলেন।
- মানুষ সব পাইর মত হয়ে গেছে। আইকে এইহানে তো কাইলকে ঐহানে।
- আমার তো ইচ্ছে করে মাসে পর মাস এই গ্রামে এসে থাকতে।
- আইচ্ছা ভাই ঢাহা শহরের তে কইলকাতা কদ্দুর?
- কোলকাতা তো ঢাকার চেয়ে খুলনা থেকে কাছে। যাবেন নাকি?
- হ যাওয়ার ইচ্ছা আছে। ছাওয়াল কডারে কই, তা কেউ সুময় করে উঠতি পারে না। আমার মাইঝে বুন আছে না। যশোরে থাহে। সেইতি চিকিৎসের জন্য কইলকাতা গ্যালো। মাস তিনেক পরে আবার যাবে। আমারে নিয়ে যাতি চাইছে।
- কোলকাতায় কি করতে যাবেন? এই বয়সে এত লম্বা জার্নি করে পারবেন।
- ছাওয়ালডারে একটু কইলকাতায় খুঁজে দেখতাম। পাই কিনা। য্যানে যাই আমি সব জাগায় খুঁজি। একদিন না একদিন খুঁজে পাবো।
নানী আঁচল টেনে তার ঝাপসা হয়ে আসা চোখ মুছলেন। ঘরের মধ্যে থেকে চাচীর গলা পাওয়া গেলো। “তুমি আবার সেই গল্প শুরু করিছো। থামো কলাম”।

হ্যাঁ। চাচীর কোন এক ভাই ছোটবেলায় বাড়ি থেকে রাগ চলে যায়। আর কখনো ফিরে আসেনি। গল্পটা আমি আগেও শুনেছি। সেভাবে শোনা হয়নি। সবাই হয়তো তার গল্প শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে গেছে। কেউ আর শুনতে চায় না। এক গল্প বারবার পড়তে কার ভালো লাগে। আর সেরকম গল্প কি আর সবাই লিখতে পারে। মায়ের মন, হয়তো ছেলেটার গল্প বলতে ভালোবাসে। আমি তার মুখের দিকে চাইলাম।
- সেই মামা কতদিন আগে চলে গেছিলো নানী?
- তা মিলাদিন হবে। এই তুমার চাচীরা তহন কেলাস টু কি থ্রিতে পড়তো।
- তা ওনার বয়স কেমন ছিলো?
- চৌদ্দ পোনারো হবে।
চাচীর গলা আবার পাওয়া গেলো, চৌদ্দ পোনারো কিরাম কইরে হয়। সাইজে ভাই যন বাড়িত্তে পুলায় গেলো তন তার বয়স ছেলো বাইশ বচ্ছর। আব্বার কাছে আমাগে সবাইর জন্ম তারিখ লিখা ছেলো।
- তা হবে হয়তো। আমি কি আর অত হিসেব টিসেব কত্তাম। চাইর ছাওয়াল আর পাঁচ মাইয়ে নে ঘর সংসার কত্তি কত্তি কবে যে এইরাম বুড়ি হয়ে গিছি তা নিজেই টের পাইনি। তার মদ্যি এট্টা ছাওয়াল গেলো হারায়ে। কিরাম কইরে যে বাইচে আছি তা আল্লাই জানে।
- তা উনি হারিয়ে গেলেন কিভাবে?
- রাগ করে বাড়ি থেকে চইলে গেছিলো।
- রাগ করে! কি নিয়ে রাগ করেছিলো? আর রাগ পড়ে গেলে তো বাড়ি ফিরে আসার কথা।
- হয়তো অনেক দূরে চইলে গেছিলো। লঞ্চে কইরে। তারপর এইরাম কোন ঘাটে নামিছে যে আর ফিরে আসার পথ খুঁজি পাতিছে না। পথে পথে ঘুত্তিছে।
- কিন্তু ওনার যা বয়স ছিলো তাতে তো বাড়ির পথ ভোলার কথা না।
- আমার এই ছাওয়ালডা খুব লজ্জা পাইতো। খুব লজ্জাশীল। অনেকটা মাইয়াগো মতো। মানুষের সামনে যাতি লজ্জা পাইতো। সমবয়সী ছাওয়াল পাওয়ালগে সাথে মিশতো না। খেলতি যাতো না। সারাক্ষণ বাড়ির মদ্যি থাকতো। বুনগে সাথে ঠুলা মালা নিয়ে খেইলতো। পড়শিরা দুই একজন ঠোঁট কাটা সুভাবের ছেলো। কইতো তোমার তো পাঁচ মাইয়ের জাগায় ছয় মাইয়ে হইছে মনে হতিছে। মনে মনে খারাপ লাগতো। কিন্তুক কি আর করা। আল্লাহ যেভাবে গড়িছে সেভাবেই তো হবে। আমাগে চাওয়ায় আর কি আসে যায়।
চাচীর ঝংকার শোনা গেলো, থামো তো মা।
কিন্তু নানির থামার কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করলাম না। মা হয়তো মায়ের দৃষ্টিভংগী থেকে সন্তানের গল্প করছেন। আমার চোখের সামনে একটি কৈশোর পেরোনো যুবকের মুখ ফুটে উঠলো। লজ্জা লজ্জা ভাব। সমবয়সীদের সাথে মিশতে না পারা। অন্যদের কথা বার্তায় আহত হওয়া কিন্তু উত্তর দিতে না পারা। মেয়েলি কাজের প্রতি আগ্রহ থাকা। পড়শিদের কটু কথা, মুখ টিপে হাসা। ছেলেটার জন্য পৃথিবীটা জীবন্ত নরকই ছিলো। আমি নানীর দিকে তাকালাম। শূন্যদৃষ্টি মেলে উঠোনের দিকে তাকিয়ে আছেন। এই চোখ বাস্তবের কিছুই দেখছে না। তিনি এখন তার সন্তানকে দেখছেন। বেশকিছুক্ষণ নিরাবতার পর তিনি আবার চোখ মুছলেন।
- মামার নাম কি ছিলো নানী?
- শাহাবুদ্দি। শাহাবুদ্দিন গাজী।
- উনি কি স্কুলে যেতো না।
- মাদ্রাসায় ভত্তি কইরে দেলো তুমার নানা। কিন্তু মাদ্রাসার হুজুরেরা খুব মাইরতো বলে যাতি চাতো না। একসময় পড়া ছাইড়ে দেলো। মাইরধোর কইরে কাজ হইলো না দেইখে আমরাও একসময় থাইমে গেলাম। তহনকার দিনি তো মানুষ এত লেহাপড়া নিয়ে মাথা ঘামাতো না। কোনরহম হিসেব নিকেশ জানলি হতো। বড়ডাও তো পড়া ছাইড়ে গঞ্জের হাটে দুকান দিয়ে বইসলো মনিহারি জিনিসের।
- সেজ মামার কি হলো? কেন বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন?
- শাহাবুদ্দি যে কারো সাথে একদম মিশতো না তা কিন্তু না। তার একটা দোস্ত ছেলো। চ্যারমানের ছোট ছাওয়াল। বয়সে শাহাবুদ্দির তে তিন চাইর বছরের বড় হবে। নাম ছেলো মিলটন। গ্রামের মদ্যি এই চ্যারমানের ছাওয়াল পাওয়াল কডার নাম সব এইরাম ছিলো। তহনকার দিনে সব চেনা নাম রাইখতো মানুষ। এহন তো নাম শুইনে আর বুঝা যায় না কিডা হিন্দু আর কিডা মুসলমান। তহন যাইতো। মিলটনের সাথে শাহাবুদ্দির অনেক খাতির ছেলো। দুজন মিলে সারাদিন কুটুর কুটুর ফুটুর ফুটুর কইরতো। আমি এক একদিন জিজ্ঞেস কত্তাম কি নিয়ে কতা কইস তোরা এত। ছাওয়াল চুপ কইরে থাকতো। আমি মিল্টনরে কতাম, আমার ছাওয়ালডার লজ্জা ইকটু ভাইঙ্গা দাও। তোমার সাথে মেশে তুমি ওরে বুঝাও। ইরাম কইরে কদ্দিন চলতি পারবে। মিলটন আমারে কইতো, চাচীজান তুমি একদম চিন্তা করবা না। তুমার ছাওয়াল অন্য সবার থেকে আলাদা। একটু লজ্জাটে স্বুভাবের কিন্তু মানুষডা খুব ভালা।মিলটন আর শাহাবুদ্দি মিলে গাঙের চরে গোলপাতা আর কেওড়ার গাছের জঙ্গল হইয়ে ছেলো; কেওড়া গাছে উঠে পা ঝুলায় দুজন বইসে গল্প কত্তো। সন্ধ্যা হয়ে যাতো। ফেরার নাম কত্তো না। আমি রাস্তায় গে ডাইকে আনতাম। একেকদিন শাহাবুদ্দি মিলটনগে বাড়ি শুতে যাতো। তহন তো বাড়িতে একখান ঘর। শোয়ার জাগার কষ্ট ছেলো। হঠাৎ শুনি মিলটনের বে ঠিক হইছে। চ্যারমানের টাকা পয়সা ছেলো শিরাম। দশগাঁয়ের লোক দাওয়াত দেলো। মাইঝে ছাওয়াল রাইখে ছোট ছাওয়াল বে দিতি উঠে পড়ে লাইগলো ক্যান চ্যারম্যান বুঝলাম না। আমাইগে ষোলো আনা দাওয়াত দেলো। বে’র দিন সকালে মিলটন আইছিলো শাহাবুদ্দিরে বরযাত্রী নিয়ে যাবে বইলে। শাহাবুদ্দি কিছুতেই যাতি রাজি হইলো না। মিলা মানষির মদ্যি সে যাতি চায় না। পরদিন বৌভাত। আমরা সবাই গিলাম খাতি। শাহাবুদ্দিরে একরম জোর করে ধইরে নে গেলো ভাইবুনিরা মিলে। চুপচাপ বইসে থাকলো। ব্যাপারটা তোমার নানা খেয়াল করিছে দেখলাম। সে কইলো দোস্তর বিয়ে হয়ে গেছে বইলে তারও বিয়ে কত্তি মনে চাতিছে। কিন্তু লজ্জার কারণে কতি পাত্তিছে না। ওরে কইয়ো মন খারাপ না কত্তি। বড়ডার তো বিয়ে হইয়ে গেছে। মেঝো আর সেজোডার বিয়ে একসাথে দেবো সামনের পইষ মাসে। ধান চাল উঠুক। শাহাবুদ্দিরে বে’র কথা কলাম। খুশি হলোই না। মন মরা ভাব আরো বেশী বাইড়ে গেলো। পইষ মাস পড়ার আগেই ঘটক বের সমন্ধ আইনে হাজির। দুদিন করে দু বাড়িতে মাইয়ে দেখতি গেলো তুমার নানা আর বড় মামা। তহনকার দিনে এত দেহাদেহির ঝক্কি ছেলো না। বাপে গে দেইখে পছন্দ হইছে কলি ছাওয়ালেরা বিয়ে কত্তো। মাইঝে ছাওয়াল বিয়ে কতায় খুশী তা তার মুখ দেখলি বুঝা যাতো। সেজডার ভাবগতিক কিছুই বুঝিনে। একদিন ডাইকে পাশে বসায়ে মাথায় হাত বুলায়ে জিজ্ঞেস করলাম কি হইছে, মাইয়ে তোর পছন্দ হয়নি? সে কিচ্ছু বলে না। বে’র দিন তারিখ পাকা হয়ে গেছে। বে’র সপ্তাহ খানেক আগে শাহাবুদ্দি কয় সে বে করবে না। শুইনে তোমার নানা গেলো খেইপে। এত্তবড় ছাওয়াল ধইরে মাত্তি যায়। বে কি ছেইলে খেলা নাকি। আগে কতি কি হইছিলো। এখন কোন কারণ ছাড়া বে ভাইঙ্গে দিলি মানষি কি কবে। আর যে মাইয়েডার বে ভাঙ্গে যাবে লোকে তারে কি নিন্দামন্দ করবে সে কথা একবার ভাইবে দেখিছিস বলদ। তোমার নানা তারে ইচ্ছে মতো গালাগালি করলো। আমি থামাতে গেলাম। আমারেও থাপ্পড় মারলো। তোর জন্যই তো এই মাইয়া মুখো ছাওয়াল হইছে। মানুষটার মাথায় রাগ উঠে গেলে হিতাহিত জ্ঞান থাকতো না। সে রাত্তিরে শাহাবুদ্দি ভাত খাইলো না। তখন ছোট ছাওয়াল হয়নি। মাইঝে আর সাইজে ছাওয়াল এক সাথে শুতো। মাইঝে ডাইকে কয় ওমা শাহাবুদ্দি কই? ফজরের পরের তো আর দেখতিছিনে। পায়খানা কত্তি যাতিছে কইয়ে কনে গেলো। আমার মনে কুডাক ডাকলো। আমি ছুটে ব্যাড়ে গেলাম, পইরপাড়ে গেলাম, গাঙের চরে গেলাম। কোনজাগায় শাহাবুদ্দি নেই। তোমার নানা বাইর হইয়ে আইছে, আশপাশের সব মানুষ বাইর হইয়ে আসলো। গেলো কনে ছাওয়ালডা। কেউ দেখে না সুকাল থেকে। এইরাম সময়ে লঞ্চ ঘাট ইজারা নিছিলো রশিদ গাজী। সে আইসে কইলো আরে তুমাগে শাহাবুদ্দি তো রাত চাইরটার লঞ্চে উঠলো। খুলনার দিকে যেটা যায়। নীল ডুমুর লঞ্চ। আমি জিজ্ঞেস করলাম কনে যাতিছিস। তা কোন কতা কইলো না। কি হইছে। আমি ডুকরে কাইন্দে উঠলাম। কিন্তু সেই কান্না আজো ফুরাইলো না। তোমার নানা সকাল আটটার লঞ্চে খুলনা গেলো। য্যানে য্যানে খুঁজা যায় সব খানে খোঁজ কইরলো। কোন জাগায় খুঁজে পাইলো না। ছাওয়ালডা আমার রাগ কইরে চইলে গেলো। কি দরকার ছেলো মানুষটার অত কঠিন হওয়ার। বে না করলি কি হতো একটা ছাইলে। ছাওয়ালডা আমার ভাত না খেয় বাড়িততে চলে গেলো। আল্লাগো। আমার ছাওয়ালডা তুমি ফিরায়া দাও। মরার আগে ওর মুখটা আমি একবার দেখে যাতি চাই।
নানী শব্দ করেই কাঁদছেন। বুকের গভীরে চেপে রাখা কান্না বেরিয়ে আসছে জল হয়ে। চাচী বেরিয়ে এসেছেন। তার চোখের জল। মা কে তিনি ধরে বললেন, ওঠো কাইন্দো না। আসরের আজান দেওয়ার সময় হইছে। ওযু কইরে আসো। আল্লাহর কাছে কান্দো। সেই ফিরাই দেবে তোমার ছেলেরে।
- আর কত কানবো মা। কম তো কানলাম না। তোরাও মাইয়ে বে দে দিলি। আমারে আর কত্তদিন অপেক্ষা করে রাখবে আল্লা। আমার নিরুদ্দেশ ছাওয়ালডারে ক্যান ফিরায়া দেয় না আল্লা।
আমি নির্বাক হয়ে বসে রইলাম। বিকেলের রোদের তেজ মরে আসছে। নানী, তোমার শাহাবুদ্দি মাদ্রাসা পালানো ছেলে। আজকের শাহাবুদ্দিরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করার পরেও তারা মনের গহন কোনে লুকোনো সত্য প্রকাশের সাহস পায় না। তোমার শাহাবুদ্দিনের মত এরাও পালিয়ে যাওয়ার অতৃপ্ত বাসনা নিয়ে বেঁচে আছে বছরের পর বছর। শাহাবুদ্দিনেরা কখনো মরে না নানী। এরা বাঁচে। যুগ যুগ ধরে বাঁচে। জীবন্মৃত হয়ে বাঁচে। পালিয়ে বাঁচে। নিরুদ্দেশ এই বেঁচে থাকা আরো কত যুগ চলবে নানী আমার জানা নেই।

বিঃদ্রঃ গল্পটিতে সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন