বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬
গল্প/কবিতা: ১৯টি

সমন্বিত স্কোর

২.৮

বিচারক স্কোরঃ ১.৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৪ / ৩.০

বিরহ একরাত্রি

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

ওগো নন্দিনী

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

নীল ডায়েরী

কি যেন একটা জানুয়ারী ২০১৭

গল্প - শ্রমিক (মে ২০১৬)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৮ শ্রম অতঃপর সার্থক

জয় শর্মা
comment ৭  favorite ২  import_contacts ১৮৭
নিধি নিত্যদিনের মত আজও নিতাই দাদুর কাছে এসছে গল্প শুনতে। তবে আজ একটু চিন্তাগ্রস্ত মনে হচ্ছে নিধি কে, নিধি নবম শ্রেণীর ছাত্রী প্রায় দুই বছর ধরে নিধি নিতাই দাদুর কাছে আসে, গল্প করে দুই জন বিকাল এর সুন্দর সময় টুকু পার করে।
নিধি- দাদু আজ স্কুল এ "শ্রম" নিয়ে নিজের মত করে একটি গল্প লিখতে বলছে, আগামীকাল এর বাড়ির কাজ স্বরূপ। তুমি সাহায্য করো দাদু কী লিখব কিচ্ছু খুঁজে পাচ্ছি না।
-কেন রে আমার জীবন টাই তো একটা ক্লান্তিহীন পরিশ্রমী গল্প , ওটাই লিখে ফেল এ নিয়ে চিন্তাকরার কী আছে? নিতাই দাদু নিধি কে বলল।

নিধির জানা ছিল না নিতাই দাদুর নিজের জীবনের কাহিনী। আজ এক ঢিলে দুই পাখি মারার মত হবে অনেকটা। নিতাই দাদুর জীবন সম্পর্কেও জানা হবে, নতুন কোন স্বাদ খুঁজে পেলে গল্পাকারে লিখাও যাবে।
-কেন দাদু তোমার জীবন এ পরিশ্রম কি খুব বেশি'ই ছিল?
-হ্যা! শুধু কী পরিশ্রম রে? অনেক দুঃখ-কষ্টও ছিল। যা বলে শেষ করার সময়ও হইত আমার হবে না।
-তাহলে বল 'নিতাই দাদু' আজ তোমার নিজের গল্প'ই শুনবো না হয়।

--- আমি স্ত্রী আর আমার এক পুত্র "বাবলা" কে নিয়ে আমার সংসার (নিধি আচমকা চমকে উঠলো 'নিধির জানা ছিল না নিতাই দাদুর একটি ছেলেও আছে' অবস্য নিতাই দাদুর সম্পর্কে কিছুই জানতো না নিধি। শুধু বিকাল বেলাই ছুটে আসত নিতাই দাদুর গল্প শুনতে। নিতাই দাদু আর নিধির পরিচয় হয়েছিল কোন এক আসরে, নিতাই দাদুর লিখা আবেগময় কবিতায় মুগ্ধ হয়েছিল নিধি।)
এক কন্যাও ছিল তবে একানব্বই তে বিধি আমার কাছ থেকে আমার একমাত্র কন্যা কে ছিনিয়ে নেই।
অনেক কষ্টের মধ্যেও ছেলে-মেয়েকে মানুষ করেছি। মেয়েটা আমার বেঁচে থাকলে হইত আজ আমায় এইখানে কাটাতে হতো না।"অনিমা" মানে আমার স্ত্রী কোনদিন স্কুলের ঢ্যাঙা তে পা রাখে নি তবু ছেলে-মেয়েদের পড়ালিখা শিখিয়ে মানুষের মত মানুষ করেছে। আমার কথাও আর কী বলল জমি-জিরাত বলতে বাড়ির পশ্চিমে একটা দুই বিঘার ছোট্ট জমি ছিল। কিনারে আমের গাছ আর এক মৌসুমে ধান, বর্ষা'ই কিছু কচু লাগিয়ে বাজারে বিক্রি করে যা পেতাম; পেতাম। আর পেশাগতভাবে নাপিত ছিলাম।
দোকান দেওয়ার মত সাধ্য তো নেই তাই যে কোন রাস্তার ধারে বসে; নিচে পিড়ি দিয়ে- দাড়ি-ঘোপ কেটে দু-চার পয়সা রোজগার। আর নানা ধার-দেনা করে ছেলেটির পড়াশুনা শেষ করিয়েছি।
এই টুকু বলে বৃদ্ধ নিতাই থেমে যাই!

-দাদু আর কিছু বলছ না কেন? তারপর কী হল? নিধি খেয়াল করল নিতাই দাদুর চোখ জলে ভাসছে।
-নিতাই দাদু চোখ দুটো মুছে নিয়ে আবার বলতে শুরু করল...?
দেখ দাদু ভাই আমি বুড়ো হয়েছি। সে অনেক কাহিনী তবু শোন- আমার মেয়ে মারা যাওয়ার দুই বছর পর আমার স্ত্রীও বছরের মাথায় আমায় ছেড়ে চলে যাই। তারপর ছেলেটাও কেমন জানি পর হয়ে গেল।

তখন আটানব্বই দশক, একদিন সকাল বেলা দেখি বাড়ির সামনে গাড়ির হর্ণ বাজছে। দোড়ে গেলাম। আর কেও নই দেখি গাড়ি থেকে আমার একমাত্র ছেলে বাবলা নামল। আমি তখন অট্টখুশি তে মাতোয়ারা।
বাবলা- বাবা চলো...!
আমি (নিতাই)- কই যাব বাবা এখন? আর তুই গাড়ি কিনলি আমায় জানালি না।
আমি খুব খুশি হয়েছি আমার আর তোর মায়ের কষ্ট, এত শ্রম বুঝি বৃথা হল না। তোকে নিয়ে খুব গর্ব হচ্ছে আজ। তোর মা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হত।
বাবলা- ধমক কন্ঠে...! আরে চুপ করো তো। এসব রাখো এখন আমার সাথে চল।
- নিতাই সাহেব আর কিছু বলল না চুপচাপ ছেলের নির্দেশ পালন করল।
দারুণ হোটেল! খাওয়া-দাওয়া সব কীরকম জানি স্বপ্নের মত লাগছে নিতাই সাহেবের। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আবার ছেলের নির্দেশ মত গাড়িতে উঠে বসলেন নিতাই সাহেব। একটি বাড়িতে নিয়ে আসল রংমহল খুব সুন্দর চারিদিক সব লোক যেন নিতাই সাহেবের সমবয়সী। গাড়ি থেকে নামতেই নিতাই সাহেবের চোখে পড়ল বড় বড় অক্ষরে লিখা "বৃদ্ধাশ্রম"। নিতাই সাহেবের আর বুঝতে বাকি নেই। কি রকম যেন বোধহীন হয়ে ছেলের মুখের দিকে চেয়ে থাকলো নিতাই সাহেব। ছেলে বাবলা; নিতাই সাহেবকে বুঝ দিচ্ছে- তার চাকুরীর প্রমোশন হয়েছে দেশের বাইরে কাজ করতে যেতে হবে নিতাই সাহেবকে দেখার কেও নাই। তাই...।

এতটুকু বলে সেকালের নিতাই সাহেব মানে আজকের নিতাই দাদু চুপ। নিতাই দাদু লক্ষ্য করল-
নিধি ফুঁপিয়ে-ফুঁপিয়ে কাঁদছে।
নিধি- দাদু আজ আমি যাই এই গল্প টা কীভাবে লিখব জানি না? তোমার এত কষ্ট কেমনে চেপে রাখলে এতটা বছর।

পরদিন নিধি রীতিমত নিতাই দাদুর কাছে আসে। আজ খুব খুশি মনে হচ্ছে নিধি কে নিতাই দাদু একটু অসুস্থ। ও কিছু না! এখন বৃদ্ধ হয়েছে এসব আর এমন কী।
নিধি- দাদু আজ তোমায় আমার বাসায় যেতে হবে। যেমনে হোক আমি কিছু জানিনা আজ এখুনি তুমি আমার সাথে আমার বাসায় যাবে।
- মা মরা মেয়েটির কথা ফেলতে পারে না নিতাই দাদু, আজ নিতাই সাংসারিক জীবনে থাকলে হইত তারও একটি এ রকম নাতনী থাকত।

- বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নিধি আর নিতাই দাদু দু'জন নিধির বাসায় এসে পৌছাল। বাসায় ছয় বছরের পুরনো চাকর; অবস্য চাকর বলা যাবে না বাসার একজন সদস্য হয়ে উঠেছে রহিম। নিধির বাবার আসতে একটু দেরি হবে ততক্ষণে নিধি আর নিতাই দাদু খুব জমিয়ে গল্প করবে।

আজ নিধির বাবার আসতে একটু দেরি হল। খাওয়া-দাওয়া সেরে নিধি আর নিতাই দাদু গল্পে মগ্ন। নিধির বাবা এসে গেল বলে।
বাইরে গাড়ির হর্ণ নিধির বাবা চলে এসছে বুঝতে আর বাকি নেই।
এতবড় বাসায় নিধি আর ওর বাবা একলা থাকে। নিধির বাবা ঘরে এসে ঢুকলো হাসিমাখা মুখ নিধিও ডেডি বলে ছুটে গেল। বাপ-মেয়ে মহাখুশি। বড়লোকের ছেলে-মেয়েদের বুঝি এটাই দিনশেষের সুন্দর মুহূর্ত। এর মধ্যে নিধি তার বাবাকে বলে উঠলো বাবা তোমাই কাল বলেছিলাম না একটি বৃদ্ধ দাদুর কথা উনি এসেছে- তোমার ঘরে বসিয়ে রেখেছি। তুমি যাও আমি রহিম চাচার সাথে চা বানিয়ে নিয়ে আসি।
নিতাই এতসময় সব এ'ঘরে বসে শুনছিল। নিধির বাবার পদার্পণ এর ধ্বনি পেয়ে নিতাই দাদু উঠে দাড়াল। দু'জন এখন মুখোমুখি কিন্তু কোন কথা বলল না---

নিধি আজ আমি যাই। তুমি ভালো থেকো, বলে নিতাই দাদু চলে যেতে চাইছে, রাত অনেক হয়েছে নিধির প্রায় কান্না অবস্তা দেখে নিতাই দাদু রাতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।

রাত প্রায় অনেক গড়িয়েছে নিতাই দাদুর ঘুম আসছে না বড়লোকের বাড়ি এতবড় একটা ঘরে যেন একা-একা...। ঘুম আসতে চাইছে না।
রাত প্রায়; নিষ্পাপ হয়ে ঘুমচ্ছে নিতাই দাদু। একটু পর অনুভব করল কে যেন তার দুই পা জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে-ফুঁপিয়ে কাঁদছে। সে আর কেও নই নিধির বাবা মোঃহাফিজ।
নিতাই- আরে বোকা কাঁদতে নেই। ঐ দিন আমায় একটি বার বলে দেখতে পারতি। তোর বাপ তোকে পর করে দিত না। (হাফিজ আর কেও নই নিতাই সাহেবের একমাত্র ছেলে "বাবলা")
হাফিজ- আমায় মাফ করে দাও বাবা! আমায় মাফ করে দাও তোমায় কষ্ট দেওয়ার ব্যথা আজ হারে-হারে টের পাচ্ছি। তোমার শ্রম এর মূল্যায়ন করতে অক্ষম এই পাপী কে তুমি ক্ষমা করো বাবা...।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন