বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৮ মে ১৯৮৫
গল্প/কবিতা: ২৯টি

সমন্বিত স্কোর

৩.১৭

বিচারক স্কোরঃ ১.৫২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬৫ / ৩.০

পথে পথে হিমু পরিবহণ

ভালবাসি তোমায় ফেব্রুয়ারী ২০১৪

শুধু একা ভাবি তুমি কেমন আছ

ভালবাসি তোমায় ফেব্রুয়ারী ২০১৪

নিঃশব্দচারিনীর মুখ

ক্ষোভ জানুয়ারী ২০১৪

ক্ষোভ (জানুয়ারী ২০১৪)

মোট ভোট ২২ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.১৭ পিকুলিয়ার

জাজাফী
comment ১২  favorite ০  import_contacts ৪৭৫
এ বিশ্ব চরাচরে কত আজিব মানুষ দেখতে পাই। সেরকমই একজন আজিব মানুষ এই মুহুর্তে আমার সামনে বসে আছে। আজিব বলছি এ জন্য যে তার পকেট থেকে দুটো পাচশ টাকার নোট পড়ে গেল। আমি বললাম আপনার পকেট থেকে দুটো পাচশ টাকার নোট পড়ে গেছে তুলে নিন নয়তো অন্য কেউ নিয়ে নেবে। তার মনের মধ্যে কোন ভাবান্তর হলো বলে মনে হলনা। সে বললো যে টাকা পড়ে যায় তা তুলে নিতে হয়না!শুনেতো আমার পোয়াবারো। আমি বেশ অভাবেই ছিলাম। কোন কথা না বলে টাকাটা তুলে নিলাম। তারপরো্ লোকটা কিছু বললো না। যেহেতু তার এক হাজার টাকা আমি নিয়ে নিয়েছি তাই তাকে আতিথেয়তা করা আমার কর্তব্য। দারোয়ানকে ডেকে বললাম দু কাপ চা নিয়ে আসেন সাথে দুটো বিস্কুট। আমার কথা মত দারোয়ান চা আর বিস্কুট নিয়ে হাজির। লোকটা হাসি মূখে চা খেয়ে গেলেন আর যাওয়ার সময় বললেন চায়ের দামটা কি আমি দিতে পারি? আমি মনে মনে তাজ্জব হয়ে গেলাম। এ কোন আজিব লোক! কোন মত সম্মতি দিলাম আর তিনি পকেট থেকে একটা দশটাকার নোট বের করে দারোয়ানের হাতে ধরিয়ে দিল। লোকটা যদি রোজ আসতো আর তার পকেট থেকে দুটো করে নোট পড়তো তাহলে আমার আর কোন চিন্তা থাকতোনা।আমি বললাম আপনি আবার আসবেন। লোকটা বললো দেখি সময় পেলে আসবো। যাওয়ার সময় বললো ওহ ভুলে গেছি আমার দুই তিনশো টাকা দরকার। আপনার কাছে খুচরা হবে? আমি বললাম ঠিক আছে পাচশো টাকা নেন। সে মাথা নেড়ে বললো না পাচশো নেয়ার দরকার নেই আমার দরকার চারশোটাকা। আমি পকেট থেকে চারশো টাকা তার হাতে দিলাম। সে বললো আমি কালকেই আপনার টাকাটা ফেরৎ দেব। আমি বললাম না না ফেরৎ দেয়ার দরকার কী! আর তাছাড়া আমিতো একটু আগেই আপনার এক হাজার টাকা কুড়িয়ে নিলাম।লোকটা বললো বার বার ওই টাকাটার কথা বলে আমাকে লজ্জা দিচ্ছেন কেন? আমিতো শিখেছি পড়ে যাওয়া টাকা তুলে নিতে নেই। তবে আপনার কাছ থেকে যে টাকা নিলাম এটা ফেরত দিয়ে যাব যদি বলেন। আমি আবার বললাম না দিতে হবেনা। সে বললো দিতে হবে, কেন দিতে হবেনা। পরে ভাববেন যে দিলেই ভাল হত। আমি তার পিকিউলিয়ার চরিত্র দেখে মনে মনে হেসে নিলাম। এরকম দু চারটা লোক কেন যে আমার সামনে রোজ আসেনা। আমার অফিসে সে কোন একটা কাজে এসেছিল। তার কাজ হয়েছে কিনা জানিনা তবে আমার যে কাজ হয়েছে সেটা অসাধারন। পকেটে মাত্র চারশো টাকা ছিল এখন সেখানে আছে এক হাজার টাকা। বাহ এর চেয়ে সুখের আর কি থাকতে পারে। লোকটা আবার আসুক আর আমার পকেট ভারি হোক। অফিস থেকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে বের হলাম। কারণ আমার পকেটে দুটো পাচশো টাকার নোট আছে। যাবার সময় তানিয়ার জন্য বেশ ভাল দেখে কিছু কিনে নিয়ে যাব। বেশ কিছুদিন মাংস খাইনি তাই মীনা বাজার থেকে দু কেজি মাংসও কেনা যাবে।আমি মীনা বাজারে গিয়ে ভাল দেখে দু কেজি মাংস নিলাম আর তানিয়ার জন্য একটা শ্যাম্পু। মোট দাম যা আসলো তাতে দেখা গেল আরো কিছু টাকা থেকে যায়। ভাবলাম থাকনা কিছু টাকা পরে আবার কিছু কেনা যাবে। কাউন্টার মাস্টারকে পঞ্চাশ টাকা বকশিশ দেব ভাবছি। পকেট থেকে পাচশো টাকার নোট দুটো বের করে কাউন্টারম্যানকে দিলাম। লোকটা নোট দুটো নেড়ে চেড়ে দেখলো। এমন ভাব করছিল যেন পাচশো টাকার নোট সে জীবনেও দেখেনি। আমি মনে মনে বললাম ব্যাটা এতো ছোট মন নিয়ে এখানে এসেছ কেন? পাচশো টাকার নোটই দেখনি কাল যখন এক হাজার টাকার নোট দেব তখনতো তুমি ইহধাম ত্যাগ করবে। লোকটা নোট দুটো নিয়ে নেড়ে চেড়ে দেখে মুখটা গোমরা করে ফেললো। নোট দুটো আমার দিকে ফিরিয়ে দিয়ে বললো এই নোট দুটো জাল। আমারতো মাথা খারাপ। এ লোক বলেকি। আমি কি আন্ধা নাকি যে জাল আর আসল চিনবোনা। আমি নোট দুটো তার হাত থেকে নিয়ে ভাল মত নেড়ে চেড়ে দেখলাম। আমার মাথায় হাত। ব্যাটা বাটপার আমার অফিসে এসে আমার পকেটের শেষ চারশো টাকা নিয়ে গেছে আর এই জাল পাচশো টাকার নোট দুটো রেখে গেছে। আর বলে কিনা পড়ে যাওয়া টাকা তুলে নিতে নেই। শেষে আর কি করি মীনা বাজার থেকে বউয়ের জন্য মাংস বা শ্যাম্পু কোনটাই না নিয়ে অপমানিত হয়ে ফিরে আসলাম। রাস্তায় একা একা হাটছি আর ঘেমে যাচ্ছি। যে চারশো টাকা ছিল তা দিয়ে আগামী এক সপ্তাহ চলার কথা ছিল। এখন যদি বউকে গিয়ে বলি কিছু টাকা দাও বউ তো আমাকে ঝেটিয়ে বিদায় করবে।

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন