বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬
গল্প/কবিতা: ১৯টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৩১

বিচারক স্কোরঃ ১.৬৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬৮ / ৩.০

বিরহ একরাত্রি

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

ওগো নন্দিনী

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

নীল ডায়েরী

কি যেন একটা জানুয়ারী ২০১৭

গল্প - বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (নভেম্বর ২০১৬)

মোট ভোট ১৪ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৩১ অদৃশ্য এলিয়েন বা তরমুজ

জয় শর্মা
comment ৯  favorite ০  import_contacts ২৯৪
ছোট বেলা থেকেই একটু নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করে। তবে খেলার সাথী হিসেবে ছিল সেই তরমুজ! তরমুজের সাথে আবুলের আলাপ প্রায় বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই। ঘরে ঘুমাতে বাইরে খেলতে তরমুজ ছিল তার নিত্যসঙ্গী। তবে তরমুজকে আর দশ জন দেখতে পেত না শুধু আবুল দেখতে পেত! এই নিয়ে আবুলকে কয়েকবার মানসিক ডাক্তারও দেখানো হয়েছে। তবে কোন কিছুতে কোন কিছু মিলছে না। সত্যি কী তরমুজ বলতে কেউ আছে? নাকি এসব শুধু আবুলের ভাবনা মাত্র। কিন্তু আবুল জানে সত্যি তরমুজ বলে কেউ আছে। দেখতে হয়ত আবুলের চেয়ে ভিন্ন, অনেকটা এলিয়েন এর মতো! এলিয়েন ও বলা যাই।
আবুলের ধীরে ধীরে বুদ্ধি হচ্ছে, এখন আবুলের বয়স প্রায় ১২ বছর। এলিয়েন তরমুজ একদিন হঠাৎ আবুলকে ওদের দেশে নিয়ে যাওয়ার কথা বলল। আরো বলল তাদের দেশ পৃথিবীর মতো এতটা সুন্দর নয়। তবু আবুলের কৌতুহল থাকলোই সে যাবে, তার বন্ধুর দেশে পাড়ি দিবেই। আবুল এ কথা কাওকে বলছেনা যদি যেতে না দেই। অশিক্ষিত আবুল, গরিব বলে পড়াশোনা টাও এখনো শুরু করেনি। তবে যথেষ্ট বুদ্ধিমান। সারাক্ষণ বন্ধু তরমুজ এর সাথে বিড়বিড় করে কী সব বলতে থাকে আবুল। সবাই এসব দেখে খুব হাসে আর বলে ঐ দেখ কাশেইম্মার পো আবুইল্লা ভূতের লগে কথা কই.........

আবুল তরমুজের সাথে রাত্রে ঘুমুচ্ছে! চোখ লেগে লেগে আসছে। বন্ধু তরমুজ আবুলকে তখনি বলল- চল আজ যাবি, আমার সাথে!? আবুলের প্রশ্নঃ কোথায়?
কেন আমাদের দেশে!
হ্যা! কিন্তু কীভাবে?
মুহূর্তে আবুল দেখতে পাই তার ঘরের পাশে একটি ইয়া বড় আকারের solanum tuberosun বা গোলআলু! এক পাশে নীল রঙের আবরণ, কিছুটা ঝলঝল করছে। কিছুক্ষণ পর ঐ ঝলঝল করা অংশটা দরজার মতো খুলে গেল। আর কিছু তরমুজের মতো দেখতে লোক বের হলো। ওরা সবাই আমাকে বলল চলো আবুল আমরা তোমাকে আমাদের দেশে নিতে এসেছি! আমিও বন্ধু তরমুজের সাথে উঠে গেলাম সেই solanum tuberosun বা গোলআলুর আকৃতির মতো ঘরটাতে। তারপর দরজা বন্ধ হলো। মুহূর্তে আবার দরজা টা খুলে গেলো, কিন্তু এবার আমি ভিন্ন কিছু দেখতে পেলাম। আমাদের পৃথিবীর মতো এইখানে তেমন কিছু নেই। শুধু রয়েছে বড় বড় কিছু, অনেকটা পিরামিড এর মতো দেখতে রঙটা আগুনের শিকার মতো লাল। আর পাশে সামান্য গভীর কিছু গর্ত, গর্তের ভিতর সবুজ রঙের কিছু আবরণ। আমি অসাবধানতার কারণে একটি গর্তে পড়ে গেলাম আর সবুজ রঙের আবরণ গুলো অনেকটা স্যাঁতস্যাঁতে কাদার মতো আমার গায় লেপ্টে গেল। কোন রকম চেষ্টা চালিয়ে গর্ত থেকে উপরে উঠে আসতেই তরমুজ গুলো আমার থেকে দূরে সরে দাঁড়ালো। আর অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। আমি তখন কিছু বুঝে উঠতে পারলাম না। অতি সাবধানতার সাথে ওরা আমাকে নিয়ে আসলো একটি ল্যাবরেটরিতে। তখনও আমার গায়ে সেই সবুজ আবরণ গুলো লেগে ছিল। তবে ওরা আমার থেকে প্রায় অনেক টা দূরত্বসীমা বজায় রাখলো। আর আমাকে একজন অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী আমার অনুভূতির কথা জিজ্ঞেস করলো।
আবুল তোমার এখন কী রকম লাগছে?
আমিও এতক্ষণ চেপে রাখা কথাটি অতি আগ্রহে বলে দিলাম- একদম দুর্গন্ধ এই আবরণ গুলো গায়ে লেগে আছে! আর আপনারা তা পরিষ্কার না করে, আমার থেকে ১৪গজ দূরে থেকে এখন জিজ্ঞেস করছেন কেমন লাগছে।
বিজ্ঞানীর আবার প্রশ্ন- শুধু দুর্গন্ধ ছাড়া আর কোন কিছুই নয়?।
আমি বললাম না।
ঠিক আছে। তুমি আমার সাথে এসো।

একটি পিতল রঙের কক্ষে প্রবেশ করলাম আমি আর সেই তরমুজ বিজ্ঞানী, তার নাম টা ঠিক জানা নেই, জিজ্ঞেস করার প্রয়োজনও মনে করলাম না। ঠিক তখন উনি আমাকে একটি যন্ত্রের উপর দাড় করালেন। কিছুক্ষণ পর আমরা ঐ পিতল ল্যাবটির থেকে ফিরে আসলাম। তখন উনি সবার উদ্দেশ্যে বল্লেন-
এই সবুজ আবরণ টি ধারণ করার ক্ষমতা আবুল রাখে। ভিতরে আবুলের আই কিউর ধারণা টা নিচ্ছিলো।
যার ফলাফল হলঃ
নামঃ আবুল।
লিঙ্গঃ পুরুষ
সেক্সP: QQQ4
IQ: 800 প্রায়।
ক্ষমতাঃ AAA এরো অধিক।
দক্ষতাঃ NM2322
সুতরাং আবুল এই সবুজ আবরণ টি অনায়াসে সহ্য করতে পারবে। এবং পৃথিবীর সব মনুষ্য এটি পারবে।
তখন এলিয়েনরা সবাই তরমুজকে/আবুলেরবন্ধুকে বলে উঠলো- তোমার কাজ তুমি দক্ষতার সাথে পালন করেছো তার জন্য ধন্যবাদ।
আবুল কিছু বুঝে উঠার আগেই বন্ধু তরমুজ ওকে বলতে লাগলো- আসলে আবুল, তোমাকে নিজ আগ্রহে এখানে নিয়ে আসাটা ছিল আমার কাজ। যদি কোন মনুষ্য নিজ আগ্রহে আমাদের দেশে আসতে ইচ্ছুক না হয় তবে কোনপ্রকার জোরাজুরি করে আনা সম্ভব নয়। তাই তোমার জন্ম হওয়ার পর থেকেই আমি তোমার সঙ্গী হিসেবে থেকেছি ২৪ঘন্টা। আর তুমি আমায় একটি নামও দিলে- "তরমুজ"। আর ঐ সবুজ আবরণ টি আসলে আমাদের এলিয়েনদের মরণ ফাঁদ। যা তোমাদের পৃথিবীর মানুষদের উপর কোনরকম আছর করে কিনা তা জানা ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। ঐ আবরণের সংস্পর্শে গেলে আমাদের এলিয়েনদের মৃত্যু অনিবার্য। যা মানুষের ক্ষেত্রে নয়, ওটা আবিষ্কার করতে আমাদের লেগেছে পৃথিবীর হিসেবে প্রায় ১৪বছর। আর যত শিগগির আমরা এই আবরণ টি সম্পর্কে জানতে পারবো। এবং আমাদের এই মরণ ফাঁদের থেকে মুক্তি পাওয়ার কৌশল।
এখন তোমাকে তোমার পৃথিবীতে পাঠানো হবে।

আবুল চোখ মুছতে মুছতে সকালে ঘুম থেকে উঠলো। আজ তার মন টা ভীষণ খারাপ! ঘুম থেকে জেগে সে তরমুজকে দেখতে পারছে না। শরীর টাও কেমন ভার ভার লাগছে। শার্ট টাও কেমন যেন ভিজে গেছে, দুর্গন্ধ টা নাকে আসছে ভীষণ।
মুহূর্তে আবুলের কালকের স্বপ্নটা মনে পড়ে। আর ভাবতে থাকে এটা কী স্বপ্ন ছিল নাকি সত্যি।
আবুল এখন অনেক বড় হয়েছে তবু এই রহস্যের কিনারা করতে পারেনি। সে এখনো ভাবে আসলে কী সেদিনের ঘটনা টা স্বপ্ন ছিল নাকি সত্যি! ভেবে আর কাজ নেই আবুল এখন অনেক ব্যস্ত মানুষ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন