বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৮ মে ১৯৮৫
গল্প/কবিতা: ২৯টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১৭

পথে পথে হিমু পরিবহণ

ভালবাসি তোমায় ফেব্রুয়ারী ২০১৪

শুধু একা ভাবি তুমি কেমন আছ

ভালবাসি তোমায় ফেব্রুয়ারী ২০১৪

নিঃশব্দচারিনীর মুখ

ক্ষোভ জানুয়ারী ২০১৪

অন্ধকার (জুন ২০১৩)

মোট ভোট ১৭ রিফার ফিরে আসা

জাজাফী
comment ৬  favorite ০  import_contacts ৬১২
ঘড়ির কাটা দুটো ছুই ছুই। মিফরাদের ফিরে আসার কোন নাম নেই। আম্মু আর ভাইয়াকে সাথে নিয়ে সেই বিকেলে দাওয়াতে বেরিয়েছে মিফরা। সন্ধ্যা পেরিয়ে এখন মাঝ রাত অথচ তাদের ফিরে আসার নাম নেই। ঘুট ঘুটে অন্ধকার বাসায় মানুষ মাত্র তিনজন। ময়ের নামের মধ্যবয়স্ক কাজের লোক তার স্ত্রী আর আট বছরের রিফা। রিফা স্কুল থেকে ফিরতে দেরি করেছে বলেই ওদের সাথে যাওয়া হয়নি। একা একা এই অন্ধাকার বাড়িতে রিফার দম বন্ধ হয়ে আসছে। ইচ্ছে হচ্ছে চিৎকার করে কাদতে। ঘরের জানালা দরজা সব বন্ধ। পেটে প্রচন্ড ক্ষুধা থাকার পরও খাবার খেতে অন্য ঘরে যেতে পারছেনা। প্রচন্ড ভয়ে জড়সড় হয়ে আছে। কাজের লোক হলেও ময়ের আর তার স্ত্রী রিফাদেরকে খুব আদর করে। সারা দিনের ক্লান্তি রিফার চোখে সবে মাত্র ঘুম নেমে এসেছে এমন সময় দরজায় খটখট শব্দ হলো। রিফার ভয়টা আরো বেড়ে গেল। কয়েকবার খটখট শব্দ হলে রিফা দরজার কাছে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো কে? কে দরজায় আঘাত করে? ওপাশ থেকে কেউ কথা বললোনা। আবার খটখট শব্দ হতে লাগলো। রিফার বুকটা ধকধক করে উঠলো। ভয়টা বেড়ে গেল দ্বিগুন। সেটা তার গলার আওয়াজে ফুটে উঠলো। কাপা কাপা গলায় আবার ডাকলো কে দরকায় কড়া নাড়ে। এবারও কোন জবাব এলোনা। ভয়ে রিফার হাত পা সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলো। এবং সেই সাথে আরো জোরে জোরে দরজায় শব্দ হতে লাগলো। ভয়ে রিফার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। ইচ্ছে হচ্ছিল চিৎকার করে কাদতে। মনে মনে সাহস সঞ্চারের চেষ্টা করলো।তার পর প্রানপণে ময়ের ও তার স্ত্রীকে ডাকতে লাগলো। তাদেরও কোন সাড়া নেই। দু তিন মিনিট গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ডাকার পরও কেউ সাড়া দিলোনা।ছোট্ট রিফা তখন ভয়ে থর থর করে কাপতে লাগলো এবং সেই সাথে তরতর করে ঘামতে লাগলো। ওদিকে কেউ একজন দরজা ধাক্কাচ্ছে যেন এখনই না খুললে সে দরজা ভেঙ্গেই ভিতরে ঢুকবে। বিকেল থেকেই কারেন্ট নেই তাই সন্ধ্যায় হারিকেন জ্বালানো হয়েছিল। রাত বারটার দিকে দপ করে বাতাস এসে সেটা নিভিয়ে দিয়ে গেল। হাতের কাছে ম্যাচ নেই তাই রিফা হারিকেনটা জ্বালাতে পারেনি।আলো থাকলে ভয়টা একটু কম থাকতো। ওদিকে যে দরজা ধাক্কাচ্ছে সে যেন দরজা ভেঙ্গেই ভিতরে ঢুকবে। রিফার হঠাৎ কি যেন হলো। ভয় কেটে গিয়ে রাগ উঠে গেল। ও ভুলে গেল রাত দুটোর বেশি বাজে। বাড়িতে ও একা। দুজন কাজের লোক ছিল তাদেরও কোন খোজ নেই। ওর রাগ উঠে গেল দরজা ধাক্কানোর বিকট শব্দের কারণে। অন্ধকারেই কুড়িয়ে পেল একটা ছোট লাঠি বা এরকম একটা কিছু।দরজার কাছে গিয়ে সাই করে দরজা খুলে হাতের লাঠি দিয়ে অন্ধাকারেই মারলো একটা বাড়ি। ওর বয়সী একটা ছেলে ব্যাথায় কোকিয়ে উঠলো। উহ মেরেই ফেললে মনে হয়। এভাবে অন্ধকারে কেউ কাউকে মারে? আরেকটু হলেতো মাথাটাই ফেটে যেত। ছোট্ট ছেলেটা একনাগাড়ে গড়গড় করে এতো গুলো কথা বলে গেল। ওর গলার স্বর রিফার চেনা। তুই এখানে এভাবে দরজা ধাক্কাচ্ছিলি কেন? এতো চিৎকার করে জানতে চাইলাম কে দরজা ধাক্কায় তখন উত্তর দিলিনা কেন? রিফার কথার জবাবে ছেলেটি বললো আমিতো শুনতেই পাইনি। এরপর দুজনের মধ্যে কথার ফুলঝুরি ছুটতে লাগলো। রিফা ভুলেই গেল যে সে রাত পৌনে তিনটায় আইমানের সাথে গল্পে মেতে উঠেছে।আইমান বললো চল বাইরে খেলতে যাই। রিফা সাথে সাথে ওর হাত ধরে বেরিয়ে গেল। হাত ধরাধরি করে কতক্ষন যেন হাটছিল হঠাৎ রিফার পায়ে কাটা ফুটলো। ও ব্যাথায় কোকিয়ে উঠে আইমানকে বললো আইমান দেখতো পায়ে কাটা ফুটেছে মনে হয় রক্ত বের হচ্ছে। আইমানের কোন সাড়া পাওয়া গেল না। এবার সত্যি সত্যি পিলে চমকে উঠলো রিফার। আইমান নেই। ও এক ঘুটঘুটে অন্ধাকারে দাড়ানো। চারপাশে কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। কেবল দূর থেকে ডাহুকের ভয় ধরানো ডাক শোনা যাচ্ছে। সেই অন্ধকারেই কিছু ধরার জন্য চেষ্টা করলো রিফা। এবং আশ পাশে কিছু নেই দেখে ভয়ে জ্ঞান হারালো। রাত এগারটার দিকে মিফরারা দাওয়াত শেষে ফিরে এলো। ওদের বাসার কাজের লোক ময়ের দরজার সাথে টুল লাগিয়ে বসেছিল। তার স্ত্রী তখন একটু দূরেই পান চিবোচ্ছিল। মিফরা বাসায় ঢুকেই রিফাকে খুজলো।রিফার রুমের দরজা বন্ধ। অনেকক্ষণ ধাক্কানোর পরও রিফা দরজা খুললোনা। অনেক ডাকা ডাকির পরও যখন ওর সাড়া পাওয়া গেলনা শেষে কোন উপায় না দেখে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকা হলো। দরজা ভিতর থেকে লাগানো ছিল অথচ ভিতরে রিফা নেই। বিছানার নিচে নেয়,বাথ রুমে নেই। হঠাৎ দেখা গেল ওর রুমের জানালা খোলা এবং সেখানকার গ্রিলের একটা অংশ ভাঙ্গা। ওদের সবার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। নিশ্চই কেউ গ্রিল কেটে ও রুমে এসে রিফাকে কিডন্যাপ করে নিয়ে গেছে। ওরা তাড়াতাড়ি চার্জার লাইট নিয়ে বেরিয়ে গেল। চারদিকে খোজা হলো কিন্তু রিফাকে পাওয়া গেলনা। সে রাতে কারো ঘুম হলোনা। পরদিন সকালে থানায় সব জানানো হলো। চারদিকে সবাইকে জানানো হলো। দুপুর একটার দিকে একটা অচেনা নাম্বার থেকে ফোন আসলো। তার বর্ণনা অনুযায়ী রিফাকে পাওয়া গেছে বলে মনে হলো। আগের দিন রিফা কি ধরনের পোষাক পরেছিল তার সাথে লোকটার বর্ণনা হুবহু মিলে যাচ্ছে। এক মূহুর্ত দেরী না করে ওরা রওনা হলো। দেবীগঞ্জ কমিউনিটি ক্লিনিকের বেডে শুয়ে আছে রিফা।খুব ক্লান্ত শরীর অনেকটা ফ্যাকাশে দেখা যাচ্ছে। যে লোকটা ওকে হাসপাতালে ভর্তি করে মিফরাদের ফোন করেছিল তিনি তখনও হাসপাতালে ছিলেন। তার কাছ থেকে জানা গেল দেবীগঞ্জ পোড়া জমিদার বাড়ির উঠোনে রিফাকে পাওয়া গেছে। দিনাজপুর সদর থেকে দেবীগঞ্জ একশো তের কিলোমিটার দূরে। এক রাত্রিতে এতটুকু একটা মেয়ে এতো দূরে কিভাবে আসলো তা ওরা ভেবে পেলনা। অপেক্ষায় থাকলো ও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার। ওকে ঢাকা নিয়ে আসা হলো। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে সবাই ওর কাছে সেই রাতের ঘটনা জানতে চাইলো। কিভাবে শহর থেকে একশো তের কিলোমিটার দূরে গেল।রিফার তেমন কিছুই মনে নেই। শুধু মনে আছে রাত পৌনে তিনটার দিকে কেন যেন খুব জোরে দরজা ধাক্কাচ্ছিল। একটা লাঠি হাতে নিয়ে দরজা খুলে লাঠি দিয়ে বাড়ি মারার পর ও দেখলো আইমান। এরপর আইমানের হাত ধরে খেলতে বেরিয়েছিল। একসময় পায়ে কাটা ফুটলে আইমানকে পা থেকে কাটা খুলতে বলার পর খেয়াল হলো আশে পাশে কোথাও আইমান নেই। ঘুটঘুটে সেই অন্ধকারে সাথে সাথে রিফা জ্ঞান হারালো। ওর আর কিছুই মনে নেই।ওর বর্ণনা শুনে সবাই থ হয়ে গেল। আইমানের বয়স সাত বছর থাকে কানাডার টরেন্টোতে। রাত তিনটার সময় সে কি করে রিফার রুমের দরজায় ধাক্কা দেবে? এর উত্তর রিফার জানা নেই মিফরারও জানা নেই। ঘটনাটা জানিয়ে নিশিকান্তকে একটা চিঠি দিতে হবে তাহলে ও যদি রহস্যের সমাধান করতে পারে। আপাতত সব চিন্তা বাদ রিফাকে পাওয়া গেছে এতেই মিফরা খুশি। সুস্থ হবার পর আইমানের সাথেও কথা হয়েছে। সব শুনে আইমান কথাই বলতে পারছিলনা।কি ছিল সেই রহস্য? কিভাবে রিফা রাতের অন্ধকারে শহর থেকে একশো তের কিলোমিটার দূরের সেই পোড়া জমিদার বাড়িতে গেল? এর উত্তর পেতে হলে অপেক্ষা করতে হবে নিশিকান্তর পাঠানো জবাব আসা পর্যন্ত। নিশিকান্ত কি পারবে রিফার হারিয়ে যাওয়া রহস্যের সমাধান করতে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • এশরার লতিফ
    এশরার লতিফ স্লিপ ওয়াকিং? তাই তো মনে হয়. ভালো লাগলো.
    প্রত্যুত্তর . ১৮ জুন, ২০১৩
  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক রহস্য গল্প....প্যারা করে লিখলে আরো ভালো হত...গল্প সুন্দর হয়েছে...টান টান আকর্ষণ ছিল....খুব ভালো লাগলো....
    প্রত্যুত্তর . ১৯ জুন, ২০১৩
  • এফ, আই , জুয়েল
    এফ, আই , জুয়েল # টানটান উত্তেজনাময় এক শিহরন জাগানো গল্প । এর চলার গতি অনেক চমৎকার ।
    প্রত্যুত্তর . ২৫ জুন, ২০১৩
    • জাজাফী ধন্যবাদ। আমি দীর্ঘদিন গল্পকবিতাতে ঢু মারিনি। আজ এসে দেখলাম অনেক কিছু মিস করেছি। আমার একটা উপসম্পাদকীয়র লিংক দিলাম পড়ে দেখতে পারেন। http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/sub-editorial/2015/07/02/58137.html
      প্রত্যুত্তর . ২ মার্চ, ২০১৬